“পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি হেফাজতের”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ইসলামি মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপের সামিল।

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ মাহফিলটি শাপলা ও চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত হয়।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধে গঠিত। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামী শরিয়া, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় রীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে খুলতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সমকামিতা ও বিকৃত পশ্চিমা ধারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। ইসলাম এ ধরনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করা ঈমানদার জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার মানে ধর্মীয় পরিচয় ও সমাজের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষকে সম্মান দেওয়া। ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ করে কোনো বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ঈমানদার জনতা তা প্রতিহত করবে।”

সভায় মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রতি চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঈমানদার জনতা ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত। প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বাধীন ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। যারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবেন, তারা ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র রুখতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার।




পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে আবারও ‘জুলাই আন্দোলন’ ঘটবে—আহতদের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসা বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহতরা। ঈদের ছুটির অজুহাতে তাদের চিকিৎসা বন্ধ এবং পুনরায় ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহতদের দাবি, তারা সুচিকিৎসা না পেলে হাসপাতাল চত্বরেই ফের ‘জুলাই’ ঘটবে।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নতুন কমিটি নিটোর পরিদর্শনে গেলে, সেখানে অবস্থানরত আহতরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, বর্তমানে কেউ কেউ ফ্লোরে থেকেও চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন।

আহত সৌরভ বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঈদের সময় আমাদের বাড়ি যেতে বলে। ফেরার পর তারা কথা রাখেনি, ভর্তি নেয়নি। অনেকের শরীরে পচন ধরেছে, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা মিলছে না।”

আরেক আহত আশিক জানান, “১১ দিন পর বাড়ি থেকে ফিরে আসলেও আমাকে ভর্তি করা হয়নি। এখন ফ্লোরেই ঘুমাই, কোনো চিকিৎসা পাই না।”

গুলিবিদ্ধ আয়েশা বলেন, “চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও আমি এখনও তা পাইনি।”

পরিদর্শন শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “একজন মা আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলেকে আর ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল। তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করে ওষুধ ও খাবারের টাকা জোগাড় করছেন। এটা অত্যন্ত অমানবিক।”

কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম। অথচ আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে, আহতদের মধ্যে সিন্ডিকেট হয়েছে। অথচ আন্দোলনের সময় তারা সবাই একাট্টা ছিল। এখন তাদের সঠিক চিকিৎসা দরকার, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।”

তিনি আরও জানান, নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. আবুল কেনানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললেও তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায়’। কেন নিরুপায়—সে প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দেননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নেতারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত ছাত্রনেতারা ‘চিকিৎসা নিয়ে সিন্ডিকেট চলবে না, চলবে না’—এই স্লোগান দেন।




নলছিটিতে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে সাবেক স্বামী গোলাম রাব্বির বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অপহরণ করে ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ জুলাই) নলছিটি উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী নিজেই এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামী গোলাম রাব্বি যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। তার পরিবার থেকে ৭ লাখ টাকা দেয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। পরে রাব্বি প্রবাসে চলে যান এবং সেখান থেকেই স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। এরপর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাজীর মাধ্যমে নারীটি রাব্বিকে তালাক দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তালাকের পর ২৯ মার্চ ঢাকায় বোনের বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে তাকে বরিশালের বেলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখা হয় এবং সেখানে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরে কৌশলে পালিয়ে আসেন। ৩ মাস পর দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।

কিন্তু নতুন জীবন শুরু করার পর সাবেক স্বামী রাব্বি আদালতে ব্যভিচার ও চুরির অভিযোগ এনে মামলা করেন, যাতে নববিবাহিত স্বামী জাহিদুলকেও আসামি করা হয়। এ মামলায় তাঁরা ১৩ দিন কারাবন্দি ছিলেন। পরে আদালতে তালাক ও বিয়ের বৈধ কাগজপত্র জমা দিলে জামিন পান তারা।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাব্বি তাদের নামে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার লাগাতার হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর বর্তমান স্বামী জাহিদুল ইসলাম এবং তার পিতা ইমদাদুল হক।

অন্যদিকে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই এসব বলা হচ্ছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




লালমোহনে বর্গাচাষির ভুয়া বায়না চুক্তিতে জমি দখলের অভিযোগ, চরম হুমকির মুখে মালিক পরিবার

ভোলা জেলার লালমোহনের চর ছকিনা এলাকায় জমির প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি ও জুলুমের মুখে ফেলেছে এক সময়ের বর্গাচাষি মো. রুহুল আমিন। অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিকের মৃত্যুর পর ভুয়া বায়না চুক্তি দাঁড় করিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছেন তিনি। আদালতে প্রমাণিত হওয়া সেই ভুয়া দলিলের পরও জেল খেটে এসে আবারও জমি দখলে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত রুহুল আমিন।

ভুক্তভোগী মো. রাশেদ খান জানান, তার পিতা মো. ফরিদ উদ্দিন খান ১৯৯৫ সালে ২৮০১ নং দলিল মূলে চর ছকিনা মৌজার ১.৬০ একর জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। পাশের বাড়ির রুহুল আমিন বর্গাচাষি হিসেবে জমি ব্যবহার করলেও ২০১৯ সালে ফরিদ উদ্দিন হজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলে, রুহুল আমিন দাবী করেন তিনি বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি কিনেছেন। কিন্তু চুক্তির কোনো কাগজ লালমোহন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আদালতে মামলা হলে খুলনা ফরেনসিক ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় চুক্তিতে থাকা আঙুলের ছাপ ভূয়া। এর জেরে রুহুল আমিন জেলও খাটেন। তবে কারামুক্তির পর আরও ভয়ংকর হুমকি ও দখলের মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। এখন জমিতে মালিকপক্ষ গেলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি নিজে বা পরিবারের কাউকে খুন করে মালিকদের ফাঁসানোর হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাশেদ খান।

তিনি বলেন, “আমরা এখন ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছি। জমিতে গেলে খুনের হুমকি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছেন রুহুল আমিন। আদালতে মামলা চলমান থাকলেও তার জুলুম থেমে নেই। আমরা চাই, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমরা যেন আমাদের পৈত্রিক জমিতে নিরাপদে ভোগদখল করতে পারি।”

অভিযুক্ত রুহুল আমিনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে গর্ভের সন্তান হত্যায় রুবেল গ্রেফতার

 

চাঁদার টাকা না পেয়ে গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মেরে গর্ভে থাকা সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামি রুবেল শরীফকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের খালেদাবাদ কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার রুবেল শরীফ (৪০) পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পূর্ব কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত আলতাফ শরীফের ছেলে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গর্ভবতী শিউলির বোন সিম্মী ৩০ জুন বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় রুবেলসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। রুবেলকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভবতী শিউলির স্বামী সোহাগ কাজীর কাছে আসামিরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। গত ৩ এপ্রিল রাতে নগরীর খালেদাবাদ কলোনিতে রুবেলের দোকানের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে মারধর করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসা গর্ভবতী শিউলিকে রুবেল পেটে লাথি মারেন। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে বিভাগীয় সড়ক শ্রমিক পরিষদের নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক

 

বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নব-গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) রুপাতলীর সংগঠন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন, সহ-সভাপতি বশির আহমেদ মৃধা, ফারুক সিকদার, খলিলুর রহমান বাচ্চু, ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, আসাদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, মান্নান চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন সান্টু, কোষাধ্যক্ষ সমির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ গাজী এবং প্রচার সম্পাদক হাসান মাকসুদুর রহমানসহ নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও অধিকার রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগের পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ঠাকুরগাঁওয়ে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা

ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল।

শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলায় কর্মসূচি শেষে পীরগঞ্জে যাওয়ার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে এনসিপি নেতাকর্মীরা রওনা দেন পীরগঞ্জের উদ্দেশে। টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী বাস তাদের বহরকে চাপা দেয়। এতে একটি গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এরপর বহর থামিয়ে ঘটনার কৈফিয়ত চাইলে ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে গাড়িচালকসহ একজন এনসিপি কর্মী আহত হন।

এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলার মুখপাত্র অপু দাবি করেন, “এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্টভাবে হত্যা। বিশেষ করে নাহিদ বা সারজিসদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি।”

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ারে আলম খান বলেন, “বাসচাপার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনসিপি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দোয়া চাইলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির নিজেই।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দোয়া প্রার্থনা করেন।

এছাড়া জামায়াতের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার জন্যও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “আমার শ্রদ্ধেয়া শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে সকলের কাছে একান্ত দোয়া প্রার্থী। সুস্থতা-অসুস্থতা এবং হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ তায়ালা যেন তার এই বান্দির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।”

তিনি আরও লেখেন, “একইভাবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ দায়িত্বশীল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদ সাহেবও বর্তমানে আইসিইউতে আছেন। তার জন্যও আমি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




পবিত্র আশুরা জুলুমের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে সাহসের প্রতীক: ড. ইউনূস

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আশুরা শুধু শোকের দিন নয়—এটি জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মানবজাতিকে শক্তি ও সাহস জোগায়।

শনিবার (৫ জুলাই) দেওয়া এ বাণীতে ড. ইউনূস বলেন, “আমি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের ধর্ম। এই মহৎ আদর্শ রক্ষায় হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবার এবং সাহচর্যরত সাহাবিদের আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহসিকতা আজও পৃথিবীর সব স্বাধীনতাকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

ড. ইউনূস বলেন, “কারবালার এই বিয়োগান্ত ঘটনা ছাড়াও আশুরা ইসলামের ইতিহাসে ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। কোরআন-হাদিসে উল্লেখ আছে—এই দিনে নূহ (আ.)-এর কিশতিকে নিরাপদে তীরে ভিড়ানো, মুসা (আ.)-এর ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ, পৃথিবী সৃষ্টি সহ বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নবী করিম (সা.) আশুরার দিনে দুটি রোজা রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”

তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি কামনার পাশাপাশি আশুরার শিক্ষা ধারণ করে সামাজিক সাম্য, ন্যায় এবং মানবিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




সন্তানের মুখ দেখা হলো না কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা হারিছুর রহমান হারিছের

 

প্রথম সন্তানের মুখও দেখতে পারলেন না বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ (৫৪)। ঢাকার একটি ক্লিনিকে জন্মের পরদিনই মারা গেছে তার নবজাতক পুত্র সন্তান। শুক্রবার (৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির। কারাগারে থাকা অবস্থায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পেলেও হারিছের পরিবারের পক্ষ থেকে জনরোষের ভয়ে তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়নি।

হারিছুর রহমানের শ্বশুর মো. হেদায়েত উল্লাহ জানান, হারিছের স্ত্রী ডা. তাইয়েবা রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি জন্মের পর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টার পরও শুক্রবার দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।

হারিছুর রহমান দীর্ঘদিন গৌরনদী পৌরসভার মেয়র ছিলেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি, হামলা ও বিস্ফোরক আইনের চারটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার বনশ্রী এলাকা থেকে হারিছকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সন্তানের অকালমৃত্যু ও বাবার কারাবন্দিত্ব—দুই বিপর্যয়ে একসাথে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত ও নীরবতা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা আলোচনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম