ভোলার মনপুরায় হাঁটুপানি জমে বিদ্যালয়ের মাঠে, শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে হাঁটুপানি জলাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা নোংরা পানির মধ্যে দিয়েই প্রতিদিন ক্লাস করতে আসছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছায়।
বিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৮২ জন। কিন্তু গত ৮ বছরের বেশি সময় ধরে বর্ষা এলেই মাঠে পানি জমে থাকে, ফলে বন্ধ থাকে অ্যাসেম্বলি, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহ-শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের চারপাশে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সবগুলো স্থাপনাই স্কুলমাঠের তুলনায় উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নেমে আসে মাঠে এবং সেখানে জমে থাকে দিনের পর দিন। পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পর পুরো মাঠ রূপ নেয় জলাধারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিক্রম চন্দ্র দাস জানান, “বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা চরমে পৌঁছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলেই দুর্ভোগে পড়ি। আমরা বারবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুন আরা জুই বলেন, “বৃষ্টি হলে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, কোনো রকমে ক্লাসে পৌঁছাতে পারি।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহি জানায়, “খেলাধুলা করা তো দূরের কথা, অনেক সময় ইউনিফর্ম ভিজে ঠান্ডা লেগে যায়।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে থইথই পানি, বিদ্যালয় ভবনের নিচেও পানি ঢুকেছে। আশপাশের ময়লা-আবর্জনা ভেসে এসে জমছে এই পানিতে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল হোসেন জানান, “পানি নিষ্কাশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সমাধানের আশা করছি।”
তবে মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, “মাঠ ভরাটের জন্য আপাতত বরাদ্দ নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়টি জেনেছি। খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।”
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মাঠ ভরাটের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








