নিবন্ধন ফিরে পেয়ে সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কৃতজ্ঞতা জামায়াত সেক্রেটারির

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের ২৪ জুনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। এর আগে, ১ জুন আপিল বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় এবং ৪ জুন নির্বাচন কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই জয় ন্যায়বিচারের, এই জয় গণতন্ত্রের। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। আজকের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”

তিনি গণমাধ্যম, আইনজীবী এবং দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা জাতির বিবেক। সংবাদ মাধ্যমে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকতার মহত্ত্ব অটুট রেখেছেন।”

গোলাম পরওয়ার আরও জানান, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী বৈধভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর এক আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে আদেশে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল, তা ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আজকের রায় এবং প্রজ্ঞাপন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের স্বীকৃতি।”

সংক্ষিপ্ত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।




নগরবাসীর জন্য সুখবর: সপ্তাহজুড়ে মিলবে ডিএসসিসির সেবা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আগামী শুক্র ও শনিবারও খোলা থাকবে। ছুটির দিন হলেও নগরবাসী সব ধরনের নাগরিক সেবা পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগর ভবনের পাশাপাশি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ ডিএসসিসির সব পর্যায়ের অফিস খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবে সেবা প্রদান করা হবে।

এর আগে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে সেবা কার্যক্রমও। তবে সঙ্গত কারণেই এখনো চলছে ইশরাক অনুসারীদের অবস্থান কর্মসূচি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ডিএসসিসির সব নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময় নগর ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে এবং প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করেন দক্ষিণ সিটির ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা।

পরে ঈদ বিরতির পর ১৫ জুন থেকে ফের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে করে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ তালাবদ্ধ থাকে। তবে সোমবার (২৩ জুন) সব তালা খুলে সেবা কার্যক্রম আবার চালু করা হয়।

নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং সেবা সচল রাখতে এবার সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলো ডিএসসিসি।




নৌবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প পাথরঘাটায়, উপকার পেল শতাধিক রোগী

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ‘সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হলো একদিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প। সোমবার (২৩ জুন) আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৪০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।

এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করে খুলনা নৌ অঞ্চল কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে বরগুনা নৌ কন্টিনজেন্ট। সেবা দেন বানৌজা ‘উপশম’-এর দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি সাধারণ অসুখ থেকে শুরু করে কিছু জটিল সমস্যারও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পাথরঘাটার দুর্গম ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য এ সেবা বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে। রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নৌবাহিনী সূত্রে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতেও দেশের অন্যান্য দুর্গম এলাকায় নিয়মিত এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মানুষ যেখানে যত্ন-সম্মান-সততা পায়, সেখানেই আটকায় — রোজা-তাহসানের রোমান্টিক মুহূর্ত ভাইরাল

বিয়ের পর প্রেমের গন্ধ এখনো টাটকা। সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদের নতুন কিছু ছবি আবারও মাতিয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।

বিয়ের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোজার প্রতিটি পোস্টেই থাকে ভক্তদের কৌতূহল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে তাহসানের সঙ্গে সুইমিংপুলে কাটানো কিছু একান্ত মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন রোজা।

ভালোবাসায় ভেজা একান্ত সময়

ছবিগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৃদু বৃষ্টির ছোঁয়া আর এক টুকরো রোমান্টিকতা—যেখানে তাহসানের বাহুতে রোজা, আর চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার ভাষা। এই দৃশ্যই মুগ্ধ করেছে ভক্তদের।

ছবির সঙ্গে রোজা লেখেন:

“সত্যিকারের বিলাসিতা হচ্ছে প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সময়। যেখানে নীরবতাও বোঝাপড়ায় পূর্ণ, ধীর সকালে ফিসফিস করা প্রতিশ্রুতি, আর ভালোবাসা—যেটা একেবারে আমাদের নিজের।”

রিসোর্টের কক্ষে বই হাতে এক প্রশান্ত মুহূর্তের ছবি এবং ঘরটির অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও তুলে ধরেছেন রোজা।

নেটিজেনদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

রোজার এই পোস্টে শুধু ইনস্টাগ্রামেই লাইক পড়েছে এক লাখের বেশি, ফেসবুকেও প্রতিক্রিয়ার জোয়ার।

তৌকির আহমেদ তিতাস নামে একজন মন্তব্য করেন—

“প্রথম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যেখানে যত্ন, সম্মান ও সততা পায়, সেখানেই আটকে যায়।”

আনিকা লেখেন: “মায়াবী সৌন্দর্য।”
জাফরীন: “ক্রাশগুলো যেন তাদের বউদের নিয়ে সুখেই থাকুক।”
তাজকিয়া বিনতে আজাদ: “পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমের জালে।”
শাকিলা: “দুজনকেই খুব সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে, এতদিনে তাহসান ভাই তার জীবনের পূর্ণতা পেলেন। আল্লাহ তাদের সুখে রাখুক।”

ভালোবাসার গল্প চলছেই…

দম্পতি প্রায়ই দেশের বাইরে ঘুরতে যান। তাঁদের ছবি, মুহূর্তগুলো যেন দর্শকদের মাঝে এক নতুন প্রেমের ভাষা হয়ে ওঠে।




ভোলায় ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত দাবি, বিক্ষোভ সমাবেশ

ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিহত ওই ছাত্রীর মৃত্যু রহস্যজনক। চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও তাকে ঢাকা যাওয়ার পথে লঞ্চ থেকে ‘ঝাঁপ দিয়েছেন’ বলে দাবি করা হয়, কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে বহু প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা এই মৃত্যুর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন, আরাফাত ইসলাম ইফতি ও সদস্যসচিব ফজলুল করিম ছোটন।

উল্লেখ্য, ভোলা সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নদীতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজপাড়ায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।




বিয়ের নামে প্রতারণা, নিঃস্ব কাতারপ্রবাসী রুবেল

বরিশালের নলছিটি উপজেলার দক্ষিণ রানাপাশা গ্রামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কাতারপ্রবাসী এক যুবকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি অর্থ ও উপহার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মো. রুবেল সিকদার জানান, পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাবের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় মোসা. মনুজা আক্তার (২৩)-এর সঙ্গে। পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রুবেল জানান, মনুজার সঙ্গে বিয়ে হবে এমন প্রত্যাশায় তিনি তাকে স্বর্ণালঙ্কার, দামী মোবাইল, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপহার পাঠান।

রুবেল অভিযোগ করেন, মনুজার অনুরোধে তিনি তার ভাই সগির হোসেনকে কাতারে নিয়ে আসতেও সহযোগিতা করেন। কিন্তু এরপর থেকেই মনুজা তার সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, মনুজা এরই মধ্যে সোহেল খলিফা নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন এবং তার সঙ্গে পূর্ব থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

রুবেল বলেন, “আমার সরল বিশ্বাসকে করে ও আমাকে ভালোবাসার অভিনয় করে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।”

তিনি আরও জানান, যোগাযোগের চেষ্টা করেও মনুজা তার ফোন রিসিভ করেননি। উকিল নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি। বিষয়টি নিয়ে বরিশালের স্থানীয় আদালতে মামলা করা হয়েছে।

রুবেলের দাবি অনুযায়ী, তার পাঠানো টাকার লেনদেন, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার প্রদানের বেশ কিছু প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনুজা আক্তারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।




বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতার পদত্যাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর শাখার তিন নেতা পদত্যাগ করেছেন। তারা পূর্বের সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জান্নাত আরা রিয়া ও সংগঠক অনন্যা ইসলাম এশা যৌথভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি করেছেন। এতে লেজুড়বৃত্তিহীন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাও বাস্তবায়িত হয়নি।

তারা বলেন, বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের এনসিপি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে যুক্ত হতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা সংগঠনের আদর্শের পরিপন্থী। এ ছাড়া দুর্নীতি, মামলা ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগও তোলেন পদত্যাগকারীরা।

এ বিষয়ে মহানগর আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

 




খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি হ্রাস

খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক (জুন-২০২৫)’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৫ শতাংশে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাল, মাছ ও ফলমূলের দাম বেড়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় দেশের বৈদেশিক খাতও মজবুত হয়েছে, যদিও এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “এই বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ঋণের দুষ্টচক্র ভাঙা।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি ছিল উদ্বেগের কারণ। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমতে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের মধ্যে মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে চাল (৪০%), এরপর রয়েছে মাছ (২৮%) ও ফলমূল (১২%)। মাঝারি চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যেখানে আলু ও মুরগির মাংসের দাম কমে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া আবাসন, তৈরি পোশাক ও পরিবহন খাতেও মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।




তিন বিধবার জমি দখলে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের বানারীপাড়ায় তিন বিধবা নারীর জমি দখলে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের যৌথভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দলীয় অফিস নির্মাণের নামে জমি দখল ও স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিন বিধবা—নাদিরা আলম খান, শামীমা বেগম ও রানু বেগম। তারা জানান, বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকায় ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ৬৯ শতক জমিতে তারা বসবাস ও ভোগদখল করে আসছিলেন।

নাদিরা আলম খান জানান, চলতি বছরের ১১ জুন যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিটন তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হন তারা। অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না গিয়ে পরে উল্টো তার দুই ভাইয়ের ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীদের অনুপস্থিতিতে যুবদল, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা মিলিতভাবে কাঠের দোকান নির্মাণ করে জমি দখল করেন। আদালতে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পরও তা মানা হয়নি।

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে:

  • যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিটন
  • আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও খান রেজাউল করিম
  • বিএনপি নেতা বশির কাজী, মাসুম আহমেদ, আব্দুস সালাম

অভিযুক্তদের বক্তব্য:

যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিটন দাবি করেন, জমির ৬২ শতক তার মায়ের মালিকানাধীন এবং আদালতের নির্দেশে সেই জমি তার দখলে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা আ. জলিল বলেন, দোকান তোলার কাজে তিনি নিজের জমির সীমানা দেখিয়েছেন, কারও জমি দখলে সহায়তা করেননি।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মোস্তফা বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কাজ করেছে এবং জমির বিষয়ে রায় মাহফুজুর রহমান লিটনের পক্ষে রয়েছে।




দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেলো জামায়াতে ইসলামী

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুনর্বহাল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল (নিবন্ধন নম্বর: ০১৪)। কিন্তু হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই নিবন্ধন বাতিল করা হয়

পরবর্তীতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে দেন। ফলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়। কোরবানির ঈদের আগে ৪ জুন অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এখন জামায়াতের প্রতিনিধিদল নিবন্ধন ও প্রতীক গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত নেই, তবে বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে প্রতীকটি পুনরায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব।

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে:

  • বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫০টি
  • সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত ৬৯টি প্রতীক রয়েছে।
  • আরও ১১৫টি প্রতীকের প্রস্তাবনা কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
  • এসব প্রতীক নিয়ে কমিশন খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দলটি ফের বৈধতা পায়। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।