“সংসদ নির্বাচন, আটকানো,শক্তি, কেরানীগঞ্জ, হুঁশিয়ারি, গয়েশ্বর,৷

সংসদ নির্বাচন সময়মতো না হলে জনগণের প্রতিরোধ রাস্তায় গড়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “নির্বাচন করতে হবে। আমরা যদি মাঠে নামি, তাহলে নির্বাচন আটকানোর শক্তি কারো নেই।”

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার শুভাঢ্যা গার্লস স্কুল প্রাঙ্গণে দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে ‘যথাসময়ে সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের’ দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “যারা বলেন বিএনপি গত ১৬ বছরে কিছু করতে পারেনি, তাদের বলব—আমরা চাইলে ১৬ দিনেই তা করে দেখাতে পারি। তবে আমরা এখনো ধৈর্য ধরছি, কারণ একজন ভদ্রলোক (প্রধান উপদেষ্টা) ওয়াদা করেছেন, তিনি তার কথা রাখবেন।”

জামায়াতে ইসলামীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাত জামায়াত দখল করে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে যারা ভারতের দালাল বলে, তারাই আসলে ভারতের দালালি করে। যারা নির্বাচন চায় না, সংস্কারের নামে তালবাহানা করছে, তারাই ভারতের প্রক্সি।”

ঐক্য ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপায়নের জন্য আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে। শহীদদের রক্তের শপথ রক্ষা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে কোনো বিভক্তি যাতে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

শান্তি সমাবেশ নিয়ে কটাক্ষ হাবিব উন নবীর

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি যখনই মিটিং ডেকেছে, পাশে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করেছে। এসব শান্তি সমাবেশে আসতো এলাকার মাস্তানরা, সঙ্গে থাকতো অস্ত্রের আওয়াজ। শেখ হাসিনার আমলে শান্তির মা দাফন হয়ে গেছে।”

লন্ডন বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, “তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে লন্ডনে দেড় ঘণ্টার ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক হয়েছে। এতে কারও গা জ্বালা করলে তা তাদের সমস্যা। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের সঙ্গে বৈঠক হবে, সেটাই স্বাভাবিক।”

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, “জনগণ এখন নির্বাচন চায়। এটা আর দাবি নয়, এটি এখন অধিকার—যা আদায় করে নিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




পর্যটকদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন প্রথম পছন্দ: সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা।

তিনি জানান, সদ্যসমাপ্ত ঈদুল ফিতর ছুটিতে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে ভিড় জমিয়েছিলেন যে, তাদের আবাসন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত খালি করে দিতে হয়।

রোববার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এখন পর্যটকদের সেবাদানে মনোনিবেশ করতে হবে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখন প্রয়োজন টেকসই ও পর্যটকবান্ধব সেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভর হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখনই সময়। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা হবে ভবিষ্যতের আদর্শ ও উন্নত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থপতি।”

মতবিনিময় সভায় উদ্যোক্তারা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা।




পাহাড়ি ফল মেলার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংযোগ গড়ে তোলা হয়েছে: উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

পাহাড়ি অর্গানিক ফল মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি পাহাড়ি জীবনধারা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নগরবাসীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। অর্গানিক ফল আমাদের জীবনের অংশ এবং এই মেলার মাধ্যমে আমরা সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “বিশেষ করে পাহাড়ি নারীরা অর্গানিক ফল চাষে যে নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে ভূমিকা রাখছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। সরকার তাদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও বাজার সংযোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ টেনে সুপ্রদীপ চাকমা জানান, চলতি বছরের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তত ১০০টি স্কুলে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ই-লার্নিং চালু করা হবে। “এটি শুধু শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, বরং প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথও উন্মুক্ত করবে।”

তিনি বলেন, “এই ফল মেলা শুধু কৃষক ও ভোক্তার সংযোগ নয়, বরং শিক্ষা, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি মঞ্চ। আমরা চাই, রাজধানীবাসী পাহাড়ি সংস্কৃতিকে শুধু দেখবে না, অনুভবও করবে।”

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলার প্রতিটি স্টল যেন ছিল একটি গল্পের জানালা—যেখানে শুধুমাত্র ফলের স্বাদ নয়, বরং পাহাড়ি জীবনের রঙ, ঘ্রাণ ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। এ আয়োজন স্থানীয় কৃষকের পণ্যের প্রচার এবং বাজার সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি সংগীত ও নৃত্য।




“পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি হেফাজতের”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ইসলামি মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপের সামিল।

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ মাহফিলটি শাপলা ও চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত হয়।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধে গঠিত। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামী শরিয়া, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় রীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে খুলতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সমকামিতা ও বিকৃত পশ্চিমা ধারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। ইসলাম এ ধরনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করা ঈমানদার জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার মানে ধর্মীয় পরিচয় ও সমাজের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষকে সম্মান দেওয়া। ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ করে কোনো বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ঈমানদার জনতা তা প্রতিহত করবে।”

সভায় মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রতি চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঈমানদার জনতা ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত। প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বাধীন ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। যারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবেন, তারা ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র রুখতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার।




পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে আবারও ‘জুলাই আন্দোলন’ ঘটবে—আহতদের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসা বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহতরা। ঈদের ছুটির অজুহাতে তাদের চিকিৎসা বন্ধ এবং পুনরায় ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহতদের দাবি, তারা সুচিকিৎসা না পেলে হাসপাতাল চত্বরেই ফের ‘জুলাই’ ঘটবে।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নতুন কমিটি নিটোর পরিদর্শনে গেলে, সেখানে অবস্থানরত আহতরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, বর্তমানে কেউ কেউ ফ্লোরে থেকেও চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন।

আহত সৌরভ বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঈদের সময় আমাদের বাড়ি যেতে বলে। ফেরার পর তারা কথা রাখেনি, ভর্তি নেয়নি। অনেকের শরীরে পচন ধরেছে, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা মিলছে না।”

আরেক আহত আশিক জানান, “১১ দিন পর বাড়ি থেকে ফিরে আসলেও আমাকে ভর্তি করা হয়নি। এখন ফ্লোরেই ঘুমাই, কোনো চিকিৎসা পাই না।”

গুলিবিদ্ধ আয়েশা বলেন, “চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও আমি এখনও তা পাইনি।”

পরিদর্শন শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “একজন মা আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলেকে আর ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল। তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করে ওষুধ ও খাবারের টাকা জোগাড় করছেন। এটা অত্যন্ত অমানবিক।”

কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম। অথচ আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে, আহতদের মধ্যে সিন্ডিকেট হয়েছে। অথচ আন্দোলনের সময় তারা সবাই একাট্টা ছিল। এখন তাদের সঠিক চিকিৎসা দরকার, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।”

তিনি আরও জানান, নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. আবুল কেনানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললেও তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায়’। কেন নিরুপায়—সে প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দেননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নেতারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত ছাত্রনেতারা ‘চিকিৎসা নিয়ে সিন্ডিকেট চলবে না, চলবে না’—এই স্লোগান দেন।




নলছিটিতে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে সাবেক স্বামী গোলাম রাব্বির বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অপহরণ করে ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ জুলাই) নলছিটি উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী নিজেই এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামী গোলাম রাব্বি যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। তার পরিবার থেকে ৭ লাখ টাকা দেয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। পরে রাব্বি প্রবাসে চলে যান এবং সেখান থেকেই স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। এরপর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাজীর মাধ্যমে নারীটি রাব্বিকে তালাক দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তালাকের পর ২৯ মার্চ ঢাকায় বোনের বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে তাকে বরিশালের বেলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখা হয় এবং সেখানে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরে কৌশলে পালিয়ে আসেন। ৩ মাস পর দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।

কিন্তু নতুন জীবন শুরু করার পর সাবেক স্বামী রাব্বি আদালতে ব্যভিচার ও চুরির অভিযোগ এনে মামলা করেন, যাতে নববিবাহিত স্বামী জাহিদুলকেও আসামি করা হয়। এ মামলায় তাঁরা ১৩ দিন কারাবন্দি ছিলেন। পরে আদালতে তালাক ও বিয়ের বৈধ কাগজপত্র জমা দিলে জামিন পান তারা।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাব্বি তাদের নামে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার লাগাতার হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর বর্তমান স্বামী জাহিদুল ইসলাম এবং তার পিতা ইমদাদুল হক।

অন্যদিকে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই এসব বলা হচ্ছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




লালমোহনে বর্গাচাষির ভুয়া বায়না চুক্তিতে জমি দখলের অভিযোগ, চরম হুমকির মুখে মালিক পরিবার

ভোলা জেলার লালমোহনের চর ছকিনা এলাকায় জমির প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি ও জুলুমের মুখে ফেলেছে এক সময়ের বর্গাচাষি মো. রুহুল আমিন। অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিকের মৃত্যুর পর ভুয়া বায়না চুক্তি দাঁড় করিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছেন তিনি। আদালতে প্রমাণিত হওয়া সেই ভুয়া দলিলের পরও জেল খেটে এসে আবারও জমি দখলে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত রুহুল আমিন।

ভুক্তভোগী মো. রাশেদ খান জানান, তার পিতা মো. ফরিদ উদ্দিন খান ১৯৯৫ সালে ২৮০১ নং দলিল মূলে চর ছকিনা মৌজার ১.৬০ একর জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। পাশের বাড়ির রুহুল আমিন বর্গাচাষি হিসেবে জমি ব্যবহার করলেও ২০১৯ সালে ফরিদ উদ্দিন হজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলে, রুহুল আমিন দাবী করেন তিনি বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি কিনেছেন। কিন্তু চুক্তির কোনো কাগজ লালমোহন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আদালতে মামলা হলে খুলনা ফরেনসিক ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় চুক্তিতে থাকা আঙুলের ছাপ ভূয়া। এর জেরে রুহুল আমিন জেলও খাটেন। তবে কারামুক্তির পর আরও ভয়ংকর হুমকি ও দখলের মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। এখন জমিতে মালিকপক্ষ গেলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি নিজে বা পরিবারের কাউকে খুন করে মালিকদের ফাঁসানোর হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাশেদ খান।

তিনি বলেন, “আমরা এখন ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছি। জমিতে গেলে খুনের হুমকি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছেন রুহুল আমিন। আদালতে মামলা চলমান থাকলেও তার জুলুম থেমে নেই। আমরা চাই, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমরা যেন আমাদের পৈত্রিক জমিতে নিরাপদে ভোগদখল করতে পারি।”

অভিযুক্ত রুহুল আমিনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে গর্ভের সন্তান হত্যায় রুবেল গ্রেফতার

 

চাঁদার টাকা না পেয়ে গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মেরে গর্ভে থাকা সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামি রুবেল শরীফকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের খালেদাবাদ কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার রুবেল শরীফ (৪০) পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পূর্ব কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত আলতাফ শরীফের ছেলে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গর্ভবতী শিউলির বোন সিম্মী ৩০ জুন বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় রুবেলসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। রুবেলকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভবতী শিউলির স্বামী সোহাগ কাজীর কাছে আসামিরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। গত ৩ এপ্রিল রাতে নগরীর খালেদাবাদ কলোনিতে রুবেলের দোকানের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে মারধর করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসা গর্ভবতী শিউলিকে রুবেল পেটে লাথি মারেন। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে বিভাগীয় সড়ক শ্রমিক পরিষদের নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক

 

বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নব-গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) রুপাতলীর সংগঠন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন, সহ-সভাপতি বশির আহমেদ মৃধা, ফারুক সিকদার, খলিলুর রহমান বাচ্চু, ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, আসাদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, মান্নান চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন সান্টু, কোষাধ্যক্ষ সমির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ গাজী এবং প্রচার সম্পাদক হাসান মাকসুদুর রহমানসহ নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও অধিকার রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগের পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ঠাকুরগাঁওয়ে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা

ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল।

শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলায় কর্মসূচি শেষে পীরগঞ্জে যাওয়ার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে এনসিপি নেতাকর্মীরা রওনা দেন পীরগঞ্জের উদ্দেশে। টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী বাস তাদের বহরকে চাপা দেয়। এতে একটি গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এরপর বহর থামিয়ে ঘটনার কৈফিয়ত চাইলে ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে গাড়িচালকসহ একজন এনসিপি কর্মী আহত হন।

এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলার মুখপাত্র অপু দাবি করেন, “এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্টভাবে হত্যা। বিশেষ করে নাহিদ বা সারজিসদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি।”

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ারে আলম খান বলেন, “বাসচাপার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনসিপি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম