পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ১,২৯০

সারাদেশে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১,২৯০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮১১ জন বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত, আর বাকি ৪৭৯ জন অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি), মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ইনামুল হক সাগর।

তিনি জানান, “বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এতে ১,২৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় একটি চাপাতি ও তিনটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এই ধরনের অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট, ভোগান্তিতে হাজারো রোগী

পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের চরম সংকটে পড়েছে রোগীরা। বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে হচ্ছে মূল্যবান ভ্যাকসিন, যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।

পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসে এই হাসপাতালে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তদের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন জীবন রক্ষাকারী হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা এখন অনুপস্থিত।

ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগী ফয়সাল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়, তাহলে এর উপকারিতা কোথায়? আমাদের বলা হচ্ছে, চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনে নিতে!”

আরেক রোগী ফারজানা আক্তার বলেন, “বিড়ালের আঁচর খাওয়ার পর হাসপাতালে এসেছিলাম, কিন্তু এখানে ভ্যাকসিন নেই। বাধ্য হয়ে চারজন মিলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। এতে করে সময়, অর্থ—সবই অপচয় হচ্ছে।”

তাসরিফ নামের আরেক রোগী বলেন, “সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত খরচ কিভাবে চালাবে? সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।”

জেলা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিনই রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলেন, “আমাদের তো কিছু করার নেই। রোগীর জীবন বাঁচানো জরুরি। তাই আমরা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলে বড় বিপদ হতে পারে।”

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “প্রতি মাসে যত ভ্যাকসিন দরকার হয়, সেই পরিমাণ সরবরাহ পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য অধিদফতরে নতুন চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে এবং সংকট কেটে যাবে।”

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে অন্তত ৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইতিহাসের নীরব সাক্ষী পিরোজপুরের সাড়ে চারশ বছরের জমিদার বাড়ি

পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠিতে অবস্থিত সাড়ে চারশ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়িটি আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬০০ সালের দিকে ভাটিয়াল রাজা রুদ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী এই বিশাল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রাসাদসদৃশ এ স্থাপনাটি এক সময় ছিল দক্ষিণ বাংলার জমিদার প্রশাসনের কেন্দ্র।

প্রায় ২০০ একর জমিতে বিস্তৃত এই রাজবাড়িতে ছিল প্রায় ২০০টি ভবন, ১১টি সুউচ্চ মঠ, শিব মন্দির, কালী মন্দির, অতিথিশালা, পাঠশালা, হাতিশালা, ঘোড়াশালা এবং দাতব্য চিকিৎসালয়। এখানে স্থাপিত রয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ২৫ মণ ওজনের কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। প্রায় ৩০০ বছর আগেও এখানে হাইস্কুল চালু ছিল বলে জানা গেছে।

রাজা রুদ্র নারায়ণের জমিদারিতে পদার্পণ ঘটে রীতিমতো গল্পের মতো। হুগলির দে-গঙ্গায় এক ব্রাহ্মণ বাড়িতে রাখাল থাকাকালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের নজরে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে সম্রাটের নির্দেশেই বরিশাল অঞ্চলে জমিদারি লাভ করেন রুদ্র নারায়ণ, যা পরিণত হয় রাজপরিবারে।

বর্তমানে এই রাজবাড়ির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত। ভেঙে পড়ছে প্রাচীন স্থাপনাগুলো। তবুও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসে ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে। রাজা রুদ্র নারায়ণের ১২তম প্রজন্মের উত্তরসূরি অপূর্ব রায় চৌধুরী বলেন, “এখন শুধু দুটি পরিবার এখানে বসবাস করে, বাকি সবাই ওপার বাংলায় চলে গেছেন। সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, এই স্থাপনাগুলো রক্ষা সম্ভব।”

স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান শেখ, কাঠমিস্ত্রি গোবিন্দ লাল এবং শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা সবাই একমত—রাজবাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা হতে পারে পিরোজপুরের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র। এখান থেকে সরকারের রাজস্ব আসার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে তাদের অতীত ও সংস্কৃতি।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, “রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি একটি ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জানানো হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যদিও বছরের পর বছর ধরে জমিদার বাড়িটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে, তবুও ইতিহাসপ্রেমীদের আগ্রহ কমেনি। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি উদ্যোগে রায়েরকাঠি রাজবাড়িকে পরিণত করা যেতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে বিএনপির সদস্য ফরম বাছাইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিএনপির নতুন সদস্য ফরম যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে দলীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও বিএনপির ছয় কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩০ জুন) রাতে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে। ওই ভবনে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির ৫০০ সদস্যের আবেদন ফরম যাচাই-বাছাই চলছিল। এ সময় দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের মধ্যে তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন—ধানীসাফা ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মো. সজিব হাওলাদার, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো. ছগির হোসেন (৪৫), সাবেক পৌর ছাত্রদল নেতা ইসতিহাক আহম্মেদ নিশাদ, গুলিসাখালী ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো. সোহাগ তালুকদার (৪০) ও টিকিটা ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী মো. ইউসুফ খান।

মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সভাপতি কেএম হুমায়ূন কবীর বলেন, “সদস্য ফরম যাচাই চলাকালীন সময় কিছু কর্মীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এর জেরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে হাতাহাতি এবং পরে সংঘর্ষ ঘটে। দলীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধানীসাফা ইউনিয়নের ছাত্রদলের এক নেতা মারধরের শিকার হলে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মঠবাড়িয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




বরগুনায় ডেঙ্গুতে ২৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৬ জনের। এ অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৮শ ৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৯৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১৭ জন।

সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৬ জন। তবে জেলার বাইরে, বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিভিল সার্জন অফিস।

সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বহু রোগীকে বারান্দা, করিডোর এমনকি মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নারী ও শিশু ওয়ার্ড, মেডিসিন ইউনিট সবখানেই একই চিত্র। রোগীদের বেশিরভাগই বরগুনা পৌর শহর ও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকী বলেন, “প্রতিদিন রোগী বাড়লেও যেসব সুস্থ হয়ে ফিরছেন তাদের জায়গায় নতুন রোগীদের স্থান দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এ হার ধরে রাখা যাবে কিনা, তা এখন বলা মুশকিল।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটি ডেঙ্গু জরুরি মোকাবিলায় ৮ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স বাড়তি নিয়োগ পেয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসা নয়, স্থানীয়দের নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

ডেঙ্গু রোগ নিয়ে বরগুনায় কাজ করতে আসা আইইডিসিআর প্রতিনিধিদলের টিম লিডার ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন বলেন, “অনেকেই মনে করেন শুধু অপরিচ্ছন্নতায় মশা হয়, কিন্তু এডিস মশা পরিষ্কার পানিতেই জন্মে। বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক পাত্রগুলোই এখন এডিসের প্রজননস্থল হয়ে উঠছে।”

বরগুনার প্রায় ১২ লাখ মানুষের জন্য ডেঙ্গু এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন একে জেলার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, দীর্ঘ সময়ের পানি জমে থাকা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। না হলে এটি ভবিষ্যতে মহামারির আকার ধারণ করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




সৃষ্টিকর্তা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: গৌরনদীতে যুবক আটক

সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সৈকত বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে গৌরনদী উপজেলা গেট এলাকায়। আটক সৈকত বিশ্বাস গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দোয়ারিয়া গ্রামের কাঙ্গাল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি গৌরনদী উপজেলা গেটের একটি স্থানীয় ভাতের হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে সৈকত বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তা নিয়ে আপত্তিকর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্য করে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, অভিযুক্ত যুবককে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ববিতে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রীকে সহায়তা দিল ছাত্রদল

অর্থনৈতিক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভর্তি হতে না পারা এক ছাত্রীকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর দুরবস্থা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে ছাত্রদল নেতাদের। এরপরই তারা তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সোমবার (৩০ জুন) রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ববি ছাত্রদলের নেতা মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, তার সঙ্গে কাইউম তালুকদার ও মেহেদী হাসান বাপ্পি মিলে ওই ছাত্রীকে ভর্তি সহ সকল আনুষঙ্গিক খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

ছাত্রদল নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর্থিক কারণে যেন কেউ পিছিয়ে না পড়ে, সেটাই আমাদের উদ্বেগের জায়গা। আমরা শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নই, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি পরিবার।”

ছাত্রদল নেতা কাইউম তালুকদার বলেন, “ছাত্রদল বিশ্বাস করে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে মানবিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই সহানুভূতির জায়গা থেকেই এগিয়ে এসেছি।”

মেহেদী হাসান বাপ্পি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে অসংখ্য শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ গোপনে বহন করেন। তার পথ অনুসরণ করেই আমরা আজ এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করেছে এবং আগামীতেও ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নীলখোলায় জমজমাট কোটি টাকার পানের হাট

দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে বরিশালের গৌরনদীর নীলখোলা এলাকায় অবস্থিত কোটি টাকার পানের হাট। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাটটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নয়, বরং পুরো এলাকার কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও সোমবার বাদে বাকি পাঁচদিন বসে এই হাট। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। বিক্রি হয় কোটি টাকার পান, যা বরিশালের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। হাট কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার, মাছ বাজারসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিকেল গড়ালেই জমে ওঠে পুরো নীলখোলা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন এলাকার পান চাষীরা ভ্যানে করে বরজের পান নিয়ে আসেন আড়তে। এরপর শুরু হয় পান গোছানো, মাপঝোক আর দামদর। নীলখোলার প্রায় ৫০টিরও বেশি পানের আড়তে প্রতিটি আড়তে কাজ করেন অন্তত ১০-১৫ জন শ্রমিক। এখানকার আয়ের উপর নির্ভর করেই চলে অসংখ্য পরিবারের জীবনযাপন।

পাইকার শাহজাহান তালুকদার জানান, “আমরা প্রতিদিন এখান থেকে ১০-১২ লাখ টাকার পান কিনি। এগুলো ঢাকা, সিলেট, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।”
চাষীরাও বলছেন, আগে গ্রামীণ হাটে পান বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় পান অবিক্রিত থেকে যেত। এখন আড়তের সুবিধায় সব পান বিক্রি হয়ে যায়।

বর্তমানে আড়তে পানের দাম প্রতি বিড়া (আকারভেদে) ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। শীতকালে এ দর আরও বাড়ে।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ জানান, “এ উপজেলায় প্রায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। আমরা নিয়মিত পানচাষীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরা ভালো লাভ করতে পারবেন।”

পানের আড়তের মালিকরা বলছেন, আড়তের মাধ্যমে চাষী ও পাইকার—দুই পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন। তারা আরও আশাবাদী, ভবিষ্যতে এ হাট আরও প্রসার লাভ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিএম কলেজে ৫ দফা দাবিতে তালা, শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি

শিক্ষক সংকটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। দাবি আদায়ের দাবিতে সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের কঠোর রূপরেখা ঠিক করেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা ক্লাস বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন।

জানা গেছে, কলেজ অধ্যক্ষ ড. তাইজুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালের বাইরে দাফতরিক কাজে থাকায় অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। অধ্যক্ষ মঙ্গলবার বরিশালে ফিরলে পুনরায় আলোচনা হবে বলে জানানো হয়।

তবে আন্দোলনের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. বহুতল ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণ,
২. আধুনিক লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়াম স্থাপন,
৩. কলেজ গেট আধুনিকায়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন,
৪. বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি,
৫. পরিবহন সংকট ও শিক্ষক ঘাটতি নিরসন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এসব দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য, দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং প্রয়োজনে আমরণ অনশনেও যাবেন তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




৩৬ জুলাই: দ্বিতীয় মুক্তির সূর্যোদয়

৫ আগস্ট ২০২৪— বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি লাল অক্ষরে লেখা দিন।
এই দিনেই দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের অবসান ঘটে। অবসান ঘটে একটি একনায়কতান্ত্রিক সরকারের। জন্ম হয় এক নতুন বাংলাদেশের— যা অনেকেই বলছেন, “দ্বিতীয় স্বাধীনতা”, কেউ বলছেন “পুনর্জন্ম”।

আন্দোলনের সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার নিয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে তা রূপ নেয় একদফা দাবিতে— “শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই”।
যেখানে ছাত্রদের মুখে একটাই স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছিল—

> “দফা এক, দাবি এক— শেখ হাসিনার পদত্যাগ”।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, একে একে সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হন। স্বৈরাচারী দমননীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব আর ভারতীয় হস্তক্ষেপ— সব কিছুর বিরুদ্ধে যেন একসাথে বিস্ফোরণ ঘটে।

এই আন্দোলনকে কবি সুকান্তের ভাষায় তুলনা করা যায় “একটি দেশলাই কাঠির” সাথে, যার আগুনে পুড়ে যায় পুরো শাসনব্যবস্থা।

রাষ্ট্র যখন গণতন্ত্রহীন একনায়কতন্ত্রে রূপ নেয়, তখন এই আন্দোলন হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের মুক্তির আশা।
গুম, খুন, নির্যাতন— কিছুই এই তরুণদের থামাতে পারেনি। বরং তারা এগিয়ে গেছে দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে।

এই দিনটির তাৎপর্য আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে ফিরে তাকাতে হয় ২০১৮ সালের দিকে, যখন “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন” শুরু হয় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর।

তারপর আসে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন।
দুইটি আন্দোলনের ভিন্ন লক্ষ্য থাকলেও, পদ্ধতি ও প্রভাব ছিল অভিন্ন—
ছাত্ররা নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমে আসে, রাজনীতির বাইরে গিয়েও তাদের কণ্ঠ হয়ে ওঠে জাতির চেতনার প্রতীক।

২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনের নামে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা পুরোপুরি বাতিল করে। যদিও এতে সমাধান আসেনি বরং তৈরি হয় নতুন বৈষম্য।

এ সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত পূর্ববর্তী আদেশকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ ঘোষণা করে।
ফলে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল হয়। আর এখানেই যেন আগুনে ঘি পড়ে।

৬ জুন থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ। ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ঈদের বিরতির পর, ১ জুলাই থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ, বিক্ষোভ ও দাবিনামা পেশ করা হয়।
তাদের আল্টিমেটাম ছিল— ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি না মানলে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

দাবি না মানায় ৫ আগস্ট পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। জনগণের চাপ আর ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান—
সবকিছুর সামনে ভেঙে পড়ে একনায়কতান্ত্রিক আওয়ামী রেজিম।
ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত এই মুক্তির দিন ইতিহাসে জায়গা করে নেয় “৩৬ জুলাই” নামে।

এটি শুধু একটি আন্দোলনের দিন নয়—
এটি একটি জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর ঘোষণা, একটি নতুন ভোরের সূচনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /