সরকারে থেকেও ‘অবরুদ্ধ ও দুর্বল’ মনে করছেন আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, অর্ন্তবর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে “শক্তিহীন, দুর্বল ও অবরুদ্ধ” মনে করছেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবক হয়েও তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং বারবার কুৎসা, গুজব ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের আয়োজিত বিশেষ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, “আমার কাছে প্রতিদিন অন্যায় তদবির আসে। তদবির না মানলেই আমাকে ভারতের দালাল বলা হয়। ভিডিও বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার চালানো হয়। আমি কিছু বলি না, কোনো মামলা করি না—দায়িত্বে আছি বলে সব মেনে নিচ্ছি।”

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি তা বলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি কখনও এতটা দুর্বল, অসহায় আর অবরুদ্ধ ছিলাম না, যতটা এখন সরকারের অংশ হয়ে অনুভব করছি।”

আইন উপদেষ্টা বলেন, “সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আজ যারা দুর্বল অবস্থানে আছেন, তাদের হুট করে উন্নত পর্যায়ে তোলা যায় না। আমাদের প্রয়োজন ইনক্রিমেন্টাল রিফর্ম—ধাপে ধাপে সংস্কার। আপনাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে আমরা সেটি বাস্তবায়নে কাজ করব।”

প্রথম আলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামের পাশে বিএনপিপন্থী লেখা হয়, কিন্তু আনিসুজ্জামান বা জাফর ইকবালের নামের পাশে আওয়ামী লীগপন্থী লেখা হয় না। এটা দ্বিচারিতা।”

আসিফ নজরুল বলেন, “দেশে বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। আমরা ডিজিটাল কোর্ট চালু করেছি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ধাপে ধাপে আরও আদালতকে ডিজিটাল করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক মিথ্যা মামলা হয়, অনেকেই হয়রানির শিকার হন। এগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মামলা পুলিশ করে, সরকার নয়।”

২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মাত্র ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “মামলা হলে জামিন পাবে কিনা, সেটা একান্তভাবে বিচারকের এখতিয়ার। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে; আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জিরো সয়েল বাস্তবায়নে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ: পরিবেশ উপদেষ্টা

ঢাকার ধুলাবালি ও পরিবেশ দূষণ রোধে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নগরীর খোলা জায়গা মাটি দিয়ে না রেখে ঘাস বা লতাগুল্ম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, বাড়ির ছাদে লাগাতে হবে গাছ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পূর্বাচলে বন অধিদপ্তর ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় পূর্বাচলের হারার বাড়ি চত্বরে। এসময় সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, খালপাড় এবং অন্যান্য জায়গায় গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “জিরো সয়েল শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়—সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ ও সাধারণ মানুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যাঁর যতটুকু সামর্থ্য, ততটুকু গাছ লাগাতে হবে। ঢাকাকে সবুজায়নের মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই।”

তিনি আরও বলেন, “বনভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি না করলে শুধু আবাসনই টিকবে না। আমাদের ইকোসিস্টেম রক্ষা করতে হবে। বন তৈরি করা যায় না, এটা প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

ডিএনসিসির সূত্র মতে, ভবিষ্যতে ১২০ কিমি মিডিয়ান এবং ১০৮ কিমি খালপাড় সবুজায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরা ও পূর্বাচল এলাকায় যৌথভাবে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা বনানী কবরস্থানের পাশের রাস্তায় ঘাস রোপণ করে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাহেন্দ্র উল্টে নিহত ১, আহত ৫

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী একটি মাহেন্দ্র (নসিমন) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের ভেড়ারহাট বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম হাফিজুর মোল্লা (৫০)। তিনি সদর উপজেলার নিজড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত ইউসুফ মোল্লার ছেলে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপালগঞ্জ শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি মাহেন্দ্র উলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ভেড়ারহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে মাহেন্দ্রটি উল্টে গিয়ে যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই হাফিজুর মোল্লা নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রবাসে বসে এনআইডি পেতে ৪৭ হাজার বাংলাদেশির আবেদন

বিদেশে অবস্থান করেও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রায় ৪৭ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বিশ্বের ৯টি দেশে শুরু হওয়া ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে ইতোমধ্যে এই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯টি দেশের ১৬টি স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রবাসীদের এনআইডি প্রদানের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৯৮২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৬৬ জনের আবেদন তদন্ত শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২২ হাজার ৫৭৫টি আবেদন এখনো তদন্তাধীন, এবং ৪৯৫টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ জন প্রবাসীর। আবেদন বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৬টি। সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে—মোট ১৯ হাজার ৫৬২টি। সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, মাত্র ১৫৩টি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ূন কবীর জানান, আগামী ১৫ জুলাই থেকে জাপানেও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রেও কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় এই কার্যক্রম চালু রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে অবস্থানরত প্রায় দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া।

এদিকে, দেশের অভ্যন্তরে হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। চলতি বছর নতুনভাবে ৬০ লাখের বেশি ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কাউখালিতে ভেজাল ঘি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

পিরোজপুরের কাউখালিতে ভেজাল ঘি বিক্রির দায়ে এক মিষ্টির দোকান মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার ‘আদি নিশি কুন্ডু মিষ্টান্ন ভান্ডার’-এ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ঘি পরীক্ষার পর ভেজালের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী চিত্ত কুন্ডকে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন কাউখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সজল মোল্লা। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ।

নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, “আমাদের নিয়মিত মাসিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষা করে দেখা হয় দোকানে বিক্রি করা ঘিতে ভেজাল রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নাজিরপুরে অবৈধ আইসক্রিম কারখানা সিলগালা, মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় অনুমোদনহীন ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রং-ফ্লেভার ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদনের দায়ে একটি অবৈধ কারখানাকে সিলগালা ও মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাতিলাখালী এলাকায় অবস্থিত ‘সাউথ ল্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করে আসছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম, কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভার জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়।

অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুজিত কুমার বিশ্বাস অংশ নেন। কারখানা মালিক মো. হাসান শেখ (৩৫), যিনি নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের কবির শেখের ছেলে—তাকে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১০ এর ৩৯ ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফজলে রাব্বি বলেন, “এই কারখানার কোনো সরকারি অনুমোদন বা বিএসটিআই লাইসেন্স নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্ষতিকর উপাদানে খাদ্য উৎপাদন করায় কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি সিলগালা থাকবে।”

প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষা উপদেষ্টা

সারাদেশে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ফলাফল প্রকাশে যাতে কোনো বিলম্ব না ঘটে, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “পরীক্ষার শুরু থেকেই সব কেন্দ্রে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছেছে এবং পরীক্ষাও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষ, কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।




“গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকার নিশ্চিত নয়” — তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রকে গতিশীল ও ধারাবাহিক রাখতে না পারলে দেশে একমাত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। মানবতা, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও অবাধ নির্বাচনভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য গড়ে তুলতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

জাতিসংঘ ঘোষিত নির্যাতিতদের প্রতি সমর্থনের আন্তর্জাতিক দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে বুধবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “এই দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানানোর জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। অথচ বিশ্বজুড়ে এখনো বহু রাষ্ট্রে মানুষ চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা আসলেও সহিংসতা থামেনি। নানা দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিরোধীদের দমন করতে গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “গত প্রায় ১৬ বছর ধরে দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসে, যার ফলে সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হলেও এখনও গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়নি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ‘মব জাস্টিস’-এর হিংস্র উত্থানে। গণতন্ত্রকে গতিশীল রাখতে হলে এধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

বিবৃতির শেষে তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




“বাংলাদেশ ছিল আমার কূটনৈতিক জীবনের ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা” — ট্রেস্টার

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার চার বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টারকে তার সফল কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “উন্নয়নের যাত্রায় জার্মানি সবসময় আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ইউরোপে জার্মানি আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

রোহিঙ্গা সংকটে জার্মানির মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জার্মানির অব্যাহত সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সহায়তা বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে মানবতার একটি অনন্য উদাহরণ।”

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার বলেন, “বাংলাদেশ আমার কূটনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা পোস্টিং। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর সংস্কার প্রক্রিয়ায় সফলতা কামনা করি। ইনভেস্টমেন্ট সামিটের মতো উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আশা করি, সামনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টার আমাদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন। আপনি বাংলাদেশ ছাড়লেও আমরা ভবিষ্যতেও আপনার মতামত শুনতে আগ্রহী থাকব—তা সমালোচনামূলক হলেও।”

সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছর মেয়াদে রাজি বিএনপি, তবে রয়েছে কিছু শর্ত

প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ নির্ধারণে শর্তসাপেক্ষে একমত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ‘জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ (এনসিসি)’ বা এ ধরনের কোনো নিয়ন্ত্রক বডি যদি নির্বাহী ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিএনপি এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘ঐকমত্য কমিশনের’ বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আমরা শর্তসাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে একমত হয়েছি। তবে এনসিসির মতো যদি কোনো কাঠামো নির্বাহী ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমরা সে প্রস্তাব মেনে নেব না। সেই অবস্থায় আমাদের আগের অবস্থানই বহাল থাকবে।”

বৈঠকে আলোচনার প্রধান তিনটি বিষয় ছিল—সংবিধানের মূলনীতি, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ।

সালাহ উদ্দিন জানান, সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি” সংযুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। তিনি আরও জানান, পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত কিছু অনুচ্ছেদকেও পুনরায় যুক্ত করার কথা বলেছে বিএনপি।

এদিকে এনসিসির পরিবর্তে ‘নিয়োগ কমিটি’ গঠনের একটি প্রস্তাবও বৈঠকে ওঠে। এতে সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের দুই স্পিকার (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ), বিরোধীদলীয় নেতা, অন্যান্য বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির একজন প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি। তবে সেনাবাহিনী প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ এ কমিটির আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়।

সালাহ উদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব আইনি কাঠামো রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধান সংযোজনেরও তাগিদ দেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, “যদি কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দুদকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়—তাহলে সেগুলোই গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, শুধুমাত্র নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আরোপ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলো, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের কার্যকর কাঠামো গঠন।

সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার নিয়ে চলমান ‘ঐকমত্য কমিশন’-এর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি এখনও পেন্ডিং রয়েছে বলে জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।