সিনে কার্নিভাল ৪.০ অনুষ্ঠিত, আনন্দ-সৃজনশীলতায় ভরপুর তিন দিন

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সিনে কার্নিভাল ৪.০ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই উৎসব দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

দর্শনার্থীদের জন্য বেলুন শ্যুটার, নাগরদোলা, ৩৬০° ঘূর্ণায়মান ছবি এবং গানের আসর সহ নানান ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম আয়োজন করা হয়, যা উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ করে।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল এক্সক্লুসিভ ‘সিনেমাঘর’ সেশন, যেখানে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। শেষ দিনে ‘নূর’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করেন অভিনেতা আরিফিন শুভ, অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার ও সাউন্ড ডিজাইনার রিপন নাথ এবং অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার রাফায়েল আহসান

প্রথম দুই দিনে ‘দেলুপি’ এবং ‘বাড়ির নাম শাহানা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা তরুণ দর্শক ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা ও গল্প বলার দক্ষতা উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগায়।

কার্নিভালে ৪০টিরও বেশি স্টল ছিল, যেখানে গয়না, সুগন্ধি, খাবার, পোশাক, হোম ডেকর, মেকআপ ও মেহেদি প্রভৃতি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়। রঙিন সাজসজ্জা এবং শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে প্রাণচঞ্চল ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই আয়োজনের মাধ্যমে ডিআইএমএফএফ শিক্ষার্থী ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি ও শিল্প-সংক্রান্ত অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর অতিক্রম হলেও আমরা আজও সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার আয়োজনে শহরের সিও অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাবে বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

মাসুদ সাঈদী সমাবেশে বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে আমাদের বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে যারা শুধু মুখে স্বাধীনতার চেতনাকে বলেছে, তারা তা অন্তরে ধারণ করেনি। অনেকেই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

মাসুদ সাঈদী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা কোনো ব্যক্তির নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। আমাদের সবার দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে সততা, ন্যায় ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির মামলা নেই, যা প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনার প্রমাণ।”

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মো: ইসাহাক আলী খান, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি মো: ইমরান খান ও অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ভোলা সদরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি ভেলুমিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামায়াত কর্মী আবুল বাশারকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি কর্মী রিয়াজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে রিয়াজ চোখে আঘাত পান এবং উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আবুল বাশারকে মারধর করেন। পরে আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এশার নামাজের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি চরন্দ্রপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হান্নানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে, কেউ ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দুই দফা হামলা চালিয়ে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে জামায়াতের মিছিল মেনে নিতে না পেরে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঘটনাটি নিয়ে রাতে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে বিএনপির বিজয় মিছিল চলাকালে কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বিএনপিরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন করা হয়েছে। এ প্রদর্শনী ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ চার ঘণ্টা ধরে জাহাজে প্রবেশ করে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বিধান মণ্ডল বলেন, “যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।”

রূপাতলী এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, “বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের একদিন, মুক্তিযুদ্ধের বহুদিন

মঙ্গলবারের সকালটা শুরু হয়েছিল নীরব শ্রদ্ধা আর গভীর আবেগে। ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ৯টা পেরিয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা। লাল-সবুজের আবরণে মাথা নত করে তাঁরা যেন ফিরে তাকাচ্ছিলেন ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত অথচ গৌরবময় দিনগুলোর দিকে।

এরপর ইতিহাসের পথে হাঁটা শুরু হয় নতুনভাবে। সদর রোডে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির নিজস্ব কার্যালয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের তথ্য, চিত্র ও দলিলপত্রের ২১তম প্রদর্শনী। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন যেন পরিণত হয় একটি জীবন্ত আর্কাইভে—যেখানে অতীত কথা বলে, স্মৃতি জেগে ওঠে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে, চেতনায় তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাসের কাছে পৌঁছে দিতেই এমন আয়োজন জরুরি।”

প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ—তিন শতাধিক বই আর তিন শতাধিক দুর্লভ আলোকচিত্র। কোথাও যুদ্ধের অভিযানের দৃশ্য, কোথাও প্রশিক্ষণের মুহূর্ত, কোথাও শহীদদের মুখ। ইতিহাসের নীরব ভাষা যেন ছবিতে ছবিতে কথা বলে।

এক কোণে রাখা গানবোটের কামানের গোলা আর শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসে ব্যবহৃত মাইনের খণ্ডাংশ দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা থমকে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে—এগুলো কি সত্যিই যুদ্ধে ব্যবহার হয়েছিল? উত্তরে ভেসে আসে ইতিহাসের নিরব সাক্ষ্য।

সম্মেলন কক্ষের পথে এগোলে দেখা মেলে রেডিও, সাইক্লোস্টাইল মেশিন, বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে স্থাপিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সচিবালয়ের মুক্তিযুদ্ধকালীন নথিপত্র। আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে হাতে লেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান—কালির রেখায় রেখায় স্বাধীনতার শপথ।

প্রদর্শনীতে আরও রয়েছে চারটি বন্দুক, নৌ-কমান্ডোদের ব্যবহৃত পোশাক, মুক্তিযুদ্ধের পর বরিশালে নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য ‘বিজয় বিহঙ্গ’-এর নকশা। পাশাপাশি রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন বরিশাল থেকে প্রকাশিত পত্রিকা বিপ্লবী বাংলাদেশ এবং শান্তি কমিটির একটি চিঠি—ইতিহাসের দুই বিপরীত মুখ যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রের সামনে ভিড় করে দাঁড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কেউ মোবাইলে ছবি তোলে, কেউ নীরবে দেখে, কেউ প্রশ্ন করে শেখে। ইতিহাস যেন পাঠ্যবইয়ের পাতা ছেড়ে নেমে আসে চোখের সামনে।

এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিচুর রহমান খান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, বিজয় দিবস উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক সুশান্ত ঘোষ, সদস্যসচিব রবিউল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দিন শেষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, এটি প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সেতুবন্ধন। বরিশালের এই একদিনে মুক্তিযুদ্ধ যেন আবার হেঁটে গেছে সদর রোডের বুক চিরে, ইতিহাস হয়ে উঠেছে জীবন্ত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিজয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদামাটা আয়োজন, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অত্যন্ত সাদামাটা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আয়োজনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সংক্ষিপ্ত বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির আয়োজনে মুক্তমঞ্চে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অনুষ্ঠানস্থলে ছিল না উল্লেখযোগ্য কোনো সাজসজ্জা বা উৎসবের আমেজ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় দিবসের এমন নীরব ও অনাড়ম্বর আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা কিংবা দৃশ্যমান আনুষ্ঠানিকতার চিহ্ন দেখা যায়নি। প্রশাসনের এমন উদাসীনতা গভীর উদ্বেগজনক। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস বা শিথিলতার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা হতো। এবার তা দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়ে পরে আলোকসজ্জা দেওয়া হচ্ছে।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের এমন সাদামাটা আয়োজন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি হতাশাজনক। অনেক কলেজেও এর চেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখা যায়।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “বিজয় দিবসের আয়োজন কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জার আয়োজন করার কথা ছিল।”




বরিশালের ছয় আসন: চারটিতে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

 দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ না থাকায় বরিশালের ছয়টি আসনেই জয় নিয়ে আশাবাদী বিএনপি। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, সহজ পথ পাচ্ছে না দলটি। মাঠে আগে থেকেই সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে অন্তত চারটি আসনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বিএনপি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের সমীকরণে এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক, সংখ্যালঘু ভোট এবং জোট রাজনীতি।


বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া): জটিল সমীকরণ

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার (মেহেদী) এবং জামায়াতে ইসলামীর কামরুল ইসলাম খান মাঠে রয়েছেন। তবে আসনের সমীকরণ জটিল করে তুলেছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান।

মনোনয়ন না পেলেও মাঠে সক্রিয় থাকা সোবাহানকে ঘিরে গুঞ্জন চলছে, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। সংখ্যালঘু ভোট এবং আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের সমর্থন এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট যেদিকে যাবে, জয়ও সেদিকেই ঝুঁকবে।


বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া): অভির প্রত্যাবর্তন ফ্যাক্টর

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম সরফুদ্দিন সান্টু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের নেছার উদ্দিন।

তবে সব হিসাব পাল্টে যেতে পারে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি দেশে ফিরতে পারলে। তাঁর ফেরাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা চলছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী): বহু প্রার্থীর লড়াই

এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতের জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এ ছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। ফলে এই আসনে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন স্থানীয়রা।


বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ): বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান। তবে মনোনয়ন ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের অনুসারীদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যে পক্ষ দখল করতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।


বরিশাল-৫ (নগর ও সদর): সরোয়ারের দুর্গে হানা

বরিশাল-৫ আসনটি বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাঁচবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও প্রার্থী। তবে তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং জামায়াতের মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

চরমোনাই পীরের বাড়ি হওয়ায় হাতপাখার ভোটব্যাংক এখানে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জোট সমঝোতা হলে এই আসনে ভোটের চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।


বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): সমঝোতার অপেক্ষা

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের মাওলানা মাহামুদুন নবী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা হলে ফলাফলের ওপর তার বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপি আশাবাদী হলেও বাস্তবে চারটি আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারে দলটি। জোট রাজনীতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করে দেবে বরিশালের নির্বাচনী ভাগ্য।




পাবনায় জমি বিরোধে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে বিএনপি নেতা নিহত

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম বীরু মোল্লা (৪৮)। তিনি কামালপুর গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে এবং লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বীরু মোল্লার চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লা পারিবারিকভাবে বিরোধপূর্ণ একটি জমি থেকে মাটি কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও আপত্তি জানাতে বুধবার সকালে বীরু মোল্লা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যান।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জহুরুল মোল্লা ও তার ছেলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বীরু মোল্লা ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে চলে যেতে বলেন। তবে তারা সেখান থেকে না গেলে পুনরায় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে বীরু মোল্লা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন,
“পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন নিহত ব্যক্তি। বাড়ির ভেতর থেকে গুলি চালানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।




পটুয়াখালীর ৪৪ জলমহাল ইজারা নয়

পটুয়াখালী জেলার ৪৪টি জলমহাল জনস্বার্থে ইজারা অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে জলমহাল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমি উপদেষ্টা বলেন, নদী, হাওর, বাঁওড়, বিল ও খাল—এই জলমহালগুলো শুধু মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; বরং কৃষিকাজ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব জলাভূমি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক মানুষের জীবিকা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৮৮তম সভা’য় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ।

উপদেষ্টা আরও বলেন, পটুয়াখালীর যেসব জলমহালকে ইজারা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো পানি প্রবাহমান জলাভূমি। অনেক জায়গায় স্লুইজ গেট ও বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব জলমহাল থেকে যে কেউ মাছ ধরতে পারবেন এবং কৃষিকাজের জন্য পানি নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, জলমহাল কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান রক্ষার স্বার্থে জলমহাল ইজারা ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে রাষ্ট্রকে এগোতে হবে। আগামী তিন বছর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও এর প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্দেশ্য ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, পটুয়াখালী জেলায় মোট ১৪৮টি জলমহাল রয়েছে। এর মধ্যে জনস্বার্থে ৪৪টি জলমহাল ইজারা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ৯৪টি জলমহালের ইজারা প্রক্রিয়া চলমান এবং বর্তমানে ৯টি জলমহালের ইজারা কার্যকর রয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. রায়হান কাওছার, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন’ বিষয়ে পৃথক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চলছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ আটক ১হাজার ৪৩জন, বিদেশী পিস্তল উদ্ধার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ত্রয়োদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবের কন্ঠস্বর – শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত শনিবার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। গত দুই দিন এ অভিযানে ১ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত থেকে শুরু হয়ে গতকাল রোববার পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ১ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি করে বিদেশি পিস্তল, রামদা, তলোয়ার, চাকু ও রিচার্জেবল ‘স্টানগান’ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ৯০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নিবার্চন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলবে।

১০ মাস আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করা হয়েছিল। গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে গাজীপুরসহ সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করা হয়।