চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকে তাদের মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসাথে ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্যদেরও পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চাকরিতে অগ্রাধিকারসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সোমবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা
জুলাই যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
- ‘এ’ ক্যাটাগরি: যারা গুরুতরভাবে আহত হয়ে এখন অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে অক্ষম। এদের সংখ্যা ৪৯৩ জন। তারা এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
- ‘বি’ ক্যাটাগরি: যাদের আংশিক অঙ্গহানি হয়েছে এবং সীমিত সহায়তায় চলাফেরা করতে পারেন। এদের সংখ্যা ৯০৮ জন। তারা এককালীন ৩ লাখ এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
- ‘সি’ ক্যাটাগরি: যারা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন। এ ক্যাটাগরিতে আছেন ১০ হাজার ৬৪২ জন। তারা এককালীন ১ লাখ এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
জুলাই শহীদদের জন্য সহায়তা
সরকার ঘোষিত তালিকায় বর্তমানে ৮৩৪ জনকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী মাসে বাকি ২০ লাখ টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারগুলোকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
সব ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। গুরুতর আহতদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে তুরস্কে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা অধিদপ্তর গঠন
জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ২০ জন কর্মকর্তা নিয়ে এ অধিদপ্তর পরিচালিত হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা
উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানান, প্রতি বছর ৫ আগস্ট “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হবে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ইতিহাস স্মরণে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ভবিষ্যৎ উদ্যোগ
উপদেষ্টা জানান, শহীদদের পরিবার এবং আহতদের যেসব ক্ষেত্রে ওয়ারিশ বা তালিকা সংশোধনজনিত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। কেউ নিখোঁজ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের জন্য নিজেদের রক্ত দিয়েছেন। জাতি তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবে না।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫