দ্রুত নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় চীন: মির্জা ফখরুল

চীন বাংলাদেশে দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি চীন সফর শেষে সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়ে চীনের ক্ষমতাসীন দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চীনের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছি। চীনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তারা মিয়ানমার সরকারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন এবং অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছেন।”

সফরে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংসং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও এবং ভাইস মন্ত্রী সান হাইয়ান।

চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চীনা নেতারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানকে স্মরণ করেন বলেও জানান ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, “পলিটব্যুরোর সদস্য লি হংসং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম শুরু করার আগ্রহ চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।”

বিএনপির পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা, আধুনিক কৃষি, ব্লু ইকোনমি এবং এসএমই খাতে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে চীন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বলে জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুং ওয়ে ডং-এর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, শ্রমশক্তির সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে সহনীয় করতে চীন থেকে নেওয়া ঋণের পরিশোধ সময়সীমা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ফি পুনর্বিবেচনা এবং অনুদানের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে দুই বছর মেয়াদি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।




আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে বিমানবন্দরে যে ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে, সেটি একে-৪৭ এর নয়। এটি একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, যা ভুলবশত তাঁর সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।

সোমবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অনেকে বলছেন তিনি একে-৪৭-এর লাইসেন্স পেয়েছেন, কিন্তু এটি একে-৪৭ নয়। এটি একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, যা ভুল করে সঙ্গে থেকে গেছে। অনেক সময় এমন হয়, আপনি চশমা নিতে চান কিন্তু ভুল করে মোবাইল নিয়ে বের হন। ঠিক তেমনই এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। উনি যদি আগে জানতেন, অবশ্যই এটি সঙ্গে নিতেন না।”

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ আইন অনুযায়ী অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে আবেদনের সময় অন্তত ৩০ বছর বয়স হতে হয়। তবে আসিফ মাহমুদের বয়স ত্রিশ না হওয়ায় লাইসেন্সটি তিনি কীভাবে পেলেন, সে প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি যেহেতু ওই আইনটা দেখিনি, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, কারণ স্ক্যানিংয়ের প্রথম দুই ধাপে ম্যাগাজিনটি ধরা পড়েনি। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমার ভাই যদি একজন নেতা হন, তাহলে তিনি অনেক সময় কিছু প্রিভিলেজ পান। কিন্তু এই ধরনের প্রিভিলেজ যেন আর কেউ না পান, সে জন্যই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবার ক্ষেত্রে যেন আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয়, সেটিই মূল বিষয়।”

এদিনের কোর কমিটির বৈঠকে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, অনুষ্ঠানের সময় এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।




জুলাই ঘোষণাপত্রে ব্যর্থতা: সরকার দুইবার সময় নিয়েও প্রতিশ্রুতি রাখেনি — নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির প্রধান মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকার দুইবার সময় দিয়েও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রণয়নে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও সরকার দেয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র হচ্ছে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের অবদান, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও আকাঙ্ক্ষার সংজ্ঞায়ন নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় দলিল। পরবর্তীতে এটি আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি পাবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ছাত্রনেতৃত্ব ঘোষণাপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সরকার সব রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ঘোষণাপত্র দিতে চেয়েছিল। এ কারণে ছাত্রনেতৃত্ব তাদের স্বতন্ত্র উদ্যোগ থেকে সরে আসে।

তিনি আরও বলেন, “সরকার বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে খসড়া চেয়ে নিয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও একটি খসড়া জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার একাধিকবার সময় নিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি বা কোথায় বাধা ছিল—তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করেনি।”

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “সরকার যদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ঘোষণাপত্র না দেয়, আমরা বসে থাকব না। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে ইশতেহার প্রকাশ করব এবং অন্য পক্ষগুলোকেও আহ্বান জানাব তাদের ইশতেহার তৈরি করতে। সম্মিলিতভাবে দলিল তৈরি করে তা সরকারকে দিতে বাধ্য করব।”

তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্র শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পাঠ করা হবে এবং এটি একটি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন হিসেবে তৈরি করা হবে।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই সনদে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা থাকবে। সংবিধানের কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন আনা হবে তা নির্ধারণ করে একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল তৈরি করা হবে, যেখানে সব দল স্বাক্ষর করবে। এই সনদ গণভোট, গণপরিষদ অথবা সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট তথা ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ—উভয় দলিল রচনার লক্ষ্যে কাজ করছি। সরকার যদি কোনো পক্ষের দলীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে দেয়, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে বাকিরা এ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।”

শেষে তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “পথে প্রান্তরে জনগণের সঙ্গে কথা হবে, তাদের মতামত থেকেই গড়ে উঠবে আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দলিল।”




পিরোজপুরে যুবদলের দুই নেতার পদ স্থগিত, কমিটি গঠনের তিন দিনেই সিদ্ধান্ত

পিরোজপুর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মাত্র তিন দিন পরেই কমিটির এক যুগ্ম আহ্বায়ক ও এক সদস্যের পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

রোববার (২৯ জুন) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. অলিউল ইসলাম মিলন এবং সদস্য মো. আরিফুল হক-এর প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া, নেতৃদ্বয়কে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যুবদলের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২৬ জুন নতুন কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাসেল খান ডালিমের পদও স্থগিত করা হয়েছিল।

নতুন ঘোষিত ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে কামরুজ্জামান তুষারকে আহ্বায়ক এবং এমদাদুল হক মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়। এতে ১৩ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান তুষার বলেন, “দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আমাদের অগ্রাধিকার। প্রমাণ সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পদ স্থগিত করা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আহ্বায়ক মারুফ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান রুবেলরিয়াজ সিকদারকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান তুষারকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




তালগাছ কেটে বাবুইছানা হত্যায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

ঝালকাঠির পূর্ব গুয়াটন এলাকায় তালগাছ কেটে শতাধিক বাবুই পাখির ছানা ও ডিম ধ্বংসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. মোবারেক ফকির (৬৫)-কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ

রোববার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় তাকে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

গত শুক্রবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটন গ্রামে একটি তালগাছ কেটে ফেলার সময়, গাছের শাখা-প্রশাখায় থাকা অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা ধ্বংস হয়ে পড়ে যায়। এতে শতাধিক ছানা ও ডিম পানিতে ডুবে মারা যায় বা নষ্ট হয়। গাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাসা ভেঙে নিচে পড়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্ক কিছু পাখি উড়ে গেলেও ছানা ও ডিম রক্ষা করা যায়নি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। পরিবেশপ্রেমীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে, শেখেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ গ্রহণের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে মোবারেক ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানিয়েছেন, “বাবুই পাখির ছানা হত্যা ও পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা বলছেন, এরকম কাজ যেন আর কেউ না করতে সাহস পায়, তার জন্য আইনি ব্যবস্থা কঠোর হতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে চালককে হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নেত্রকোনায় মোটরসাইকেল ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনায় মো. সাদেকুল ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাদেকুল ইসলাম নেত্রকোনা পৌর শহরের পূর্ব কাটলী এলাকার মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে। নিহত মোটরসাইকেল চালক ঝিনুক মিয়া (২৩) সদর উপজেলার পশ্চিম মেদনী গ্রামের বাসিন্দা ও সোহরাব হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাদেকুল মোটরসাইকেল ভাড়া করে মদন উপজেলায় ষাঁড়ের লড়াই দেখতে যান। ফেরার পথে নানা জায়গায় ঘুরিয়ে সে ঝিনুক মিয়াকে পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বাজারসংলগ্ন স্থানে গিয়ে সাদেকুল পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয় লোকজন আহত ঝিনুককে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির চেকপোস্টের নিকটবর্তী এলাকায় হওয়ায় সাদেকুল পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে যায়।

নিহতের ভাই মো. টিটু মিয়া পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শেষে আসামি সাদেকুলকে গ্রেফতার করে। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সে পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল হাসেম। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল নগরজুড়ে শতাধিক সড়ক-ড্রেন উন্নয়ন শুরু হচ্ছে, নাগরিক দুর্ভোগ কমার আশা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) অবশেষে নগরীর বিধ্বস্ত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় পরিসরের উদ্যোগ নিয়েছে। নগরজুড়ে ১৬টি প্যাকেজে শতাধিক সড়ক ও বিপুল সংখ্যক ড্রেন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ কাজ শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে দরপত্র গ্রহণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলে আগামী আগস্টের মধ্যেই কার্যাদেশ প্রদান এবং ডিসেম্বরে নগরজুড়ে উন্নয়ন কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে নগর ভবনের প্রকৌশল বিভাগ।

প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল মহানগরীতে বহু সড়ক রয়েছে যা বিটুমিনাস কার্পেটিং, এইচবিবি, সিসি, আরসিসি কিংবা আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এসব রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ।

২০১৮-২০২৩ মেয়াদের নগর পরিষদে অর্থ সংকট এবং রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন সংস্কার হয়নি। মেয়রের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ কাউন্সিলরদের এলাকাগুলো ছিল সবচেয়ে অবহেলিত।

অর্থাভাব ছিল অন্যতম প্রধান সমস্যা। উল্লেখ্য, এই সময়কালে বরিশাল মহানগরীর কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন বা অর্থ ছাড় পায়নি। ফলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েছে।

তবে সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ দায়িত্ব ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই একনেকে ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নতুন মেয়র আবুল খায়ের, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর নগর ভবনে শৃঙ্খলা ফেরান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করেন।

বর্তমানে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ১৭০ কোটি টাকার আওতায় কিছু কাজ শেষ হয়েছে এবং কিছু চলছে। একই প্রকল্প থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিরিক্ত ৩৫০ কোটি টাকা ছাড় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সর্বশেষ উদ্যোগে যে শতাধিক সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে, তার মধ্যে দীর্ঘদিন অবহেলিত ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক ও রাজকুমার ঘোষ রোড রয়েছে। রাজকুমার ঘোষ রোডের দুরাবস্থার চিত্র ভয়াবহ—মাত্র ৩শ মিটার দীর্ঘ এ সড়কে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ১৫ বছর ধরে কোনো সংস্কার হয়নি।

সড়কটির বিটুমিনাস কার্পেটিং উঠে গিয়ে ম্যাকাডমও নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক গর্তে পরিণত হয়ে পানি জমে জনদুর্ভোগের চরম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, “এই নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক ও রাজকুমার ঘোষ রোডসহ শতাধিক রাস্তা সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হবে। আশা করা যায়, আগামী জুনের মধ্যে নগরজুড়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরিশাল নগরবাসী দীর্ঘ দিনের নাগরিক দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে

বরিশালের একটি মামলায় এক বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মির্জা আব্দুল বাকিকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মির্জা আব্দুল বাকি ঢাকার শ্যামলী-আগারগাঁও এলাকায় বসবাস করলেও তিনি বরিশাল শহরের ইসলামবাগ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।

বরিশাল আদালতের পরোয়ানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ বরিশালের গ্রোঘবাড়ি এলাকার আবু জাফর মো. জহিরুল ইসলামের করা একটি ব্যাংক চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ মে আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। সোমবার পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে অন্য একটি মামলার কাজে গেলে, আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশের একটি দল উপ-পরিদর্শক মানিক রায়ের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামি অবশেষে গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্রজমোহন কলেজে পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে শিক্ষক সংকটসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের অভাব, একাডেমিক ও অবকাঠামোগত দুরবস্থা, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার অভাব এবং মানসম্মত শিক্ষা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দীর্ঘ বছরের অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান,

“অল্প বৃষ্টিতেই ক্যাম্পাস ডুবে যায়, অধিকাংশ ছাত্রাবাস বসবাসের অনুপযোগী। শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হয় না। একাডেমিক ভবন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট চরমে পৌঁছেছে।”

তাদের দাবি পাঁচ দফা:
১. পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ
২. একাডেমিক ভবন ও ক্লাসরুমের সংখ্যা বৃদ্ধি
৩. ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন
৪. নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা
৫. মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না। প্রয়োজনে আমরণ অনশন ও ক্যাম্পাসের সব দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”

এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এর আগেও শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল হেলপার ও পথচারীর

বরিশালের উজিরপুরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টাইলসবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বেপরোয়া গতির আমবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ট্রাকের হেলপার সোহেল (২০) এবং পথচারী সবুজ হাওলাদার (৩০)।

সোমবার (৩০ জুন) ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উজিরপুর উপজেলার পূর্ব ধামসর গ্রামের সোনার বাংলা স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টাইলসবোঝাই ট্রাকটিকে পেছন থেকে দ্রুতগতির আমবোঝাই ট্রাকটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমবোঝাই ট্রাকের হেলপার সোহেল নিহত হন এবং পথচারী সবুজ হাওলাদার গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা সবুজকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালেই সবুজ মারা যান।

নিহত সবুজ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মাদারশী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হাওলাদারের ছেলে। হেলপার সোহেল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বর্গির চর এলাকার বাসিন্দা।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উজিরপুর স্টেশনের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে এবং ট্রাকের ভেতর থেকে হেলপার সোহেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার এসআই মো. শরীফ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত টাইলসবোঝাই ট্রাকটি ঢাকার মিরপুর থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, আর আমবোঝাই ট্রাকটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বরিশালের দিকে আসছিল। ঘটনার পর উভয় ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। ট্রাক দুটি পরে মহাসড়ক থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধারকৃত পথচারী হাসপাতালে মারা যান।

এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, সবুজ হাওলাদারের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫