১৭ বছর পর পটুয়াখালীর হত্যা মামলার পলাতক আসামি ঘুডু আরিফ গ্রেফতার

পটুয়াখালীর আলোচিত মোটরসাইকেল চালক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরিফুর রহমান ওরফে ঘুডু আরিফ (৩৪) দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গত ৩ জুলাই আশুলিয়া থানা এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন একটি মাছের আড়ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া আরিফ পটুয়াখালী পৌর শহরের সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো মো. মামুন মিয়াকে অপহরণ করে আরিফ ও তার সহযোগীরা। অপহরণের পর মামুনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দেওয়ায় মামুনকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে তারা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত আরিফুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
তবে রায় ঘোষণার আগেই আরিফ আত্মগোপনে চলে যায়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘ সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন নামে আত্মগোপনে থেকে সে আশুলিয়ায় মাছের আড়তে কাজ করছিল।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আরিফ আশুলিয়ায় অবস্থান করছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”
ওসি আরও জানান, “এছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে আরও এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।”
গ্রেফতারের পর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঘুডু আরিফের গ্রেফতারে নিহত মামুন মিয়ার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।








