বাউফলে ডেভিল হান্টে গ্রেফতার ১

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চলমান ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় থাকা এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাউফল সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে তার নিজ বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এলাকাজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়রা ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি বাউফল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নিজ এলাকার পরিচিত মুখ হওয়ায় তার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। এলাকায় তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা থাকায় অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযানে অংশ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের আওতায় যে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান ছিল, তাদের তালিকায় তার নাম ছিল বলে জানানো হয়। অভিযান চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করেছেন।

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নেয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানার ওসি জানিয়েছেন যে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অভিযানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং তদন্তের সঠিকতা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন বিশদ মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দৃঢ় অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এরই মাঝে সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ কি হতে পারে এবং আরো কে কে নজরদারিতে রয়েছে।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ জানিয়েছেন যে সম্প্রতি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছিল এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল। ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় আরও নাম যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

বর্তমানে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হবে কিনা এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য যোগ হয় কি না, সে বিষয়ে নজর রয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সমগ্র এলাকাবাসীর। অভিযানের ফলাফল ও আইনগত অগ্রগতি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




শখের খাঁচা থেকে স্বপ্নের খামার: পাখি পালনে সাবলম্বী দম্পতি পিরোজপুরে

পিরোজপুর শহরের পালপাড়া এলাকার সাগর হাওলাদার ও তার স্ত্রী মুমু ঘরের এক কোণে ছোট খাঁচায় পাঁচ জোড়া বার্জিগার পাখি পালন করেই শুরু করেছিলেন তাদের যাত্রা। সময়ের সঙ্গে শখ থেকে জন্ম নেয় স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন রূপ নিল বাণিজ্যিক খামারে।

বর্তমানে খামারে রয়েছে বার্জিগার, টিয়া, ককাটেল, কোয়েল, লাহুরি সিরাজি কবুতরসহ নানা জাতের পাখি এবং কালার বার্ড জাতের বিদেশি মুরগি। মোট পাখির সংখ্যা ৫০–৬০ জোড়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিনে পাখি পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা এবং ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর যত্নের পাশাপাশি ছাদে ঘাস উৎপাদন করে খাবারের খরচ কমাচ্ছেন।

সাগর হাওলাদার জানান, “বার্জিগার প্রতি জোড়া ৬০০–১২০০ টাকা, ককাটেল ৫০০০–১২,০০০ টাকা, লাহুরি সিরাজি ৩৫০০–৪০০০ টাকা, কোয়েল ১০০–২০০ টাকা এবং কালার বার্ড বিদেশি মুরগি ২৫০–৩০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হয়।” মাসে গড়ে ২০–২৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

নবীন উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়ে তারা পুরস্কারও অর্জন করেছেন। তাদের লক্ষ্য খামারটি আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা। স্থানীয়রা তাদের উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাখি পালন শুরু করছেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দেবাশীষ চন্দ্র পাল জানান, “সাগর হাওলাদার শখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন করছেন। আমরা নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




পিরোজপুরে শুঁটকির রাজ্যে ব্যস্ততা, বছরে উৎপাদন ১০০ টনের বেশি

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলীয়া গ্রামে শীতকাল শুরু হলেই জীবন্ত হয়ে ওঠে শুঁটকি পল্লী। নদী ও বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা এই পল্লী কচা নদীর বাঁশের মাচায় শুঁটকি শুকানোর দৃশ্য, শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা এবং বাতাসে ভেসে থাকা শুঁটকির গন্ধে মুখর থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের পাশে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে চিথলীয়া শুঁটকি পল্লী। এখান থেকে সংগ্রহ করা সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি হয় নানা জাতের শুঁটকি। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন—প্রায় চার মাস শুঁটকি উৎপাদনের ভরা মৌসুম।

বর্তমানে পাঁচটি বাসা থেকে শুঁটকি উৎপাদন হয়। প্রতিটি বাসায় মৌসুমভেদে ১৫০–২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তারা মাছ পরিষ্কার, কেটে প্রস্তুত, লবণ পানিতে ধুয়ে বাঁশের মাচায় শুকানোর কাজ করে থাকেন। উৎপাদিত শুঁটকি বস্তাবন্দি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

শুঁটকির মধ্যে রয়েছে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, মধু ফ্যাপসা, চাপিলাসহ ৩০–৩৫ প্রজাতির মাছ। শীতকালে শুঁটকির মান ভালো থাকে এবং প্রতি কেজি দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ী খালেক ব্যাপারি জানান, “আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি তৈরি করি, কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করি না। এর ফলে চাহিদা সব সময় বেশি থাকে।”

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, “শীতের শুরু থেকে প্রায় চার মাস শুঁটকি উৎপাদন চলে। উৎপাদন স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। মৎস্য অধিদফতর সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে। শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়বে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নদীর জলে ভেসে চলে বেচাকেনা: নাজিরপুরের ভাসমান হাট

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বেলুয়া নদীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বসে। সূর্যের আলো ফুটতেই বাজার শুরু হয় এবং তাপ বাড়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌকায় পণ্য নিয়ে আসেন এবং ক্রেতারা নৌকায় ভরে কিনে নিয়ে যান। বিক্রির পর খালি নৌকা নিয়ে বিক্রেতারা বাড়ি ফেরেন।

স্থানীয়রা জানান, বেলুয়া নদী পিরোজপুর জেলার দুটি এবং গোপালগঞ্জ জেলার একটি উপজেলার মধ্যে বিভাজক হিসেবে কাজ করছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন, পূর্ব পাড়ে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন এবং উত্তরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। নদীর উত্তর-পূর্বে নাজিরপুরের কাশ্মীর এলাকায় ভাসমান হাট শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

সকালে সকাল ৭টার মধ্যেই বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা ট্রলার ও বড় নৌকা নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে শাক-সবজি, বেগুন, মরিচ, আলু, লাউ, করলা, কচু সহ নানাজাতের সবজি ও চারা কিনেন। এছাড়াও মুড়ি, নারকেল ও অন্যান্য পণ্যও বিক্রি হয়। এখানকার পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

কবির হোসেন নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “বাজার ভোরে শুরু হয়ে ১২টার মধ্যে শেষ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।” পাইকারি ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদার বলেন, “বাজারে ভেসে ভেসে কেনাবেচা হয়। বিভিন্ন এলাকায় ট্রলার ও নৌকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যান।”

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হলে ব্যবসা আরও প্রসারিত হতে পারে এবং চাষিরাও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বৈঠাকাঠা ভাসমান হাট অন্যতম বড় বাজার। সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




শোক দিবসে পতাকা না ওঠায় প্রশ্নের মুখে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা যথাসময়ে উত্তোলন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও সচেতন মহলের একাংশ এটিকে প্রশাসনিক অনীহার ফল হিসেবে দেখছেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মো. পারভেজ ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক (ফিনান্স) আরাফাত হোসেন জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকায় নিরাপত্তা কর্মীরা ভুলবশত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি।”

তবে স্থানীয় জনগণের একাংশ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের নাম ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ হওয়া এবং শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় শোক পালনের বিষয়ে প্রশাসনের অনীহার কারণে পতাকা না উঠেছে।

গণমাধ্যমের উপস্থিতির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে পতাকা উত্তোলন করে। ভাইস চ্যানসেলর ড. মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমি কনফারেন্সে থাকায় ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা কর্মীদের পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছি। পরে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ঢাকার শিল্পে গ্যাস সংকট মেটাতে ভোলার গ্যাস এলএনজিতে আনা হবে

ঢাকা ও আশপাশের শিল্প-কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও পেট্রোবাংলা। প্রাথমিকভাবে দেশী-বিদেশী নয়টি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও চারটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কোম্পানিগুলো ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে সরবরাহ শুরু করবে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে সরবরাহের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড,
  • চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)সিএনপিসি চাংগিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি,
  • সিঙ্গাপুরভিত্তিক জিসিজি এলএনজি কোম্পানি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঢাকা ও আশপাশের শিল্প এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ভোলার এলএনজি সরবরাহে শিল্প মালিকদের আগ্রহ রয়েছে। প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও আমরা দ্রুত অগ্রগতি করার চেষ্টা করছি।”

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সরকার ইন্ট্রাকো সিএনজিকে ভোলা থেকে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) আনার দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে দৈনিক সরবরাহ মাত্র ৫ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় সীমিত। নতুন উদ্যোগে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ এবং শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ঘনমিটারের জন্য মূল্য নির্ধারণ প্রস্তাব ৪৭.৫০ টাকা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় চূড়ান্ত করা হবে; না হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি নদীপথে ভোলা থেকে আনা হবে। ঢাকায় পৌঁছালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে ৩২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট চাহিদা প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

ভোলায় এখন পর্যন্ত তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আরও ১৫টি কূপ খননের কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নতুন শিল্প-কারখানা নির্মাণ হলে ভোলার গ্যাসের চাহিদা বাড়বে, যেখানে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




তালতলীর ‘ভাইরাস আক্রমণে কোটি টাকার ক্ষতি: কৃষকরা দেনার মধ্যে বিপর্যস্ত

বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া এলাকার ‘সবজি গ্রামে’ শিম চাষিরা এবছর ভাইরাস আক্রমণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গাছের পাতা, ফুল ও শিম হলুদ হয়ে যাওয়ায় একেক কৃষক প্রায় লাখ টাকা দেনায় পড়েছেন। এ বছর স্থানীয় বাজার ও পাইকারি বাজারে শিম বিক্রি সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষক আব্দুল মান্নান ফকির বলেন, “আমরা প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেছি, কিন্তু শিম গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।” তাঁর মতো আরও দুই শতাধিক কৃষক একই অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের শিম চাষ থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ এলাকার কৃষকরা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সমবায় পদ্ধতিতে শিম ও অন্যান্য সবজি চাষ করে আসছেন। প্রতিবছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬-৭ কোটি টাকার শিম বিক্রি হয়। তবে এবছর ভাইরাসের কারণে ২২ একরের মধ্যে ২০ একর জমিতে শিম গাছ নষ্ট হয়েছে।

কৃষক মো. আরিফ বলেন, “চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। লাখ টাকা খরচ করে চাষ করেছি, কিন্তু লাভের কোনো আশা নেই।” সেলিম ফকিরও জানিয়েছেন, “সরকারিভাবে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও কোনো সহায়তা পাইনি।”

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে মাঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পটুয়াখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতি বছর এক ধরনের সবজি চাষ না করা এবং বিভিন্ন সবজি চাষ করলে ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে প্রণোদনা থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সম্পূর্ণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রদর্শনী ও প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু কৃষককে সহায়তা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে নলছিটিতে অর্ধদিবস দোকানপাট বন্ধ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তার জন্মস্থান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলাজুড়ে এখনো শোকের আবহ বিরাজ করছে। গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্র চলছে শোক, বেদনা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নলছিটি উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে অর্ধদিবস দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার সকল ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

এ উপলক্ষে সকালে নলছিটি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় শোকবার্তা প্রচারের জন্য মাইকিং করা হয়। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নলছিটি পৌর বস্ত্র ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নেওয়াজ হোসাইন বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি নলছিটির মানুষের গর্ব। তাঁর সাহসী অবস্থান ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর স্মরণে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির পরিচিতি এখন আর নলছিটির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সারা দেশে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতা শাহাদাত ফকির, রফিকুল ইসলাম ও জিয়াউল কবীর মিঠু বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন জাতীয় বীর। এমন একজন সাহসী ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বশীল মানুষকে হারিয়ে দেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে।”

তারা শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিএনপির মনোনয়নে চমক আসছে যেসব আসনে, সুখবরের অপেক্ষায় একাধিক নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটির তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মশালায় যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে যাদের ডাকা হয়নি, সেই সব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। ফলে কয়েকটি আসনে নতুন মুখ বা পরিবর্তিত প্রার্থীর আগমনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে ঝালকাঠি-২, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৬ ও যশোর-৬ আসনে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ঝালকাঠি-২ আসনের ঘোষিত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ কয়েকজনকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আবার চট্টগ্রাম-৪ আসনে পূর্বঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে কর্মশালায় ডাকা হয়, যা রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে এখনো ফাঁকা থাকা ২৮টি আসনের মধ্যেও সুখবর পাচ্ছেন কয়েকজন নেতা। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে এই দুই আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন তারা—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। বাকি ফাঁকা আসনের কিছু মিত্রদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে শিগগিরই।

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেও বিএনপি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে—এই চারজনই গুলশানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। এতে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, যাদের ডাকা হয়নি, তা ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। এতে বোঝা যায়—যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারাই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর জন্য ছাড় দেওয়া আসন নিয়েও দ্রুত সমাধান আসবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মশালাগুলোতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল, ভোটার ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, ডিজিটাল প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, এসব কর্মশালার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা এবং কেন্দ্রভিত্তিক শক্ত অবস্থান তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাদি হত্যার বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝালকাঠিতে তৃতীয় দিনের মতো অবরোধ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার নিজ জেলা ঝালকাঠিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বরিশাল-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ২টার দিকে ঝালকাঠি শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে তারা বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাগর বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।”

তিনি আরও বলেন, “হাদি শহিদ হয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমরাও শহিদ হতে প্রস্তুত। কিন্তু এই হত্যার বিচার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝালকাঠি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি বলেন, “হাদি হত্যার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা।”

সংগঠনটির জেলা সদস্য সচিব রাইয়ান বিন কামাল অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসে আমাদের দাবির কথা শোনেননি। আজ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়বো না।”

এদিকে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম