বরিশাল বেলতলা খেয়াঘাটের ভাড়া নিয়ে যাত্রী-ঠিকাদার দ্বন্দ্ব

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা খেয়াঘাটে ইজারা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন ঠিকাদার। জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত জনপ্রতি ৮ টাকার ভাড়া আদায় করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াচ্ছে খেয়াঘাটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাকওয়া এন্টারপ্রাইজ-এর নিয়োজিত কর্মীরা।
সরকারিভাবে ১ কোটি ৮ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা ৮ টাকা ভাড়া দিতে রাজি না হয়ে ৫ টাকার নিচে দিতে চাইছেন।
ঘাট ব্যবহারকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব খন্দকার জানান, “এখানে যাতায়াত করে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের জোর করে ৮ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি, মানববন্ধন করেছি। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ ঘেরাও করা হবে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ মাতুব্বর হীরা বলেন, “ইজারা নেওয়ার সময় সরকারই জনপ্রতি ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু যাত্রীরা তা দিতে চায় না। এমনকি ভাড়া চাইলে মারধর পর্যন্ত করা হয়। দুদিন আগেই আমার এক কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভাড়ার বিষয়ে চরমোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একতরফা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি। এই অবস্থায় ইজারার অর্থ আদায় সম্ভব নয়।”
বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, “এই ভাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত। আমরা শুধু বাস্তবায়ন করি। ঠিকাদার যদি সরকারি ভাড়া তুলতে সমস্যায় পড়ে, জেলা পরিষদ তার পাশে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, ভাড়া উত্তোলন ঘিরে যাতে কোনো অঘটন না ঘটে, সে জন্য কোতোয়ালি মডেল থানা ও কাউনিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন বেলতলা খেয়াঘাট দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী চলাচল করেন। দীর্ঘদিন জেলা পরিষদ নিজেই ভাড়া আদায় করলেও এবার ইজারা দিয়ে ঘাট পরিচালনা শুরু করে। তবে যাত্রী-ঠিকাদার দ্বন্দ্বে এই ইজারা ঘাটটি বর্তমানে উত্তপ্ত একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








