বিভ্রান্তি নয়, আইন অনুযায়ী খিলক্ষেত থেকে মণ্ডপ সরানো হয়েছে: রেল উপদেষ্টা

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে স্থাপিত একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু ব্যক্তি পূর্বানুমতি ছাড়াই রেলের জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ নির্মাণ করেন। পূজার আয়োজনের সময় তারা পূজা শেষে মণ্ডপটি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পূজা শেষ হওয়ার পর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তা সরাননি।

ফাওজুল কবির বলেন, “পূজার আয়োজকরা পরে সেখানে স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন, যা রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছিল না। তাদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি।”

তিনি জানান, জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা—দোকানপাট, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, কাঁচাবাজার এবং সর্বশেষ অস্থায়ী মণ্ডপটি সরানো হয়।

অস্থায়ী মণ্ডপে থাকা প্রতিমাগুলো যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে বালু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফাওজুল কবির আরও বলেন, “মণ্ডপ সরানোকে কেন্দ্র করে যেকোনো বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ আইনের বাইরে কিছু করেনি, বরং জনস্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”




মানবিক বিবেচনায় আনিসার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন: শিক্ষা উপদেষ্টা

স্ট্রোক আক্রান্ত মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী আনিসা আহমেদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ তার অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছান এবং পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআর আবরার বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই শিক্ষার্থীর দুঃসময়ে তার পাশে আছি এবং তাকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”




শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক শফিকুল আলম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজ প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে আমার ব্রেকিং নিউজের জন্য দ্য সোসাইটি অব পাবলিশারস ইন এশিয়া (এসওপিএ) ২০২৫ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটি আমার জন্য একটি বড় খবর।”

শফিকুল আলম তার পোস্টের সঙ্গে পুরস্কারের ছবিও যুক্ত করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি ‘অনারেবল মেনশন’ ক্যাটাগরিতে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় শফিকুল আলম আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির (Agence France-Presse) ঢাকা ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তার নেতৃত্বে প্রকাশিত ব্রেকিং নিউজটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এসওপিএ অ্যাওয়ার্ডটি এশিয়ার সংবাদপত্র, অনলাইন ও ম্যাগাজিন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রদান করা হয়।




এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই বিশৃঙ্খলা, শিক্ষাবোর্ডের কঠোর পদক্ষেপ

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিতরণে অবহেলার অভিযোগে রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের ঢাকা-৯ কেন্দ্র (কেন্দ্র কোড-৫১২) — নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা প্রথম পত্র (বিষয় কোড ১০১) পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়িত্বে অবহেলা করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা মাহমুদ। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর প্রেক্ষিতে তাকে কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হারুনুর রশিদকে।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বিষয়টি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

প্রথম দিনেই ১৯ হাজার ৭৫৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ থেকে ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।




‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণায় এনসিপি নেতাদের তীব্র আপত্তি

৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) পৃথক ফেসবুক পোস্টে এ আপত্তি জানান।

আখতার হোসেন তার পোস্টে লেখেন, “নতুন বাংলাদেশ দিবস সেদিন হবে, যেদিন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আসবে এবং মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্ম ৫ আগস্ট। ওই দিন সাধারণ ছাত্র-জনতা সরকার পতনের ইতিহাস গড়েছে। ৮ আগস্ট নয়। ৫ আগস্টের এ অর্জনকে সরকারের দখলে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “৮ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার সূচনা হয়নি। বরং এই দিনে দ্বিতীয় স্বাধীনতার চেতনা দুর্বল করার, ছাড় দেওয়ার ও বিপ্লবকে বেহাত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৫ আগস্টই প্রকৃত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’।”

উল্লেখ্য, ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে। তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক পরিপত্রে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এনসিপি নেতারা ৫ আগস্টকেই নতুন বাংলাদেশের সূচনাদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।




জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় এসআই সুকান্তকে আবারও জেল হাজতে প্রেরণ

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত কুমার দাশকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অধীন বর্তমানে কর্মরত এসআই সুকান্ত কুমার দাশের বিরুদ্ধে খুলনায় সংঘটিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, “খুলনা সদর থানার পাঠানো মামলার অধিযাচনপত্র পাওয়ার পর আমরা সুকান্তকে বিষয়টি জানাই। তিনি স্বেচ্ছায় থানায় উপস্থিত হলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠান।”

এর আগে গত মঙ্গলবার খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এসআই সুকান্তকে স্থানীয় জনতা মারধর করে খানজাহান আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু সেদিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে কেএমপি সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে তালা ভেঙে বের হন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে আন্দোলন থামেনি; বুধবার বিকেলে ফের কেএমপি ঘেরাও করে পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টা থেকে, যখন আন্দোলনকারীরা কেএমপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা খানজাহান আলী সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এসআই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান বৈঠক নিয়ে জোট গঠনের গুঞ্জন অস্বীকার করলেন উপদেষ্টা

চীনের কুনমিংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে ঘিরে জোট গঠনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হলেও বাংলাদেশ তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, “আমরা কোনো জোট গঠন করছি না।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগটি মূলত চীনের, এবং এটি একেবারেই অফিসিয়াল পর্যায়ের—রাজনৈতিক নয়। সেখানে একটি প্রদর্শনীর সময় তিন দেশের পররাষ্ট্র সচিবেরা সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন। আলোচনা ছিল কেবল কানেক্টিভিটি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিকে ঘিরে। জোট গঠনের কোনো বিষয় সেখানে ছিল না।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটা ছিল একটি প্র্যাকটিক্যাল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার প্রয়াস। এটিকে বেশি স্পেকুলেট করা ঠিক হবে না। আমরা মনে করি না, এই বিষয়টি নিয়ে আর বাড়তি কিছু বলার দরকার আছে।”

ত্রিপক্ষীয় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব

বৈঠকে চীন ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ কর্মপরিষদ (Joint Working Group – JWG) গঠনের প্রস্তাব আসে বলে জানা গেছে। তবে তিন দেশের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নতা দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “কোনো কিছু অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছি যে বৈঠকটি কোনো কাঠামোগত বা বড় ধরণের চুক্তির অংশ ছিল না। প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখেছে, আমরাও তাই করেছি।”

জোট গঠন তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে কি না—এমন প্রশ্নে পরিষ্কার জবাব

জোট গঠনের আলোচনা তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, “অবশ্যই নয়। টার্গেট করার মতো কিছু নেই এখানে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এটি কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয়।”

তিনি বলেন, “যদি ভারত, নেপাল বা অন্য কোনো দেশ কানেক্টিভিটি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করতে চায়, আমরাও রাজি আছি। এমন বৈঠক করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। এটা নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই।”

উল্লেখ্য, কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হলো, এটি কোনো জোট গঠনের সূচনা নয়, বরং একটি যৌথ আলোচনার প্ল্যাটফর্ম মাত্র।




লঞ্চ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ: ‘পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে’ — ইপ্সিতার বাবা

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ভেসে ওঠা মরদেহ ছিল ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার। ঘটনার চার দিন পর উদ্ধার হলেও এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরিবার বলছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ইপ্সিতার বাবা মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে লঞ্চে নিয়ে হত্যা করেছে। কে বা কারা করেছে, জানি না। তবে পুলিশ ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পেয়েছে এবং হত্যা মামলা হয়েছে। বিচার না হলে এভাবে মেয়েরা একের পর এক মারা যাবে।

১৭ জুন সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভোলা সদর উপজেলার নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ও ভোলা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা। পরদিন বিকেল থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ২০ জুন ভোলা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

এরপর জানা যায়, ঢাকাগামী কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে ১৭ জুন নদীতে পড়ে যান এক তরুণী। ২১ জুন লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীঘাট এলাকায় নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরবর্তীতে পোশাক দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন ইপ্সিতার পরিবার

ইপ্সিতার বাবা জানান, তার মেয়ের সঙ্গে জনৈক মেহেদী হাসান বাপ্পির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক ভেঙে গেলে মেয়ের পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করেন বাপ্পি। এ ছাড়া ২০২৩ সালে মেহেদী হাসান মিরাজ নামে একজনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও কিছুদিন পর ডিভোর্স দেন মিরাজ। সেই মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান।

বাবার অভিযোগ, প্রেম ও পারিবারিক বিবাদের জের ধরেই তার মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়

কর্ণফুলী-৪ লঞ্চের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন জানান, তরুণী পর্যাপ্ত ভাড়া না থাকায় কেবিন পাননি। পরে ডেকে অবস্থান নেন। মেঘনারচর এলাকায় পৌঁছালে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেন তিনি। লঞ্চের যাত্রীরা চিৎকার করলে ৪৫ মিনিট ধরে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। এরপর লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত জানান, নৌপুলিশের ইনচার্জ আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ইপ্সিতার বাবাও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।

ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এই মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলও এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এসআই সুকান্তকে ঘিরে উত্তাল খুলনা, পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি

এসআই সুকান্ত দাসকে জনতা মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পরও ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তর ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র ও সাধারণ জনতা। আন্দোলনকারীরা কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিকেল ৪টা থেকে খানজাহান আলী সড়কে কেএমপির সামনে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও যাত্রীরা।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এসআই সুকান্ত দাস গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। তারা বলেন, “একজন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়া বিচারহীনতার বহিঃপ্রকাশ। যতদিন না পুলিশ কমিশনার পদত্যাগ করছেন, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।”

এদিকে কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার জানিয়েছেন, এসআই সুকান্ত দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “খুলনা সদর থানায় দায়ের হওয়া শফিকুল আলম মনার বাড়ি ভাঙচুর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে গ্রেপ্তারে কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সময় লেগেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তর, কেএমপি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে সুকান্ত দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা এবং আদালতে আরও একটি মামলা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এসআই সুকান্ত দাসকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করেন এবং খানজাহান আলী থানায় সোপর্দ করেন। পরে রাতেই পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর দমনমূলক অভিযানের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিন থেকেই কেএমপি ঘেরাও কর্মসূচি শুরু হয়।

বুধবার দুপুরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কেএমপি সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা সেখান থেকে সরে গেলে তালা ভেঙে বের হয় পুলিশ।

পুনরায় বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে উত্তাল হয় এলাকা। আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।




বরগুনায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের, আহত ৩

বরগুনার আমতলীতে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শনিবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের কেওয়াবুনিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী ইকরা লাক্সারী পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবোঝাই অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুইজন যাত্রী।

নিহতরা হলেন—আমতলী উপজেলার গাজিপুর সোনাখালীর মো. আজিজুল ইসলাম (৬৫) এবং গলাচিপা উপজেলার নলুয়া বগীর খালেদা বেগম (৫০)। আহত তিনজনের মধ্যে একজন নারী যাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। বরগুনা ও আমতলীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. হানিফ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, মরদেহ দুটি আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তবে ইকরা লাক্সারী পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫