বাউফলে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, বাবা গুরুতর আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ফাহিম বয়াতি (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা জাকির বয়াতি। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সানু মীর (৪৫) ও জাকির বয়াতির (৫০) মধ্যে জমি ও পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় একটি সালিস বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও সানু মীর সেই রায় মানতে অস্বীকৃতি জানান।

এরই জেরে মঙ্গলবার বিকেলে সানু মীরের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাকির বয়াতির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছেলে ফাহিম বয়াতি বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থলেই ফাহিমের মৃত্যু হয়।

আহত জাকির বয়াতিকে গুরুতর অবস্থায় বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সানু মীর ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আজ মিরাজের নেতৃত্বে হতে যাচ্ছে পঞ্চপাণ্ডব বিহীন প্রথম ওডিআই

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চলতি জুলাই মাসেই তিনি এই দায়িত্ব পান এবং আজ (বুধবার) তার অধীনে প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়ে পুরোপুরি নতুন নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের জন্য এটিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক মিরাজ। কলম্বোয় সিরিজ শুরুর আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে আমরা সিনিয়রদের মিস করব। তারা দীর্ঘদিন দেশের হয়ে খেলেছেন। তবে এখন যারা দলে এসেছে, তাদের জন্য এটা ভালো সুযোগ। ভালো করলে স্থায়ী হওয়া যাবে। আমি বিশ্বাস করি, দল হিসেবে আমরা ভালো করব।”

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জায়গায় কাদের খেলানো হবে, এ বিষয়ে মিরাজ জানান, “আমরা পরিকল্পনা করছি কারা তাদের জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে। এই ধরনের রদবদল এক-দুই সিরিজে হয়ে যাবে না। সময় দিতে হবে। একসঙ্গে এত সিনিয়র খেলোয়াড় চলে যাওয়া দলের জন্য কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করছি ওই জায়গাগুলোতে উন্নতি আনতে।”

তিনি আরও বলেন, “ওডিআই না খেলার একটি সময় গেছে এবং এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ফাঁকা হয়ে গেছে। তারা অবসর নিয়েছেন এবং দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। আমি অধিনায়ক হিসেবে ভাবছি, ওই দুই জায়গার মধ্যে একটিতে নিজেই ব্যাটিং করব, আরেকটিতে লিটন দাসকে খেলানো যেতে পারে। কারণ এই দুটি পজিশন থেকেই ম্যাচের বড় স্কোর গড়ে তোলা যায়।”

আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, “বিশ্বকাপের জন্য হাতে অনেক সময় রয়েছে। কিছু নতুন খেলোয়াড় এসেছে, যারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। আমরা পরিকল্পনা করছি কীভাবে এই সময়ের মধ্যে দলটাকে প্রস্তুত করা যায়।”

সিনিয়রদের অবসরের পরবর্তী সময়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মিরাজ, তবে তরুণদের নিয়ে গড়া দলকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সপ্তম দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠক রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শুরু হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

আজকের আলোচনায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো: নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের বিধান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপে মোট ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত ৯টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, আর কয়েকটি প্রস্তাবে আংশিক ঐকমত্য পাওয়া গেছে। তবে কোনো প্রস্তাব এখনো আলোচনার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

আলোচনায় আসা উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার, সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্নির্ধারণ।

এছাড়া যেসব প্রস্তাব এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিয়ম, স্থানীয় সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব প্রস্তাব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে একটি সম্মিলিত সুপারিশ পত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




‘জুলাই অভ্যুত্থান নয়, এটি ছিল একটি বিপ্লব’ — সরকারকে প্রত্যাখ্যান করল বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ

সরকার ঘোষিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ কর্মসূচিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন ‘গণঅভ্যুত্থান’ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিপ্লব’। এই বিপ্লবকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা হিসেবে সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগকে আখ্যায়িত করেছে তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৪ জুলাই ‘বিপ্লব দিবস’ ও ৫ আগস্ট ‘বিজয় দিবস’সহ সাতদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে এ ছিল এক রক্তাক্ত বিজয়। এই বিপ্লব আমাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অধিকার ও ম্যান্ডেট দিয়েছে। অথচ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ নামে ক্ষুদ্র করে উপস্থাপন করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও ক্ষমতাসীন দলগুলো সাংবিধানিক সংস্কারের নামে পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোয় ফিরে যেতে চাইছে। “তারা জুলাই বিপ্লবের বিপ্লবী চেতনা হরণ করে সংবিধান সংশোধন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং মেয়াদ নির্ধারণের মতো কিছু সীমিত সংস্কারের ভেতর দিয়ে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়,” বলেন তিনি।

সংগঠনের বক্তব্যে দাবি করা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থান’ শব্দটি দিয়ে আন্দোলনের গৌরবকে খর্ব করা হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্র পরিচালনার এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “এই বিপ্লব আমাদের মাঝেই থাকবে—যদিও আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে বিপ্লবের আত্মা আমাদের পথ দেখাবে।”

সরকার ঘোষিত কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে যে সাতটি দিবস পালন করা হবে তা হলো:

  • ১৪ জুলাই: বিপ্লব দিবস
  • ১৫ জুলাই: নারী প্রতিরোধ দিবস
  • ১৬ জুলাই: শহীদ দিবস
  • ১৮ জুলাই: গণপ্রতিরোধ দিবস
  • ১৯ জুলাই: প্রবাসী সংহতি দিবস
  • ৩ আগস্ট: জুলাই বিপ্লব ইশতেহার দিবস
  • ৫ আগস্ট: বিজয় দিবস

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান। সঞ্চালনা করেন ফজলুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব মুশফিক খান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লা, মাদরাসা-ই-আলিয়া শাখার আহ্বায়ক রাকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।




“স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে যেমন আপস করিনি, গণতন্ত্রেও করব না” — ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কোনো দিন আপস করিনি। ঐক্যের প্রশ্নেও কোনো ছাড় দেব না।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে জনগণের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সময়ে আমাদের বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে। অনেক সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, মা হারিয়েছে সন্তানকে। আন্দোলনে ছোট শিশু থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার।”

তিনি বলেন, “এই শাসনামলে রাষ্ট্রকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি, নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ — সবকিছু ধ্বংস হয়েছে। এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর কাঁধে এমন এক ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মোকাবিলা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নতুন সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীর পতনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। এজন্যই আমরা ২০২২ সালে ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। তার আগেই ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ উপস্থাপন করেছিলেন।”

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমরাই আগে রিফর্মের কথা বলেছি। কিন্তু এখন একটা ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে— বলা হচ্ছে, বিএনপি নাকি সংস্কার মানছে না। এর ফলে বিলম্ব হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রচার।”

বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমানে তারেক রহমান আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত আট-নয় বছরে বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।




“শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না” — খালেদা জিয়ার দৃঢ় আহ্বান

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেই সাথে বলেন শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান: শোক ও বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় খালেদা জিয়া বলেন, “আমাদের সামনে একটি বিরল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তস্রোত ও মায়েদের অশ্রু যেন বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। আসুন, সবাই মিলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি এবং কোটি মানুষের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেই।”

বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ করে বলেন, “এক বছর পেরিয়ে আবার ফিরে এসেছে রক্তস্নাত সেই মাস। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার। নির্যাতন, হত্যা ও গুমের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। কিন্তু ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিবাদ পতিত হয়েছে।”

আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “যারা গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে সম্মান জানাতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ‘গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ সালের আন্দোলনের ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত ‘জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।




সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন কতটা উপযোগী, প্রশ্ন তুললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিদেশী প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের ঐক্য। কিন্তু সংখ্যানুপাতিক ভোট পদ্ধতি ঐক্যের পরিবর্তে দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারে।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্টদের বিচার শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে কাঠামোগত সংস্কারের কাজ চলছে।”

তিনি জানান, সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতামত দিচ্ছে এবং অধিকাংশ দলই দেশের কল্যাণে গঠনমূলক প্রস্তাব রাখছে। তবে সব প্রস্তাব বাংলাদেশের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে কতটা উপযোগী, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থায় সবাই অংশ নিতে পারে ঠিকই, কিন্তু তা বিভক্তির পথ খুলে দিতে পারে। ঐক্য নয়, বরং প্রতিযোগী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংলাপ এবং বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই তারেক রহমান এ মন্তব্য করেন।




স্বর্ণের বাজারে উর্ধ্বগতি, বেড়েছে ভরিপ্রতি দাম

 

দেশের স্বর্ণ বাজারে কয়েক দফা দরপতনের পর অবশেষে আবারও দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের প্রতি ভরি এখন বিক্রি হবে ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৬ টাকায়— যা আগের চেয়ে ১ হাজার ৮৯০ টাকা বেশি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দাম নির্ধারণের কথা জানায়। আগামীকাল বুধবার (২ জুলাই) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাজুস কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিশ্ববাজারে কিছুটা মূল্য হ্রাস পেলেও দেশের বাজারে চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী:
🔸 ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৭২,১২৬ টাকা
🔸 ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৬৪,২৯৯ টাকা
🔸 ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৪০,৮৩১ টাকা
🔸 সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,১৬,৪৮৮ টাকা

এর আগে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা।

অন্যদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই রুপার দাম রয়েছে অপরিবর্তিত—

রুপার বর্তমান দাম:
🔹 ২২ ক্যারেট: ২,৫৭৮ টাকা
🔹 ২১ ক্যারেট: ২,৪৪৯ টাকা
🔹 ১৮ ক্যারেট: ২,১১১ টাকা
🔹 সনাতন পদ্ধতি: ১,৫৮৬ টাকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মূল্যের ওঠানামার প্রভাবেই এই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

আদালত বিজি প্রেসের মাধ্যমে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির ঘটনায় দায়ের করা মোট ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ জুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। বাকি পাঁচটি মামলায় ২৩ আসামির পলাতক থাকার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকায় দুদক গেজেট প্রকাশের আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যাদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে তারা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা এবং আরও কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান রাজউক কর্মকর্তাসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিক।

এছাড়া মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সালাউদ্দিনকেও।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজউকের মূল্যবান প্লট আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রতিচ্ছবি।

মামলাগুলোর প্রতিটিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের পলাতক থাকায় ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই এসব মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।




শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ, আসামি পক্ষের শুনানি ৭ জুলাই

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের পক্ষে শুনানির জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ শুনানিতে অংশ নেন।

এর আগে, চলতি বছরের ১ জুন এই তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ১৬ জুন তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। ১৭ জুন তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আদালতে হাজির না হলে বিচার কার্যক্রম অনুপস্থিতিতেই চলবে বলে আদালত জানায়।

মামলার অপর আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে তাকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি এই তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

এরও আগে, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চলমান দুটি মামলায় তদন্ত দ্রুত শেষ করতে দুই মাস সময় বেঁধে দেয় ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, পরিকল্পিত হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক শীর্ষ নেতারা সরাসরি জড়িত ছিলেন।

আগামী ৭ জুলাই আসামিদের পক্ষে অভিযোগ গঠনের বিরোধিতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।