বরিশাল বেলতলা খেয়াঘাটের ভাড়া নিয়ে যাত্রী-ঠিকাদার দ্বন্দ্ব

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা খেয়াঘাটে ইজারা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন ঠিকাদার। জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত জনপ্রতি ৮ টাকার ভাড়া আদায় করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াচ্ছে খেয়াঘাটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাকওয়া এন্টারপ্রাইজ-এর নিয়োজিত কর্মীরা।

সরকারিভাবে ১ কোটি ৮ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা ৮ টাকা ভাড়া দিতে রাজি না হয়ে ৫ টাকার নিচে দিতে চাইছেন।

ঘাট ব্যবহারকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব খন্দকার জানান, “এখানে যাতায়াত করে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের জোর করে ৮ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি, মানববন্ধন করেছি। প্রয়োজনে জেলা পরিষদ ঘেরাও করা হবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ মাতুব্বর হীরা বলেন, “ইজারা নেওয়ার সময় সরকারই জনপ্রতি ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু যাত্রীরা তা দিতে চায় না। এমনকি ভাড়া চাইলে মারধর পর্যন্ত করা হয়। দুদিন আগেই আমার এক কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাড়ার বিষয়ে চরমোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একতরফা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি। এই অবস্থায় ইজারার অর্থ আদায় সম্ভব নয়।”

বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, “এই ভাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত। আমরা শুধু বাস্তবায়ন করি। ঠিকাদার যদি সরকারি ভাড়া তুলতে সমস্যায় পড়ে, জেলা পরিষদ তার পাশে থাকবে।”

তিনি আরও জানান, ভাড়া উত্তোলন ঘিরে যাতে কোনো অঘটন না ঘটে, সে জন্য কোতোয়ালি মডেল থানা ও কাউনিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিদিন বেলতলা খেয়াঘাট দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী চলাচল করেন। দীর্ঘদিন জেলা পরিষদ নিজেই ভাড়া আদায় করলেও এবার ইজারা দিয়ে ঘাট পরিচালনা শুরু করে। তবে যাত্রী-ঠিকাদার দ্বন্দ্বে এই ইজারা ঘাটটি বর্তমানে উত্তপ্ত একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,৬৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে একাই ৬১২ জন ২১-৩০ বছর বয়সী, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ২৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত বয়সসীমা ৩১-৪০ বছর—এই বয়সী ৫৫৭ জন (২১ শতাংশ) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ১১-২০ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ৫৫২ জন (২১ শতাংশ)।
৪১-৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮২ জন (১৮ শতাংশ)।
এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত ৩৪২ জন (১৩ শতাংশ)।
অন্যদিকে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে, যা মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশ।

বরগুনার কাকচিড়া গ্রামের ২৫ বছর বয়সী হাসান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার বাড়ির আশেপাশে ছোট ছোট ডোবা ও মশার আধিক্যের কারণেই এই অবস্থা বলে তিনি জানিয়েছেন। হাসানের বাবা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “মশার কামড়ে হাত ফুলে গেছে, আমারও ডেঙ্গু হতে পারে।”

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, তাদের হাসপাতালে বর্তমানে বেশি রোগীই তরুণ বয়সের। কিছু শিশু ও বৃদ্ধ থাকলেও মাঝ বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

এডিস মশার আক্রমণ এবং তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, “তরুণরা বেশি উন্মুক্ত স্থানে থাকে, খেলাধুলা করে, ঘোরাঘুরি করে। এসব জায়গায় এডিস মশার উপস্থিতি বেশি থাকায় তারা বেশি আক্রান্ত হয়।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. খান মোশতাক বলেন, “শিশু ও তরুণরা সাধারণত মশারি ছাড়া ঘুমায় এবং দিনের বেলায়ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে।”

বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী বরগুনায়—সংক্রমণের হার ৬২.৬০ শতাংশ। অন্য পাঁচ জেলার মোট রোগীর সংখ্যা ৩৭.৪০ শতাংশ।

চলতি বছরের শুরু থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৪,৫৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪১৬ জন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গোপনে ৬ বিদেশি তারকা দলে নিল ফরচুন বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল আগামী আসরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে একদম নতুনভাবে। এবার দলটি কৌশলগত কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে—গোপনে তারা ইতোমধ্যে ছয়জন বিদেশি তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে, তবে কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ফরচুন বরিশালের কর্ণধার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কুমিল্লা বা রংপুরের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ যাতে তাদের পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে কারণে এখনই কোনো ক্রিকেটারের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।“আমরা ছয়জন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করেছি। কিন্তু এখনই কারো নাম প্রকাশ করব না। কারণ, নাম জানালে প্রতিপক্ষ দলগুলো কৌশলগতভাবে সেই খেলোয়াড়কে প্রলুব্ধ করে নিতে পারে – ১৫-২০ হাজার ডলার বাড়িয়ে অফার দিতে পারে,” – বলেন মিজানুর রহমান।

গত আসরে বরিশালের স্কোয়াডে ছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ নবি, কাইল মায়ার্স এবং ফাহিম আশরাফের মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা। নতুন মৌসুমে গোপনীয়তার এমন কৌশল দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এবার আরও বড় চমক নিয়ে আসছে চ্যাম্পিয়ন বরিশাল।

এছাড়া মিজানুর রহমান স্পষ্ট করেছেন কেন গত আসরে জিমি নিশাম খেলেননি। তিনি বলেন, “নিশাম স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচের কম্বিনেশনের কারণে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। প্রতিপক্ষ যদি খুলনা হতো, তাহলে সে খেলত। তবে চট্টগ্রাম হওয়ায় কম্বিনেশন মেলেনি।”

তবে তিনি আরও যোগ করেন, নিশাম পুরো দলের সঙ্গে ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেছেন দলের আভ্যন্তরীণ পরিবেশে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বরগুনায় তিন ভুয়া ডাক্তারকে জরিমানা, একজনের বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনা শহরে ভুয়া ডাক্তারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে প্রশাসন।

শনিবার (২৮ জুন) রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ্ এর নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে চারজন ভুয়া ডাক্তারকে আটক করা হয়।

অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—

  • বিধান চন্দ্র সরকার
  • ইদ্রিস আলম
  • জাহাঙ্গীর হোসেন

তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া জহিরুল ইসলাম সৌরভ নামের একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, কারণ তার অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তরা কেউই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর স্বীকৃত ডাক্তার নন। তবুও তারা চিকিৎসকের পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী, তারা ডাক্তার পরিচয়ে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন না। তাই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জনস্বাস্থ্য হুমকিতে, প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

এ ধরনের প্রতারকচক্রের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, সারাদেশে ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বরগুনায় এই অভিযান তারই অংশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা না হলে গণতন্ত্র টিকবে না’ — মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে প্রথমেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। রোববার (২৯ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান সংলাপের সপ্তম দিনের দ্বিতীয় পর্ব শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যদি আমরা এখনই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করতে না পারি, তাহলে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।”

মান্না জানান, সংলাপে মূলত দুটি বিষয় ঘিরে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সরকারি প্রভাবমুক্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব। এই সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটির উদ্দেশ্য হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং সরকারের প্রভাব কমানো।

তবে বিএনপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছে, এতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা একরকম শূন্য হয়ে যাবে। এ বিষয়ে মান্না বলেন, “আমরা মনে করি এটি সঠিক নয়। সরকারের স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় দায়িত্ব ভাগাভাগি করা জরুরি।”

কমিটির জন্য প্রস্তাবিত নাম ছিল—‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি এবং বিএনপি তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

সংলাপে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও ভিন্নমত উঠে আসে। বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ গঠিত হবে নিম্নকক্ষের দলগত আসনসংখ্যার আনুপাতিক ভিত্তিতে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষে যে দল যত আসন পাবে, উচ্চকক্ষেও সে অনুপাতে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে মান্না বলেন, “উচ্চকক্ষ যদি নিম্নকক্ষের প্রতিফলন হয়, তাহলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে না। একটি দল চাইলেই সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে। কিন্তু আনুপাতিক ভিত্তিতে না হলে আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

নাগরিক ঐক্যের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫/৪) যথেষ্ট হবে।

তিনি বলেন, “বিশেষত সংবিধান সংশোধন কিংবা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যদি একটি দল এককভাবে কর্তৃত্ব পায়, তাহলে স্বেচ্ছাচারিতার ঝুঁকি তৈরি হয়।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মান্না বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে এবং আমরা আবার বসবো। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।”




মুরাদনগরে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের

কুমিল্লার মুরাদনগরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “একজন উপদেষ্টা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুরাদনগরে ক্রমাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।”

মির্জা ফখরুল জানান, কুমিল্লার মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন চালিয়েছে এক দুর্বৃত্তচক্র। তিনি এ ঘটনাকে “নির্মম, কলঙ্কজনক ও ঘৃণ্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই বর্বরোচিত ঘটনায় দেশের মানুষ ব্যথিত ও মর্মাহত। অথচ একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের মতোই এখনো সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখল ও নির্যাতন করে দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতা চলছে। মুরাদনগরের একজন উপদেষ্টা ব্যক্তি–নিজের পদ ব্যবহার করে এলাকায় ক্রমাগতভাবে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।”

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, এই উপদেষ্টা আওয়ামী লীগ এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন এবং তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সমাজবিরোধী অপকর্ম বাড়ছে। “এরা দেশ-বিদেশ থেকে মদত পাচ্ছে, যার ফলে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।

ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন একটি মনুষ্যত্বহীন ও অমানবিক আচরণ, যার পেছনে রয়েছে একটি মহলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এটি আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নোংরা কৌশলের পুনরাবৃত্তি।”

নারী নির্যাতনকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরা মানবসভ্যতার শত্রু। আমি অবিলম্বে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

মুরাদনগরের সাম্প্রতিক এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ঘটনার তদন্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির, কঠোর শাস্তির দাবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীর ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ‘খুঁটির জোর যাই হোক’ কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন একান্তই লজ্জাজনক একটি ঘটনা। লম্পটদের যেকোনো মূল্যে পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “খুঁটির জোর যাই হোক, তাকে কোনোভাবেই পাত্তা দেওয়া যাবে না। অন্যথায়, এই সমাজ আপাদমস্তক একটি জংলি সমাজে পরিণত হয়ে যাবে।”

জামায়াত আমিরের এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া নারীর উপর নৃশংস হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার করলো এনবিআর : অর্থনীতি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত

দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার স্বার্থে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার রোববার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধ এবং অর্থনীতি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব ব্যবস্থার টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি ২৮ ও ২৯ জুনের শাটডাউন কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা নিরসনে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় বসেন। অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা শেষে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

সংগঠনটি সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের রাজস্ব উপদেষ্টা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, তারা এই কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সভাপতি হাছান তারেক রিকাবদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই কমিটির সঙ্গে কাজ করে আমরা একটি টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করতে পারব।”

এদিকে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তবে এদিন বিকেলে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, রোববারও এনবিআরের চেয়ারম্যানের অপসারণ ও রাজস্ব খাতে গণমতভিত্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংগঠনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ, বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবি আদায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণের আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর” হিসেবে চিহ্নিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু সংস্কার সম্ভব নয়।

এর আগে, ১২ মে জারি করা এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করে সরকার। এর বিরোধিতা করে এনবিআরের অধীন কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

পরে ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এনবিআর বিলুপ্ত করা হয়নি; বরং এটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগে উন্নীত করা হবে। এই আশ্বাসের পর ২৬ মে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও চেয়ারম্যান অপসারণ ও তার সঙ্গে অসহযোগিতার ঘোষণা বহাল থাকে।

কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতি না থাকায়, ২৩ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশেষে ২৯ জুন সন্ধ্যায় শাটডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও রাজস্ব সংস্কারের দাবি থেকে সরছে না আন্দোলনকারীরা।




১০ বছর বরিশালের ক্রিকেট উপেক্ষিত: ক্ষোভ বিসিবি সভাপতির, ফেরানোর ঘোষণা দিলেন মর্যাদা

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১০ বছর খেলাধুলা না হওয়াকে “ক্রিকেটারদের প্রতি অবিচার” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “স্থানীয় লিগ আয়োজন না করায় এক-দেড় হাজার ক্রিকেটারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারতেন অন্তত ১০০ জন বরিশালের সন্তান।”

রোববার (২৯ জুন) বরিশাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা অর্জনের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন নবনিযুক্ত বিসিবি সভাপতি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, “এ বছরই বরিশাল স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ফিরবে। স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বিপিএল ম্যাচ বরিশালে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হবে যদি স্টেডিয়াম প্রস্তুত থাকে।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে জেলা-উপজেলায় ক্রিকেটারদের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।”
তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠ পর্যায়ে দক্ষতা যাচাই করেই জাতীয় দলে নতুন রক্ত সংযোজন সম্ভব।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী আয়োজনে বরিশাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় অনূর্ধ্ব-১২ বয়সী কিশোর ও কিশোরীদের জন্য ‘সিক্স-এ-সাইড’ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং পেস বোলিং হান্ট ক্যাম্প
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশালের মাঠে বহুদিন পর ক্রিকেট প্রাণ ফিরে পায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার আবু রায়হান, জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপিশাহরিয়ার নাফিস, ফরচুন বরিশালের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, এবং স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




হাজারীবাগে পানির ট্যাংকি পরিষ্কারের সময় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৪

রাজধানীর হাজারীবাগে ট্যানারি মোড় এলাকায় পানির ট্যাংকি পরিষ্কারের সময় গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন।

শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধরা হলেন—

  • বাসার মালিক জিয়াউর রহমান (৪৫)
  • তার মেয়ে ফারিয়া (৮)
  • ছোট মেয়ে রাইফা (৪)
  • পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত শ্রমিক বেলাল হোসেন (২৮)

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান—

  • বেলাল হোসেনের শরীরের ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে
  • ফারিয়ার দগ্ধতার পরিমাণ ৭ শতাংশ
  • জিয়াউর রহমানরাইফা দু’জনের ৩ শতাংশ করে দগ্ধ

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির ট্যাংকির নিচে জমে থাকা বিপজ্জনক গ্যাস (সম্ভবত মিথেন বা হাইড্রোজেন সালফাইড) পরিষ্কারের সময় কোনোভাবে স্ফুলিঙ্গ বা আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। গ্যাসমিশ্রিত ট্যাংকির ঢাকনা খুলতেই ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা।

সতর্কতা জরুরি

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—

  • ট্যাংকি পরিষ্কারের আগে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে
  • ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে
  • কাজের সময় সুরক্ষা গিয়ার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫