ভোলায় নারী নেত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বিএনপির এক নারী নেত্রীকে জনসমক্ষে বিবস্ত্র করে হাত-পা বেঁধে বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইব্রাহীমকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন সকালে চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বিএনপির এক নারী নেত্রী ও সাবেক ইউপি সদস্যকে জনসমক্ষে রশি দিয়ে বেঁধে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের শিকার নেত্রীকে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

তজুমদ্দিন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “একজন নেত্রীকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে রশি দিয়ে বেঁধে মারধরের ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর জানায়, “দলের আদর্শ ও নীতির সঙ্গে এ ধরনের নৃশংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলেই ইব্রাহীম হাওলাদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

ঘটনার পর তজুমদ্দিনসহ ভোলাজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বাবুগঞ্জে ডিবি পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, তিনজন আহত

 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুলাই) ডিবি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ গোলাম আজাদ বাবুগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া কনস্টেবল মো. ইমরান, ডিবি সোর্স মো. শাওন ও মো. সাগর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দারোগারহাট এলাকায় হারুন খার ফার্মের বাগানে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানের সময় হঠাৎ করে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। কনস্টেবল ইমরানকে চাকুর আঘাতে তার বাম গালসহ শরীরের অন্তত তিনটি স্থানে আঘাত করা হয়। একইসঙ্গে সোর্স শাওন ও সাগরও গুরুতর জখম হন। হামলার পরপরই অভিযুক্ত মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা আনোয়ার বলেন, “হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, “হামলাকারীরা এখনো পলাতক। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারে শোকের ছায়া

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় মো. কাউসার (১৮) নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের চৌকাঠে নেটের রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দিলে বেতাগী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত কাউসার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাবুল জমাদ্দারের ছেলে এবং সুবিদখালী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কাউসার। পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় সেদিন থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তবে পরিবার বিষয়টি গুরুতর মনে করেনি। শুক্রবার রাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পড়ালেখা শেষ করে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

এই অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাউসারের বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীরা এমন একটি ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




অনুদানের বাছুর বিক্রি করে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি অনুদানের একটি বকনা বাছুর বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগী নিজেই বাছুরটি বিক্রি করলেও, এলাকায় ছাত্রদল নেতাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয় যে, তিনি জোরপূর্বক বাছুরটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসার পর শুরু হয় তদন্ত এবং আলোচনা।

সরকারি মৎস্য প্রকল্প থেকে পাওয়া বকনা বাছুরটি বিক্রি করার পর স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়েন সুবিধাভোগী জালাল হাওলাদার। অবশেষে তিনি শুক্রবার (৪ জুলাই) বিক্রি করা বাছুরটি ফেরত এনে নিজ বাড়িতে রাখেন। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালালের বাড়িতেই বাছুরটি রাখা আছে। তবে এ বিষয়ে জালালকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার গরু আমার কাছেই আছে। কেউ নেয়নি। গ্রামের একটি চক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং বন্ধ করে রাখেন।

এদিকে বানিয়াশুরী গ্রামের মো. হোসেন শরীফ জানিয়েছেন, “অর্থকষ্টে জালাল আমার কাছে বাছুরটি বিক্রি করেছিলেন। পরে তিনি নিজেই এসে টাকা ফেরত দিয়ে বাছুরটি নিয়ে যান।”

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “বকনা বাছুরটি ছাত্রদল নেতা হীরা রহমান সাদ্দাম জোরপূর্বক বিক্রি করেছেন বলে মৌখিক অভিযোগ এসেছিল। তবে তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।”

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা হীরা রহমান সাদ্দাম বলেন, “আমার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে এলাকার কিছু লোকের পুরনো বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধ থেকেই রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। জালাল হাওলাদার নিজেই বাছুরটি বিক্রি করে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছিলেন। পরে লোকলজ্জায় তিনি বাছুরটি ফেরত এনেছেন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




পিএসসি সংস্কার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা চাকরিপ্রত্যাশীদের

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে শাহবাগ মোড়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর এ ঘোষণা আসে।

দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ছাত্র সমাবেশ’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং অপেশাদার আচরণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্যে এসে অবস্থান নেন এবং ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মো. শাহ আলম স্নেহ বলেন, “আজ শাহবাগে পুলিশ আমাদের ওপর যেভাবে হামলা করেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি। সেই কমিটি হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পিএসসি অতীতের ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। ৪৪তম বিসিএসের ফলে ৮০০-এর বেশি রিপিটেড ক্যাডার রয়েছেন, যা পিএসসির দুর্বলতা প্রকাশ করে। এই অনিয়ম আর মেনে নেওয়া যায় না।”

আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএসের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশবাসী অবগত হলেও সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ৫ আগস্ট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের আজও বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি।

তাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পিএসসি সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন, এবং চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার রক্ষায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া।

চাকরিপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায়ে প্রয়োজনে লাগাতার কর্মসূচির দিকে যাওয়ার কথাও তারা বিবেচনা করছেন।




‘সংস্কার আদায় করেই ছাড়ব’ — রংপুরে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় জনসভায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মৌলিক কিছু সংস্কার আবশ্যক। আমরা সেই সংস্কারগুলো আদায় করেই ছাড়ব এবং ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করব।”

শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত এ জনসভার আয়োজন করে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কেউ যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বপ্ন দেখে থাকেন, আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করব। প্রশাসনিক ক্যু, মাস্তানতন্ত্র বা কালো টাকার খেলা মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আলামত বুঝতে পারছি। শেখ হাসিনার হাতে সব বাহিনী থাকলেও জনগণের জাগরণের মুখে তিনি টিকতে পারেননি। সেই জাগ্রত জনগণ আরেকবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না।”

জামায়াতের আমির বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী এই লড়াই চলবে যতদিন না এ দেশে ফ্যাসিবাদের সামান্য চিহ্নও নির্মূল হয়।”

স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে দলটি জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জামায়াতই প্রথম কেয়ারটেকার সরকারের প্রস্তাব দেয়। যার ভিত্তিতে একাধিক নির্বাচন হয়েছে। অথচ এখন সেই ব্যবস্থাকেই বাতিল করা হয়েছে।”

দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাড়ে পনেরো বছরে আমাদের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ এটিএম আজহারুল ইসলামকে আমরা জীবিত শহীদ হিসেবে দেখছি। যদি সেই শহীদ নেতারা বেঁচে থাকতেন, তাহলে আজ হতাশাগ্রস্ত জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাতে পারতেন।”

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আবু সাঈদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত হয়েছি। তাহলে আমরা কেন ধৈর্য হারাচ্ছি? আজও দেশের নানা প্রান্তে আমরা বিভৎসতা, নারী নিপীড়ন ও সম্পদ লুটপাট দেখছি।”

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সারা দেশকে পাটগ্রাম বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কল্পনাও করা যায় না।”

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও উত্তরাঞ্চলের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, অতিরিক্ত লোকজন রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।




‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক জামায়াতের, রংপুরে বিশাল জনসমুদ্র

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে বিভাগীয় জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৪ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানা যানবাহনে করে সভাস্থলে পৌঁছান।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং নির্বাচনের পূর্বশর্তসহ চার দফা দাবি জানিয়ে আয়োজিত এ জনসভা ঘিরে রংপুর জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাগমে এই জনসভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা উপলক্ষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। নারী দর্শনার্থীদের জন্য পর্দাসহ পৃথক জায়গায় বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়। সভাস্থলে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয় অতিরিক্ত দুটি গেট। সভাকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর নগরে তোরণ, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানারে সাজানো হয়। মাইকিং, গণসংযোগ ও বিশাল মোটরসাইকেল র‌্যালির মাধ্যমে জনসভা সফল করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ১৩টি উপ-কমিটি, প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “এই জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে ফলাফল ঘরে তুলতে চাই। এই জনসভা হবে নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট।”

সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার—যেখানে “১৮ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার”—এমন দাবিও উঠে আসে। জনসভা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জামায়াত নেতারা জানান, জনগণের মধ্যে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। তাদের দাবি, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গঠনের পথে এই জনসভা একটি বড় সূচনা।” জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের ঘোষণাও দেওয়া হয়।




১৭ বছর পর পটুয়াখালীর হত্যা মামলার পলাতক আসামি ঘুডু আরিফ গ্রেফতার

পটুয়াখালীর আলোচিত মোটরসাইকেল চালক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরিফুর রহমান ওরফে ঘুডু আরিফ (৩৪) দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গত ৩ জুলাই আশুলিয়া থানা এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন একটি মাছের আড়ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া আরিফ পটুয়াখালী পৌর শহরের সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো মো. মামুন মিয়াকে অপহরণ করে আরিফ ও তার সহযোগীরা। অপহরণের পর মামুনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দেওয়ায় মামুনকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে তারা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত আরিফুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তবে রায় ঘোষণার আগেই আরিফ আত্মগোপনে চলে যায়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘ সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন নামে আত্মগোপনে থেকে সে আশুলিয়ায় মাছের আড়তে কাজ করছিল।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আরিফ আশুলিয়ায় অবস্থান করছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”

ওসি আরও জানান, “এছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে আরও এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।”

গ্রেফতারের পর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঘুডু আরিফের গ্রেফতারে নিহত মামুন মিয়ার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক দিনে ২০৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, অর্ধেকই বরিশাল বিভাগে

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধেক রোগী—১০১ জন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৯ জন, ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন, রাজশাহীতে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত এক দিনে ২৫৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৬৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।




রংপুরে জনসভায় এটিএম আজহার: “আমার মুক্তি আবু সাঈদদের রক্তের বিনিময়ে”

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, তার মুক্তির সূচনা হয়েছে শহীদ আবু সাঈদের রক্তদানের মাধ্যমে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আজহার বলেন, “রংপুরের জনগণ বলতে পারবে না আমি কোনো অপরাধ করেছি। অথচ জোর করে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন—তাদের জোর করে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আজ লক্ষ জনতার মঞ্চে এসেছি। যে গলায় রশি পড়ার কথা ছিল, সে গলায় আজ ফুলের মালা পড়েছে। আমাকে যাদের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, আজ তারাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আমার নির্দোষিতার পক্ষে।”

নিজের মুক্তিকে ‘আল্লাহর মেহেরবানি’ উল্লেখ করে আজহার বলেন, “আমার মুক্তির প্রথম সোপান আবু সাঈদ, যার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। ওই বিপ্লব না ঘটলে আপনারা আমার জানাজা পড়তেন।”

সাবেক ও বর্তমান সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির বিষয়ে তিনি বলেন, “মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেমসহ অনেককে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়েছে। অধ্যাপক গোলাম আযমসহ আরও কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। এসব হত্যার বিচার চাই।”

বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজহার বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তারা কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে? এই আজব বাংলাদেশে তাই হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেই আইনই এখন বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং আজ আমার রায়ের মাধ্যমে শুধু আমি নয়, জামায়াত ইসলামীও মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্ট আমাদের কারাগারে রেখে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরাসরি আল্লাহর কুদরত। আমরা কল্পনাও করিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে।”

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে জামায়াতের এ জনসভা বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত এ জনসভায় দলের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জিলা স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত জনসমাগম মাঠ ছাড়িয়ে সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

এ জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।