দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বর্জন করে কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে। তাদের দাবি—এই কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, বরিশাল’ মডেলে পুনর্গঠন করতে হবে। দাবি মানা না হলে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৮ জুলাই) বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম এবং বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত।

এ পরিস্থিতিতে একই দিন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও অধিভুক্ত অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ জানান, কলেজের সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান, তবে সমস্যা সমাধানে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১/১১ সরকারের সময় বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। তবে একাডেমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও প্রশাসনিকভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের নিয়োগ, বিভাগ সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বর্তমানে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ‘নেভাল আর্কিটেকচার’ বিভাগের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকের অভাব ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে তা থেমে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—গত প্রায় দুই মাস ধরে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সম্পূর্ণ বন্ধ (‘কমপ্লিট শাটডাউন’) অবস্থায় রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আইনজীবীর বাড়ি দখলের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ঝালকাঠিতে এক সিনিয়র আইনজীবীর বাসভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, দখলের সময় হামলা চালিয়ে পরিবারের দুই সদস্যকে মারধর করা হয়েছে এবং এখনো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী ও ঝালকাঠি শহরের কালিবাড়ী সড়কের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট এসএম ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ২৮৯ নম্বর খতিয়ানের ১৬৯৬ দাগের আট শতক জমিতে নির্মিত তার বাসভবনে পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন। তবে একই এলাকার আনছার উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ও ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ তার ভাই জসিম হাওলাদার ও নাসির উদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়।

অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের অভিযোগ, হামলাকারীরা তার ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে, পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে বাধা দিতে গিয়ে তার ছেলে এসএম মনিরুজ্জামান ও শ্যালক কাজী হাফিজুর রহমান আহত হন। বর্তমানে পরিবারটি সালাউদ্দিন আহম্মেদের হুমকির মুখে চরম আতঙ্কে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বিচার চেয়ে তিনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সালাউদ্দিন আহম্মেদ দাবি করেন, “এটি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি, যা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল। আমার ভাইয়েরা নিজেদের জায়গা থেকে দখলদারদের সরিয়ে দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”

তবে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু আইনজীবীর অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভোলায় অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা, ছিনতাইয়ের আশঙ্কা পরিবারের

ভোলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় অটোরিকশাচালক মো. মতলব ফরাজী (৬০) কুপিয়ে হত্যা হয়েছেন। সোমবার (৭ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার উত্তর দীঘলদি ইউনিয়নের চরকুমারিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মতলব ফরাজী ছিলেন ফরাজীবাড়ির আব্দুল মুনফ ফরাজীর ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে ১০ সদস্যের পরিবার চালাতেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মতলব ফরাজী প্রতিদিনের মতো বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চরকুমারিয়া এলাকার রেবা রহমান কলেজের পেছনে বারেক মিয়ার বাড়ির পাশে সড়কে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আক্রমণ করে। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে মো. ওমর ফারুক বলেন, “আমার বাবার কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। সম্ভবত ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যা করেছে।”

ঘটনার পর রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের চেষ্টা চালায়। তবে নিহতের স্বজনেরা এতে বাধা দিলে কিছুক্ষণ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভোলায় যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

ভোলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ। আটকরা হলেন—ঢাকার শের-ই-বাংলা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. উজ্জ্বল হোসেন (৪২), চরসামাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাতাব্বর (৫৫) এবং একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম মুন্সি (৫২)।

কোস্ট গার্ডের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোস্ট গার্ড ভোলা দক্ষিণ জোন ও পুলিশ যৌথভাবে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বড় চরসামাইয়া ও চরকালীসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে সন্দেহভাজন অবস্থায় তাদের আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ জানান, আটক তিন নেতাকে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য ভোলা সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে। ফলে এসব অঞ্চলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে।” তিনি জানান, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ডিএমপির ফের গণবিজ্ঞপ্তি

সচিবালয় ও যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার (বিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্স-১৯৭৬ এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে—বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টু রোড ক্রসিং।

এই সব এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি কিংবা ধর্মঘটের আয়োজন করা যাবে না।

ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ৭ জুন একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সংস্থাটি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে সেতুর রেলিং ভেঙে খালে যাত্রীবাহী বাস

বরিশালের গৌরনদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী পৌরসভার লালপোল এলাকায়।

জানা গেছে, মামুন পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তবে পথিমধ্যে বেপরোয়া গতি ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে সোজা খালের পানিতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং দ্রুত গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানায় খবর দেন। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত তিনজনকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গতি এবং খারাপ আবহাওয়াই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




“গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর আহ্বান এনসিপির”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে, যা মুজিববাদী ও আওয়ামী শাসনের সংবিধানকে প্রতিস্থাপন করবে।” তিনি আরও বলেন, নতুন সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়ের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিফলিত হতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় এক পথসভা ও পদযাত্রায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে মুজিববাদী ও আওয়ামী সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংবিধান রাষ্ট্র ও সমাজকে বিভক্ত করেছে এবং কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোয়নি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গুম-খুনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। দেশের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন—যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ স্বৈরাচারী হতে না পারে।”

বসুন্ধরা গ্রুপ ও দেশের মিডিয়া নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বসুন্ধরা একটি মাফিয়া গ্রুপে পরিণত হয়েছে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। মিডিয়া হয়ে উঠেছে জনগণকে জিম্মি করার হাতিয়ার। বসুন্ধরা ও এস আলমের মতো লুটেরা গোষ্ঠীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও যারা ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। গণজাগরণে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্ম কারও ভয় পায় না। ভয়ের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার যে কোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”

সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে এনসিপির পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা প্রকাশ্যে বা পরোক্ষভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের মনে রাখা উচিত—এনসিপির নেতাকর্মীরা কোনো আঘাত বিনা প্রতিরোধে মেনে নেবে না।”

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম-সচিব মাহিন সরকার, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।




মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে :প্রধান উপদেষ্টা

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও পক্ষপাতহীন ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে, যাতে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটিত হয় এবং প্রজন্মের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছায়।”

সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন সম্পত্তির সদ্ব্যবহার এবং ট্রাস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এই ট্রাস্টকে আবার জীবন্ত করতে হবে। তাদের অধীনে কী ধরনের এন্টারপ্রাইজ হতে পারে এবং কাজের পরিধি কী হবে—তা নির্ধারণে দ্রুত একজন পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে এবং পরবর্তীতে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি প্রকল্পে যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট হতে হবে।”

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানান, মন্ত্রণালয়ের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা অবকাঠামোগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নেই। এসব স্থাপনায় রণাঙ্গনের বর্ণনা বা মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের চিত্র নেই বরং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ছবি ও সামগ্রী দিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তেমন কোনো গবেষণা হয়নি।”

ফারুক ই আজম আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাভোগী শ্রেণি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। বরাদ্দ সম্পত্তি, অর্থ ও সুযোগ-সুবিধাকে দলীয়করণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন অনেক মূল্যবান সম্পত্তি এখনো অরক্ষিত রয়েছে, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”

সভার শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




জুলাই জাগরণের দিনলিপি -৭ জুলাই

৩৬ জুলাইয়ের বাংলা ব্লকেডে সারাদেশ অচল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা ব্লকেড’ নামের নতুন কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ৭ জুলাই, আন্দোলনের সপ্তম দিনে সারাদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্ররা। দাবির কেন্দ্রে ছিল—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সংস্কার এবং সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমন্বয়।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে।”

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। জোটের সমন্বয়ক রাগীব নাঈম বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অস্বাভাবিক বহাল যেমন বৈষম্য তৈরি করছে, তেমনি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা বাতিলও সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।”

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে অবরোধে অংশ নেন। আগারগাঁওয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন বিকেল ৪টায়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে রাজধানীতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে রাত ৮টায় তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আপাতত সরে দাঁড়ান। নাহিদ ইসলাম জানান, “ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট চলবে। বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।”

এদিন রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করেন। চট্টগ্রামে চবি ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট মোড়ে অবস্থান নেন, পুলিশের বাধার মুখে পরিকল্পনা বদল করে সেখানে যান চলাচল বন্ধ করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে, এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এছাড়াও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, যৌক্তিক সংস্কার ও সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

কুমিল্লার মুরাদনগর, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বারবার ঘটছে।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকায় অপরাধীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে। এখন সময় এসেছে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। শুধুমাত্র আইন কার্যকর করলেই হবে না, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ভিত নির্মাণ করতে হবে।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে দায়িত্বশীলতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম