ভোলার মনপুরায় হাঁটুপানি জমে বিদ্যালয়ের মাঠে, শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে হাঁটুপানি জলাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা নোংরা পানির মধ্যে দিয়েই প্রতিদিন ক্লাস করতে আসছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছায়।

বিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৮২ জন। কিন্তু গত ৮ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ষা এলেই মাঠে পানি জমে থাকে, ফলে বন্ধ থাকে অ্যাসেম্বলি, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহ-শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের চারপাশে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সবগুলো স্থাপনাই স্কুলমাঠের তুলনায় উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নেমে আসে মাঠে এবং সেখানে জমে থাকে দিনের পর দিন। পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পর পুরো মাঠ রূপ নেয় জলাধারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিক্রম চন্দ্র দাস জানান, “বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা চরমে পৌঁছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলেই দুর্ভোগে পড়ি। আমরা বারবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুন আরা জুই বলেন, “বৃষ্টি হলে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, কোনো রকমে ক্লাসে পৌঁছাতে পারি।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহি জানায়, “খেলাধুলা করা তো দূরের কথা, অনেক সময় ইউনিফর্ম ভিজে ঠান্ডা লেগে যায়।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে থইথই পানি, বিদ্যালয় ভবনের নিচেও পানি ঢুকেছে। আশপাশের ময়লা-আবর্জনা ভেসে এসে জমছে এই পানিতে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল হোসেন জানান, “পানি নিষ্কাশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সমাধানের আশা করছি।”

তবে মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, “মাঠ ভরাটের জন্য আপাতত বরাদ্দ নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়টি জেনেছি। খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।”

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাঠ ভরাটের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ইন্দুরকানিতে ইউপি সদস্য ও ভাবীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার চরবলেশ্বর গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার জেরে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক ইউপি সদস্য ও তার ভাবী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ইউপি সদস্যের স্ত্রীও গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন—ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫০) ও তার ভাবী মৌকলি বেগম (৪৮)। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রেহানা বেগম (৪০)।

নিহত শহিদুল ইসলাম চরবলেশ্বর গ্রামের আসলাম হাওলাদারের পুত্র এবং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়কও ছিলেন। নিহত মৌকলি বেগম শহিদুল ইসলামের ভাই মর্তুজা হাওলাদারের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, রাতে হঠাৎ শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে লোকজন ছুটে এসে দেখেন পুকুরপাড়ে শহিদুল ও মৌকলি বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। রেহানা বেগমকেও মারাত্মক আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এবং সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহত রেহানা বেগম অভিযোগ করেন, “পাশের বাড়ির ইউনুসসহ ৪-৫ জন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার স্বামী ও ভাবিকে তারা কুপিয়ে হত্যা করে এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে যায়।” তিনি আরও বলেন, “ইউনুসের সঙ্গে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।”

ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক পরকীয়ার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”

নৃশংস এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে সারজিসের হুংকার: “খুনি হাসিনা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে সরব হুংকার দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের জন্য প্রয়োজন হলে আবারও আমরা রাস্তায় নামব।”

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম এই সংগঠক আরও বলেন, “সংস্কার ও খুনিদের বিচারের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা যতদিন এক থাকব, ততদিন খুনি হাসিনা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। যত নেতা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক, কেউ পারবে না।”

সারজিস দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন বিদেশে বসে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব অপপ্রচারে আমাদের কিছু আসে যায় না। বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগিয়ে যাবে।”

আগামী নির্বাচন যেন সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে হয়—এ দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই প্রশ্নে সবাইকে জাগতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কাউকে যেন টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ করব, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সেটা মনে রাখতে হবে। আগেও এই মাঠে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু সেসবের শেষে মাঠ পরিষ্কার করা হয়েছে। এই দৃষ্টান্তই আমাদের পথ দেখায়—এই বাংলাদেশই আমরা চেয়েছিলাম।”

এ সময় সারজিস জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে যারা সামনে ছিল, তাদের নেতৃত্বেই পথ গড়তে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের মুখ দেখে নয়, বরং জনগণের সামনে আমাদের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”

তার এই বক্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত হাজারো কর্মী ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে ১৬ দফা দাবি ঘোষণা

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার আয়োজিত মহাসমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। মহাসমাবেশকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ধিত অংশ” এবং “আগামী বাংলাদেশের বিনির্মাণে একটি গৌরবময় মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরতন্ত্র রোধে এই সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।”

ঘোষিত ১৬ দফা দাবিসমূহ:
১. সংবিধানে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন।
২. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চালু করা।
৩. ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার মাধ্যমে শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
৪. ভবিষ্যৎ স্বৈরাচার প্রতিরোধে মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন।
৫. নির্বাচনে প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৬. পতিত ফ্যাসিবাদের বিচার এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ।
৭. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।
৮. সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন-খারাবি দমনে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৯. ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি প্রকাশ এবং দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল।
১০. জাতীয় নির্বাচনের আগে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান প্রণয়ন।
১১. দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
১২. তফসিল ঘোষণার আগেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১৩. রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা ও ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
১৪. ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা।
১৫. জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা।
১৬. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল থেকেই দেশব্যাপী থেকে আগত হাজারো নেতা-কর্মীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অনিয়ম-অনৈতিকতার অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে সরে দাঁড়ালেন উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্যতম আলোচিত নেতৃত্বধারী ছাত্রনেতা উমামা ফাতেমা সংগঠনটির সব কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে উমামা আন্দোলনের অভ্যন্তরে চলমান অনিয়ম, অনৈতিকতা ও নেতৃত্বের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি এখন সুবিধাবাদীদের দখলে, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো পরিবেশ নেই।

তিনি লেখেন,
“বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক এখানেই শেষ। আমি জুলাই অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দায়বদ্ধতা থেকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হই। কিন্তু দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থরক্ষার রাজনীতির কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হই।”

উমামা অভিযোগ করেন, দলের ভেতরের একাংশ পরিকল্পিতভাবে তাকে অপদস্থ ও দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
“যে মানুষদের সঙ্গে আমি মিছিল করেছি, মিটিং করেছি, তারাই পরে জুনিয়রদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ‘smear campaign’ চালায়।”

তিনি আরও দাবি করেন, সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্বের জায়গায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ভাই-ব্রাদার গ্রুপিং-এর সংস্কৃতি শক্তভাবে জমে গেছে।
“প্ল্যাটফর্মে যারা প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন, তারাও সুবিধাবাদীদের দাপটে কাজ করতে পারেননি।”

উমামা ফাতেমা জানান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল এবং বিভিন্ন শাখা কমিটি গঠনে তিনি অসংখ্যবার অনিয়ম ও আপত্তির কথা জানালেও তার বক্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন,
“কমিটিগুলোর অনুমোদন যারা দিয়েছেন, সাংবাদিকরা কেন তাদের মুখোমুখি হন না? পেইজের অ্যাডমিন এক্সেস থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে সংগঠনের নিজস্ব পেজ থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এবং সংগঠন থেকে দূরে রাখতে এক ধরনের ‘সাইলেন্ট টর্চার’ চালানো হয়েছে।

উমামা আরও বলেন,
“মার্চ-এপ্রিলে এসব পরিস্থিতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যারা সামনে কাজ করার কথা বলতেন, রাতের অন্ধকারে হেয়ার রোডে গিয়ে পদ-পদবির জন্য দরকষাকষি করতেন।”

কাউন্সিল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বাইরে একজন হঠাৎ করে মেম্বার হয়ে যান। এতে আমি লজ্জিত। এখান থেকে ভালো কিছু আসবে না, সেটা বুঝে আমি সব ধরনের সমর্থন ও কাউন্সিলে প্রদত্ত ভোটও প্রত্যাহার করছি।”

তিনি জানান, তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল দেশের কল্যাণ, কিন্তু বাস্তবে সেটি সম্ভব হয়নি।
“জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্ম সেই স্বপ্নকে পণ্য করে তুলেছে। আমি যারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে, তাদের কখনো ক্ষমা করব না।”

সততার সঙ্গে রাজনীতিতে থাকা সম্ভব নয়— এমন উপলব্ধির কথা জানিয়ে উমামা বলেন,
“অনেক কিছু নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমি পারিনি। আমি এসব পলিটিক্যালি ক্যাশ করতে পারি নাই। আমি এগিয়ে যেতে চাই, পেছনের ৮-৯ মাসকে ঝেড়ে ফেলতে চাই।”

অন্তিম বার্তায় তিনি দেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন,
“আমি ভেঙে পড়ছি না, সবকিছু গুছিয়ে আনছি। ফি আমানিল্লাহ।”

উমামা ফাতেমার এই ঘোষণায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




চীন সফর সফল, বিএনপি-কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক আরও দৃঢ় : মির্জা ফখরুল

চীন সফরকে “সফল ও ফলপ্রসূ” আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, সফরের মাধ্যমে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে বেইজিং সফর শেষে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন,
“এই সফর ছিল রাজনৈতিক, আমরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। পলিটব্যুরোর নেতাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সফল এবং গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। দুই দলের মধ্যে পার্টি-টু-পার্টি সম্পর্ক আরও নিবিড় ও শক্তিশালী হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপিও চীনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা তারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

দুই দলের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

চীনের অগ্রগতি নিয়ে ফখরুল বলেন,
“আমরা অভিভূত যে, প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন অল্প সময়েই উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।”

গত ২২ জুন রাতে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে যায়। সফরের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তারা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও, এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝং।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন—দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, সুকোমল বড়ুয়া, জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।

এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।




শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জাজনক ইনিংস ব্যবধানে হার টাইগারদের

তীব্র ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ও ৭৮ রানের ব্যবধানে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হলো বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজও হাতছাড়া হলো টাইগারদের। গলে প্রথম ম্যাচ ড্র হলেও কলম্বোয় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না সফরকারীরা।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে যখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১১৫, তখনই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে তখনো ৯৬ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ, হাতে মাত্র ৪ উইকেট। লড়াইয়ের শেষ ভরসা ছিলেন লিটন দাস। তবে চতুর্থ দিনের শুরুতেই সেই আশাও শেষ হয়ে যায়। দিনের চতুর্থ বলেই প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লিটন (১৪ রান)। এরপর একে একে আউট হন নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৩৪ বলের মধ্যে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ২৪৭ রানে। জবাবে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের উপর ভর করে ৪৫৮ রানে পৌঁছে যায়। ফলে ২১১ রানের বিশাল লিড পায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় বাংলাদেশ। ওপেনার এনামুল হক বিজয় গলে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ার পরেও কলম্বোয় সুযোগ পান, তবে এবারও হতাশ করেন। ১৯ রান করে ফিরে যান তিনি। ৩ বল পর বিদায় নেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম (১২ রান)। এরপর মুমিনুল হক (১৫), শান্ত (১৯), মুশফিক (২৬), ও মিরাজ (১১) সবাই থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২১১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে টেল এন্ড পর্যন্ত ব্যর্থতায় টেস্টে চরমভাবে পর্যুদস্ত হয় সফরকারীরা।

এই হারে শুধু ম্যাচই নয়, সিরিজটাও হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ। গলে ভালো লড়াই করলেও কলম্বো টেস্টে পুরোপুরি ছন্দহীন ছিল টাইগাররা — ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূল ভরাডুবির কারণ।

শেষ ফলাফল:
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস ২৪৭, দ্বিতীয় ইনিংস ২১১
শ্রীলঙ্কা: একমাত্র ইনিংস ৪৫৮
ফল: শ্রীলঙ্কা জয়ী ইনিংস ও ৭৮ রানে
সিরিজ ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে জয়ী




ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশের প্রথম অধিবেশন শুরু, হাজারো নেতাকর্মীদের আগমন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় মহাসমাবেশের প্রথম অধিবেশন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই অধিবেশনের সূচনা হয়।

জাতীয় নির্বাচন সংস্কার, বিচার ও প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। সকালের দিকে মৎস্যভবন, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। অনেকে পায়ে হেঁটেই সমাবেশে যোগ দেন।

সমাবেশের প্রথম অধিবেশনে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখছেন। উপস্থিত রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

এর আগে শুক্রবার (২৭ জুন) সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি জানান, দেশব্যাপী কয়েক হাজার গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছে এবং লঞ্চ ও ট্রেনযোগে লাখো মানুষের ঢাকায় আগমনের প্রত্যাশা রয়েছে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, এই মহাসমাবেশ থেকে আগামী রাজনীতির জন্য একটি নতুন বার্তা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিআর পদ্ধতিনির্ভর নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে ঐকমত্য পোষণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে মূল অধিবেশন শুরু হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।




নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন আজ

আজ ২৮ জুন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন। তিনি ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই অর্থনীতিবিদ ২০০৬ সালে ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এক নতুন মডেল উপস্থাপন করে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন। ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।

ড. ইউনূসের পিতা দুলা মিঞা সওদাগর ছিলেন একজন মহুরী এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। তার স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ এবং তাদের রয়েছে দুই কন্যা।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে অধ্যাপক হন।

১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পান তিনি। ১৯৭১ সালে আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য শুরু করেন ‘গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প’। ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এই উদ্যোগ ১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক (১৯৮৭), যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ড. ইউনূস। গত বছরের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে একদফা শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে তিনি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।

আজ তার জন্মদিনে দেশ-বিদেশে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।




সরকারি দাবি প্রত্যাখ্যান, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ চলবে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পরও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, আগামীকাল শনিবার (২৮ জুন) থেকে ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।

শুক্রবার রাতে ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “২৬ জুন অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ে যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আলোচনায় আমন্ত্রণ না জানানোয় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও ছিল না। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলবে।”

অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এনবিআর সংস্কার আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ১. এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন ও মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি প্রত্যাহার।
২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাম্প্রতিক দুটি বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা।
৩. আগামী ১ জুলাই বিকাল ৪টায় এনবিআর সংস্কার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে রাজস্ব আইন সংশোধন বিষয়ে আলোচনা সভা।

তবে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ জানায়, “দেশ ও রাজস্বের স্বার্থে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দাবি বাস্তবায়নের আগে আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সংগঠনটি জানায়, শাটডাউন কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ব্যতীত ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে কাজ বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে এনবিআরের প্রতি শান্তিপূর্ণ ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচিও চলবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান কর্মসূচির কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও জনসেবায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরে কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।