৬ অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ, নদীতে ফিরেছেন জেলেরা

বরিশালের ৬টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতের পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার জেলে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদ-নদীতে মাছ ধরতে নামেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের জেলে পল্লীগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর ও বলেশ্বর নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে জেলেদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলেরা।

তবে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছে।

এদিকে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা এখনো চলমান রয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার, মেঘনার শাহবাজপুর চ্যানেল, তেঁতুলিয়া নদী, নিম্ন পদ্মা ও কালাবদর-গজারিয়া-মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা।

সরকারি তথ্যমতে, দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬৬ থেকে ৬৮ শতাংশ আসে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী ও সাগর মোহনা থেকে। গত দুই দশকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান পরিচালনার ফলে ইলিশ উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদনে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মৎস্য অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় হাজার হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বহু মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাটকা রক্ষায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫**




 এডিসি রিয়াজের অপসারণ দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) রিয়াজ হোসেন (পিপিএম)-এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিচার ও অপসারণ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “এডিসি রিয়াজ হোসেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বদলি করা হোক।”

এসময় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা এডিসি রিয়াজ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে এডিসি রিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এসময় স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স)।

শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশাল নগরীতে বাড়ছে যানভাড়া, সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জোরালো

জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বরিশাল নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর সেই সুযোগে নগরজুড়ে বাড়ছে যানবাহনের ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

বর্তমানে বরিশাল নগরীতে প্রধান বাহন হিসেবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটো, রিকশা, গ্যাসচালিত সিএনজি ও তেলচালিত মাহিন্দ্রা। এসব যানবাহন জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে যাত্রী ভাড়ায়।

চালকদের দাবি, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে প্রথমবারের মতো সিটি বাস সার্ভিস চালু করেন। নথুল্লাবাদ-রুপাতলী-লঞ্চঘাট রুটে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চলাচল শুরু করলে স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পায় নগরবাসী। তবে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদ্যোগে আবারও সিটি বাস চালু করা হয়। রুপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ ও নদীবন্দর সংযোগে বাস চলাচল করলেও ২০১৩ সালে অজ্ঞাত কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। এরপর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিটি বাস আর চালু হয়নি।

বর্তমানে নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাটে যেতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী, চৌমাথা কিংবা নথুল্লাবাদ রুটেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যেখানে একসময় একই রুটে ৫ থেকে ১০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অতিরিক্ত ভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় তা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ২৫ টাকা ভাড়া লাগে। সিটি বাস চালু থাকলে অনেক কম খরচে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।” প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “২০১২ সালে মাত্র পাঁচ টাকায় লঞ্চঘাট থেকে কলেজে যেতাম। এখন একই পথে যেতে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে।”

রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “আগে ৫ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন ২০-২৫ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সিটি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীন বলেন, “সিটি বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরীর সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালক ও বিআরটিএ’র সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করা হবে। প্রতিটি যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করা হবে।” প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। বিভাগীয় শহর হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হলে যানভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুই মাসের ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু বরিশালে

বরিশাল নগরীকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দুই মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। মে ও জুন মাসকে ‘পরিচ্ছন্নতার মাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার আওতায় নগরজুড়ে খাল পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর নথুল্লাবাদ সংলগ্ন জিয়া সড়ক এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়, যা নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নদী, খাল ও জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরে থাকা সব খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে খালগুলোর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং নগরবাসী একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে বরিশালকে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাবুগঞ্জে আগুনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ ঘর ভস্মীভূত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি সেমিপাকা ঘর পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মুশুরিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সারিবদ্ধভাবে নির্মিত ঘরগুলোর একটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

বরিশাল দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার চন্দ্র শেখর গাইন জানান, রামমোহনের ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আশপাশের আরও ঘর বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

অগ্নিকাণ্ডে রামমোহন, সুধীর দাস, অশোক দাস, সাধন, গোলাপি, কালাম মোল্লা, মনির হোসেনসহ মোট ১০টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আগুনের মধ্য থেকে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে মোট ৭০টি ঘর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি ঘর ছাড়া অন্য সব ঘর নিরাপদ রয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে পরবর্তী সহায়তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতারা চুক্তিটিকে দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে তা বাতিলের জোর দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে বরিশাল নগরের রূপাতলি, চৌমাথা ও নথুল্লাবাদ এলাকায় পথসভা, মিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং জনসাধারণের মাঝে চুক্তির বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামের এই চুক্তিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের মতে, চুক্তিতে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তে বাধ্য করা হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। তাই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং জনমত গ্রহণের দাবি জানান তারা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বরিশাল জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মজুমদার, আইনজীবী এ কে আজাদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তারা চুক্তিকে ‘অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এছাড়া কর্মসূচি থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। নেতারা জানান, জনস্বার্থবিরোধী সব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

সমাবেশ থেকে আগামী ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল এবং স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, বরিশালে দুই শিক্ষক বহিষ্কার

বরিশালের উজিরপুরে এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন—উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. ফারুক হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক খগেন মণ্ডল। তারা ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রে হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাতজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা ২০২৬ সালের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়েছে। যা পরীক্ষার নীতিমালার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, “প্রথমদিকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা গোপন রাখার চেষ্টা করেন। পরে অভিভাবকদের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্র সচিবসহ দুই শিক্ষককে সব ধরনের পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

ইউএনও আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকেও জানানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




তীব্র গরমে দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে ৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ, একজন হাসপাতালে ভর্তি

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত গরমে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবার পরীক্ষায় অংশ নেয়।

অসুস্থ পরীক্ষার্থীরা হলেন— পত্তাশী এস দাখিল মাদ্রাসার লামিয়া আক্তার, বিথি আক্তার ও আজিমা, চন্ডিপুর বাগারহার আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার রাফিজা এবং কালাইয়া রাজিয়া রশিদ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার মারিয়া আক্তার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষার এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা পরীক্ষার হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

চিকিৎসা শেষে বিথি আক্তার ছাড়া অন্য চারজন পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গরম, শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তির কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে পরীক্ষায় ফিরে গেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উন্নয়নের সম্ভাবনায় বরগুনা, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় মহাপরিকল্পনা

নদী আর সাগরের মাঝে ঘেরা উপকূলীয় জেলা বরগুনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জে রয়েছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, সবুজ বন ও নীল জলরাশির মিলনে গড়া এই জনপদ সম্ভাবনাময় হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া এখনও পুরোপুরি পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার উন্নয়ন নিয়ে হতাশা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন ও কৃষি-মৎস্য খাতকে কেন্দ্র করে একাধিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

পাথরঘাটার ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন এসমে বলেন, “এখানে শিল্পকারখানা হলে তরুণদের আর ঢাকায় যেতে হবে না, স্থানীয়ভাবেই কর্মসংস্থান হবে।”

তবে উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার ভেতরের অধিকাংশ সড়ক এখনো অনুন্নত, আর বাইরের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল মহাসড়ক উন্নীতকরণ এবং পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।”

পর্যটন খাতেও বরগুনার রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। হরিণঘাটা, ফাতরার চর, লালদিয়ার চর, পাখির চর ও নীলিমা পয়েন্টসহ একাধিক প্রাকৃতিক স্থান পর্যটনের জন্য উপযোগী হলেও অবকাঠামোর অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বরগুনা জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বরগুনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।”

অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি ও মৎস্য খাত। উপকূলীয় অঞ্চলে মহিষ পালন একটি ঐতিহ্য হলেও আধুনিকায়নের অভাবে এই খাত এখনও পিছিয়ে আছে। পাশাপাশি মাছ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় জেলেরা।

তালতলীর জেলে নুরুল ইসলাম বলেন, “মাছ পাই কিন্তু সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় লাভ কমে যায়। ভালো ব্যবস্থা হলে আমরা উপকৃত হবো।”

এছাড়া বরগুনা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ, সাইক্লোন শেল্টার বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রয়েছে আরও বড় প্রত্যাশা। স্থানীয়রা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, “সমন্বিত পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া বরগুনার উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সব মিলিয়ে বরগুনা এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরিকল্পনা রয়েছে, উদ্যোগও শুরু হয়েছে—এখন প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জ্বালানি সংকটে ভোলা, তীব্র ভোগান্তি; সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

ভোলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ও মাছ ধরার কার্যক্রম। ডিজেল না পেয়ে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক নৌকা ও যানবাহন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে।

পেট্রোল পাম্পগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। সরকারি নির্ধারিত দামে ডিজেল ১১৫ টাকা হলেও বাজারে তা ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলেরা জানান, “সিন্ডিকেটের কারণে তেল পাচ্ছি না। যে তেল ১ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।” এতে মাছ ধরা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম লোকসানে পড়েছেন।

শুধু জেলে নয়, সড়ক ও নৌপথের পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক যানবাহন জ্বালানি না পেয়ে অচল হয়ে পড়েছে, এতে যাত্রী দুর্ভোগ ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পাম্পে সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি সংকট ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ মজুদ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং অননুমোদিত জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন। সংগঠনটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান বলেন, “অননুমোদিতভাবে কেউ জ্বালানি মজুদ করলে তা জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট শুধু সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে না, বরং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫