তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে; পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো টালবাহানা চলছে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই অগ্রসর হচ্ছে এবং ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ঘোষপাড়ায় আয়োজিত এক পথসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “টালবাহানার কিছু নেই। আমরা গত ১৫-২০ এমনকি ৩০ বছরেও ভারত থেকে খুব বেশি ইতিবাচক অগ্রগতি পাইনি। বহু বছর আগে একবার ইতিবাচক মতামত এসেছিল, তখন আমরা গ্রহণ করিনি। এখনো আলোচনা চলমান আছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের বিষয় কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি, কতটা সফল হতে পারি সেটা সময় বলবে।”

এ সময় মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, এখনো তাদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশেষ করে ওমানে আমাদের উদ্যোগ ছিল শ্রমিকদের পাসপোর্ট হাতে দেওয়া, যেন তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট না পায়। অন্য দূতাবাসগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “চিঠি দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে ফলোআপ করা হবে। এটিকে আক্ষেপ হিসেবে নয়, প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত এক বছরে সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংস্কার নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়, কারণ তৃপ্ত হলে আর কিছু করার থাকে না। আমরা চেষ্টা করছি মন্ত্রণালয়টিকে যতটা সম্ভব জনবান্ধব করে তোলার।”




“ফ্যাসিস্টরা সুযোগ পাবে পিআর পদ্ধতিতে : এ্যানি

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ ও ‘ফ্যাসিস্টদের জন্য সুযোগ তৈরি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট পরিদর্শনে এসে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন পিআর পদ্ধতিতে গেলে নিজেদের মধ্যেই বড় ধরনের বিভেদ সৃষ্টি হবে। ফলে ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো সুযোগ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্ট বলেছেন— এই পদ্ধতির পক্ষে ব্যক্তিগত মত থাকা যায়, কিন্তু দেশের রাজনীতিতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। একটি উপযুক্ত সময়ে, যেমন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে আমরা সেটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও দাবি করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি অন্তবর্তী সরকার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।

এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে সদ্য লন্ডনে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎকে ‘জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংলাপ’ বলে অভিহিত করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক এম বেলাল হোসেন, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষকদলের স্থানীয় নেতারা।




নির্বাচনে পিআর নয়, ব্যালটে জনগণের আস্থা: বিএনপি নেতা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, “যারা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্য নন, তারাই প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন চায়। জনগণ চায় ব্যালটে ভোট দিতে।”

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁও ও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য নবায়ন কর্মসূচির দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআর পদ্ধতি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা

আমিনুল হক বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। তবে সেই প্রক্রিয়া বানচালের অপচেষ্টা হচ্ছে নতুন ফর্মুলার মাধ্যমে। পিআর পদ্ধতি আসলে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এতে নিশ্চিত হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “যে কোনো ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনগণ তা রুখে দেবে। মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।”

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেন

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমিনুল বলেন, “এক বছর পার হয়ে গেলেও কোনো কাঠামোগত সংস্কার হয়নি। স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার হয়নি। জনগণ এখন ভোট দিতে চায়, গত ১৫ বছরে সেই সুযোগ তারা পায়নি।”

তিনি বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই করে গণতন্ত্রের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছে, সেই পরীক্ষিত কর্মীরাই আগে সদস্যপদ নবায়ন করবে।”

সদস্যপদ নিয়ে সতর্কতা ও বার্তা

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থান রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল বলেন, “যারা দিনে বিএনপি আর রাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে, তারা দলের সদস্য হতে পারবে না। সমাজের ভালো মানুষ যারা বিএনপিকে ভালোবাসে, তাদের জন্য সদস্যপদ উন্মুক্ত।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে যেন কোনো সুবিধাবাদী ব্যক্তি দলের সদস্য না হতে পারে, সেই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

তেজগাঁও ও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির নবায়ন কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে মো. মিরাজ উদ্দিন হায়দার আরজু ও আইনুল ইসলাম চঞ্চল। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এবিএমএ রাজ্জাক, গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ, মনিরুজ্জামান মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।




রোহিঙ্গা, বিনিয়োগ ও যুব উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা এবং যুব উন্নয়ন—বিশেষ করে শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাপান সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আমি সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় অভিভূত হয়েছি। আমরা জাপানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা চাই।”

তিনি জাপানে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। “অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে আগ্রহী, তবে ভাষা একটি বড় বাধা,”—উল্লেখ করে তিনি প্রস্তাব দেন যে, জাপানি ভাষা ও আচরণ শেখাতে শিক্ষক পাঠানো বা অনলাইন দূরশিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাজার হাজার তরুণ এখন ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে কোনো ভবিষ্যৎ আশা ছাড়াই। এ অবস্থায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।” তিনি বিষয়টিকে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

এছাড়া, মাতারবাড়ি প্রকল্পকে দেশের জন্য “ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জাপানের চলমান বিনিয়োগকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

জবাবে জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেন, “বাংলাদেশ জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।” তিনি জানান, জাইকা ইতোমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে সহায়তা দিচ্ছে এবং ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

নারী খেলোয়াড়দের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। আমরা হোস্টেল সুবিধা বাড়াচ্ছি, তবে আরও সহায়তা দরকার।” মিয়াজাকি জানান, জাপান এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও খেলাধুলায় স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং বাংলাদেশে এ খাতেও সহযোগিতার কথা বিবেচনায় নেবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়িয়ে ৪৫০ বিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার অনুরোধ জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় জাপানের বন্ধুত্ব ও অবদানের কথা মনে রাখবে।”




৫ জুলাই দেশব্যাপী সকল নিহত-শহীদদের জন্য দোয়া-মাহফিলের আহ্বান হেফাজতে ইসলামের

২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতা ও আলেম-ওলামাদের স্মরণে আগামী ৫ জুলাই দেশব্যাপী দোয়া ও মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, “২০১৩ ও ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগ এখনও মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে রয়েছে। তাদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় ৫ জুলাই দেশের মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঐসব আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হরণের বিরুদ্ধে। তারা অভিযোগ করেন, এখনও ‘ভারতের দালাল’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ গোষ্ঠী দেশে ষড়যন্ত্র করে চলেছে এবং এসব প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

হেফাজতের নেতারা জানান, “জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।” দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে রাজপথে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

৫ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জনগণকে সুশাসনের জন্য ঐক্যবদ্ধ করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


প্রয়োজনে চাইলে এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বা বিভিন্ন ধাঁচের শিরোনামও দেওয়া যেতে পারে।




বরিশালে পুলিশ সদস্যদের জন্য অক্সিজেন ব্যাংক উদ্বোধন

বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বিপিএম। বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীনের উদ্যোগে গঠিত এই অক্সিজেন ব্যাংকে প্রাথমিকভাবে ২২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সুপার জানান, শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদের জন্য নয়, প্রয়োজন হলে সাধারণ নাগরিকরাও এই অক্সিজেন ব্যাংক থেকে সেবা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সবসময় ঝুঁকিতে থাকেন। তাই সময়মতো অক্সিজেন সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনঞ্জুর মোরশেদ আলম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, এবং বরিশাল রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারগণ।

পরে বরিশাল পুলিশ লাইন্সের গ্র্যাটিটিউড হলে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন আইজিপি বাহারুল আলম। সভায় তিনি ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, পুলিশ বাহিনীর কেউই হেলমেট ছাড়া বাইক চালাবে না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও-ছবি আপলোড করবে না।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রামদা বানাতে অস্বীকৃতি, কর্মকার অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার

রামদা তৈরিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বরিশালের দপদপিয়ায় বিশ্বজিৎ দাস নামে এক কর্মকারকে অপহরণ করে জিআই পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত অবস্থায় বিশ্বজিৎকে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত বিশ্বজিৎ দাসের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে। তিনি বলেন, দপদপিয়ার সামনেই তাঁর একটি ধাতুবিদ্যা (কর্মকার) দোকান রয়েছে। সেখানে প্রায়ই রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র তৈরির জন্য আসতেন স্থানীয় যুবক রাকিব ও রাজিব, যারা সম্পর্কে ভাই এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্বজিৎ জানান, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে তিনি বাড়ি ফেরার পথে দপদপিয়া ব্রিজের টোলঘরের সামনে থেকে রাকিব-রাজিবসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অপহরণের চেষ্টা চালায়। চিৎকার করলে চালক তাদের নামিয়ে দেন। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিশ্বজিৎকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় রাকিব ও রাজিব প্রথমে তার মাথায় আঘাত করেন, এরপর শরীরের বিভিন্ন অংশে পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আরও কয়েকজন মিলে গণপিটুনি দেয়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ এসে বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে, হামলার পর থেকে অভিযুক্ত রাজিব, রাকিব ও তাদের সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 

 

 




গ্রেফতার বরিশালের সাবেক কাউন্সিলর পলাশ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন পলাশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামি হিসেবে পলাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শাকিল হোসেন পলাশ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আজ তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দুই দশক পর দখলমুক্ত বরিশাল জিলা স্কুল মাঠ, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ দুই দশক পর অবৈধ দখল থেকে মুক্ত হলো বরিশাল জিলা স্কুলের ঐতিহ্যবাহী ‘পরেশ সাগর মাঠ’। আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে এই মাঠটি দখলমুক্ত করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল জানায়, মাঠটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ১৪-১৫টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। মাঠের সৌন্দর্য ও ব্যবহার উপযোগিতা ফিরিয়ে আনতে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়

মাঠ দখলমুক্ত হওয়ার খবরে জিলা স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আনন্দে আত্মহারা হন।
দুপুরে অভিযানস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার এবং জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন।

প্রশাসক রায়হান কাওছার জানান, বরিশাল শহরের আরও যেসব জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, সেগুলোকেও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহরবাসী এবং শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 

 




১৯ জুলাই ঐতিহাসিক সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, সফল করার আহ্বান

আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ‘জাতীয় সমাবেশ’ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় সমাবেশ’ বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবাহী সময়ে এ জাতীয় সমাবেশ জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জামায়াতে ইসলামী এই সমাবেশের আয়োজন করেছে।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।


জামায়াতের সাত দফা দাবি:

  1. সব গণহত্যার বিচার
  2. প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার
  3. জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
  4. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন
  5. পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
  6. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ
  7. নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা