ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের, পাল্টা জবাব ইসরায়েলের

ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলও তেহরানসহ ইরানের একাধিক স্থানে আঘাত হানে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি একপ্রকার যুদ্ধাবস্থার রূপ নিয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা যায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি শহরে আঘাত হানে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে সাফাদ, তেল আবিব, আশকেলন, আশদোদ এবং বেইসানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে।

হামলার সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে, যার ফলে আতঙ্কে মানুষজন তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। ইসরায়েলি সরকার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে এবং নতুন করে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে।

তাসনিম সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

এদিকে ইরানের হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের অধ্যাপক ফোয়াদ ইযাদি জানান, একটি হাসপাতালের পাশে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং সেখানে ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে এবং জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এই সংঘাতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো অঞ্চলকে অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে।




গৌরনদীতে দুই ব্যবসায়ীকে মারধর, বিক্ষোভে উত্তাল সরিকল বাজার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল বন্দরে দুই ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে স্থানীয় বাজার। আজ সোমবার সকালে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সরিকল বন্দরের ফল ব্যবসায়ী পিয়াল হোসেনকে মারধর করে সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার ছেলে যুবদল কর্মী পলাশ মৃধা ও তার সহযোগীরা।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ফাহিম হার্ডওয়ার স্টোরের মালিক মো. মান্নাকেও মারধর করে তারা। মান্নার অভিযোগ, হামলার সময় তার দোকানের ক্যাশ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

আহত ব্যবসায়ী মান্না বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা না থাকলে বাজারে বেচাকেনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পলাশ মৃধা বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 


 




ভোলা হাসপাতাল যেন পোকামাকড়ের আক্রমণে বন্দি

ভোলা জেলার একমাত্র প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে যেন পোকামাকড় ও ময়লার দখলে চলে গেছে। প্রায় ২২ লাখ মানুষের এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা।

বিশেষ করে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহ। রোগীদের শয্যার নিচে, দেয়ালের ফাঁকে ও মেঝেতে ঘুরে বেড়ানো পোকামাকড় রোগীদের কামড়াচ্ছে, খাবারে উঠে আসছে—আর রাতে এই উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মমিন বলেন, “চিকিৎসা নিতে এসে পোকামাকড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। ছারপোকার কামড়ে শুয়েও থাকা যায় না। রোগী হয়ে এসেছি, এখন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।”

সদর উপজেলার ফাতেমা বেগম জানান, “রাতে ঘুমানোর সময় তেলাপোকা মুখে উঠে, কামড় দেয় ছারপোকা। খাবারেও পোকা উঠে যায়—তবুও সেই খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছি।”

রোগীর স্বজন নারগিছ বেগম ও সুরমা আক্তার জানান, টয়লেটগুলো দুর্গন্ধময় ও ব্যবহারের অযোগ্য। দরজা নেই, পানি নেই, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখা যায় না। একজন টয়লেট ব্যবহার করলে অন্যজনকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিরাপত্তার জন্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ থেকে ১,২০০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে, আর ভর্তি থাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি রোগী। অথচ হাসপাতালের ১৫ জন সরকারি ও ২৫ জন আউটসোর্সিং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তায়েবুর রহমান বলেন, “পোকামাকড় মারতে স্প্রে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করি দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সুফিয়ান রুস্তম বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে, কিন্তু আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। আমরা স্প্রে ছিটানো শুরু করেছি এবং এতে কিছুটা উন্নতিও এসেছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে এমন দুরবস্থার কথা জেনে-শুনেও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




আবারও কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা আবারও কলম বিরতি শুরু করেছেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানকে অপসারণ, ‘গোলামী আইন’ খ্যাত অধ্যাদেশ বাতিল এবং কর্মকর্তাদের ‘হয়রানিমূলক’ বদলি বন্ধের দাবিতে সোমবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাজির হন। অনেকে প্রতিবাদস্বরূপ কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—
“গোলামী আইন বাতিল কর”, “বদলির নামে প্রহসন মানি না”, “জুলুমবাজি বন্ধ কর” ইত্যাদি।

রবিবার এনবিআরের আয়কর বিভাগে উপকর কমিশনার পর্যায়ে পাঁচ কর্মকর্তার বদলিকে আন্দোলন দমনের চেষ্টা বলেই দাবি করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী বদলির পর যোগদানের জন্য ৫ কর্মদিবস সময় দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি।

গত ১২ মে সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর এনবিআর কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতির ডাক দেন। সরকার তখন জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এটিকে স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কলম বিরতি স্থগিত হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা চলমান রাখার ঘোষণা দেয় সংস্কার পরিষদ।

সরকার গত ২০ জুন এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার সমন্বয়ের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। তবে এই কমিটিকে ‘একপেশে’ বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।

শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ সেহেলা সিদ্দিকা জানান, চেয়ারম্যান অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক, আসছে ‘সরকারি মালিকানার সুপার ব্যাংক’

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোর ফরেনসিক অডিট ও অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) সম্পন্ন হয়েছে এবং একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

যেসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে
এদের মধ্যে রয়েছে :

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
  • ইউনিয়ন ব্যাংক
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  • এক্সিম ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এক্সিম ব্যতীত বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ব্যাংকগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন চলতি মাসেই প্রকাশ পাবে। এরপর, শ্রেণিবিন্যাস, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে একীভূত প্রক্রিয়া শুরু হবে জুলাই মাস থেকে এবং অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। একীভূত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে রাখার জন্য খারাপ ঋণগুলো হস্তান্তর করা হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (AMC) কাছে। এ ছাড়া সরকার ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা মূলধন জোগান দেবে। ব্যাংকের শাখা কমানো, জনবল হ্রাস ও পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতে শেয়ার ছাড়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক একীভূত করে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় যদি সুশাসন, খেলাপি ঋণ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মূল কারণ দূর না করা হয়। ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংক একত্র করলে শক্তিশালী ব্যাংক তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে, প্রাথমিকভাবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং বেতনও কমানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান চিত্র

  • শাখা সংখ্যা: ৭৭৯
  • উপশাখা: ৬৯৮
  • গ্রাহক সংখ্যা: প্রায় ৯২ লাখ
  • মোট ঋণ: ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা
  • মোট আমানত: ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
  • খেলাপি ঋণ: ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা
  • প্রভিশন ঘাটতি: ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একীভূতকরণ কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




নতুন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল: যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত নতুন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২২ জুন) বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনা এবং ভবন নির্মাণে বাড়তি কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহলের দাবি ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের সময় সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “প্রাথমিক বাজেটে বাড়তি করের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আর এই ধরনের কোনো সুযোগ থাকছে না।”

এর আগে সকালে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান প্রশাসনের বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ২ জুন বাজেটের মূল বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। বাজেট ঘোষণার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় বাজেট সাধারণত জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও পাস হয়। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।




মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: শান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের একটি ইতোমধ্যেই নাজুক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও বিপন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বরাবরের মতোই যেকোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ও অঞ্চলটিতে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশের দৃঢ় বিশ্বাস, গঠনমূলক আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করেই কেবল দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম হতে পারে।




ট্রাম্প বিশ্বাসঘাতক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু ইরানের সাথেই নয়, বরং নিজ দেশের জনগণের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা যায়, এক টেলিভিশন ভাষণে আরাগচি বলেন, “ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় বলেছিলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ব্যয়বহুল যুদ্ধ বন্ধ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে দিয়েছেন এবং আমাদের সঙ্গে কূটনীতির নামে প্রতারণা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প এমন একজন যুদ্ধাপরাধীর নির্দেশে কাজ করছেন, যিনি আমেরিকার অর্থ ও সেনাবাহিনী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে আমেরিকার জনগণও প্রতারিত হয়েছে।”

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার বিষয়ে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, “এই হামলাগুলো ছিল অসাধারণ সামরিক সাফল্য। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান। আমরা সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছি।”

তিনি বলেন, “ইরান এখন বুঝে গেছে, শক্তির দম্ভ নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। তাদের শান্তির পথে আসতে হবে।”

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন, শেখ পরিবারের নাম সরানো

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারভুক্ত ব্যক্তিদের নামে। তবে নতুন নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট নামগুলো পরিবর্তন করে সাধারণ নামকরণ করা হয়েছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা চেয়েছিল। পরে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করে আমরা সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে নির্দেশনা পাঠিয়েছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কলেজ নতুন নাম অনুযায়ী সাইনবোর্ডও স্থাপন করেছে।”

নতুন নাম অনুযায়ী পরিবর্তিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

🔹 শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি কলেজকাউনিয়া সরকারি কলেজ, বরিশাল
🔹 দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়আলিমাবাদ সরকারি মহাবিদ্যালয়, মেহেন্দিগঞ্জ
🔹 শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি ডিগ্রি কলেজআগৈলঝাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, আগৈলঝাড়া
🔹 বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মহিলা কলেজনাজিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পিরোজপুর
🔹 সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজভোলা সরকারি মহিলা কলেজ, ভোলা

প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরণের আরও কিছু নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে সেসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের অপসারণ দাবিতে দপদপিয়ায় উত্তাল মানববন্ধন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৯নং দপদপিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধার অপসারণ এবং গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে।

গতকাল (২১ জুন) বিকেলে দপদপিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এতে অংশ নেয় ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে আসছেন। তারা দাবি করেন, তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছেন এবং জনগণের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষের ওপর দমন-পীড়ন চালানোও তার অন্যতম অভিযোগ।

বক্তারা আরও জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সঙ্গে এমন স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /