পেছালো বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ, হবে ২০২৬ সালে

বাংলাদেশ সফরে ভারতের ক্রিকেট দলের আগমন এক বছর পিছিয়ে গেছে। চলতি বছর আগস্টে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভারতীয় দলের আসার কথা থাকলেও, সেটি হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি ও উভয় দলের ব্যস্ত সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ড যৌথভাবে সিরিজটি পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল বিসিবি ভারত সিরিজের সূচি ঘোষণা করে। ১৭ আগস্ট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সিরিজ পেছানোয় দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা থাকলেও, বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে সিরিজটি আয়োজনের লক্ষ্যেই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ইন্টার মায়ামিতে চুক্তি নবায়নের আলোচনায় মেসি

ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনায় বসেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন এক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তার বর্তমান আড়াই বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের এমএলএস মৌসুমের শেষেই শেষ হওয়ার কথা। যদিও সম্প্রতি তার অন্য লিগে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল, তবে আর্জেন্টাইন তারকা নিজেই মায়ামিতে ক্যারিয়ার শেষ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক হোর্হে মাস গত জুনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, আমাদের নতুন স্টেডিয়ামটি মার্চে উদ্বোধন হোক আমাদের ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসির হাত ধরেই। আমরা তাকে ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আশা করছি চুক্তি নবায়নের খবর গ্রীষ্মের আগেই পাব।’

মেসির নেতৃত্বেই মায়ামি ক্লাব ইতোমধ্যে ইতিহাসের প্রথম ট্রফিগুলো ঘরে তুলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের লিগস কাপ, ২০২৪ সালের সাপোর্টারস শিল্ড এবং এক মৌসুমে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনের রেকর্ড। এই সফলতা মায়ামিকে ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। যদিও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠলেও পিএসজির বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়।

মায়ামির হয়ে ৩৮টি এমএলএস ম্যাচে মেসি করেছেন ৩১ গোল ও ২২ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন ২০২৪ সালের এমভিপি অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ৯ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট।

তবে কোচ হাভিয়ের মাচেরানো জানিয়েছেন, মেসির নতুন চুক্তি নিয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল ফুটবল ও পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলি। ক্লাব বিশ্বকাপেও ভালো খেলেছি, শেষ ম্যাচটি বাদ দিলে আমরা প্রতিযোগিতায় জমিয়ে রেখেছিলাম।’

চুক্তি নবায়নের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও, ইন্টার মায়ামি এবং সমর্থকরা মেসির মায়ামিতেই ক্যারিয়ার শেষ করার সম্ভাবনায় আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ভাণ্ডারিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৫ লাখ টাকার বেশি লুট

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিনপালা গ্রামে সৌদি প্রবাসী আল আমিন আকনের বাড়িতে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা প্রায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

প্রবাসী আল আমিন আকনের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, রাতে খাবার খেয়ে তিনি ও তাঁর দুই সন্তান ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে ৭-৮ জনের একটি ডাকাতদল পেছনের জানালার গ্রিল কেটে একজনকে ভেতরে পাঠায় এবং পেছনের দরজা খুলে বাকিদের ঘরে ঢুকতে সহায়তা করে। ঘরের বাইরে আরও ২-৩ জন পাহারায় ছিল। ডাকাতরা সবাই শর্টপ্যান্ট পরে ছিল, খালি গায়ে এবং বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ডাকাতরা ঘরের ওয়ার্ডরোব ও স্টিলের ট্রাংক ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দুটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি বিদেশি কম্বলসহ আনুমানিক ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকার সম্পদ লুট করে নেয়। ডাকাতির সময় তারা ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। পরে ডাকাতদল সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।

ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আহমেদ আনোয়ার জানান, বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ, বঞ্চিত অনেকে

বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকরা। কালচারাল কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশগুপ্ত ৩০ জুন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ১ জুলাই থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন, তবে কবে তা আবার চালু হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এ সিদ্ধান্তের ফলে সহস্রাধিক শিশু-কিশোর তাদের নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান কালচারাল কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশগুপ্তের সঙ্গে প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত মতানৈক্য এবং পছন্দের ব্যক্তিদের প্রশিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা থেকেই মূলত এ সংকটের সূচনা হয়েছে। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে নোটিশে তার স্বাক্ষর থাকায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

প্রশিক্ষকদের দাবি, সাবেক কর্মকর্তা হাসানুর রশীদের সময় থেকেই ১২ জন প্রশিক্ষকের চুক্তি নবায়ন ঝুলে ছিল। তারা বহুবার বর্তমান কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি। এক পর্যায়ে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

চারুকলা, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন, অথচ হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, সাধারণ সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, নাটক, চারুকলা, তালযন্ত্রসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষকগণ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক এএফএম নূরুর রহমান বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলে তা প্রশিক্ষণার্থীদের নিরুৎসাহিত করে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, দ্রুত কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই অবস্থায় বরিশালের সাংস্কৃতিক জগৎ এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হোক, যাতে সাংস্কৃতিক প্রতিভাগুলো নষ্ট না হয় এবং শিল্পকলার অগ্রযাত্রা ব্যাহত না হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




পাঁচ বছরেও চালু হয়নি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোস্টেল

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছর আগে নির্মিত দুটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু হোস্টেল এখনও চালু হয়নি। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২০ সালে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হোস্টেলগুলো সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এবং বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এই দুটি হোস্টেলে ২০ জন শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে আন্তরিক হলেও হোস্টেল দুটি বন্ধ থাকায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকারভোগীরা। তারা দ্রুত এই হোস্টেল দুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

হোস্টেল চালু না হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা লোকবল সংকট এবং ছাত্র ভর্তির জটিলতাকে দায়ী করছেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ‘লোকবল সংকটের কারণে হোস্টেল দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শুধু সরকারের মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হচ্ছে না, একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে সমাজকল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যও। হোস্টেল দুটি দ্রুত চালুর মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন নৌ উপদেষ্টার ভাই

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন সাবেক ছাত্রদল নেতা হেমায়েত হোসেন সোহরাব। তিনি বর্তমান সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের ভাই।

শনিবার (৫ জুলাই) হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ডা. খাদেম হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন।

যদিও হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তার সরাসরি অংশগ্রহণ অতীতে দেখা যায়নি, তবে তিনি দাবি করেছেন যে, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাহিত্য সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পল্লবী থানা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

সোহরাব দাবি করেছেন, তার সুপারিশে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ‘শহীদ রিয়াজ লঞ্চ টার্মিনাল’, মৌলভীরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদী খনন প্রকল্প এবং মেহেন্দিগঞ্জের সুলতানি খালে ভাঙন রোধে নয় কোটি টাকার প্রকল্প।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন। দুই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং খুব শিগগিরই উপজেলা বিএনপির সদস্যপদ নেবেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে এলাকায় রাজনীতিতে অংশ নেবার ঘোষণা দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: আমিনুল হক

বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থান পরিস্থিতিতে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ ভুলে গেলে চলবে না।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে” ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, তাদের ভুলে যাওয়া আমাদের উচিত নয়। তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ পরিবারের পাশে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন—আমরাও তাদের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ থাকবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমরা আর চাই না, আর কোনো ভাই শহীদ হোক।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। উদ্বোধকের বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন এবং বিএনপি পরিবারের নেতা আতিকুর ইসলাম রুমন প্রমুখ।




“সংসদ নির্বাচন, আটকানো,শক্তি, কেরানীগঞ্জ, হুঁশিয়ারি, গয়েশ্বর,৷

সংসদ নির্বাচন সময়মতো না হলে জনগণের প্রতিরোধ রাস্তায় গড়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “নির্বাচন করতে হবে। আমরা যদি মাঠে নামি, তাহলে নির্বাচন আটকানোর শক্তি কারো নেই।”

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার শুভাঢ্যা গার্লস স্কুল প্রাঙ্গণে দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে ‘যথাসময়ে সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের’ দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “যারা বলেন বিএনপি গত ১৬ বছরে কিছু করতে পারেনি, তাদের বলব—আমরা চাইলে ১৬ দিনেই তা করে দেখাতে পারি। তবে আমরা এখনো ধৈর্য ধরছি, কারণ একজন ভদ্রলোক (প্রধান উপদেষ্টা) ওয়াদা করেছেন, তিনি তার কথা রাখবেন।”

জামায়াতে ইসলামীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাত জামায়াত দখল করে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে যারা ভারতের দালাল বলে, তারাই আসলে ভারতের দালালি করে। যারা নির্বাচন চায় না, সংস্কারের নামে তালবাহানা করছে, তারাই ভারতের প্রক্সি।”

ঐক্য ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপায়নের জন্য আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে। শহীদদের রক্তের শপথ রক্ষা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে কোনো বিভক্তি যাতে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

শান্তি সমাবেশ নিয়ে কটাক্ষ হাবিব উন নবীর

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি যখনই মিটিং ডেকেছে, পাশে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করেছে। এসব শান্তি সমাবেশে আসতো এলাকার মাস্তানরা, সঙ্গে থাকতো অস্ত্রের আওয়াজ। শেখ হাসিনার আমলে শান্তির মা দাফন হয়ে গেছে।”

লন্ডন বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, “তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে লন্ডনে দেড় ঘণ্টার ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক হয়েছে। এতে কারও গা জ্বালা করলে তা তাদের সমস্যা। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের সঙ্গে বৈঠক হবে, সেটাই স্বাভাবিক।”

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, “জনগণ এখন নির্বাচন চায়। এটা আর দাবি নয়, এটি এখন অধিকার—যা আদায় করে নিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




পর্যটকদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন প্রথম পছন্দ: সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা।

তিনি জানান, সদ্যসমাপ্ত ঈদুল ফিতর ছুটিতে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে ভিড় জমিয়েছিলেন যে, তাদের আবাসন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত খালি করে দিতে হয়।

রোববার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এখন পর্যটকদের সেবাদানে মনোনিবেশ করতে হবে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখন প্রয়োজন টেকসই ও পর্যটকবান্ধব সেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভর হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখনই সময়। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা হবে ভবিষ্যতের আদর্শ ও উন্নত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থপতি।”

মতবিনিময় সভায় উদ্যোক্তারা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা।




পাহাড়ি ফল মেলার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংযোগ গড়ে তোলা হয়েছে: উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

পাহাড়ি অর্গানিক ফল মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি পাহাড়ি জীবনধারা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নগরবাসীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। অর্গানিক ফল আমাদের জীবনের অংশ এবং এই মেলার মাধ্যমে আমরা সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “বিশেষ করে পাহাড়ি নারীরা অর্গানিক ফল চাষে যে নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে ভূমিকা রাখছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। সরকার তাদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও বাজার সংযোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ টেনে সুপ্রদীপ চাকমা জানান, চলতি বছরের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তত ১০০টি স্কুলে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ই-লার্নিং চালু করা হবে। “এটি শুধু শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, বরং প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথও উন্মুক্ত করবে।”

তিনি বলেন, “এই ফল মেলা শুধু কৃষক ও ভোক্তার সংযোগ নয়, বরং শিক্ষা, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি মঞ্চ। আমরা চাই, রাজধানীবাসী পাহাড়ি সংস্কৃতিকে শুধু দেখবে না, অনুভবও করবে।”

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলার প্রতিটি স্টল যেন ছিল একটি গল্পের জানালা—যেখানে শুধুমাত্র ফলের স্বাদ নয়, বরং পাহাড়ি জীবনের রঙ, ঘ্রাণ ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। এ আয়োজন স্থানীয় কৃষকের পণ্যের প্রচার এবং বাজার সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি সংগীত ও নৃত্য।