ভোলায় যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

ভোলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ। আটকরা হলেন—ঢাকার শের-ই-বাংলা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. উজ্জ্বল হোসেন (৪২), চরসামাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাতাব্বর (৫৫) এবং একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম মুন্সি (৫২)।

কোস্ট গার্ডের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোস্ট গার্ড ভোলা দক্ষিণ জোন ও পুলিশ যৌথভাবে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বড় চরসামাইয়া ও চরকালীসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে সন্দেহভাজন অবস্থায় তাদের আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ জানান, আটক তিন নেতাকে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য ভোলা সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে। ফলে এসব অঞ্চলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে।” তিনি জানান, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ডিএমপির ফের গণবিজ্ঞপ্তি

সচিবালয় ও যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার (বিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্স-১৯৭৬ এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে—বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টু রোড ক্রসিং।

এই সব এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি কিংবা ধর্মঘটের আয়োজন করা যাবে না।

ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ৭ জুন একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সংস্থাটি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে সেতুর রেলিং ভেঙে খালে যাত্রীবাহী বাস

বরিশালের গৌরনদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী পৌরসভার লালপোল এলাকায়।

জানা গেছে, মামুন পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তবে পথিমধ্যে বেপরোয়া গতি ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে সোজা খালের পানিতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং দ্রুত গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানায় খবর দেন। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত তিনজনকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গতি এবং খারাপ আবহাওয়াই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




“গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর আহ্বান এনসিপির”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে, যা মুজিববাদী ও আওয়ামী শাসনের সংবিধানকে প্রতিস্থাপন করবে।” তিনি আরও বলেন, নতুন সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়ের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিফলিত হতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় এক পথসভা ও পদযাত্রায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে মুজিববাদী ও আওয়ামী সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংবিধান রাষ্ট্র ও সমাজকে বিভক্ত করেছে এবং কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোয়নি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গুম-খুনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। দেশের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন—যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ স্বৈরাচারী হতে না পারে।”

বসুন্ধরা গ্রুপ ও দেশের মিডিয়া নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বসুন্ধরা একটি মাফিয়া গ্রুপে পরিণত হয়েছে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। মিডিয়া হয়ে উঠেছে জনগণকে জিম্মি করার হাতিয়ার। বসুন্ধরা ও এস আলমের মতো লুটেরা গোষ্ঠীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও যারা ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। গণজাগরণে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্ম কারও ভয় পায় না। ভয়ের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার যে কোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”

সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে এনসিপির পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা প্রকাশ্যে বা পরোক্ষভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের মনে রাখা উচিত—এনসিপির নেতাকর্মীরা কোনো আঘাত বিনা প্রতিরোধে মেনে নেবে না।”

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম-সচিব মাহিন সরকার, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।




মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে :প্রধান উপদেষ্টা

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও পক্ষপাতহীন ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে, যাতে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটিত হয় এবং প্রজন্মের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছায়।”

সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন সম্পত্তির সদ্ব্যবহার এবং ট্রাস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এই ট্রাস্টকে আবার জীবন্ত করতে হবে। তাদের অধীনে কী ধরনের এন্টারপ্রাইজ হতে পারে এবং কাজের পরিধি কী হবে—তা নির্ধারণে দ্রুত একজন পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে এবং পরবর্তীতে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি প্রকল্পে যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট হতে হবে।”

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানান, মন্ত্রণালয়ের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা অবকাঠামোগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নেই। এসব স্থাপনায় রণাঙ্গনের বর্ণনা বা মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের চিত্র নেই বরং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ছবি ও সামগ্রী দিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তেমন কোনো গবেষণা হয়নি।”

ফারুক ই আজম আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাভোগী শ্রেণি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। বরাদ্দ সম্পত্তি, অর্থ ও সুযোগ-সুবিধাকে দলীয়করণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন অনেক মূল্যবান সম্পত্তি এখনো অরক্ষিত রয়েছে, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”

সভার শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




জুলাই জাগরণের দিনলিপি -৭ জুলাই

৩৬ জুলাইয়ের বাংলা ব্লকেডে সারাদেশ অচল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা ব্লকেড’ নামের নতুন কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ৭ জুলাই, আন্দোলনের সপ্তম দিনে সারাদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্ররা। দাবির কেন্দ্রে ছিল—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সংস্কার এবং সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমন্বয়।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে।”

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। জোটের সমন্বয়ক রাগীব নাঈম বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অস্বাভাবিক বহাল যেমন বৈষম্য তৈরি করছে, তেমনি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা বাতিলও সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।”

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে অবরোধে অংশ নেন। আগারগাঁওয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন বিকেল ৪টায়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে রাজধানীতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে রাত ৮টায় তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আপাতত সরে দাঁড়ান। নাহিদ ইসলাম জানান, “ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট চলবে। বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।”

এদিন রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করেন। চট্টগ্রামে চবি ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট মোড়ে অবস্থান নেন, পুলিশের বাধার মুখে পরিকল্পনা বদল করে সেখানে যান চলাচল বন্ধ করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে, এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এছাড়াও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, যৌক্তিক সংস্কার ও সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

কুমিল্লার মুরাদনগর, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বারবার ঘটছে।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকায় অপরাধীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে। এখন সময় এসেছে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। শুধুমাত্র আইন কার্যকর করলেই হবে না, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ভিত নির্মাণ করতে হবে।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে দায়িত্বশীলতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিআইটি কাঠামোর দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

সরকারি প্রকৌশল কলেজগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকট নিরসন এবং বিআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) মডেলে রূপান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনজন শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখেন।

তারা বলেন, বর্তমান প্রকৌশল শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বৈত কাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, অথচ প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে—এই ভিন্ন ভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে সিলেবাস হালনাগাদ, শিক্ষক নিয়োগ, ল্যাব পরিচালনা কিংবা একাডেমিক পরিকল্পনায় দেখা দিচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও দ্বিধা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ইইই বিভাগে কোনো সহযোগী অধ্যাপক নেই, সিভিল বিভাগে আছেন মাত্র একজন প্রভাষক এবং নেভাল আর্কিটেকচার ভবন চালু না হওয়ায় সেখানে কার্যক্রম শুরুই হয়নি। এমনকি আধুনিক ল্যাব সরঞ্জাম থাকার পরও ইনস্ট্রাক্টরের অভাবে সেগুলোর কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সরকারের বিপুল অর্থ বিনিয়োগও অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

তারা জানান, ২০ মে থেকে বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শান্তিপূর্ণভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক শাটডাউন চলছে। এরমধ্যে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ডিগ্রি দিচ্ছে, কিন্তু সিলেবাস আপডেট, শিক্ষা মানোন্নয়ন বা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার কোনো দায় নিচ্ছে না।

তাদের দাবি, বর্তমান অব্যবস্থাপনা নিরসনে বিআইটি মডেলের একটি স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও কার্যকর কমিশন গঠন করা হোক। কারণ শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও, প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আজ চরম বৈষম্যের শিকার। অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা এবং এর দায়ভার সরকারের ওপর বর্তাবে বলেও উল্লেখ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিএনপির শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে দলীয় নেত্রীর তীব্র প্রতিবাদ

একসময়ের তুখোড় আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা এ্যাড. ফজলুর রহমানের ‘হাসিনা খারাপ, আওয়ামী লীগ খারাপ না’ মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার এই বক্তব্যে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার মনোভাব স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নুসরাত জাহান সোমবার (৭ জুলাই) তার ফেসবুক পোস্টে ফজলুর রহমানের এই মন্তব্যকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বিএনপির লক্ষ লক্ষ ত্যাগী নেতা-কর্মীর অনুভূতির অবজ্ঞা। নুসরাত জাহান উল্লেখ করেন, বিএনপি ব্যক্তি নয়, আদর্শ ও নীতিমালা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি দল। তাই ব্যক্তিগত মতামত নয়, দলীয় মূল্যবোধই সবসময় সম্মানিত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে, যে আওয়ামী লীগ ১/১১ থেকে শুরু করে বারবার গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের পেছনে রয়েছে, যারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, তাদের অপকর্ম কেবল একজন ব্যক্তির দোষারোপ দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’

নুসরাত জাহান ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে অনুরোধ করেন যাতে দলের ঐক্য ও আদর্শ অক্ষুন্ন থাকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত পিছিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের যতো বেশি দেরি হবে, দেশ ততো বেশি পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ কমে যাবে, নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে, বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার, যাদের পেছনে থাকবে জনগণের সমর্থন।

সোমবার (৭ জুলাই) সিলেটের পাঠানটুলাস্থ সানরাইজ কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিকের আমন্ত্রণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্তি বহু সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে, যেখানে মানুষ বাকস্বাধীনতা পাবে, মহিলারা নিরাপত্তা পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে এবং সকলকে চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও দলের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা জনঅধিকার লঙ্ঘন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। বিএনপি দেশের উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

ড. মুহম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না পারে। জয় তাদের সুনিশ্চিত বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানকার মহান sufi শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর কীর্তি এবং তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি এখানে অবস্থিত।