ভোলায় লবণ শিল্পে প্রাণ ফেরাচ্ছেন তরুণ ইয়াদ

দ্বীপজেলা ভোলার ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। নদীভাঙন, সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শত বছরের পুরনো সনাতন পদ্ধতির লবণ উৎপাদন। কিন্তু সেই শিল্পে আবারও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. ইয়াদ হোসেন।
এক সময় ভোলা সদর উপজেলার কালীনাথ রায়ের বাজার এবং বোরহানউদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু বন্দর ছিল দেশের লবণ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সারি সারি লবণ কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদন হতো শত শত টন লবণ, যা সারা দেশে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু ক্রমাগত নদীভাঙন ও অবহেলায় সেই চাকা থেমে যায়।
এই মৃতপ্রায় শিল্পে নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন ইয়াদ। তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠিত কারখানায় আবারও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন শুরু করেছেন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রলারে করে আনা কাঁচা লবণ জলীয় পদ্ধতিতে পরিশোধন করে র্ক্যাশিং মেশিনে শুকিয়ে তা আয়োডিন মিশ্রিত ভোজ্য লবণ ও শিল্পে ব্যবহার উপযোগী লবণে রূপ দিচ্ছেন।
ইয়াদের কারখানায় এখন প্রতিদিনই চলছে উৎপাদন। তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্যাকেটজাত লবণ, যা স্থানীয় আড়তদারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার উৎপাদিত লবণ গুণগত মানসম্পন্ন ও দামেও সাশ্রয়ী—প্রতি কেজি মাত্র ১৪ টাকা। যেখানে বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা কেজি দরে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়াদ বিসিক শিল্পনগরীতে জমি বরাদ্দ নিয়ে আধুনিক ভ্যাকুয়াম পদ্ধতির একটি উন্নত লবণ কারখানা গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। তবে আর্থিক সংকটে সেই কাজ আপাতত থমকে আছে। তিনি আশাবাদী, সরকারি ঋণ বা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খুব শিগগিরই সেই কারখানার কাজ শেষ করে জাতীয় পর্যায়েও লবণ সরবরাহ করতে পারবেন।
এদিকে কোরবানি ঈদের আগে ইয়াদের মিল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ৬০ টন লবণ কিনে নেয়, যা তার উদ্যোগের প্রতি সরকারের আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোলা বিসিক শিল্পনগরীর জেলা কর্মকর্তা এসএম সোহাগ হোসেন বলেন, “ভোলায় লবণ উৎপাদনের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিক। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।”
তরুণ উদ্যোক্তাদের এই সাহসী উদ্যোগ হয়তো আবারও ফিরিয়ে আনবে ভোলার লবণ শিল্পের হারানো গৌরব।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








