দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার স্বার্থে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার রোববার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধ এবং অর্থনীতি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব ব্যবস্থার টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি ২৮ ও ২৯ জুনের শাটডাউন কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা নিরসনে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় বসেন। অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা শেষে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
সংগঠনটি সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের রাজস্ব উপদেষ্টা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, তারা এই কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সভাপতি হাছান তারেক রিকাবদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই কমিটির সঙ্গে কাজ করে আমরা একটি টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করতে পারব।”
এদিকে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তবে এদিন বিকেলে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, রোববারও এনবিআরের চেয়ারম্যানের অপসারণ ও রাজস্ব খাতে গণমতভিত্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংগঠনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করা হয়।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ, বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবি আদায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণের আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর” হিসেবে চিহ্নিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু সংস্কার সম্ভব নয়।
এর আগে, ১২ মে জারি করা এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করে সরকার। এর বিরোধিতা করে এনবিআরের অধীন কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরে ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এনবিআর বিলুপ্ত করা হয়নি; বরং এটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগে উন্নীত করা হবে। এই আশ্বাসের পর ২৬ মে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও চেয়ারম্যান অপসারণ ও তার সঙ্গে অসহযোগিতার ঘোষণা বহাল থাকে।
কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতি না থাকায়, ২৩ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশেষে ২৯ জুন সন্ধ্যায় শাটডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও রাজস্ব সংস্কারের দাবি থেকে সরছে না আন্দোলনকারীরা।