বরিশাল বিমানবন্দরের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ করার দাবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সবুজ আকনের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঢাকার সঙ্গে বরিশালের সরাসরি যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে ছোট-বড় দুই শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে, এতে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও বিপ্লবী রাজনৈতিক নেতা। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় এবং পরবর্তীতে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশে ছাত্রনেতা সবুজ আকন বলেন, “ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়। এই হত্যার দায় প্রশাসন ও শেখ হাসিনার সরকার এড়াতে পারে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদি বরিশালের সন্তান। তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বরিশাল বিমানবন্দরের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ রাখা উচিত। এটি শুধু একটি নামকরণ নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হবে।”
বেলা ১১টার দিকে অবরোধ শুরু হয়ে সাড়ে ১২টার দিকে তা প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








