সৃষ্টিকর্তা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: গৌরনদীতে যুবক আটক

সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সৈকত বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে গৌরনদী উপজেলা গেট এলাকায়। আটক সৈকত বিশ্বাস গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দোয়ারিয়া গ্রামের কাঙ্গাল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি গৌরনদী উপজেলা গেটের একটি স্থানীয় ভাতের হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে সৈকত বিশ্বাস সৃষ্টিকর্তা নিয়ে আপত্তিকর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্য করে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, অভিযুক্ত যুবককে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ববিতে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রীকে সহায়তা দিল ছাত্রদল

অর্থনৈতিক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভর্তি হতে না পারা এক ছাত্রীকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর দুরবস্থা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে ছাত্রদল নেতাদের। এরপরই তারা তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সোমবার (৩০ জুন) রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ববি ছাত্রদলের নেতা মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, তার সঙ্গে কাইউম তালুকদার ও মেহেদী হাসান বাপ্পি মিলে ওই ছাত্রীকে ভর্তি সহ সকল আনুষঙ্গিক খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

ছাত্রদল নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর্থিক কারণে যেন কেউ পিছিয়ে না পড়ে, সেটাই আমাদের উদ্বেগের জায়গা। আমরা শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নই, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি পরিবার।”

ছাত্রদল নেতা কাইউম তালুকদার বলেন, “ছাত্রদল বিশ্বাস করে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে মানবিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই সহানুভূতির জায়গা থেকেই এগিয়ে এসেছি।”

মেহেদী হাসান বাপ্পি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে অসংখ্য শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ গোপনে বহন করেন। তার পথ অনুসরণ করেই আমরা আজ এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করেছে এবং আগামীতেও ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নীলখোলায় জমজমাট কোটি টাকার পানের হাট

দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে বরিশালের গৌরনদীর নীলখোলা এলাকায় অবস্থিত কোটি টাকার পানের হাট। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাটটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নয়, বরং পুরো এলাকার কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে।

সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও সোমবার বাদে বাকি পাঁচদিন বসে এই হাট। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। বিক্রি হয় কোটি টাকার পান, যা বরিশালের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। হাট কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার, মাছ বাজারসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিকেল গড়ালেই জমে ওঠে পুরো নীলখোলা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন এলাকার পান চাষীরা ভ্যানে করে বরজের পান নিয়ে আসেন আড়তে। এরপর শুরু হয় পান গোছানো, মাপঝোক আর দামদর। নীলখোলার প্রায় ৫০টিরও বেশি পানের আড়তে প্রতিটি আড়তে কাজ করেন অন্তত ১০-১৫ জন শ্রমিক। এখানকার আয়ের উপর নির্ভর করেই চলে অসংখ্য পরিবারের জীবনযাপন।

পাইকার শাহজাহান তালুকদার জানান, “আমরা প্রতিদিন এখান থেকে ১০-১২ লাখ টাকার পান কিনি। এগুলো ঢাকা, সিলেট, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।”
চাষীরাও বলছেন, আগে গ্রামীণ হাটে পান বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় পান অবিক্রিত থেকে যেত। এখন আড়তের সুবিধায় সব পান বিক্রি হয়ে যায়।

বর্তমানে আড়তে পানের দাম প্রতি বিড়া (আকারভেদে) ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। শীতকালে এ দর আরও বাড়ে।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ জানান, “এ উপজেলায় প্রায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। আমরা নিয়মিত পানচাষীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরা ভালো লাভ করতে পারবেন।”

পানের আড়তের মালিকরা বলছেন, আড়তের মাধ্যমে চাষী ও পাইকার—দুই পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন। তারা আরও আশাবাদী, ভবিষ্যতে এ হাট আরও প্রসার লাভ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিএম কলেজে ৫ দফা দাবিতে তালা, শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি

শিক্ষক সংকটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। দাবি আদায়ের দাবিতে সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের কঠোর রূপরেখা ঠিক করেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা ক্লাস বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন।

জানা গেছে, কলেজ অধ্যক্ষ ড. তাইজুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালের বাইরে দাফতরিক কাজে থাকায় অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। অধ্যক্ষ মঙ্গলবার বরিশালে ফিরলে পুনরায় আলোচনা হবে বলে জানানো হয়।

তবে আন্দোলনের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. বহুতল ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণ,
২. আধুনিক লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়াম স্থাপন,
৩. কলেজ গেট আধুনিকায়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন,
৪. বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি,
৫. পরিবহন সংকট ও শিক্ষক ঘাটতি নিরসন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এসব দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য, দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং প্রয়োজনে আমরণ অনশনেও যাবেন তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




৩৬ জুলাই: দ্বিতীয় মুক্তির সূর্যোদয়

৫ আগস্ট ২০২৪— বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি লাল অক্ষরে লেখা দিন।
এই দিনেই দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের অবসান ঘটে। অবসান ঘটে একটি একনায়কতান্ত্রিক সরকারের। জন্ম হয় এক নতুন বাংলাদেশের— যা অনেকেই বলছেন, “দ্বিতীয় স্বাধীনতা”, কেউ বলছেন “পুনর্জন্ম”।

আন্দোলনের সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার নিয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে তা রূপ নেয় একদফা দাবিতে— “শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই”।
যেখানে ছাত্রদের মুখে একটাই স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছিল—

> “দফা এক, দাবি এক— শেখ হাসিনার পদত্যাগ”।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, একে একে সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হন। স্বৈরাচারী দমননীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব আর ভারতীয় হস্তক্ষেপ— সব কিছুর বিরুদ্ধে যেন একসাথে বিস্ফোরণ ঘটে।

এই আন্দোলনকে কবি সুকান্তের ভাষায় তুলনা করা যায় “একটি দেশলাই কাঠির” সাথে, যার আগুনে পুড়ে যায় পুরো শাসনব্যবস্থা।

রাষ্ট্র যখন গণতন্ত্রহীন একনায়কতন্ত্রে রূপ নেয়, তখন এই আন্দোলন হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের মুক্তির আশা।
গুম, খুন, নির্যাতন— কিছুই এই তরুণদের থামাতে পারেনি। বরং তারা এগিয়ে গেছে দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে।

এই দিনটির তাৎপর্য আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে ফিরে তাকাতে হয় ২০১৮ সালের দিকে, যখন “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন” শুরু হয় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর।

তারপর আসে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন।
দুইটি আন্দোলনের ভিন্ন লক্ষ্য থাকলেও, পদ্ধতি ও প্রভাব ছিল অভিন্ন—
ছাত্ররা নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমে আসে, রাজনীতির বাইরে গিয়েও তাদের কণ্ঠ হয়ে ওঠে জাতির চেতনার প্রতীক।

২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনের নামে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা পুরোপুরি বাতিল করে। যদিও এতে সমাধান আসেনি বরং তৈরি হয় নতুন বৈষম্য।

এ সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত পূর্ববর্তী আদেশকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ ঘোষণা করে।
ফলে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল হয়। আর এখানেই যেন আগুনে ঘি পড়ে।

৬ জুন থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ। ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ঈদের বিরতির পর, ১ জুলাই থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ, বিক্ষোভ ও দাবিনামা পেশ করা হয়।
তাদের আল্টিমেটাম ছিল— ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি না মানলে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

দাবি না মানায় ৫ আগস্ট পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। জনগণের চাপ আর ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান—
সবকিছুর সামনে ভেঙে পড়ে একনায়কতান্ত্রিক আওয়ামী রেজিম।
ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত এই মুক্তির দিন ইতিহাসে জায়গা করে নেয় “৩৬ জুলাই” নামে।

এটি শুধু একটি আন্দোলনের দিন নয়—
এটি একটি জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর ঘোষণা, একটি নতুন ভোরের সূচনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ১ হাজার ৬৯০ জন সুপারিশপ্রাপ্ত ক্যাডার

৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে ১ হাজার ৭১০টি শূন্যপদের বিপরীতে মোট ১ হাজার ৬৯০ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার পর পিএসসির ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন ক্যাডারে মনোনয়নের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের ২০টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক ওয়েবসাইট (http://bpsc.teletalk.com.bd)-এ ফলাফল ও মনোনয়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। পিএসসি জানিয়েছে, প্রকাশিত ফলে কোনো যুক্তিসংগত কারণে সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা সংশোধনের অধিকার কমিশন সংরক্ষণ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যেসব প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদে মনোনয়ন পাননি, তাদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের কাছ থেকে শূন্য পদের চাহিদা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসারে পর্যায়ক্রমে সুপারিশ করা হবে।

৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। এতে মোট ১ হাজার ৭১০টি ক্যাডার পদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ ছিল শিক্ষা ক্যাডারে—৭৭৬টি।

বাকি পদগুলোর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ২৫০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৫০ জন, পররাষ্ট্রে ১০ জন, আনসার ক্যাডারে ১৪ জন, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে ৩০ জন এবং পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ২৭ জন নেওয়ার কথা বলা হয়।

এই ফলাফলের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক চাকরি বিসিএস পরীক্ষার আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো।




জুলাই কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি থাকবে : রিজভী

গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল (১ জুলাই) আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে জুলাই কর্মসূচি ঘিরে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, “চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বার্তা থাকবে। এটি একটি মহিমান্বিত ও সফল কর্মসূচি হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। এখানে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ শহীদ ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।”

তিনি আরও বলেন, “কর্মসূচির শৃঙ্খলা রক্ষায় যেসব নেতাকর্মী দায়িত্বে থাকবেন, তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে আসা শহীদ পরিবারের সদস্য, গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের যথাযথ সম্মান ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচির শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সদস্যসচিব আমিনুল হক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম ও ডা. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।




জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। সোমবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় গুলশানে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যিনি মাসব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী:

  • ১ জুলাই: “কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার (২০১৮–২০২৪)” শীর্ষক আলোচনা সভা।
  • ১৬ জুলাই: ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে গণহত্যার বিচারের দাবিতে পদযাত্রা।
  • ১৮ জুলাই: “কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
  • ২০ জুলাই: কারাবন্দি ও আহত যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা।
  • ২৫ জুলাই: শহীদদের স্মরণে উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
  • ২৬ জুলাই: “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা।
  • ৩১ জুলাই: “গণঅভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা।
  • ১ আগস্ট: শহীদ মিনারে ‘ঐক্য ও সংহতি সমাবেশ’।
  • ৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন।
  • ৮ আগস্ট: “জুলাইয়ের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক আলোচনা সভা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, আব্দুজ জাহের, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

দলটির নেতারা জানান, এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণের অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা স্মরণ ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।




ইরানের ইউরেনিয়ামের অবস্থান অজানা: জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা

ইরানের মজুত রাখা ৪০০ কেজিরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানে না জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)। রোববার (২৯ জুন) কানাডিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

তিনি বলেন, “ইরানের ইউরেনিয়াম কোথায় আছে কিংবা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ১২ দিনে তা ধ্বংস হয়েছে কি না— সেটা আমরা বলতে পারি না।”

গ্রসি জানান, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করার সময় ইরানের কাছে কমপক্ষে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ছিল ৬০ শতাংশ। উল্লেখ্য, পরমাণু বোমা তৈরির জন্য অন্তত ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। তার মতে, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীতকরণ খুব কঠিন নয়।

আইএইএ প্রধান আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে— এমনটা মনে করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সংঘাত শুরুর পর ইসরায়েলের এক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি জানান, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে ফেলার মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের ধারণা, সংঘাতের শুরুর দিকেই ফার্দো থেকে বড় একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

গ্রসির মতে, ইরান যদি ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে সক্ষম হয়ে থাকে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের পরমাণু প্রকল্প ফের সচল হতে পারে। আর যদি সেই মজুত ধ্বংস হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলেও নতুনভাবে প্রকল্প চালুর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

তিনি বলেন, “ইরান জানে কীভাবে পরমাণু বোমা তৈরি করতে হয়। কাজেই তাদের প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলেও তা আবার চালু হবে— এমনটাই আমাদের ধারণা।”




দ্রুত নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় চীন: মির্জা ফখরুল

চীন বাংলাদেশে দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি চীন সফর শেষে সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়ে চীনের ক্ষমতাসীন দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চীনের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছি। চীনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তারা মিয়ানমার সরকারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন এবং অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছেন।”

সফরে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংসং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও এবং ভাইস মন্ত্রী সান হাইয়ান।

চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চীনা নেতারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানকে স্মরণ করেন বলেও জানান ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, “পলিটব্যুরোর সদস্য লি হংসং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম শুরু করার আগ্রহ চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।”

বিএনপির পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা, আধুনিক কৃষি, ব্লু ইকোনমি এবং এসএমই খাতে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে চীন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বলে জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুং ওয়ে ডং-এর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, শ্রমশক্তির সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে সহনীয় করতে চীন থেকে নেওয়া ঋণের পরিশোধ সময়সীমা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ফি পুনর্বিবেচনা এবং অনুদানের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে দুই বছর মেয়াদি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।