নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের তিনদিনেও খোঁজ নেই

বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছর বয়সী এক হেফজ বিভাগের ছাত্রের তিনদিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মাহমুদ ইসলাম রাফি। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মাহবুব ফকিরের একমাত্র ছেলে। পরিবার জানায়, গত রবিবার (২২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ দূরানী বাড়ি হাফিজিয়া মাদরাসায় ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় রাফি।

রাফির বাবা মাহবুব ফকির বলেন, “ঘটনার পর আত্মীয়স্বজনসহ আশেপাশে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কোথাও তার কোনো সন্ধান পাইনি।” তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, এজন্য দ্রুত তাকে খুঁজে বের করার অনুরোধ করছি।”

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌরনদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মাহবুব ফকির।

গৌরনদী মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, জিডির পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে




বরিশালের বাকেরগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় আসমা আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের কলসকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসমা আক্তার ওই গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ছুটে গিয়ে আসমা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক নাহিদ হাসান জানান, নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতকেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অথবা অন্য কোনো কারণে ঘটে থাকতে পারে। সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে

 

 




কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁশ দিয়ে ‘পেটালেন’ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা

বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁশ দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক সাবেক নেতা ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। রোববার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার টেকেরবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কৃষি কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন এবং রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন।

আহত ব্যক্তি হলেন ফখরুল ইসলাম, তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফখরুল ইসলাম জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নারিকেল চারা বিতরণের তালিকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা গিয়াস দেওয়ান একটি নামের তালিকা জমা দেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা চারা পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় তাদেরকে চারা দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এবং তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম জিসান (ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, হিজলা সরকারি কলেজ) রোববার রাতে ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে ফখরুলের ওপর হামলা চালান।

তিনি আরও বলেন, “টেকেরবাজারে অফিসের কাজ শেষে ফেরার পথে আমাকে একটি চায়ের দোকানে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। আমি ইউএনও স্যারের নির্দেশে হিজলা থানায় অভিযোগ করি।”

রাতেই হিজলা থানায় দায়ের করা মামলায় গিয়াস দেওয়ান, তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম জিসান এবং আরেকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত গিয়াস দেওয়ান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা এই ঘটনায় জড়িত নই। কে বা কারা হামলা করেছে জানি না।”

তবে হিজলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার তালুকদার বলেন, “গিয়াস দেওয়ান ও তার ছেলে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।”

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তাৎক্ষণিক এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”




৯ হাজার কোটি টাকায় ১৭ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৭৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ৩ হাজার ১৮০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ৫৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ২৩০ কোটি ৫১ লাখ টাকা

অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ
  • বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন
  • বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদক নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ
  • নতুন ৪টি মেরিন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সুবিধা
  • আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সম্প্রসারণে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন
  • বিভিন্ন জেলায় নতুন সার গোডাউন নির্মাণ
  • Access to Justice for Women
  • কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন
  • নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সেবা জোরদারকরণ
  • টিভিইটি শিক্ষক উন্নয়ন প্রকল্প
  • দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু
  • উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ডাটাবেজ
  • সরকারি কেনাকাটা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
  • পরিসংখ্যান দক্ষতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প

এছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

একনেক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ টেলিকম ব্যবসায়ী

বরিশালে এক টেলিকম ব্যবসায়ী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নিখোঁজ ব্যক্তির নাম ওমর ফারুক (৩৫)। তিনি নগরীর কাউনিয়া থানার পূর্ব বেলতলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মোবাইল সিম ও রিচার্জ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। পরিবারের দাবি, তিনি কোথাও যাওয়ার কথা বলেননি এবং তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না।

নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্বজনরা স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কাউনিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

পুলিশ বলছে, সম্ভাব্য সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়েরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি নিছক নিখোঁজ নয়—পেছনে কোনো প্রতিহিংসা বা অপরাধমূলক কারণ থাকতে পারে।

নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত উদ্ধার চেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আইজিপির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের প্রতিনিধি ম্যাথিউ ক্র্যাফট।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে পুলিশ সদর দফতরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশ ও অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের মধ্যে **মানবপাচার, অর্থপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন** সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, **বাংলাদেশ পুলিশ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।**

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি মো. গোলাম রসুল, অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ ও অভিযান) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই সাক্ষাৎ দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।




জুলাই থেকে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ভাতা পাবেন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকে তাদের মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসাথে ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্যদেরও পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চাকরিতে অগ্রাধিকারসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা

জুলাই যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

  • ‘এ’ ক্যাটাগরি: যারা গুরুতরভাবে আহত হয়ে এখন অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে অক্ষম। এদের সংখ্যা ৪৯৩ জন। তারা এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
  • ‘বি’ ক্যাটাগরি: যাদের আংশিক অঙ্গহানি হয়েছে এবং সীমিত সহায়তায় চলাফেরা করতে পারেন। এদের সংখ্যা ৯০৮ জন। তারা এককালীন ৩ লাখ এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
  • ‘সি’ ক্যাটাগরি: যারা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন। এ ক্যাটাগরিতে আছেন ১০ হাজার ৬৪২ জন। তারা এককালীন ১ লাখ এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

জুলাই শহীদদের জন্য সহায়তা

সরকার ঘোষিত তালিকায় বর্তমানে ৮৩৪ জনকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী মাসে বাকি ২০ লাখ টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারগুলোকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

সব ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। গুরুতর আহতদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে তুরস্কে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

জুলাই যোদ্ধা অধিদপ্তর গঠন

জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ২০ জন কর্মকর্তা নিয়ে এ অধিদপ্তর পরিচালিত হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানান, প্রতি বছর ৫ আগস্ট “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হবে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ইতিহাস স্মরণে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ভবিষ্যৎ উদ্যোগ

উপদেষ্টা জানান, শহীদদের পরিবার এবং আহতদের যেসব ক্ষেত্রে ওয়ারিশ বা তালিকা সংশোধনজনিত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। কেউ নিখোঁজ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের জন্য নিজেদের রক্ত দিয়েছেন। জাতি তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 

 

 




কেঁচো সারেই ভাগ্যবদল, সফল উদ্যোক্তা ডলি বিশ্বাস

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ভাগ্য বদলেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ডলি বিশ্বাস। একসময় অভাব-অনটনে জীবন কাটানো এই নারী এখন ঘরে বসেই পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি করে এলাকার আদর্শ উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামের দিনমজুর পরিমল বিশ্বাসের স্ত্রী ডলি বিশ্বাস দুই বছর আগে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির কাজ। কারিতাসের ‘ধরিত্রী প্রকল্প’ থেকে সহায়তা পেয়ে তিনি প্রথমে তিনটি চারি ব্যবহার করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ১৩টি রিং ব্যবহার করে নিয়মিত সার উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করছেন।

ডলি বিশ্বাস জানান, “সার তৈরির জন্য ১৫ দিনের পুরনো গোবর প্রয়োজন হয়। কেঁচো এই গোবর খেয়ে যে মল ত্যাগ করে, তাই হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। এই সার বিক্রি করেই আমি এখন স্বাবলম্বী।”

তার উৎপাদিত সার দামে সস্তা ও মাটির জন্য উপকারী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চাহিদা বেড়েছে। কৃষক আবু মিয়া বলেন, “রাসায়নিক সারের চেয়ে কেঁচো সার সস্তা। ফলনও ভালো হচ্ছে, আর মাটির ক্ষতি হচ্ছে না।”

আরেক কৃষক হারুন-অর রশিদ বলেন, “আমি সবজি চাষ করি। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। এখন ডলির তৈরি কেঁচো সার ব্যবহার করছি, এতে খরচ কমেছে আর ফলন বেড়েছে।”

কারিতাসের আগৈলঝাড়া ধরিত্রী প্রকল্পের ইনচার্জ এডওয়ার্ড অন্তু রায় জানান, “ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে অনেক অসহায় নারী আজ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষকরাও এই সার ব্যবহারে লাভবান হচ্ছেন।”

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রেজাউল হাসান বলেন, “কেঁচো সার সব ধরনের ফসলে ব্যবহারযোগ্য। এটি বীজের অঙ্কুরোদগমে সহায়তা করে, মাটির উর্বরতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফলনের গুণগত মান বাড়ায়।”

ডলি বিশ্বাসের সফলতায় প্রমাণ হয়েছে, উদ্যোগ ও পরিশ্রম থাকলে জৈব কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থানেও নারীরা হতে পারে আত্মনির্ভর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে এনসিপির তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি।

সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল চলাকালে তাদের ‘এনসিপি জিন্দাবাদ’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘হামলা করে সংস্কার বন্ধ করা যাবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে, দলটির কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আহত হন শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক শফিকুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রব, ঢাকা মহানগর নেতা আসিফ উদ্দিন সম্রাট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারীবাগ থানার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সুমন হোসেন।

এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।




ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় গভীর উদ্বেগ জামায়াত আমিরের

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “২১ জুন রাতে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অতর্কিত হামলা চালিয়ে দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট অবমাননা।”

তিনি আরও বলেন, “এই হামলা অবৈধ, অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ আগ্রাসী। এর মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। অথচ সেই মিথ্যা অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছে। এটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ভিত্তিহীন ও সরাসরি হামলার উদাহরণ।”

জামায়াত আমির বলেন, “এই আগ্রাসন শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাসী এ ঘটনায় হতবাক।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”