পটুয়াখালীতে বিএনপির সম্মেলনে নেতাকর্মীদের ঢল, স্লোগানে মুখর শহর

২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। বুধবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পটুয়াখালী শহরের দিকে আসতে শুরু করেন। এতে শহরের প্রধান সড়ক ও মোড়গুলো স্লোগান ও হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

সম্মেলনস্থল ব্যায়ামাগার মাঠ এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনায় মুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন। ব্যানার-ফেস্টুন, দলীয় পতাকা ও নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত নেতাকর্মীরা কেউ এসেছেন বাসে, কেউ মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেল বহরে, আবার কেউ হেঁটেই পৌঁছেছেন সম্মেলনে অংশ নিতে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সম্মেলনস্থল ও আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, পাশাপাশি মাঠ ও চারপাশে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ছোট বিঘাই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা কাওসার আহমেদ বলেন, “পটুয়াখালীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক মাইলফলক রচিত হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিচ্ছেন।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তৌফিক আলী খান কবির জানান, “আমি দলের দুঃসময়ের কর্মী। আশা করি, তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।”

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর নাগাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




বরিশাল সফর করলেন আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ বাহারুল আলম আজ (বুধবার) বরিশালে দিনব্যাপী সফর করেছেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর ও সুসংগঠিত।

বুধবার সকালেই বিমানযোগে বরিশাল পৌঁছান আইজিপি। এরপর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন দপ্তর ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। দুপুরে তিনি বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক এবং জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন।

আইজিপির সফরের অংশ হিসেবে তিনি বরিশাল পুলিশ লাইন ও র‌্যাব ইউনিট পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে তিনি বিমানযোগে ঢাকায় ফিরে যান।

তবে এই সফরের বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতি ছিলো অস্পষ্টতা। সফর ঘিরে সাংবাদিকদের কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা চালালে পুলিশ লাইনের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

আইজিপির এই সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলার কারণ কী – এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




আলেমদের হতে হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আলেমদের শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আন্তরিকতা ও ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।”

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “নিজেদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করলে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন পিছিয়ে যাবে। কক্সবাজারে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার পাশাপাশি ৭১টি মন্দিরে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আলেমদের কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি যুগের ভাষা ও প্রযুক্তি আয়ত্তে নিতে হবে। শুধু আরবি নয়, বাংলা ও ইংরেজিতেও দক্ষ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত মানবসেবা পুঁজি নয়, দরকার মন-মানসিকতা। সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু বাণী নয়, দরকার কাজের মাধ্যমেই উম্মাহর উপকার সাধন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলার ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ, সৌদি প্রশিক্ষক ড. বরিক বিন মুহাম্মদ, ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ এবং ড. মনছুর বিন আবদুল আজিজ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামিয়া প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আবদুল গফুর নদিম। সমাপনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়ার পরিচালক আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযা।

সপ্তাহব্যাপী এই কর্মশালাটি সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। গত রবিবার সৌদি প্রতিনিধি দল জামিয়ার ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।

এর আগে সকালে ধর্ম উপদেষ্টা কক্সবাজার সার্কিট হাউজে সরকারি যাকাত ফান্ড থেকে অর্থ বিতরণ করেন এবং বেলা ১২টার দিকে কৃষ্ণানন্দধাম মন্দিরে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 

 

 




এক সঙ্গে তিন ছেলে, দুশ্চিন্তায় দিনমজুর বাবা

একদিকে নতুন প্রাণের আগমনে খুশি, অন্যদিকে সংসারের ব্যয় সামলাতে দুশ্চিন্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের এক গরিব দম্পতি। দিনমজুর অলি মিয়ার স্ত্রী হাছেনা বেগম একসঙ্গে তিনটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আগেই তাদের তিন ছেলে রয়েছে।

রবিবার (২৯ জুন) রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব শহরের হলিটাচ মেডিকেল কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হাছেনা বেগম (৩২) তিন নবজাতকের জন্ম দেন। চিকিৎসকরা জানান, মা ও সন্তানরা সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে নিরাপদে প্রসব করানো হয়েছে। মা ও তিন নবজাতক সবাই ভালো আছেন।”

হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল আলম জানান, “একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম আমাদের হাসপাতালের জন্যও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমরা তাদের যতটা সম্ভব সহযোগিতা করছি।”

তবে খুশির পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও ঘিরে ধরেছে পরিবারটিকে। পেশায় দিনমজুর অলি মিয়া বলেন, “একদিকে আনন্দ, কিন্তু অন্যদিকে চিন্তা থামছে না। আগে থেকেই তিন সন্তান, এখন নতুন করে আরও তিন জন। দিন আনি দিন খাই, খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

হাছেনার শাশুড়ি আওলিয়া বেগম বলেন, “আল্লাহর রহমতে তিন নাতি পেয়েছি। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে আমার ছেলে অন্যের বাড়িতে খেটে সংসার চালায়। এখন তার কাঁধে চাপ আরও বেড়ে গেল।”

স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এই দরিদ্র পরিবারের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

বাংলাদেশে ভুয়া তথ্য এবং গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই হতে পারে একটি কার্যকর উপায়।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা সুসান ভিজ এবং ইউনেস্কোর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যান্ড সেফটি অব জার্নালিস্টস সেকশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ’র সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় “অ্যান অ্যাসেসমেন্ট অব বাংলাদেশের মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপ: ফোকাসিং অন ফ্রি, ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া” শীর্ষক একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রাক্কালে। এই প্রতিবেদনটি ইউনেস্কো এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিথ্যা তথ্য ও গুজব। এসব অনেক সময় প্রবাসী নাগরিক এবং স্থানীয় গোষ্ঠী দ্বারা ছড়ানো হয়, যা একটি অব্যাহত তথ্য-বোমার মতো কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ কেবল সরকার নয়, মিডিয়ার সঙ্গেও কথা বলুক। স্বাধীন নীতিমালা থাকা দরকার যাতে কোনো মিডিয়া যদি বারবার ভুয়া তথ্য প্রচার করে, তাহলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আপনাদের কথা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জাতিসংঘের সক্রিয় সমর্থন চাই।”

এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভিজ জানান, বৃহস্পতিবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে তাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্য যাচাইয়ের বাধা, এবং ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রস্তুত একটি গবেষণা।

ইউনেস্কোর জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ বলেন, “প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ, নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সুপারিশ রয়েছে। এই বিষয়গুলোতে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।”

প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ইউএনডিপির এসআইপিএস প্রকল্পের কাঠামোর আওতায় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের মানোন্নয়নে ইউনেস্কোর ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন করে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চলছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের অষ্টম দিনে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জীবনের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কেউ যেন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা বিচারিক হত্যার শিকার না হন—এটাই আমাদের চাওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও বড় অবদান রয়েছে। এটি একটি সম্মিলিত সাফল্য, যেটি শুধু অর্জন করলেই হবে না, বরং তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে আলী রীয়াজ জানান, বিভিন্ন দল, জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাগুলো আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, “আমরা হয়তো সবসময় কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারি না, কখনও হতাশাও আসে। তবে সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে আমরা জুলাই মাসের মাঝামাঝি নাগাদ একটি সম্মিলিত সনদে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, চলমান এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।




আদালত অবমাননায় শেখ হাসিনাকে কারাদণ্ড

আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে আত্মসমর্পণের পর অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে দণ্ড কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় সাজা ঘোষণা করল কোনো আদালত। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম সাজার রায়।

মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।

এর আগে ১৯ জুন আদালত মামলার স্বচ্ছ বিচারের স্বার্থে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুলকে ৩ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কেউই আদালতে হাজির হননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। এরও কোনো সাড়া না মেলায় আদালত আজ তাদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্যে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—এমন মন্তব্য উঠে আসে, যা আদালতের প্রতি অবমাননাকর এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।




বাংলাদেশের ওয়ানডে যাত্রা শুরু, টস জিতে ব্যাটিং এ শ্রীলঙ্কা 

দীর্ঘ দুই দশক পর ওয়ানডে ক্রিকেটে এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডব খ্যাত মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া এই প্রথম কোনো ওয়ানডে ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ভেন্যু সেই পুরনো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, যেখানে ২০০৫ সালে সর্বশেষ এমন পঞ্চপাণ্ডবহীন ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ।

রঙিন পোশাকে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো আজ (মঙ্গলবার)। সাদা পোশাকে সিরিজ হারার পর কলম্বোতে শুরু হলো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অধীনে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা পেয়েছেন দুই নতুন মুখ—উইকেটকিপার-ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন এবং বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। অপরদিকে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার একাদশেও অভিষেক হয়েছে মিলান রত্নায়েকে নামের এক পেস অলরাউন্ডারের।

বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী অনিক, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ:
নিশান মাদুস্কা, পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, মিলান রত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহিশ থিকশানা, ইশান মালিঙ্গা ও আসিথা ফার্নান্দো।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে। এখন দেখার পালা, মিরাজের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয়।




পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মৌসুমী ফল উৎসব

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশীয় মৌসুমী ফল উৎসব। বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। আমাদের দেশে প্রচুর দেশীয় ফল হয়, কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম অনেক ফলের সাথেই অপরিচিত। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা সেসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, ড্রাগন, লটকন, করমচা, সফেদা, কামরাঙা, কাউফল, ডেউয়া সহ নানা রকমের দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।

উপাচার্য আরও বলেন, “বাংলাদেশ প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু ফল ও সবজি চাষের জন্য উপযোগী। এসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং নানা অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।”

তিনি দেশীয় ফলের চাষ ও ভোক্তাপ্রয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকতার হোসেন এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রেজাউল ইসলাম শামীম। তারা এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সকলের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল এক প্রাণবন্ত পরিবেশে রূপ নেয়। উপস্থিত অতিথিরা দেশীয় ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও অবগত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ভেজালবিরোধী অভিযানে ৩ জন আটক, জরিমানা ১ লাখ টাকা

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বরগুনা শহরে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠান মালিককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ। অভিযানে সহায়তা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

অভিযানকালে শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও একটি বেকারি কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় খাদ্যে ভেজাল উপাদান ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় তিনটি হোটেল ও বেকারির মালিক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। একই আইনের ৩৯ ধারায় অপর একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমিকর ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনের আওতায় প্রতিটি অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫