ঝালকাঠিতে মৌসুমে চালের দাম বেড়ে বিপাকে ভোক্তা

বোরো ধানের ভরা মৌসুমেও ঝালকাঠিতে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে গেছে। বাজারে কোনো দৃশ্যমান সংকট না থাকলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো।

স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২৫ কেজির প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। মোটা চাল যেমন বুলেট ও গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা দরে, মাঝারি মানের পাইজাম ও বালাম ৬০ থেকে ৬৭ টাকায় এবং মিনিকেটের মতো সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এগুলোর দাম ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। উত্তরবঙ্গের চাতালগুলো থেকে ঝালকাঠিতে চালের বড় একটি অংশ সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওইসব অঞ্চলে ধান সঠিকভাবে শুকানো যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে।

এছাড়া বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর চাল মজুদের প্রবণতাও বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোকাম থেকে অধিক পরিমাণ চাল কিনে সংরক্ষণ করায় সাধারণ বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এই কৃত্রিম সংকটেই মূলত চালের দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, ভোক্তারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় চালের দামে এমন উর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গডফাদারদের ধরতে না পারলে মাদক দমন অসম্ভব : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকবিরোধী অভিযানকে কার্যকর করতে শুধু বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের পেছনের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৩২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাদকের বাহকদের ধরার পাশাপাশি এখন সময় এসেছে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার। শুধু বাহকদের ধরে মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গডফাদারদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনারা যেসব দাবি করেছেন, তা পূরণ করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা।”

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশের বাহিনী সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করে রোজগার করছে, সংসার চালাচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই চক্র ভাঙার চেষ্টা করছি। যদিও এখনো পুরোপুরি সফল হইনি, তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন অনেক নতুন ‘বদি’ তৈরি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে বাহক নয়, মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায়।”




এনবিআরের সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের ইঙ্গিত অর্থ উপদেষ্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এনবিআরের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে বিগত সরকারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের প্রভাব থাকতে পারে। আগে এনবিআরে অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সি ছিল না। আগের সরকারের সময় কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী বিশেষ সুবিধা পেতেন, অথচ ভালো ব্যবসায়ীরা উপেক্ষিত ছিলেন। এনবিআর তখন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারেকাছেও ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ধারণা, কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থ এখানে জড়িত থাকতে পারে। না হলে ক্যারিয়ার নিয়ে কর্মকর্তারা এতটা ক্ষিপ্ত হতেন না। যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এমন আচরণ যৌক্তিক নয়। যদিও আমি সরাসরি ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছি না।”

এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন—এটা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এনবিআরের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। কারণ এটি শুধু কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, বরং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরি করতে গেলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হয়, শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। এনবিআর কর্মকর্তাদের উচিত হবে সেই দায়িত্ববোধ অনুসরণ করা।”

সরকার এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে—রাজস্ব সংগ্রহ শাখা এবং নীতি প্রণয়ন শাখা—হিসেবে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্য বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমেছেন বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতি চলছে। প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান পুলিশ পাহারায় নিয়মিত অফিস করছেন।




পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলন ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে প্রচার-প্রচারণার উচ্ছ্বাস।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা বিএনপি এখন দুটি প্রধান বলয়ে বিভক্ত। একটি বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অন্যদিকে রয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি। এই দুই বলয়ের অনুসারীরা সম্মেলন সামনে রেখে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার, ভিডিও কার্ডসহ নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি এবং সিনিয়র নেতা মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ পান্না। পান্নাকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, দেলোয়ার হোসেন নান্নু, মনিরুল ইসলাম লিটন, বশির মৃধা এবং তৌফিক আলী খান কবির।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে জেলার ৮ উপজেলা, ৫ পৌর ও আহ্বায়ক ইউনিটসহ মোট ১৪টি ইউনিটের প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর গোপন ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এবিএম মোশারফ হোসেন, মো. হাসান মামুনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি জানান, “২৪ জুন সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রীয় অফিস থেকে অনুমোদন পেয়েছি। আমরা সম্মেলনকে সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, সেটি নির্ভর করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের ওপর।”

তিনি গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবার। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে সেটি কোনো বিভাজন নয়।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সভাপতি ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম.এ. রব মিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন। সেই কমিটি দায়িত্ব পালন করে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর গঠিত হয় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি, যা বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আসন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে নেতাকর্মীরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় লবণ শিল্পে প্রাণ ফেরাচ্ছেন তরুণ ইয়াদ

দ্বীপজেলা ভোলার ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। নদীভাঙন, সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শত বছরের পুরনো সনাতন পদ্ধতির লবণ উৎপাদন। কিন্তু সেই শিল্পে আবারও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. ইয়াদ হোসেন।

এক সময় ভোলা সদর উপজেলার কালীনাথ রায়ের বাজার এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু বন্দর ছিল দেশের লবণ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সারি সারি লবণ কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদন হতো শত শত টন লবণ, যা সারা দেশে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু ক্রমাগত নদীভাঙন ও অবহেলায় সেই চাকা থেমে যায়।

এই মৃতপ্রায় শিল্পে নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন ইয়াদ। তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠিত কারখানায় আবারও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন শুরু করেছেন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রলারে করে আনা কাঁচা লবণ জলীয় পদ্ধতিতে পরিশোধন করে র্ক্যাশিং মেশিনে শুকিয়ে তা আয়োডিন মিশ্রিত ভোজ্য লবণ ও শিল্পে ব্যবহার উপযোগী লবণে রূপ দিচ্ছেন।

ইয়াদের কারখানায় এখন প্রতিদিনই চলছে উৎপাদন। তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্যাকেটজাত লবণ, যা স্থানীয় আড়তদারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার উৎপাদিত লবণ গুণগত মানসম্পন্ন ও দামেও সাশ্রয়ী—প্রতি কেজি মাত্র ১৪ টাকা। যেখানে বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা কেজি দরে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়াদ বিসিক শিল্পনগরীতে জমি বরাদ্দ নিয়ে আধুনিক ভ্যাকুয়াম পদ্ধতির একটি উন্নত লবণ কারখানা গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। তবে আর্থিক সংকটে সেই কাজ আপাতত থমকে আছে। তিনি আশাবাদী, সরকারি ঋণ বা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খুব শিগগিরই সেই কারখানার কাজ শেষ করে জাতীয় পর্যায়েও লবণ সরবরাহ করতে পারবেন।

এদিকে কোরবানি ঈদের আগে ইয়াদের মিল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ৬০ টন লবণ কিনে নেয়, যা তার উদ্যোগের প্রতি সরকারের আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোলা বিসিক শিল্পনগরীর জেলা কর্মকর্তা এসএম সোহাগ হোসেন বলেন, “ভোলায় লবণ উৎপাদনের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিক। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।”

তরুণ উদ্যোক্তাদের এই সাহসী উদ্যোগ হয়তো আবারও ফিরিয়ে আনবে ভোলার লবণ শিল্পের হারানো গৌরব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কাঁঠালিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ, পরিবারের উৎকণ্ঠা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ শিশুর নাম হাসান মাহমুদ, তার পিতা জিয়াউর রহমান। পরিবারের দাবি, গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছেলেটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, হাসান কাঁঠালিয়া উপজেলার আশরাফুল উলুম নুরিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। ভোররাতে মাদ্রাসা থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের এলাকায় বহু খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে এলাকার মানুষও সহায়তা করছেন। যেকোনো ব্যক্তি যদি ছেলেটির খোঁজ পান বা কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে ০১৬২০-৫৫৫১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩ জন

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও বরগুনা এখন একপ্রকার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালজুড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, শয্যা সংকট এবং চিকিৎসাসেবায় চরম দুর্ভোগ।

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ধস, মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শয্যার সংকটে অনেক রোগী বারান্দা ও করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নারীদের ও শিশুদের ওয়ার্ডেও একই চিত্র।

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৩, মৃত্যুও বাড়ছে

সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। এর মধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮০ জন এবং বাকি ১৩ জন জেলার অন্যান্য হাসপাতালে।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী:

  • আমতলী: ১ জন
  • বেতাগী: ২ জন
  • বামনা: ৬ জন
  • পাথরঘাটা: ৪ জন

বর্তমানে বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৪২ জন। এ বছর জানুয়ারি থেকে ১১ জুন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪৯৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২,২৫৩ জন।

সরকারি হিসেবে বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন। তবে বেসরকারিভাবে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার অন্তত ১৬ জন রোগী বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সংকটে চিকিৎসাসেবা, সচেতনতার তাগিদ

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজোয়ানুর আলম বলেন, “চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, “ডেঙ্গু রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মশার উৎসস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স পদায়ন করা হয়েছে। স্যালাইন ও রক্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

ডেঙ্গুতে বরগুনার বিপর্যস্ত চিত্র স্বাস্থ্যখাতের চরম দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত সচেতনতা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংস্থান না হলে এই হটস্পট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ধসে যান চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে একটি বেইলি ব্রিজ ধসে পড়েছে কয়লাবোঝাই একটি ট্রাকসহ। এতে করে কলারন-সন্ন্যাসী-মোড়েলগঞ্জ-পিরোজপুর সড়কে সকল ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, হাজারো মানুষের যোগাযোগে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২০ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে। ইন্দুরকানী উপজেলার মালবাড়ি এলাকার খালের উপর নির্মিত স্টিলের বেইলি ব্রিজ দিয়ে পার হচ্ছিল একটি অতিরিক্ত মালবোঝাই কয়লার ট্রাক। অতিরিক্ত ওজনের চাপে ব্রিজটি ভেঙে ট্রাকসহ খালের মধ্যে পড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু পুরনো এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার সতর্ক করা হলেও যথাসময়ে সংস্কার না করায় এখন তার মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ব্রিজের ওজনসীমা উপেক্ষা করে বিপদ

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রিজটির ওপর পাঁচ টনের বেশি ওজনের যান চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটিতে থাকা কয়লার ওজন সেই সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে যায়। ব্রিজের উপর উঠতেই সেটি ভেঙে পড়ে খালে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পরপরই সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পিরোজপুর সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানান, “ব্রিজ ধসের খবর পেয়ে আমরা তৎপর হয়েছি। ট্রাকটি উদ্ধারের পর দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।”

জনদুর্ভোগ চরমে

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ইন্দুরকানী, কলারন, সন্ন্যাসী, মোড়েলগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প কোনো সেতু বা রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

উপসংহার

যথাসময়ে সংস্কার এবং নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। এ ঘটনায় দ্রুত ব্রিজ পুনঃনির্মাণ এবং ভবিষ্যতে ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গঙ্গামতি চর: কুয়াকাটার বুকে এক নিসর্গের জাদুকাব্য

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্বে বিস্তৃত গঙ্গামতি চর—একটি স্থান যেখানে সমুদ্রের গর্জন, লেকের শান্ত জলরাশি আর সবুজ বন মিলে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চর, যেখানে প্রতিটি সকাল শুরু হয় সূর্যের স্নিগ্ধ আলো আর কাঁকড়ার রঙিন নৃত্যে।

সূর্যোদয়ে রঙিন এক নাট্যাভিনয়

গঙ্গামতির লালচে বেলাভূমিতে ভোরের আলো পড়তেই শুরু হয় কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ। সূর্যোদয়ের মুহূর্তগুলো যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। এই দৃশ্য দেখে পল্লীকবি জসিমউদ্দিনের কবিতার মাঠগুলো মনে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বনজীবনের জীবন্ত নিদর্শন

চরজুড়ে বিস্তৃত কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও ছইলার বনে নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে পাখির কলতান, বানরের লাফালাফি, শেয়ালের নিঃশব্দ পথচলা আর বুনো শুকরের মাটির নিচে কন্দ খোঁজার দৃশ্য সবই যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা একটি ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর।

লেকের হৃদয়স্পর্শী সৌন্দর্য

গঙ্গামতির লেক যেন চরটির প্রাণ। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে প্রতিনিয়ত এর রূপ বদলায়। পর্যটকরা ট্রলার, ডিঙি নৌকা কিংবা হেঁটে এই লেক আর আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ভাটার সময় গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা ও ফুল মিলে তৈরি করে অনন্য এক প্রাকৃতিক শিল্প।

যাতায়াতে সহজতা, অথচ উন্নয়ন নেই

কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট থেকে সহজেই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অথবা ভ্যানে গঙ্গামতিতে যাওয়া যায়। ভাটার সময় যাওয়া যায় মাইক্রোবাসেও। তবুও পর্যটন সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই চর এখনও অবহেলিত। নেই পর্যাপ্ত সড়ক উন্নয়ন, নিরাপত্তা কিংবা পরিচ্ছন্নতা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সাদমান ও সিলভি বলেন, “এটা যেন এক অন্য জগৎ। লেক, বন আর কাঁকড়া মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ।”

ঘুমিয়ে থাকা সম্ভাবনার গন্তব্য

স্থানীয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও বিনিয়োগের অভাবে গঙ্গামতির সম্ভাবনা এখনও অচর্চিত। যদিও কিছু হাউজিং কোম্পানি ইতোমধ্যে এখানকার জমিতে বিনিয়োগ শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করছে। এখানে সাগরভাঙনের ঝুঁকি কম, ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্যও অনেক বেশি—সব মিলিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

উপসংহার

গঙ্গামতি শুধু একটি চর নয়—এটি ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময়, টেকসই, পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে। দরকার শুধু দৃষ্টি প্রসারিত করা, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আন্তরিক সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ছাত্রদল নেত্রীর মৃত্যুতে উত্তাল ভোলা, তদন্ত দাবিতে ছাত্রদের লাগাতার বিক্ষোভ

ভোলায় লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে মৃত্যু হওয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মী সুকন্যা আক্তার ইপ্সিতার (২২) মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশা ও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে সহপাঠী ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

গত ১৭ জুন এমভি কর্ণফুলি-৪ লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন ইপ্সিতা। নিখোঁজের চার দিন পর, ২১ জুন লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরিচয় শনাক্তে দেরি হওয়ায় ২২ জুন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহ দাফন করা হয়। ছবি ও পোশাক দেখে ইপ্সিতার বাবা মাসুদ রানা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবিতে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪ জুন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতীকী শোক ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সকাল ১০টায় কলেজ ছাত্রদল, বিকেল ৫টায় পৌর ছাত্রদল এবং সন্ধ্যা ৭টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

তাদের প্রশ্ন, ইপ্সিতা কী স্বেচ্ছায় নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়েছে? যদি আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে কি কেউ তাকে প্ররোচিত করেছে? ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা প্রেমঘটিত বা রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে কি না—এই সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ভিকটিমের বাবা মাসুদ রানা অজ্ঞাতনামা আসামি করে লক্ষ্মীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে লক্ষ্মীপুর থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ভোলা থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

লঞ্চ কেবিন ইনচার্জ রাসেল হৃদয়ের ভাষ্যমতে, ইপ্সিতা তৃতীয় তলার একটি কেবিন ভাড়া নিতে চেয়েছিলেন। ভাড়া বেশি হওয়ায় তিনি জানান তার কাছে মাত্র ৩০০ টাকা রয়েছে, বাকি দেবে ‘জসিম’ নামে কেউ। কিন্তু লঞ্চের অন্য কর্মকর্তা ‘জসিম’ নামে কাউকে চিনতে পারেননি। ইপ্সিতার পরিবারের দাবি, তাদের পরিচিত কারও নাম জসিম নয়—এতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ভোলা জেলা ও কলেজ ছাত্রদল পৃথক বিবৃতি দিয়ে ইপ্সিতার মৃত্যুতে শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

এদিন ছাত্রদলের প্রতিনিধি দল ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করে।

ওসি হাসনাইন পারভেজ জানান, লঞ্চটি চাঁদপুর অতিক্রম করার সময় মেয়েটি নদীতে পড়ে যান বলে জানা গেছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে লক্ষ্মীপুর থানা ও নৌ পুলিশ। ভোলা থানাসহ ডিবি পুলিশও তাদের সহায়তা করছে।

ভোলা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ছাত্রী ইপ্সিতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করেছি। শিগগিরই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫