আওয়ামী-বিএনপি একই চরিত্রের —মুফতি ফয়জুল করীমের অভিযোগ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন,

“আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একই চরিত্রের। কেবল শাসক বদলেছে, কিন্তু জুলুম রয়ে গেছে আগের মতোই।”

রোববার (২২ জুন) বিকেলে লালমনিরহাট কালেক্টর মাঠে এক গণসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার ভাষায়,

“শপথ ছাড়াই ক্ষমতা দখল, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ—এই অপসংস্কৃতি দুই দলই বহন করে। যে অপরাধে আওয়ামী লীগ দোষী, সেই একই অপরাধে বিএনপিও দায়মুক্ত নয়।”

🔍 ইসলাম ও অর্থনীতি প্রসঙ্গে

তিনি বলেন,

“ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ ইসলাম হলো মেহনতি, দরিদ্র, বিধবা ও নিপীড়িতদের মুক্তির পথ।”

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন,

“পুঁজিবাদ ধনীকে ধনী করে, গরিবকে আরও গরিব বানায়। অথচ ইসলাম ধনীদের দায়িত্ব বাড়িয়ে গরিবকে ধনী করে। এদেশে গত ১৬ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, অথচ দেশের মানুষ খাদ্যের অভাবে আত্মহত্যা করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন,

“আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনশক্তিকে কাজে লাগানো হয়নি। বরং মাদক, হিংসা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করা হয়েছে। একজন ওয়ার্ড নেতার আয় একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার চেয়ে বেশি—এটাই প্রমাণ করে কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত এই ব্যবস্থা।”

🗳️ হাতপাখা ও নির্বাচনী বার্তা

তিনি বলেন,

“ইসলামী আন্দোলন ইসলামী হুকুমত চায়, যেখানে মানুষের অন্তর থেকে অপরাধ প্রবণতা দূর হবে। ইসলাম কাউকে জোর করে না, বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পরিবেশ তৈরি করে।”

তিনি সবাইকে হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের তিনটি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন:

  • লালমনিরহাট-১: মুফতি ফজলুল করীম শাহরিয়ার
  • লালমনিরহাট-২: মুফতি মাহমুদুর রহমান
  • লালমনিরহাট-৩: আলহাজ্ব মোকসেদুল ইসলাম

🤝 বিশেষ অতিথিরা

গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

  • ইসলামী আন্দোলনের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাসিবুল ইসলাম,
  • ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমেদ মানসুর প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নূরুল হুদা মবকাণ্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিএনপির

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে ঘিরে ‘মবকাণ্ডে’ বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বিএনপি ‘মব কালচার’-এ বিশ্বাস করে না। আমরা বরাবরই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে, এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণের দাবিতে আন্দোলন করছি।”

তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার গ্রেফতার এবং বিচার প্রক্রিয়া যেন আইনসঙ্গতভাবে হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তবে তার সঙ্গে যে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি না। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি আমাদের দলের কেউ এতে জড়িত থাকে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “আমরা চাই, কোনো ব্যক্তি যত বড় অপরাধীই হোন না কেন, তার সাংবিধানিক এবং আইনগত অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়।”

রবিবার (২২ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদার বাসার সামনে তাকে ঘেরাও করে জনতার একটি অংশ। এসময় তার গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে কে এম নূরুল হুদা অন্যতম দায়ী। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে তিনি সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করেছেন।”




লন্ডন থেকে ফিরে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করলেন জুবাইদা রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, চলমান বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে স্মার্টকার্ড সরবরাহ করা হয়। হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইসি সচিব মো. আখতার হামিদ বলেন, “সাম্প্রতিক হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসার ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন। যদিও তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ধানমন্ডির একটি আবাসিক এলাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে, তবে ভোটার হিসেবে গুলশান-২ নম্বরের ঠিকানাই ব্যবহৃত হয়েছে।

২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হলেও সে সময় তিনি লন্ডনে ছিলেন তারেক রহমানের সঙ্গে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দেশে ফেরেননি। গত ৬ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঢাকায় আসেন তিনি, তবে ৫ জুন পুনরায় লন্ডনে ফিরে যান। এর মধ্যেই ইসি কর্মকর্তারা তার ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।




স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

তিনি বলেন, ‘এ এক মস্ত বড় সুযোগ; পৃথিবীকে আবিষ্কার করার, তার চাইতে বড় নিজেকে আবিষ্কার করার। নাহলে গৎবাঁধা জীবনে নিজের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই। তোমরা যাতে স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনা করতে পারো সে কথাটা মনে রাখতে হবে।’

সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত দেশব্যাপী কাব কার্নিভাল ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন,

“আজকের দিনটি স্কাউটিং ইতিহাসে গৌরবের। আটজন স্কাউট দেশের জন্য আত্মাহুতি দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, যা পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই।”

তিনি আরও বলেন,

“দরজা বন্ধ থাকলে বসে থাকা চলবে না। তুমিই সেই ব্যক্তি, যার হাত ধরে অন্যরা সামনে এগিয়ে যাবে। তোমাদের সাহসিকতা ভবিষ্যতের পৃথিবী গঠনে পথ দেখাবে।”

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূস তাঁর নিজস্ব স্কাউট জীবনের স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি ১৯৫৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে কানাডায় অনুষ্ঠিত দশম বিশ্ব বয় স্কাউট জাম্বুরিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা সফর করেন। তিনি বলেন,

“স্কাউটিং আমাকে শুধু বিশ্ব নয়, নিজেকেও চেনার সুযোগ দিয়েছে।”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ স্কাউটস প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালনায় দেশব্যাপী ৫২৭টি স্থানে একযোগে কাব কার্নিভাল এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা “শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড” বিজয়ীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ আট স্কাউটের পরিবারের হাতে “গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড” তুলে দেন।

পুরস্কার গ্রহণ করেন:

  • মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
  • রোহান আহমেদ খান
  • তাঞ্জির খান মুন্না
  • শরিফ উদ্দিন আহমেদ আহনাফ
  • মাহবুব আলম
  • গোলাম নাফিজ
  • তাহির জামান প্রিয়
  • আরিফুল ইসলাম সাদ

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পুলিশ জনগণের হতে পারলেই মুছে যাবে কলঙ্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পুলিশ যদি প্রকৃত অর্থে জনগণের হয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে তাদের গায়ে লেগে থাকা কলঙ্ক দূর হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট (অব.) জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পুলিশকে মানবিক হতে হবে, জনবান্ধব হতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি, যার ফলে পুলিশ আগের মতো আচরণ করছে না। ইতিমধ্যে কেউ কেউ আইনের আওতায় এসেছে। পুলিশ যখন জনগণের হয়ে ওঠবে, তখনই তাদের অতীতের কলঙ্ক মুছে যাবে।”

সম্প্রতি মব সৃষ্টির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় যদি আমাদের বাহিনীর কেউ দায়ী থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে যারা মব সহিংসতায় জড়িত, তারাও ছাড় পাবে না।”

সন্তুষ্টি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “জনগণ যদি পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট থাকে, তবেই আমি সন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই—কেউ দুই টাকায় সন্তুষ্ট হয়, কেউ দুই কোটি টাকায়। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি পুলিশকে জনবান্ধব করতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক রেজা, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




গৌরনদীতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বাছাই ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের গৌরনদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসনভিত্তিক প্রার্থী বাছাই ও পরামর্শ সভা।
সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডস্থ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় অংশ নেন দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের প্রার্থী বাছাই উপলক্ষে আয়োজিত এই পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুর রহমান

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

  • মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (জেলা শাখার উপাধ্যক্ষ)
  • প্রভাষক মুহাম্মদ আল আমিন
  • মাওলানা গাজী মো. ওসমান গণী
  • শরীফ মো. আবুল কালাম আজাদ
  • মাওলানা মো. আবুল খায়ের
  • মো. রাসেল সরদার মেহেদী
  • মো. মোস্তফা কামাল

এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সহস্রাধিক নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে দলীয় কৌশল নির্ধারণ, সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম মূল্যায়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মব সহিংসতার জন্য সরকারের দুর্বলতাই দায়ী: রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, দেশের চলমান মব সহিংসতার পেছনে সরকারের দুর্বলতাই মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জনগণের হাতে লাঞ্ছনার পর গ্রেপ্তার করা হলেও, এর দায় এড়াতে পারে না সরকার— এমনটাই মনে করেন তিনি।

সোমবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, “একতরফা নির্বাচন, বিচারহীনতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রক্ষার সংস্কৃতি থেকেই দেশে মবোক্রেসির জন্ম হচ্ছে। সরকার দুর্নীতিবাজ নির্বাচন কমিশন, ডামি এমপি ও মাফিয়াদের বিচার না করে বরং তাদের পুনর্বাসন করছে, যার ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং মানুষ মবের মধ্যে ন্যায়বিচার খুঁজছে।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “মব তৈরি হওয়ার জন্য কি সরকারই রসদ জোগাচ্ছে না? বিতর্কিত একতরফা তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কমিশন, সচিব, ডিসি, এসপি, ডামি ও স্বতন্ত্র নামধারী এমপি ও মন্ত্রীদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?”

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “সরকারের উপদেষ্টারা সাবের-মান্নানসহ অনেক বিতর্কিত এমপির জামিন করিয়েছেন ও পুনর্বাসন করছেন। যাদের অর্থ ও ক্ষমতাশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব মাফিয়া ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শেখ হাসিনার ‘অবৈধ সাম্রাজ্য’ গঠনে সহায়তা করেছে, তারাও রক্ষা পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে বিপ্লবী পদক্ষেপ জনগণ আশা করেছিল, তা এখনও দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৩০০০ ‘মাথাওয়ালা’ নেতাকর্মী কিংবা শেখ পরিবারের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও ধরা হয়নি। তাহলে কীভাবে এই সরকার গণহত্যার বিচার করবে?”

রাশেদ খান মনে করেন, যতদিন না সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, ততদিন সমাজে মবোক্রেসি থামবে না। তার মতে, “মব তৈরি ও বিস্তারের দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।”




পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে দুদকের অভিযান

সেবা নিতে এসে ভোগান্তি, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে দুদকের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আ.বি. সাহানুরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেশ কিছু সময় ধরে অফিসের নথিপত্র ও সেবাপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হয় এবং একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শোনা হয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, কমিশনের হেড অফিসের নির্দেশেই দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচন অফিসে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজকের অভিযানে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কিছু গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত চালাবো।”

আরো পড়ুন : শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই অভিযোগ করেছেন সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে, কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হচ্ছে, কেউ আবার সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এছাড়াও অফিসে কর্মরতদের আচরণ, সেবাদানের মান, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন অফিস। অভিযানকালে বেশ কিছু নথিপত্র ও দলিল যাচাই করে তাৎক্ষণিক কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শুধু পটুয়াখালী নয়, দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসেবায় ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কমিশন মনে করছে, এসব অভিযান নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণে আরও উৎসাহী হবে এবং দুর্নীতিবাজদের শিকারে পরিণত হবে না।

অভিযানের সময় নির্বাচন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও উদ্বেগ দেখা যায়। তবে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দুদকের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জারি থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত কাব কার্নিভাল ২০২৫-এ কলাপাড়ার কৃতী শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সুন্নাহ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে। সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীতে আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে সুন্নাহ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে বরিশাল অঞ্চলে প্রথম স্থান অর্জন করে সুন্নাহ। সে বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পটুয়াখালীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলাপাড়ার মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখান থেকে এই মূল্যায়নে অংশ নেয় এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।

উম্মে হাবিবা সুন্নাহ’র গ্রামের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে। তার পিতা আহসান হাবিব চুন্নু বরিশালে কর্মরত ব্র্যাকের একজন এলাকা ব্যবস্থাপক এবং মা রাবেয়া সুলতানা রিপা একজন স্কুল শিক্ষিকা।

সাফল্য সম্পর্কে সুন্নাহ বলেন, “এ অর্জন আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের উৎসাহ আর ভালোবাসার ফল। ভবিষ্যতে আমি একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, “আমার স্কুল থেকে সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়ে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৯ মামলার আসামি জলিল ডাকাত গ্রেফতার

বাংলাদেশ স্কাউটস কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে কলাপাড়া উপজেলার ২৭ জন শিক্ষার্থী শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ও ১০ জন প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে উম্মে হাবিবা সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়েছে। কলাপাড়ার স্কাউটস কার্যক্রমে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ কাব পর্যায়ের স্বীকৃতি, যা জাতীয় পর্যায়ে অভূতপূর্ব অর্জন হিসেবে বিবেচিত। সুন্নাহর এই অর্জন কেবল কলাপাড়া নয়, বরিশাল তথা গোটা দেশের জন্য গর্বের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ব্যাটারি রিকশা বন্ধের দাবিতে প্যাডেল চালকদের মানববন্ধন

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্যাডেল চালিত রিকশা শ্রমিকরা।

সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদর রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্যাডেল চালিত রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সংগঠনের সভাপতি মো. ধলু মিয়া বলেন, “সদর রোডসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এসব রিকশা অবাধে চলাচল করছে, যার অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন।”

সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া বলেন, “সদর রোড, লাইন রোড, কাটপট্টি রোড, গির্জা মহল্লা, চকবাজার ও কাকলির মোড়সহ ব্যস্ত এলাকায় ব্যাটারি রিকশা বন্ধের জন্য আমরা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।”

সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু কালাম অভিযোগ করেন, “ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার কারণে প্যাডেল চালকদের আয়ের পথ সংকুচিত হচ্ছে। যানজট বাড়ছে, দুর্ঘটনার হারও বেড়েছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রধান সড়কে এসব রিকশা নিষিদ্ধ হলেও বরিশালে তা অবাধে চলাচল করছে। তারা দাবি করেন, “অন্যান্য শহরে নিষিদ্ধ হওয়া অটো রিকশাগুলো বরিশালে এনে চালানো হচ্ছে। ফলে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে।”

তাদের হুঁশিয়ারি, পাঁচটি প্রধান সড়কে ব্যাটারি রিকশা বন্ধ না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫