সরকারে থেকেও ‘অবরুদ্ধ ও দুর্বল’ মনে করছেন আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, অর্ন্তবর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে “শক্তিহীন, দুর্বল ও অবরুদ্ধ” মনে করছেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবক হয়েও তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং বারবার কুৎসা, গুজব ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের আয়োজিত বিশেষ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, “আমার কাছে প্রতিদিন অন্যায় তদবির আসে। তদবির না মানলেই আমাকে ভারতের দালাল বলা হয়। ভিডিও বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার চালানো হয়। আমি কিছু বলি না, কোনো মামলা করি না—দায়িত্বে আছি বলে সব মেনে নিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি তা বলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি কখনও এতটা দুর্বল, অসহায় আর অবরুদ্ধ ছিলাম না, যতটা এখন সরকারের অংশ হয়ে অনুভব করছি।”
আইন উপদেষ্টা বলেন, “সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আজ যারা দুর্বল অবস্থানে আছেন, তাদের হুট করে উন্নত পর্যায়ে তোলা যায় না। আমাদের প্রয়োজন ইনক্রিমেন্টাল রিফর্ম—ধাপে ধাপে সংস্কার। আপনাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে আমরা সেটি বাস্তবায়নে কাজ করব।”
প্রথম আলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামের পাশে বিএনপিপন্থী লেখা হয়, কিন্তু আনিসুজ্জামান বা জাফর ইকবালের নামের পাশে আওয়ামী লীগপন্থী লেখা হয় না। এটা দ্বিচারিতা।”
আসিফ নজরুল বলেন, “দেশে বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। আমরা ডিজিটাল কোর্ট চালু করেছি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ধাপে ধাপে আরও আদালতকে ডিজিটাল করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক মিথ্যা মামলা হয়, অনেকেই হয়রানির শিকার হন। এগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মামলা পুলিশ করে, সরকার নয়।”
২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মাত্র ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “মামলা হলে জামিন পাবে কিনা, সেটা একান্তভাবে বিচারকের এখতিয়ার। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে; আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /







