আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ; তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়েছে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এসব বসতি স্থাপনকারী অতর্কিতভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এসব বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলের নাগরিক, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জমিতে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছায়ায় তারা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ধর্মীয় আচারও পালন করে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদ চত্বরটি কেবল মুসলিমদের উপাসনার জন্য নির্ধারিত— এমন চুক্তি আছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। এমনকি জেরুজালেমের প্রধান রাব্বির দপ্তর থেকেও ইহুদিদের এই স্থানে উপাসনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দেশটিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইহুদি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণের একাংশে সিনাগগ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পূর্বেও এ ধরনের দাবি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।




পুলিশ সংস্কারের দাবি জানালো এনসিপি ও ছাত্র সংগঠনগুলো

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পুলিশের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সহ একাধিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, পুলিশের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, পটিয়া থানার একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় দায়ী ওসিকে অপসারণ না করে কেবল রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের মূল দাবির পরিপন্থি। তাদের মতে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যায়।

তারা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যদি এ ধরনের অনিয়মকে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তা বাহিনীর কার্যকারিতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এখনই কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইমন সৈয়দ, বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই পটিয়া থানায় রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর দেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা না থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নিয়ে থানা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরদিন মহাসড়ক অবরোধসহ থানা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।




বাংলাদেশে ওএইচসিএইচআরের মিশন খোলার প্রক্রিয়া খসড়া পর্যায়ে

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) একটি মিশন শাখা খোলার বিষয়ে প্রক্রিয়া এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনো এটি খসড়া পর্যায়ে আছে। খসড়া আদান-প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত রূপ পেলে এবং এমন একটি অবস্থায় পৌঁছালে যেখানে একটি শব্দও পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, তখনই আমরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করব। তার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা ঠিক হবে না।”

তৌহিদ হোসেন জানান, জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআরের মিশন খোলার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক নীতিগতভাবে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘের পরবর্তী আবাসিক সমন্বয়কারীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নতুন জাতিসংঘ প্রতিনিধি নিয়ে বাংলাদেশের কোনো অস্বস্তি আছে কিনা— এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “এগ্রিমো (রাজনৈতিক সম্মতি) দিতে হবে আমাদের পক্ষ থেকে। আমরা এখনো এগ্রিমো প্রসেস করিনি। কাজেই সেটি সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।”

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন গোয়েন লুইস।




“গণঅভ্যুত্থান দমন করতে ককটেল হামলা, এদেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো আছে ”—কর্মসূচি চলাকালে নাহিদের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও দেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো টিকে আছে।” তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ‘সংস্কার আগে, নির্বাচন পরে’ এই নীতির ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা কবরস্থানে জুলাই শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শহীদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর ইসলাম।

নাহিদ বলেন, “দেশ গড়তে আমরা জুলাই পদযাত্রা শুরু করেছি। উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে। এটি আমরা শিগগিরই সারাদেশে ছড়িয়ে দেব। উন্নয়ন কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক হতে পারে না, উন্নয়ন ভাবনায় পুরো দেশকে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ধরে রাখতে হবে। আজও যারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, তারা এই গণঅভ্যুত্থান ব্যাহত করতে চায়। তবে মানুষ আবারও রাজপথে নামবে, আর এবার কাউকেই ক্ষমা করা হবে না।”

পরে তিনি সৈয়দপুরের বিহারী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং পাঁচমাথা মোড়ে একটি গণসংযোগে অংশ নেন। বিকেলে নীলফামারী জেলা শহরের চৌরঙ্গীতে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “জনগণের উদ্দীপনা এখন অভাবনীয়। তাদের দমন করতেই ভয় দেখানো হচ্ছে, হামলা চালানো হচ্ছে।”

পথসভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। যেসব প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়, তা বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার ও সংবিধানের সংশোধন। বর্তমানে দেশে যে সংবিধান চালু আছে, তা ‘আওয়ামী বিধান’, প্রকৃত সংবিধান নয়।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

এর আগে, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সৈয়দপুরে পৌঁছালে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ও স্থানীয় নেতা তানজিমুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।




কিশোরগঞ্জে ‘জুলাই দিবস’ বিক্ষোভের আগে কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জ, ২ জুলাই—কিশোরগঞ্জে ‘জুলাই দিবস প্রতিরোধের’ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল আউয়ালকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা শহরের নগুয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, আওয়ামী লীগপন্থি কয়েক নেতা–কর্মী “গোপন বৈঠকে” বসেছেন—এমন সংবাদের পর এলাকাবাসী ও ছাত্র‑জনতা ওই বাসাটি ঘিরে ফেলেন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আবদুল আউয়ালকে আটক করেন এবং ‘জুলাই দিবস প্রতিরোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা একটি ব্যানার জব্দ করেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে; নতুন করে সরকারি কর্মপরিচালনা বাধাগ্রস্ত ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আটককৃত নেতার গ্রেপ্তারের খবরে নগুয়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত থাকে। আটক আবদুল আউয়াল পাকুন্দিয়া উপজেলার ইসাগুম গ্রামের ইসামউদ্দিন মাস্টারের ছেলে। দলীয় সূত্র বলেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষক লীগে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক দুর্ভিক্ষ‑বিরোধী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘জুলাই দিবস’ ঘিরে মিছিল‑সমাবেশের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। আইন‑শৃঙ্খলা বিঘ্ন বা সহিংসতার ঝুঁকি থাকায় আমরা মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।”

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনাকে “রাজনৈতিক হয়রানি” বলে দাবি করেছেন; অন্যদিকে স্থানীয় কিছু শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ওই নেতার অনুসারীরা জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে কাউকে উসকানিমূলক কর্মসূচি দিতে দেওয়া হবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে আগুনে পুড়ল দুই দোকান ও দুই বসতবাড়ি

বরিশাল, ৩ জুলাই— নগরীর লাকুটিয়া সড়কের সাধুর বটতলা এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে রফিক হাওলাদারের তেলের দোকান থেকে হঠাৎ দাউ‑দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পাশে থাকা শহিদুল ইসলামের চায়ের দোকান ও দু’টি কাঁচা বসতবাড়ি জ্বলতে থাকে। খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট খাল থেকে দ্রুত পানি পাম্প করে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দোকান ও ঘরের মালামাল ছাই।

আগুনে মুখ, হাত পুড়ে আহত হয়েছেন দোকানির প্রতিবন্ধী ভাই। তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, মেয়ের বিয়ের আসবাব⁠‑পত্রসহ অন্তত ১০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহম্মেদ জানান, সূত্রপাত তেলের ড্রামে মোটর দিয়ে তেল তোলার সময় স্পার্ক থেকেই হতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির হিসাব সম্পন্ন হবে।

চায়ের দোকানদার শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগুন দেখে পানি ছিটিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু লোহার ড্রামে থাকা তেলে আগুন লেগে আরো ছড়িয়ে যায়।” তেলের দোকানদার রফিক হাওলাদারের ভাই পারভেজ জানান, মোটরে আগুন ধরে গেলে নিজেদের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, ফলে এত বড় ক্ষতি হয়েছে।

৯৯৯‑এ ফোন পেয়ে কাউনিয়া থানার এসআই আব্দুল আউয়াল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজে যোগ দেন। পরিস্থিতি পরিদর্শন করে স্থানীয় সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় বিএনপির পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




টাকার অভাবে মুখের ক্যানসার নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন দিনমজুর ফারুক

 

বরিশাল, ৩ জুলাই—বানারীপাড়ার করপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. ফারুক হাওলাদার আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মুখে একটি সামান্য আঘাত থেকে শুরু হওয়া যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ ক্যানসারে রূপ নিয়েছে। চিকিৎসা খরচ যোগাতে গিয়ে পরিবার হারিয়েছে সর্বস্ব—বিক্রি করে দিয়েছে ভিটেমাটি, নিয়েছে ঋণ, আজ তারা নিঃস্ব। চিকিৎসাও থেমে গেছে।

ঘটনার শুরুতে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে গেলে ছুটে আসা একটি রশি ফারুকের মুখে লাগে। এরপর মুখে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে প্রথমে ভর্তি করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে। মুখে অপারেশন করা হলেও ক্যানসার সেখান থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখন মুখের এমন অবস্থা যে, তাকে শুধুই ভাতের মার বা সুজি খাওয়ানো সম্ভব।

তার স্ত্রী মুকুল বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুই আর হাতে নেই। এখন আর চিকিৎসাও হচ্ছে না। সরকারের কাছে সাহায্য চাই, দেশের মানুষ যদি পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আমার স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।”

বড় ছেলে আল মামুন বলেন, “আমি নিজেও দিনমজুর। বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সঞ্চয়টুকুও নেই। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য দরকার ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা, যা আমাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।”

এলাকার তরুণ সমাজসেবক কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, এলাকার যুবকরা সামান্য সাহায্য দিচ্ছে। কিন্তু এই সাহায্যে কিছুই হচ্ছে না। দেশবাসী যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো ফারুক কাকার জীবন বাঁচানো সম্ভব।”

বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, “ঘটনাটি জানার পর আমরা বানারীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আবেদন এলে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।”

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ফারুক হাওলাদারের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবার যদি যথাযথভাবে আবেদন করে, তাহলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

মানবিক এ বিপর্যয়ের সময়ে সমাজের হৃদয়বান মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সহানুভূতি ও সহায়তা এখন ফারুক হাওলাদারের একমাত্র আশ্রয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল

বরিশাল, ১ জুলাই—বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, ১ জুলাই পর্যন্ত বিভাগের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫,০৫৯ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪,৫৭০ জন, এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৭৭ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন।

তবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ঢাকায় স্থানান্তরের পর মৃত্যুর ঘটনার হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরগুনা জেলায়। সেখানে মোট ৩,০৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২,৭১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৬ জন মারা গেছেন। বর্তমানে সেখানে ২৩৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মোট ভর্তি ৭৩৬ জনের মধ্যে ৬৩৭ জন সুস্থ হয়েছেন, ৯৪ জন চিকিৎসাধীন এবং মারা গেছেন ৫ জন।

পটুয়াখালী জেলার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫৬ জন রোগী; এদের মধ্যে ৩৮৮ জন সুস্থ, ৬৭ জন চিকিৎসাধীন এবং ১ জন মারা গেছেন। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ১৭৮ জনের মধ্যে ১৫৭ জন সুস্থ, ২১ জন চিকিৎসাধীন।

বরিশাল জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩১৪ জন, যার মধ্যে ২৮৬ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ২৮ জন চিকিৎসাধীন।

অন্যান্য জেলার চিত্র:

* পিরোজপুর: ২০৬ জন আক্রান্ত, ১৮৫ জন সুস্থ, ২১ জন চিকিৎসাধীন
* ভোলা: ৭৭ জন আক্রান্ত, ৭২ জন সুস্থ, ৫ জন চিকিৎসাধীন
* ঝালকাঠি: ৫৩ জন আক্রান্ত, ৪৮ জন সুস্থ, ৫ জন চিকিৎসাধীন

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি মশা নিধন ও সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ভোলায় গৃহবধূ গণধর্ষণ: প্রধান আসামিসহ আরও দুইজন গ্রেফতার

ভোলা, ৩ জুলাই—তজুমদ্দিনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি যুবদল কর্মী মো. আলাউদ্দিন ও শ্রমিক দল নেতা মো. ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের অভিযানে নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে এই দুইজনকে আটক করা হয়। তারা মামলার এজাহারে ১ ও ২ নম্বর আসামি।

এর আগে, র‌্যাব ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মামলার ৫ নম্বর আসামিকে এবং পুলিশ ভুক্তভোগীর সতিনকে গ্রেফতার করে। এখন পর্যন্ত মোট চারজন গ্রেফতার হলেও মামলার সাত আসামির মধ্যে তিনজন এখনো পলাতক। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তজুমদ্দিন থানার ওসি মোহাম্মদ মহব্বত খান।

ঘটনার পর ৩ জুলাই বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, ১ জুলাই রাতের ঘটনায় চাঁদার দাবিতে তজুমদ্দিন উপজেলার মোল্লার পুকুর পাড় এলাকায় এক গৃহবধূর স্বামীকে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয় এবং ওই গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল এবং শ্রমিকদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর স্বামী সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ভোলার পুলিশ প্রশাসন আজ বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে ইলিশের দেখা নেই, বাজারে আগুন—ভরা মৌসুমেও হতাশ জেলেরা

বরিশালে চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নেই নদীতে, নেই জেলেদের জালে। প্রাকৃতিকভাবেই উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই ‘জাতীয় মাছ’।

ব্যবসায়ী ও মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মণ কম ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। এর ফলে বাজারে এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকায় পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বরিশাল নগরের পোর্ট রোড মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, ভিড় থাকলেও হাত পাততে হচ্ছে হিসাব করে।

  • এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২,৩৫০ টাকা
  • ৯০০ গ্রাম (এলসি) সাইজ বিক্রি হয়েছে ২,০৫০ টাকা
  • ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১,৮০০ টাকা

গত বছর একই সময়ে এসব ইলিশের দাম ছিল যথাক্রমে ১,৭৫০, ১,৫৫০ এবং ১,২০০ টাকা। মানে, এক বছরের ব্যবধানে গড়ে কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম।

বরিশাল সদর, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাকেরগঞ্জসহ আশপাশের নদী-বেষ্টিত অঞ্চলের জেলেরা জানাচ্ছেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ পাচ্ছেন না। চন্দ্রমোহনের জেলে আ ছালাম বলেন,

“কালাবদর নদীতে গত কয়েকদিনে কিছু ইলিশ ধরা পড়েছে, তবে পরিমাণে অনেক কম।”

মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ার জেলে আনিছ মাঝি বলেন,

“একদিকে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে এখন ভরা মৌসুমে ইলিশ নেই। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক আলফাজ উদ্দিন শেখ বলেন,

“নদীর চ্যানেলে যদি নাব্যতা কমে যায়, তাহলে ইলিশের গতিবিধিতে সমস্যা হয়। এছাড়া জাটকা ধরা ও ডিমওয়ালা মাছ না রক্ষা করাও ইলিশ সংকটের কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,

“দামের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—পরিবহন ব্যয়, চাহিদা-বর্ধন কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারিও অন্যতম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আর নদীতে ঢেউয়ের মাঝে এখনো জেলেরা জাল ফেলছেন কীর্তনখোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর, সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা, আড়িয়াল খাঁ নদীতে। মাঝে মাঝে বড় ইলিশ ধরা পড়ছে ঠিকই, তবে মোট উৎপাদন আশানুরূপ নয়।

বরিশালের হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন,

“বর্তমানে যে ইলিশ ধরা পড়ছে, তার আকার গড়ে ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। তবে দাম বৃদ্ধির বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /