রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন করে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চলছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের অষ্টম দিনে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জীবনের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কেউ যেন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা বিচারিক হত্যার শিকার না হন—এটাই আমাদের চাওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও বড় অবদান রয়েছে। এটি একটি সম্মিলিত সাফল্য, যেটি শুধু অর্জন করলেই হবে না, বরং তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে আলী রীয়াজ জানান, বিভিন্ন দল, জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাগুলো আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, “আমরা হয়তো সবসময় কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারি না, কখনও হতাশাও আসে। তবে সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে আমরা জুলাই মাসের মাঝামাঝি নাগাদ একটি সম্মিলিত সনদে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, চলমান এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।




আদালত অবমাননায় শেখ হাসিনাকে কারাদণ্ড

আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে আত্মসমর্পণের পর অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে দণ্ড কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় সাজা ঘোষণা করল কোনো আদালত। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম সাজার রায়।

মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।

এর আগে ১৯ জুন আদালত মামলার স্বচ্ছ বিচারের স্বার্থে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুলকে ৩ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কেউই আদালতে হাজির হননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। এরও কোনো সাড়া না মেলায় আদালত আজ তাদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্যে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—এমন মন্তব্য উঠে আসে, যা আদালতের প্রতি অবমাননাকর এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।




বাংলাদেশের ওয়ানডে যাত্রা শুরু, টস জিতে ব্যাটিং এ শ্রীলঙ্কা 

দীর্ঘ দুই দশক পর ওয়ানডে ক্রিকেটে এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডব খ্যাত মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া এই প্রথম কোনো ওয়ানডে ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ভেন্যু সেই পুরনো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, যেখানে ২০০৫ সালে সর্বশেষ এমন পঞ্চপাণ্ডবহীন ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ।

রঙিন পোশাকে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো আজ (মঙ্গলবার)। সাদা পোশাকে সিরিজ হারার পর কলম্বোতে শুরু হলো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অধীনে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা পেয়েছেন দুই নতুন মুখ—উইকেটকিপার-ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন এবং বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। অপরদিকে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার একাদশেও অভিষেক হয়েছে মিলান রত্নায়েকে নামের এক পেস অলরাউন্ডারের।

বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী অনিক, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ:
নিশান মাদুস্কা, পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, মিলান রত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহিশ থিকশানা, ইশান মালিঙ্গা ও আসিথা ফার্নান্দো।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে। এখন দেখার পালা, মিরাজের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয়।




পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মৌসুমী ফল উৎসব

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশীয় মৌসুমী ফল উৎসব। বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। আমাদের দেশে প্রচুর দেশীয় ফল হয়, কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম অনেক ফলের সাথেই অপরিচিত। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা সেসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, ড্রাগন, লটকন, করমচা, সফেদা, কামরাঙা, কাউফল, ডেউয়া সহ নানা রকমের দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।

উপাচার্য আরও বলেন, “বাংলাদেশ প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু ফল ও সবজি চাষের জন্য উপযোগী। এসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং নানা অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।”

তিনি দেশীয় ফলের চাষ ও ভোক্তাপ্রয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকতার হোসেন এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রেজাউল ইসলাম শামীম। তারা এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সকলের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল এক প্রাণবন্ত পরিবেশে রূপ নেয়। উপস্থিত অতিথিরা দেশীয় ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও অবগত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ভেজালবিরোধী অভিযানে ৩ জন আটক, জরিমানা ১ লাখ টাকা

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বরগুনা শহরে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠান মালিককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ। অভিযানে সহায়তা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

অভিযানকালে শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও একটি বেকারি কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় খাদ্যে ভেজাল উপাদান ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় তিনটি হোটেল ও বেকারির মালিক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। একই আইনের ৩৯ ধারায় অপর একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমিকর ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনের আওতায় প্রতিটি অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, বাবা গুরুতর আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ফাহিম বয়াতি (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা জাকির বয়াতি। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সানু মীর (৪৫) ও জাকির বয়াতির (৫০) মধ্যে জমি ও পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় একটি সালিস বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও সানু মীর সেই রায় মানতে অস্বীকৃতি জানান।

এরই জেরে মঙ্গলবার বিকেলে সানু মীরের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাকির বয়াতির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছেলে ফাহিম বয়াতি বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থলেই ফাহিমের মৃত্যু হয়।

আহত জাকির বয়াতিকে গুরুতর অবস্থায় বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সানু মীর ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আজ মিরাজের নেতৃত্বে হতে যাচ্ছে পঞ্চপাণ্ডব বিহীন প্রথম ওডিআই

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চলতি জুলাই মাসেই তিনি এই দায়িত্ব পান এবং আজ (বুধবার) তার অধীনে প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়ে পুরোপুরি নতুন নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের জন্য এটিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক মিরাজ। কলম্বোয় সিরিজ শুরুর আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে আমরা সিনিয়রদের মিস করব। তারা দীর্ঘদিন দেশের হয়ে খেলেছেন। তবে এখন যারা দলে এসেছে, তাদের জন্য এটা ভালো সুযোগ। ভালো করলে স্থায়ী হওয়া যাবে। আমি বিশ্বাস করি, দল হিসেবে আমরা ভালো করব।”

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জায়গায় কাদের খেলানো হবে, এ বিষয়ে মিরাজ জানান, “আমরা পরিকল্পনা করছি কারা তাদের জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে। এই ধরনের রদবদল এক-দুই সিরিজে হয়ে যাবে না। সময় দিতে হবে। একসঙ্গে এত সিনিয়র খেলোয়াড় চলে যাওয়া দলের জন্য কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করছি ওই জায়গাগুলোতে উন্নতি আনতে।”

তিনি আরও বলেন, “ওডিআই না খেলার একটি সময় গেছে এবং এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ফাঁকা হয়ে গেছে। তারা অবসর নিয়েছেন এবং দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। আমি অধিনায়ক হিসেবে ভাবছি, ওই দুই জায়গার মধ্যে একটিতে নিজেই ব্যাটিং করব, আরেকটিতে লিটন দাসকে খেলানো যেতে পারে। কারণ এই দুটি পজিশন থেকেই ম্যাচের বড় স্কোর গড়ে তোলা যায়।”

আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, “বিশ্বকাপের জন্য হাতে অনেক সময় রয়েছে। কিছু নতুন খেলোয়াড় এসেছে, যারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। আমরা পরিকল্পনা করছি কীভাবে এই সময়ের মধ্যে দলটাকে প্রস্তুত করা যায়।”

সিনিয়রদের অবসরের পরবর্তী সময়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মিরাজ, তবে তরুণদের নিয়ে গড়া দলকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সপ্তম দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠক রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শুরু হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

আজকের আলোচনায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো: নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের বিধান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপে মোট ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত ৯টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, আর কয়েকটি প্রস্তাবে আংশিক ঐকমত্য পাওয়া গেছে। তবে কোনো প্রস্তাব এখনো আলোচনার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

আলোচনায় আসা উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার, সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্নির্ধারণ।

এছাড়া যেসব প্রস্তাব এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিয়ম, স্থানীয় সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব প্রস্তাব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে একটি সম্মিলিত সুপারিশ পত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




‘জুলাই অভ্যুত্থান নয়, এটি ছিল একটি বিপ্লব’ — সরকারকে প্রত্যাখ্যান করল বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ

সরকার ঘোষিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ কর্মসূচিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন ‘গণঅভ্যুত্থান’ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিপ্লব’। এই বিপ্লবকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা হিসেবে সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগকে আখ্যায়িত করেছে তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৪ জুলাই ‘বিপ্লব দিবস’ ও ৫ আগস্ট ‘বিজয় দিবস’সহ সাতদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে এ ছিল এক রক্তাক্ত বিজয়। এই বিপ্লব আমাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অধিকার ও ম্যান্ডেট দিয়েছে। অথচ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ নামে ক্ষুদ্র করে উপস্থাপন করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও ক্ষমতাসীন দলগুলো সাংবিধানিক সংস্কারের নামে পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোয় ফিরে যেতে চাইছে। “তারা জুলাই বিপ্লবের বিপ্লবী চেতনা হরণ করে সংবিধান সংশোধন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং মেয়াদ নির্ধারণের মতো কিছু সীমিত সংস্কারের ভেতর দিয়ে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়,” বলেন তিনি।

সংগঠনের বক্তব্যে দাবি করা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থান’ শব্দটি দিয়ে আন্দোলনের গৌরবকে খর্ব করা হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্র পরিচালনার এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “এই বিপ্লব আমাদের মাঝেই থাকবে—যদিও আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে বিপ্লবের আত্মা আমাদের পথ দেখাবে।”

সরকার ঘোষিত কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে যে সাতটি দিবস পালন করা হবে তা হলো:

  • ১৪ জুলাই: বিপ্লব দিবস
  • ১৫ জুলাই: নারী প্রতিরোধ দিবস
  • ১৬ জুলাই: শহীদ দিবস
  • ১৮ জুলাই: গণপ্রতিরোধ দিবস
  • ১৯ জুলাই: প্রবাসী সংহতি দিবস
  • ৩ আগস্ট: জুলাই বিপ্লব ইশতেহার দিবস
  • ৫ আগস্ট: বিজয় দিবস

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান। সঞ্চালনা করেন ফজলুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব মুশফিক খান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লা, মাদরাসা-ই-আলিয়া শাখার আহ্বায়ক রাকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।




“স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে যেমন আপস করিনি, গণতন্ত্রেও করব না” — ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কোনো দিন আপস করিনি। ঐক্যের প্রশ্নেও কোনো ছাড় দেব না।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে জনগণের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সময়ে আমাদের বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে। অনেক সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, মা হারিয়েছে সন্তানকে। আন্দোলনে ছোট শিশু থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার।”

তিনি বলেন, “এই শাসনামলে রাষ্ট্রকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি, নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ — সবকিছু ধ্বংস হয়েছে। এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর কাঁধে এমন এক ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মোকাবিলা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নতুন সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীর পতনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। এজন্যই আমরা ২০২২ সালে ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। তার আগেই ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ উপস্থাপন করেছিলেন।”

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমরাই আগে রিফর্মের কথা বলেছি। কিন্তু এখন একটা ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে— বলা হচ্ছে, বিএনপি নাকি সংস্কার মানছে না। এর ফলে বিলম্ব হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রচার।”

বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমানে তারেক রহমান আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত আট-নয় বছরে বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।