“আসিফ মাহমুদের লাগাম টানুন, না হলে আন্দোলন তীব্র হবে” — ইশরাক

বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন নগর ভবন ছাড়িয়ে রাজপথে গড়াবে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের লাগাম না টানার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তার মন্তব্যে ঢাকার নাগরিকদের অপমান করা হয়েছে, এজন্য তাকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

বুধবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবেক ডিএনসিসি মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।

তিনি জানান, আন্দোলনের কারণে নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিঘ্নিত হচ্ছিল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে তার অনুরোধে আন্দোলনকারীরা গত সোমবার থেকে নগর ভবনের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি সরকারের কোনো চাপ কিংবা আন্দোলনের দাবির সুরাহার কারণে হয়নি।

ইশরাক বলেন, “নগর ভবনের কর্মকর্তারা কোরবানির ঈদের পর দৈনন্দিন সেবা চালুর উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন জন্ম, মৃত্যু, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ না দিতে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা থেকে বঞ্চিত করে আন্দোলনকারীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালানো হয়। আমরা এই চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নেপথ্যে ছিল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া রুবেলের নাম উঠে এসেছে। তিনি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আসিফ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রুবেল তার ‘লুটপাটের হাতিয়ার’ হয়ে ওঠে।”

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, “আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে আমি আন্দোলন করছি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকার লাখো ভোটারকে অপমান করা হয়েছে। এভাবে আন্দোলনকারীদের পশুর মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এজন্য তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আসিফ বলেছেন, আমাকে ‘মিসগাইড’ করা হয়েছে। এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাকে অপমান করেছেন এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকেও তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষে ইশরাক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে আন্দোলন নগর ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে।”




মুলাদীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় ছয়টি বেসরকারি কলেজের বিরুদ্ধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্রের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিভিন্ন অজুহাতে জিম্মি করে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মুলাদী উপজেলার সাতটি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি সরকারি ও ছয়টি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। মুলাদী সরকারি কলেজ ছাড়া বাকি প্রতিটি বেসরকারি কলেজে প্রবেশপত্রের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সফিপুর ইউনিয়নের বালিয়াতলী গ্রামের অভিভাবক আবুল হাসেম অভিযোগ করেন, হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজে কেন্দ্র খরচের অজুহাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

আরিফ মাহমুদ কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল হান্নান জানান, তার সন্তানকে প্রবেশপত্র নিতে হলে ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। এমনকি অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একই পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, নাজিরপুর ইউনাইটেড কলেজ, চরকালেখান আদর্শ কলেজ, পূর্ব হোসনাবাদ কলেজ এবং মুলাদী মহিলা কলেজেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “কোনো কেন্দ্র খরচ বা প্রবেশপত্রের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি, শুধু পূর্বের বকেয়া আদায় করা হয়েছে।”

আরিফ মাহমুদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন বলেন, “ফরমপূরণের সময় শিক্ষার্থীরা পূর্ণ টাকা দেয়নি, প্রবেশপত্র বিতরণের সময় সেই টাকা আদায় করা হয়েছে।” তবে ১ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “ফরমপূরণের সময় কেন্দ্র ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে, প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় নতুন করে কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই।”

এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলায় পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন

দেশের সব সুপারশপ এখন শতভাগ পলিথিনমুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য ১৭টি প্লাস্টিক পণ্য নিরুৎসাহিত করতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সুপারশপগুলো শতভাগ পলিথিনমুক্ত হয়েছে। পাট, কাগজ ও কাপড়ের মতো পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, প্লাস্টিক দূষণ রোধে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, দেশের নদ-নদী সংরক্ষণে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকার চারটি নদী ও ২০টি খালের জন্য ‘ব্লু-নেটওয়ার্ক’ পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। বড়াল, করতোয়া ও সুতাংসহ ১৫টি নদী পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি বলেন, “মধুপুর শালবন ও চুনতি বন পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৪৫৯ একর বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোনাদিয়া উপকূলীয় বন ও রাজশাহীর দুটি জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।”

এছাড়াও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে ‘নো-ব্রিকফিল্ড জোন’ গঠন এবং পরিবেশ দূষণকারী পুরনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, পরিবেশ মেলা চলবে ২৫ থেকে ২৭ জুন এবং বৃক্ষমেলা চলবে ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




প্রকৃতি নয়, মানুষই পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংসের জন্য মানবজাতিই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “পৃথিবীর সর্বনাশের জন্য যারা দায়ী, তারা আমরা সবাই। আমরা এই অপরাধের আসামি।”

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত—যুদ্ধবিগ্রহ, প্রযুক্তির অপব্যবহারসহ নানা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হচ্ছে জলবায়ু সংকট, যা অনেকেই এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। প্রকৃতির এই বিধ্বংসী রূপ প্রকৃতির দোষ নয়, এটা মানুষের সৃষ্টি। মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কথা, কিন্তু আমরা বরং উল্টো পথে হেঁটে চলেছি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “জলবায়ু সংকট দৈত্যের মতো সামনে হাজির হচ্ছে। সে হুঙ্কার দিচ্ছে—হয় আমরা থাকব, না হয় তোমরা থাকবে। মানুষ আর প্রকৃতি একসঙ্গে থাকতে পারবে না।”

প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “প্লাস্টিক আজ পৃথিবীর জলবায়ু, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য—এই তিনটি স্তম্ভেই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এমন এক বস্তু যার জন্ম আছে, মৃত্যু নেই। পৃথিবীর সব কিছুর মৃত্যু আছে, কিন্তু প্লাস্টিক বেঁচে থাকে। প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে জলাশয়গুলোতে এর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।”

তিনি বলেন, “প্লাস্টিক আমাদের অসহায়ত্ব দেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। আমাদের উদ্যোগহীনতা দেখে তারা জয়গান গাইছে। আমরা দিবস উদযাপন করি, তারপর যথারীতি ঘরে ফিরে প্লাস্টিকই ব্যবহার করি।”

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ না বদলাই, তাহলে এই যুদ্ধে মানবজাতির পরাজয় অনিবার্য। এই সংকট থেকে কীভাবে বের হব, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”




গৌরনদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ১০

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। বুধবার দুপুরে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি বাস গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ও বামরাইলের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনকে বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত দুই যাত্রীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার পর এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা দ্রুত বাসটি উদ্ধার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি।”

এ দুর্ঘটনায় যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের ডাক ; বার্তা দিচ্ছে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতসহ একাধিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২৫ জুন) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি’র এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি ও দায়িত্বপালনের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সমাবেশ সফলভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সমাবেশের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা,
  • নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন,
  • সকল গণহত্যার বিচার,
  • মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার,
  • ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন,
  • জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন,
  • প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং
  • প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কামাল হোসাইনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সমাবেশকে সে ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




ঝালকাঠিতে মৌসুমে চালের দাম বেড়ে বিপাকে ভোক্তা

বোরো ধানের ভরা মৌসুমেও ঝালকাঠিতে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে গেছে। বাজারে কোনো দৃশ্যমান সংকট না থাকলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মানের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো।

স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২৫ কেজির প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। মোটা চাল যেমন বুলেট ও গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা দরে, মাঝারি মানের পাইজাম ও বালাম ৬০ থেকে ৬৭ টাকায় এবং মিনিকেটের মতো সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এগুলোর দাম ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। উত্তরবঙ্গের চাতালগুলো থেকে ঝালকাঠিতে চালের বড় একটি অংশ সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওইসব অঞ্চলে ধান সঠিকভাবে শুকানো যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে।

এছাড়া বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর চাল মজুদের প্রবণতাও বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোকাম থেকে অধিক পরিমাণ চাল কিনে সংরক্ষণ করায় সাধারণ বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এই কৃত্রিম সংকটেই মূলত চালের দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, ভোক্তারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় চালের দামে এমন উর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গডফাদারদের ধরতে না পারলে মাদক দমন অসম্ভব : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকবিরোধী অভিযানকে কার্যকর করতে শুধু বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের পেছনের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৩২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাদকের বাহকদের ধরার পাশাপাশি এখন সময় এসেছে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার। শুধু বাহকদের ধরে মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গডফাদারদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনারা যেসব দাবি করেছেন, তা পূরণ করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা।”

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশের বাহিনী সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করে রোজগার করছে, সংসার চালাচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই চক্র ভাঙার চেষ্টা করছি। যদিও এখনো পুরোপুরি সফল হইনি, তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন অনেক নতুন ‘বদি’ তৈরি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে বাহক নয়, মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায়।”




এনবিআরের সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের ইঙ্গিত অর্থ উপদেষ্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এনবিআরের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে বিগত সরকারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের প্রভাব থাকতে পারে। আগে এনবিআরে অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সি ছিল না। আগের সরকারের সময় কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী বিশেষ সুবিধা পেতেন, অথচ ভালো ব্যবসায়ীরা উপেক্ষিত ছিলেন। এনবিআর তখন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারেকাছেও ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ধারণা, কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থ এখানে জড়িত থাকতে পারে। না হলে ক্যারিয়ার নিয়ে কর্মকর্তারা এতটা ক্ষিপ্ত হতেন না। যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এমন আচরণ যৌক্তিক নয়। যদিও আমি সরাসরি ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছি না।”

এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন—এটা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এনবিআরের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। কারণ এটি শুধু কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, বরং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরি করতে গেলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হয়, শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। এনবিআর কর্মকর্তাদের উচিত হবে সেই দায়িত্ববোধ অনুসরণ করা।”

সরকার এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে—রাজস্ব সংগ্রহ শাখা এবং নীতি প্রণয়ন শাখা—হিসেবে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্য বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমেছেন বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতি চলছে। প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান পুলিশ পাহারায় নিয়মিত অফিস করছেন।




পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলন ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে প্রচার-প্রচারণার উচ্ছ্বাস।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা বিএনপি এখন দুটি প্রধান বলয়ে বিভক্ত। একটি বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অন্যদিকে রয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি। এই দুই বলয়ের অনুসারীরা সম্মেলন সামনে রেখে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার, ভিডিও কার্ডসহ নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি এবং সিনিয়র নেতা মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ পান্না। পান্নাকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, দেলোয়ার হোসেন নান্নু, মনিরুল ইসলাম লিটন, বশির মৃধা এবং তৌফিক আলী খান কবির।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে জেলার ৮ উপজেলা, ৫ পৌর ও আহ্বায়ক ইউনিটসহ মোট ১৪টি ইউনিটের প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর গোপন ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এবিএম মোশারফ হোসেন, মো. হাসান মামুনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি জানান, “২৪ জুন সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রীয় অফিস থেকে অনুমোদন পেয়েছি। আমরা সম্মেলনকে সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, সেটি নির্ভর করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের ওপর।”

তিনি গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবার। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে সেটি কোনো বিভাজন নয়।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সভাপতি ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম.এ. রব মিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন। সেই কমিটি দায়িত্ব পালন করে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর গঠিত হয় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি, যা বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আসন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে নেতাকর্মীরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম