ভারতের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা: ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশি বস্ত্র খাত

বাংলাদেশ থেকে কাপড়, পাট ও সুতার পণ্যের আমদানিতে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। শুক্রবার (২৭ জুন) দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এক বিবৃতিতে জানান, এসব পণ্য আর স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারবে না।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য, একাধিক ভাঁজের বোনা কাপড়, একক শণ সুতা, ব্লিচ না করা পাটের কাপড়সহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের নহভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে। স্থলবন্দর দিয়ে এসব পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।”

এর আগে গত মে মাসেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত। সেসময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিতে স্থলবন্দরের পথ বন্ধ রেখে শুধুমাত্র নহভা শেভা ও কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে আমদানির অনুমতি দেয় দেশটি। বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে। ওই সিদ্ধান্তে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে নতুন নিষেধাজ্ঞায় নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে না বলে জানায় ভারতের বাণিজ্য দপ্তর। যদিও এ ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে— এসব পণ্য যেন পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দিল্লি এই ধরনের বাণিজ্যিক কড়াকড়ি আরোপ করছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যান বলে রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে শীতল এবং শত্রুভাবাপন্ন অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।




ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানা

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই আমাদের সংগ্রাম।” তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারেনি।

শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন বলেন, “বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেকে স্বজন হারানোর পরও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। অথচ এসব নিপীড়নের মধ্যেও আমরা মাথা নত করিনি।”

তিনি দাবি করেন, “বিএনপির দুঃসময়ে, যখন কেউ কথা বলতে সাহস করতো না, আমি সেই সময় শেখ হাসিনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেশের স্বার্থে কথা বলেছি— দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে।”

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, “যারা আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, অনেকেই সেই কঠিন সময়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু যারা দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাদের ভুলে গেলে চলবে না।”

তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আপনি শিক্ষিত, জনবান্ধব প্রার্থী চান, নাকি আবার টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদারদের হাতে দেশ তুলে দিতে চান?”

ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুমিন বলেন, “জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে দুর্গাপুরসহ আশেপাশের এলাকায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং তরুণদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণদের জন্য রাজনীতিকে আদর্শভিত্তিক করতে হবে, যাতে তারা স্বপ্ন দেখতে পারে, নেতৃত্ব দিতে পারে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন তরুণদলের সভাপতি আজিম রানা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মুমিনুল হক, গোলাম সারোয়ার খোকন, সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টার, জেলা তরুণদলের সভাপতি আজিজুর রহমান হেলালসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।




ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক বাতিল, পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ

ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা বা বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ছিলাম, তখন তারা ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দেয়। এমন আচরণ কূটনীতির পরিপন্থী এবং এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, “সম্প্রতি আলোচনার সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় অধিকার খর্ব করতে চেয়েছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। এমনকি ইসরায়েলি দখলদার শক্তিকে হামলার জন্য উস্কে দেয়।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। তবুও তিনি বলেন, “আমরা কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করছি না। এখনও অনেক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, “আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।” তবে আরাগচি তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এ ধরনের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর বিমান হামলা চালায়। এতে দুই দেশের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে সংঘর্ষ চলে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এতে ৬০৬ জন নিহত ও ৫ হাজার ৩৩২ জন আহত হন।

উল্টোভাবে, ইরানও ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে এতে ২৯ জন নিহত এবং আহত হন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন।

পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগেই গত ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে সাময়িক শান্ত করলেও কূটনৈতিক সমাধান এখনও অনিশ্চিত।




ভারতে মুসলিম নির্যাতন, আতঙ্কে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানেরা

ভারত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনা বিচারে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি—এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া আইনবহির্ভূত ও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত। ইতোমধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ইস্যুতে, বিশেষ করে বাংলাদেশি মুসলমানদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। বিভিন্ন সময় সরকারি ভাষ্যে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে ভারতজুড়ে প্রায় ২০ কোটির মতো মুসলমান, বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুসলমানরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে

ভারতের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, “দেশের পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, তারা যেন এখন নিজের দেশেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছেন।”

তিনি বলেন, “এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুধু বেআইনিই নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত টার্গেটিং, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।”

কাশ্মির হামলার পর দমন-পীড়ন জোরদার

গত ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মিরে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা সরাসরি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই ভারতজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।

এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের মুখে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের দাবি: ‘অবৈধ অভিবাসী’

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, কোনো প্রকার বিচার বা আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষদের এভাবে বিতাড়ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। অতীতে ভারত ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তির সুর দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতিগত উত্তেজনার প্রভাবে ভারতের এই ধরণের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




সোশ্যাল বিজনেস কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক : অধ্যাপক ইউনূস

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সামাজিক ব্যবসার (সোশ্যাল বিজনেস) মাধ্যমে জনগণের জন্য টেকসই ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, এই ধারণা একটি নতুন সভ্যতা গঠনের পথ তৈরি করতে পারে।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে দুইদিনব্যাপী ১৫তম সোশ্যাল বিজনেস ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “সোশ্যাল বিজনেস ডে একটি পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো দিন। বিগত সরকারের আপত্তির কারণে এই দিনটি বাংলাদেশে পালন করা সম্ভব হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো ৫ আগস্টের পর আমরা এ আয়োজনে অংশ নিতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক বিশ্ব গড়তে চাই। এজন্য প্রতিটি জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাটি স্বার্থপরতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই আমাদের এখনই সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।”

শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “স্বপ্ন ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রথমেই স্বপ্ন দেখতে শেখাতে হবে। গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় সেই নতুন সভ্যতা গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

তিনি জানান, এবারের সোশ্যাল বিজনেস ডে উপলক্ষে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে ১৮০ জনের বেশি বিদেশি প্রতিনিধির অংশগ্রহণ রয়েছে। সম্মেলনে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ও আটটি ব্রেকআউট সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা সামাজিক ব্যবসার নীতি, প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করবেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।




বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আন্দোলন করছে এক সুবিধাভোগী চক্র  : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি সুবিধাভোগী চক্র ব্যক্তিস্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত রথযাত্রা উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘দলের অনুমতি ছাড়া কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে যদি কোনো সরকারি দপ্তরে আন্দোলন করে, তাহলে তার দায় বিএনপি নেবে না। যারা ইনকাম ট্যাক্স অফিসে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, তারা কেউ বিএনপির সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়।’

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রক্ত ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়তে সহায়ক হবে।’

আলোচনায় রিজভী আরও দাবি করেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের বক্তব্য থেকেই প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচন ছিল অনিয়ম ও অবৈধতায় পরিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার করে যৌক্তিক সময়েই একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সভায় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




“গাজায় আমাদের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে” — ইসরায়েলের বিরোধী নেতা

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেছেন, “এই যুদ্ধ কেবল একটি অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে,”— এবং দ্রুত এই অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, “গাজায় আমরা যা করছি, তা আর কাজ করছে না। এটি আর কোনো সমাধান দিচ্ছে না। এখন সময় এসেছে এই সামরিক অভিযান থামানোর। যখন কোনো কৌশল ব্যর্থ হয়— তখন তা পরিত্যাগ করাই যুক্তিসংগত।”

হামাস হামলার জবাবে অভিযান, প্রাণ গেল ৫৬ হাজারের বেশি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ৫৬,৩৬৫ জন, আহত হয়েছেন ১,৩২,২৩৯ জন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও ফের হামলা, বাড়ছে মানবিক সংকট

চলমান চাপের মুখে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, মাত্র দুই মাসের মাথায় গত ১৮ মার্চ আইডিএফ আবারও হামলা শুরু করে। এর পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে যেসব জিম্মি রয়েছে, তাদের উদ্ধারের লক্ষ্যেই নতুন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনো অন্তত ৩৫ জন ইসরায়েলি নাগরিক জীবিত অবস্থায় গাজায় বন্দি রয়েছেন।

“জিম্মিদের উদ্ধারই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত”

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন লাপিদ। তিনি বলেন, “আমাদের নাগরিকরা এখনও গাজায় বন্দি। এই যুদ্ধ থেকে আমরা আর কী পাচ্ছি, তা কেউই স্পষ্টভাবে বলতে পারছে না। বরং এখন জিম্মিদের উদ্ধারে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

ইসরায়েলের চলমান অভিযানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-তে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার। তারা একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও, এখন পর্যন্ত তেল আবিব কিংবা হামাস কেউই সেই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলেও ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।




ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা জানাল তেহরান

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার, জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে সহানুভূতিপূর্ণ বিবৃতি, বক্তৃতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংহতি জানানো হয়েছে, তা মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

“সংহতি একটি নৈতিক দায়িত্ব” — ইরান

ইরানি দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানি জনগণের প্রতিরোধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ। আমাদের বিশ্বাস, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিরোধ শুধু বৈধ অধিকারই নয়, এটি এক ধরনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।”

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের অবস্থান যে বার্তা দিয়েছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে এক স্পষ্ট ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া বলেও উল্লেখ করা হয়।

“বাংলাদেশের সংহতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে”

ইরান দূতাবাস জানায়, “বিশ্বব্যাপী সহিংসতা, আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের মোকাবিলায় পারস্পরিক সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো একটি মূল্যবান পদক্ষেপ।”

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, “বাংলাদেশ ও ইরান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”




আগামীকাল ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ; থাকছে যেসব দাবি

আগামী জাতীয় নির্বাচন সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং পিআর পদ্ধতিভিত্তিক নির্বাচনের দাবিতে মাঠে রয়েছে। এই দাবিতে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী গণসংযোগ, প্রচারণা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারের মহাসমাবেশ হবে আমাদের দাবির পক্ষে একটি শক্তিশালী উপস্থাপনা।”

লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা

সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শুক্রবার সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, “সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছে। লঞ্চ ও ট্রেনেও মানুষ ঢাকায় আসবেন। আমাদের আশা, লাখো মানুষ এই মহাসমাবেশে অংশ নেবেন।”

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টায় মহাসমাবেশ শুরু হলেও মূলপর্ব শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমন্ত্রণ

দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “এ মহাসমাবেশ থেকে আগামী রাজনীতির একটি নতুন বার্তা পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে যারা একমত, তাদের সবাইকে আমরা এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে অংশ নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরবেন।




ভারতের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ গঙ্গা চুক্তির নতুন খসড়া, উদ্বেগে বাংলাদেশ

আগামী বছর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির। এর আগে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা ‘নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন একটি গঙ্গা চুক্তির ব্যাপারে চিন্তা করছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ পানি চুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা চুক্তিও নতুন করে পর্যবেক্ষণে নিচ্ছে ভারত সরকার। এতে বর্তমান চুক্তির বিকল্প, পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোর চিন্তা করছে তারা। ভারতের যুক্তি, দেশটির কৃষি, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ উন্নয়নমূলক খাতে পানির চাহিদা অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান চুক্তি তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে ২০২৬-এ

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হয়। এটি ছিল একটি ৩০ বছরের চুক্তি, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে ভারত।

বিশেষ করে ১১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ে, দুই দেশ প্রতি ১০ দিনের জন্য ৩৫ হাজার কিউসেক হারে পানি পাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ভারতের বর্তমান পরিকল্পনায় এই পরিমাণ আরও ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

কৃষি ও সেচের জন্য বাড়তি পানি দাবি

ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার উভয়ই নতুন পানি বণ্টন কাঠামোতে সম্মত। তারা বলছে, সেচ, নদী নৌচলাচল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে তাদের আরও বেশি পানির দরকার।

ফারাক্কা বাঁধ এবং বাংলাদেশের উদ্বেগ

উল্লেখ্য, গঙ্গা নদীর ফারাক্কা বাঁধটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। বাঁধটি ১৯৭৫ সালে চালু করে ভারত, যার মাধ্যমে গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নৌ চলাচল সচল রাখা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধে পানি আটকে রাখার ফলে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে পানি সংকট দেখা দেয়, যা কৃষি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি

বিশ্লেষকরা বলছেন, পানিবণ্টনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে উভয়পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন চুক্তির আলোচনা হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।