গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দোয়া চাইলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির নিজেই।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দোয়া প্রার্থনা করেন।

এছাড়া জামায়াতের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার জন্যও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “আমার শ্রদ্ধেয়া শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে সকলের কাছে একান্ত দোয়া প্রার্থী। সুস্থতা-অসুস্থতা এবং হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ তায়ালা যেন তার এই বান্দির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।”

তিনি আরও লেখেন, “একইভাবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ দায়িত্বশীল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদ সাহেবও বর্তমানে আইসিইউতে আছেন। তার জন্যও আমি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




পবিত্র আশুরা জুলুমের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে সাহসের প্রতীক: ড. ইউনূস

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আশুরা শুধু শোকের দিন নয়—এটি জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মানবজাতিকে শক্তি ও সাহস জোগায়।

শনিবার (৫ জুলাই) দেওয়া এ বাণীতে ড. ইউনূস বলেন, “আমি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের ধর্ম। এই মহৎ আদর্শ রক্ষায় হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবার এবং সাহচর্যরত সাহাবিদের আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহসিকতা আজও পৃথিবীর সব স্বাধীনতাকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

ড. ইউনূস বলেন, “কারবালার এই বিয়োগান্ত ঘটনা ছাড়াও আশুরা ইসলামের ইতিহাসে ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। কোরআন-হাদিসে উল্লেখ আছে—এই দিনে নূহ (আ.)-এর কিশতিকে নিরাপদে তীরে ভিড়ানো, মুসা (আ.)-এর ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ, পৃথিবী সৃষ্টি সহ বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নবী করিম (সা.) আশুরার দিনে দুটি রোজা রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”

তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি কামনার পাশাপাশি আশুরার শিক্ষা ধারণ করে সামাজিক সাম্য, ন্যায় এবং মানবিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




সন্তানের মুখ দেখা হলো না কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা হারিছুর রহমান হারিছের

 

প্রথম সন্তানের মুখও দেখতে পারলেন না বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ (৫৪)। ঢাকার একটি ক্লিনিকে জন্মের পরদিনই মারা গেছে তার নবজাতক পুত্র সন্তান। শুক্রবার (৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির। কারাগারে থাকা অবস্থায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পেলেও হারিছের পরিবারের পক্ষ থেকে জনরোষের ভয়ে তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়নি।

হারিছুর রহমানের শ্বশুর মো. হেদায়েত উল্লাহ জানান, হারিছের স্ত্রী ডা. তাইয়েবা রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি জন্মের পর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টার পরও শুক্রবার দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।

হারিছুর রহমান দীর্ঘদিন গৌরনদী পৌরসভার মেয়র ছিলেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি, হামলা ও বিস্ফোরক আইনের চারটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার বনশ্রী এলাকা থেকে হারিছকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সন্তানের অকালমৃত্যু ও বাবার কারাবন্দিত্ব—দুই বিপর্যয়ে একসাথে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত ও নীরবতা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা আলোচনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালের উজিরপুরে গাঁজা-ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে জনতা আটক, পুলিশ ছাড়ালো

 

বরিশালের উজিরপুরে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জীবন চক্রবর্তীকেও (৫০) গাঁজা ও ইয়াবাসহ স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশকে সোপর্দ করে। তবে পুলিশ তাকে আটক না রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়, যা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বামরাইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মূলপাইন বাজারে। এলাকাবাসী জীবন চক্রবর্তীকেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। পরে পুলিশকে খবর দিলে এসআই আসাদ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে ছেড়ে দেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশের এই আচরণে তারা ক্ষুব্ধ। প্রশ্ন তুলেছেন, কিভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর পুলিশ ছেড়ে দিতে পারে? তাদের ধারণা, এসআই আসাদ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মাদক ব্যবসায়ী জীবন চক্রবর্তী ও এসআই আসাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এসআই আসাদ জানিয়েছেন, আটককৃতকে জনতা গণধোলাই দিয়েছে এবং মাদক রাস্তার উপর ফেলা ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে থাকার তথ্য দেন। সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) মো. ইকরামুল আহাদ বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা আছে। গণধোলাই পাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভারতের বাংলাদেশ সফর স্থগিত, নতুন সূচি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর

চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ সফরের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে আর হচ্ছে না ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের সফর। সফরটি ১৩ মাস পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

শনিবার (৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সফর স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিসিসিআই।

প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, আগস্টে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ভারত। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই সফর পিছিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে সিরিজটি আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

বিসিসিআই জানিয়েছে, দুই দেশের বোর্ডের পারস্পরিক সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফরের নতুন সময়সূচি ও ম্যাচভিত্তিক বিস্তারিত পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

সফর স্থগিত হলেও ক্রিকেটপ্রেমীরা আশাবাদী, নির্ধারিত সময়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ উপভোগ করতে পারবেন তারা।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিফলক’ থমকে ভিত্তিপ্রস্তরেই, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিফলক’ এখনো ভিত্তিপ্রস্তরেই থমকে আছে। গত ২৮ মে স্মৃতিফলকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। নির্ধারিত স্থানে নেই কোনো নির্মাণ সামগ্রী, নেই প্রস্তুতির কোনো চিহ্ন। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর সারা দেশে ছাত্রদের মাঝে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ওই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরদিন দেশব্যাপী ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়।

পরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীরা স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন প্রায় আট মাসেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে ব্যর্থ হন। আন্দোলনের মুখে তার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম, যিনি ২৮ মে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তবে স্মৃতিফলক নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ড. আলমগীর মোল্লা জানান, পূর্বের উপাচার্য ইউজিসি থেকে বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এমনকি ইউজিসিতে কোনো প্রতিবেদনও জমা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর স্মৃতিফলকের প্রস্তাবিত ডিজাইন সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং একজন পেশাদার স্থপতির মাধ্যমে সেটি পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন। তবে পুরোনো বাজেট বর্তমানে অপ্রতুল হওয়ায় নতুন ইস্টিমেট তৈরি করে ইউজিসিতে আবেদন করার প্রয়োজন রয়েছে, যা এখনো করা হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য ড. তৌফিক আলম বলেন, “নতুন ডিজাইন অনুযায়ী ইস্টিমেট তৈরি করে ইউজিসিতে আবেদন করবো। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্মৃতিফলকটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। এটি নির্মাণে দেরি হলে আন্দোলনের চেতনাকেই অপমান করা হবে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করে কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিশ্বের ১২ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ; চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় বিশ্বের ১২টি দেশের জন্য নতুন শুল্ক হার নির্ধারণ করেছে। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (৫ জুলাই) নিউজার্সিতে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্টের বিমান সফরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত চিঠিতে তিনি ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন এবং আগামী সোমবার (৭ জুলাই) প্রকাশ করা হবে কোন কোন দেশের পণ্যে নতুন হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য—না হয় প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।”

এর আগে গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করছে, তাদের জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নির্দিষ্ট ১২টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বসানো হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব দেশের জন্য ন্যূনতম ১০ শতাংশ এবং কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

তবে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের জন্য শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা স্থগিত করেছিল। আগামী ৯ জুলাই সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এরপর থেকে শুল্ক কার্যকর হতে শুরু করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে।

ট্রাম্প জানান, ১২টি দেশের প্রতিটির জন্য পৃথকভাবে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও ওপর বেশি, আবার কারও ওপর তুলনামূলক কম হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তবে শুল্ক আরোপের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এখনও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। বাকিদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানায় হোয়াইট হাউস।




টানা বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ

 

টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের অন্তত ৪৫ কিলোমিটার এলাকা এখন চরম বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে। বরিশালের গৌরনদী থেকে সদর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত, উঠে গেছে বিটুমিন। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা—ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে শুরু করে মদিনাষ্ট্যান্ড, কবিবাড়ি, বামরাইল, জয়শ্রীসহ একাধিক এলাকায় মহাসড়ক এখন গর্তে ভরা। কোথাও কোথাও রাস্তার উপর জমেছে বৃষ্টির পানি, বিটুমিন উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে দেড়-দুই ফুট গভীর গর্ত। স্থানীয় পরিবহন চালক রিপন তালুকদার বলেন, “টরকী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্তত ২০-৩০ ফুট জায়গাজুড়ে বিটুমিন উঠে গেছে। ইট ফেলে সাময়িকভাবে ঠিক করা হলেও বৃষ্টিতে তা আবার উঠে গেছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, এই মহাসড়কটি শুধু বরিশালের নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের লাইফলাইন। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, বিশেষ করে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত অংশটি এখনও সরু ও অপর্যাপ্ত। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। যাত্রী তারেক মাহমুদ আলী বলেন, “দূরপাল্লার বাসগুলোর ওভারটেকিং, ত্রিচক্রযানের বেপরোয়া গতি আর রাস্তার গর্ত—সব মিলিয়ে একেকটি ভ্রমণ যেন আতঙ্কের নাম।”

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝেমধ্যে ইট ফেলে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও তা কয়েকদিনেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মহাসড়কটি এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কটির ধারণ ক্ষমতা বহু আগেই হারিয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন আধুনিক ও টেকসই ছয়লেন বিশিষ্ট মহাসড়ক।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

তবে স্থানীয় পরিবহন মালিক, চালক ও দক্ষিণাঞ্চলের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত ঢাকার ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীত করাই একমাত্র কার্যকর সমাধান। অন্যথায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ প্রতিদিনই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, আর বাড়বে প্রাণহানির আশঙ্কা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আশুরার বাণীতে তারেক রহমান: আওয়ামী দমনপীড়ন এজিদের বর্বরতার মতোই পৈশাচিক

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ছিল এজিদ বাহিনীর পৈশাচিকতার মতোই নির্মম।

শনিবার (৫ জুলাই) পাঠানো এক বাণীতে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১০ মহররম স্মরণীয় ও ঘটনাবহুল একটি দিন। এ দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম তিনি করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তারেক রহমান বলেন, “কারবালার ঘটনাপ্রবাহ সব যুগেই মজলুম জনগণের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে শক্তি ইনসাফ ও মানবতাকে পদদলিত করেছিল, তার বিরুদ্ধে ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শিক সংগ্রাম ছিল চূড়ান্ত আত্মত্যাগের নিদর্শন।”

তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৬ বছরে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সন্ত্রাস, হানাহানি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে শোষণের এক অবর্ণনীয় রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দী রেখে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতারা যে পৈশাচিক দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তা এজিদ বাহিনীর বর্বরতার মতোই। এদেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ আমাদের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আর কখনো যেন কোনো অন্যায়কারী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য কারবালার শিক্ষা ও চেতনা আমাদের অবিরাম প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে।”




ক্ষমতায় গেলে মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি জামায়াতে ইসলামীর

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের রমনায় দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে প্রচারণা শেষে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই প্রচারণা ১৯ জুলাই ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনায় ইসলাম বিদ্বেষীরা নারীদের গৃহবন্দি করার গুজব ছড়াচ্ছে। অথচ একমাত্র ইসলামই নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কারও অধিকার বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের মতবাদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করেছে। ফলে ছাত্র ও জনতা ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। মানুষের তৈরি আইনে সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, হবেও না।”

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’-কে সমর্থন দিলে জামায়াতে ইসলামী একটি বৈষম্যহীন, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক তার অধিকার ফিরে পাবে।”

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমন, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য আতিকুর রহমান, থানা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট সুলতান উদ্দিন এবং থানা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুক।