মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির, কঠোর শাস্তির দাবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীর ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ‘খুঁটির জোর যাই হোক’ কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন একান্তই লজ্জাজনক একটি ঘটনা। লম্পটদের যেকোনো মূল্যে পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “খুঁটির জোর যাই হোক, তাকে কোনোভাবেই পাত্তা দেওয়া যাবে না। অন্যথায়, এই সমাজ আপাদমস্তক একটি জংলি সমাজে পরিণত হয়ে যাবে।”

জামায়াত আমিরের এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া নারীর উপর নৃশংস হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার করলো এনবিআর : অর্থনীতি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত

দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার স্বার্থে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার রোববার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধ এবং অর্থনীতি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব ব্যবস্থার টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি ২৮ ও ২৯ জুনের শাটডাউন কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা নিরসনে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় বসেন। অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা শেষে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

সংগঠনটি সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের রাজস্ব উপদেষ্টা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, তারা এই কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সভাপতি হাছান তারেক রিকাবদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই কমিটির সঙ্গে কাজ করে আমরা একটি টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করতে পারব।”

এদিকে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তবে এদিন বিকেলে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, রোববারও এনবিআরের চেয়ারম্যানের অপসারণ ও রাজস্ব খাতে গণমতভিত্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংগঠনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ, বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবি আদায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণের আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর” হিসেবে চিহ্নিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু সংস্কার সম্ভব নয়।

এর আগে, ১২ মে জারি করা এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করে সরকার। এর বিরোধিতা করে এনবিআরের অধীন কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

পরে ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এনবিআর বিলুপ্ত করা হয়নি; বরং এটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগে উন্নীত করা হবে। এই আশ্বাসের পর ২৬ মে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও চেয়ারম্যান অপসারণ ও তার সঙ্গে অসহযোগিতার ঘোষণা বহাল থাকে।

কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতি না থাকায়, ২৩ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশেষে ২৯ জুন সন্ধ্যায় শাটডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও রাজস্ব সংস্কারের দাবি থেকে সরছে না আন্দোলনকারীরা।




১০ বছর বরিশালের ক্রিকেট উপেক্ষিত: ক্ষোভ বিসিবি সভাপতির, ফেরানোর ঘোষণা দিলেন মর্যাদা

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১০ বছর খেলাধুলা না হওয়াকে “ক্রিকেটারদের প্রতি অবিচার” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “স্থানীয় লিগ আয়োজন না করায় এক-দেড় হাজার ক্রিকেটারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারতেন অন্তত ১০০ জন বরিশালের সন্তান।”

রোববার (২৯ জুন) বরিশাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা অর্জনের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন নবনিযুক্ত বিসিবি সভাপতি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, “এ বছরই বরিশাল স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ফিরবে। স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বিপিএল ম্যাচ বরিশালে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হবে যদি স্টেডিয়াম প্রস্তুত থাকে।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে জেলা-উপজেলায় ক্রিকেটারদের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।”
তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠ পর্যায়ে দক্ষতা যাচাই করেই জাতীয় দলে নতুন রক্ত সংযোজন সম্ভব।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী আয়োজনে বরিশাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় অনূর্ধ্ব-১২ বয়সী কিশোর ও কিশোরীদের জন্য ‘সিক্স-এ-সাইড’ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং পেস বোলিং হান্ট ক্যাম্প
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশালের মাঠে বহুদিন পর ক্রিকেট প্রাণ ফিরে পায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার আবু রায়হান, জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপিশাহরিয়ার নাফিস, ফরচুন বরিশালের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, এবং স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




হাজারীবাগে পানির ট্যাংকি পরিষ্কারের সময় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৪

রাজধানীর হাজারীবাগে ট্যানারি মোড় এলাকায় পানির ট্যাংকি পরিষ্কারের সময় গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন।

শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধরা হলেন—

  • বাসার মালিক জিয়াউর রহমান (৪৫)
  • তার মেয়ে ফারিয়া (৮)
  • ছোট মেয়ে রাইফা (৪)
  • পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত শ্রমিক বেলাল হোসেন (২৮)

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান—

  • বেলাল হোসেনের শরীরের ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে
  • ফারিয়ার দগ্ধতার পরিমাণ ৭ শতাংশ
  • জিয়াউর রহমানরাইফা দু’জনের ৩ শতাংশ করে দগ্ধ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির ট্যাংকির নিচে জমে থাকা বিপজ্জনক গ্যাস (সম্ভবত মিথেন বা হাইড্রোজেন সালফাইড) পরিষ্কারের সময় কোনোভাবে স্ফুলিঙ্গ বা আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। গ্যাসমিশ্রিত ট্যাংকির ঢাকনা খুলতেই ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা।

সতর্কতা জরুরি

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—

  • ট্যাংকি পরিষ্কারের আগে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে
  • ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে
  • কাজের সময় সুরক্ষা গিয়ার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




সমালোচনার মুখে বাতিল, পালিত হচ্ছে না ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’

৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার (২৯ জুন) উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেসবুক পোস্টে জানান,

“উপদেষ্টা পরিষদ ১৬ জুলাই শহীদ দিবস এবং ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ৮ আগস্টের জন্য কোনো বিশেষ উদযাপন হবে না।”

এর আগে ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল সরকার। কারণ, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। সেই দিনকে ‘নতুন বাংলাদেশের যাত্রা’ হিসেবে চিহ্নিত করে দিবস পালনের জন্য ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পরিপত্রও জারি করা হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা জানান,

“নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫ আগস্ট, ৮ আগস্ট নয়। তাই এই দিনকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা বাস্তবতা ও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ অবশেষে বিতর্কিত ঘোষণা থেকে সরে এসে ৮ আগস্ট দিবস হিসেবে না পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সাময়িকভাবে ক্ষোভ প্রশমিত হলেও বিতর্কের রেশ সমাজ-রাজনীতিতে কিছুদিন থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝালকাঠি পৌরসভার সচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন

বাঁচতে হলে জানতে হবে, ডেঙ্গু কীভাবে এড়াতে হবে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করেছে ঝালকাঠি পৌরসভা।
রোববার (২৯ জুন) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, পৌরসভার প্রশাসক কাওছার হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম।

কর্মসূচির আওতায় পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে পৌরসভার কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় নয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পাশাপাশি বাসিন্দাদের মাঝে লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক প্রচার, এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ডেঙ্গুবিরোধী এই সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নিয়েছে—

  • ঝালকাঠি সিটি ক্লাব
  • বিডি ক্লিন
  • ক্লিন রিভার
  • ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি
  • ভিবিডি
  • রেড ক্রিসেন্ট
  • রোভার স্কাউট
  • গার্ল ইন রোভার
    সহ আরও কয়েকটি সংগঠনের তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক

এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রত্যেক ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা স্থানীয়দের বুঝিয়ে দিচ্ছেন—ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোন পরিবেশ এডিস মশার জন্য উপযোগী এবং কীভাবে তা ধ্বংস করা যায়।

পৌর প্রশাসক কাওছার হোসেন জানান,

“এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ডেঙ্গু বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। আমরা শুধু একটি দিনের কর্মসূচি চালাচ্ছি না, বরং এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

পৌরসভা আশাবাদী, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা রোধ সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো সেই তুলনায় অপ্রস্তুতই থেকে গেছে। শয্যার সংকট, টেস্ট সুবিধার অভাব ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতায় ভুগছে রোগী ও স্বজনরা।

শনিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪১ জন। এর মধ্যে ৬৮ জনই বরগুনা জেলার। এ নিয়ে বিভাগে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে বরগুনা জেলাতেই আক্রান্ত ২ হাজার ৭০০ জন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলেছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছেছে। রোগীদের অভিযোগ, এখনো ডেঙ্গু টেস্ট করাতে হচ্ছে বাইরে থেকে, যদিও স্যালাইন সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক। হাসপাতালজুড়ে শয্যা সংকট এতটাই প্রকট, যে অনেক রোগী মেঝে, করিডর ও সিঁড়ির পাশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বরগুনা জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৫৪ জন রোগী। নতুন ভর্তি ৭৬ জনমোট আক্রান্ত ২৮৫৫ জন। হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে আর জায়গা নেই। অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন নিজ নিজ বাড়িতে, অবস্থার অবনতি হলে গন্তব্য বরিশাল বা ঢাকা।

পটুয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জন নতুন আক্রান্ত। মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বাধিক আক্রান্ত, সেখানে ২৮ জন ভর্তি। তবে জেলার কোথাও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড নেই। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে। এ পর্যন্ত ৫৯৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

  • বরিশাল সদর হাসপাতালে নতুন ভর্তি: ১০ জন
  • পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে: ১৬ জন
  • ভোলা: ৩ জন
  • পিরোজপুর: ৯ জন
  • ঝালকাঠি: নতুন কেউ ভর্তি হয়নি

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ৪৫৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তারা স্বীকার করেছে, অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতির কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড স্থাপন, পর্যাপ্ত বেড ও মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং টেস্ট সুবিধা বিনামূল্যে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়কের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ

ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন বিশিষ্ট মহাসড়ক নির্মাণ এবং বরিশাল-বাউফল সড়কের অসমাপ্ত নেহালগঞ্জ ও গোমা সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৯ জুন) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশের আয়োজন করে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। পরে জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে থাকলেও সেখান থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯৫ কিলোমিটার সড়ক এখনো দুই লেনের। এতে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজট ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।

তারা আরও বলেন, বরিশাল-বাউফল সড়কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু—নেহালগঞ্জ ও গোমা এখনো অসমাপ্ত। ফলে বরিশালের সঙ্গে পটুয়াখালী, বাউফলসহ উপকূলীয় এলাকার আন্তঃজেলা যোগাযোগ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উন্নয়নের গতি থমকে দিচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা সেতুর সুফল থেকে এখনো বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। একদিকে গড়িমসি, অন্যদিকে প্রকল্প বাতিল ও স্থবিরতা এই এলাকার উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নদীঘেরা অঞ্চলটি যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। মহাসড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় শিল্পায়ন হয়নি, বাড়েনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আমরা চাই বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা হোক।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সহসভাপতি আমিনুর রহমান, সদস্য নজরুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক হাওলাদার, সমাজকর্মী কামরুন নাহার বেগম এবং বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ

স্মারকলিপি গ্রহণ করে বরিশালের জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। স্মারকলিপি দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”

সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানান, গোমা সেতুর কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে এবং নেহালগঞ্জ সেতু নিয়েও মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার জন্য এই দাবিগুলো এখন সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কেক ও ফুল পাঠিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আজ শনিবার ৮৫তম জন্মদিনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় পক্ষ থেকে কেক ও ফুল পাঠিয়ে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে জন্মদিনের কেক ও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় পৌঁছান।

প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে কেক ও ফুল গ্রহণ করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম। এ সময় তিনি শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথপ্রদর্শক ড. ইউনূসের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।




৩১ দফা সংস্কারই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, এটাই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।  তিনি আরো বলেছেন, ‘হে সংস্কার, তোমাকে পাওয়ার জন্য আর কতকাল আলাপ-আলোচনা করব, খানাপিনা করব?’ – এই বাক্য দিয়েই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার প্রতি ইঙ্গিত করেন।

শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও স্মারক গ্রন্থ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সালাহউদ্দিন বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব যদি সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা কিসের ঐকমত্য? আলোচনা করে জাতির মঙ্গল হয় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, বাইবেল নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদার ভিত্তিতে পরিবর্তন সম্ভব হওয়া উচিত। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া—এটা স্থায়ী কিছু নয়।”

সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সংবিধানের এমন কিছু ধারা সংশোধন করেছে, যেন তা কখনো আর পরিবর্তনযোগ্য না থাকে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন সংস্কার চাই, যা সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত হতে পারে। বিএনপিই সংস্কারের পথিকৃৎ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিষ্ঠার দেড় বছর আগেই আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, যা রাজনৈতিক মহলে মহাকাব্যে পরিণত হয়েছে।”

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জিয়াউর রহমানের সৎ ও কর্মময় জীবন অনুসরণ করাই হবে তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ পথ।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, লেখক মুসা আল হাফিজ, কবি তুহিন খান, ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ প্ল্যাটফর্মের সহ আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রেইনের সাঈদ আবদুল্লাহ। ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ব্রেইনের প্রতিষ্ঠাতা রুমি আহমেদ।