ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে শরীরে দেখা দিতে পারে যেসব উপসর্গ

শরীরের সঠিক গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ভিটামিন ডি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার কাজে ভূমিকা রাখে। সাধারণত রোদে ঘোরাঘুরি করলে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে, তবে অনেকেই পর্যাপ্ত রোদে না যাওয়ায় কিংবা খাদ্যাভ্যাসে ঘাটতির কারণে ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভোগেন। এই অভাব শরীরে নানা উপসর্গের মাধ্যমে জানান দেয়, বিশেষ করে ত্বক ও পায়ের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

ভিটামিন ডি’র ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হলো ধীরে ক্ষত নিরাময়। এটি ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবন ও ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন না থাকলে সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা ঘা সহজেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

চুলকানি বা ত্বকের শুষ্কতা আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। ভিটামিন ডি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রুক্ষতা বা একজিমার মতো সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে, চুলকায় ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভিটামিন ডি’র অভাবে ত্বক হয়ে যেতে পারে নিষ্প্রভ ও ফ্যাকাশে। এই পুষ্টি উপাদান মেলানিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও রং ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শুধু ত্বক নয়, পায়ের ব্যথা কিংবা দুর্বলতাও ভিটামিন ডি’র অভাবের প্রভাব হতে পারে। বিশেষ করে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা নিচে নামতে সমস্যা হলে তা পেশি দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি হাড়ের গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেট রোগ দেখা দিতে পারে।

আরেকটি লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ঘাম। বিশেষ করে মাথা বা মুখে অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া ভিটামিন ডি ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এটি ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত করে, যা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

এইসব উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত রোদে যাওয়া, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি গ্রহণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে ‘বিআইটি’ মডেলের মতো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠা গঠনের একদফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নেন। প্রবল বর্ষণের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন, ফলে যান চলাচলে সৃষ্টি হয় তীব্র বাধা।

ঘটনার শুরুতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও দুপুর ২টার দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরানোর চেষ্টা করলে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যার মধ্যে ২৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যরাও হামলা চালিয়েছেন। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের কারণে তিনটি বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন ধৈর্য এবং সহনশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে। যদিও পুলিশের লাঠিচার্জের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং জানিয়ে দেন যে তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ২০ মে থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির আওতায় ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল বিভাগজুড়ে চলছে বালু লুট, নদী ভাঙন-পরিবেশে ভয়াবহ বিপর্যয়

বরিশাল বিভাগের নদনদীগুলো যেন এখন বালু খেকোদের দখলে। দিনের পাশাপাশি রাতেও চলে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অন্তত ৭০টি স্পটে প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে তুলে নেওয়া হচ্ছে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। আর এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, নদীপ্রবাহ ও তীরবর্তী জনজীবন।

কীর্তনখোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, বলেশ্বর, পায়রা—এসব নদীতে বালু উত্তোলনের চিত্র এখন প্রকাশ্য। বরিশাল শহরের পাশের চরমোনাই এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ড্রেজিং; রাতভর চলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। সকাল হতেই জাহাজ বোঝাই বালু চলে যাচ্ছে নানা গন্তব্যে। শ্রমিকরাও অকপটে বলছেন—তাদের কাজের কোনো অনুমোদন নেই।

বরিশালের হিজলার নয়াভাঙনী নদীর গুয়াবাড়িয়া, হরিনাথপুর কিংবা মেঘনা নদীর গঙ্গাপুর, বদরপুর, আবুপুর, কোদালপুরে চলছে একই তাণ্ডব। ভোলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনাতেও চলছে নিয়ন্ত্রণহীন বালু তোলার হিড়িক। পটুয়াখালীর আগুনমুখা, পিরোজপুরের বলেশ্বর ও চরখালী নদী থেকেও চলছে একই অবস্থা।নদীভাঙনের কারণে অনেক এলাকায় বসতভিটা, কৃষিজমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। হিজলার কৃষক আল আমিন বলেন, “নদী ভাঙনে আমার ঘর নেই, জমি নেই। প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে। প্রশাসন যদি কঠোর না হয়, আমরা সব হারিয়ে ফেলব।”

স্থানীয়রা বলছেন, শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত এই বালু সিন্ডিকেটে। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও সেগুলো তেমন কাজে আসছে না।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রাতের বালু উত্তোলনের তথ্য আমরা নিচ্ছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছারও জানিয়েছেন, “নদী সুরক্ষায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসন ছাড় দেবে না।”

সুজনের সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, “এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি।”

অবস্থা এমন যে, এখনই কঠোর আইন প্রয়োগ ও দায়ীদের গ্রেপ্তার ছাড়া বরিশাল বিভাগের নদী ও জনপদকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

এস এম/বার্তা২৪.কম




সুপ্রসিদ্ধ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সাত দিনের রিমান্ড বৃদ্ধি

যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সাত দিনের রিমান্ড বাড়িয়ে মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল ওয়াহাবের আদালতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে কারাগার থেকে সুব্রত বাইন হাজির ছিলেন।

গত ২৭ মে অস্ত্রসহ সুব্রত বাইন, তার সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ চারজনকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এরপর অস্ত্র আইনের মামলায় তার আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ২৩ জুন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যুবদল নেতা আরিফ হত্যা মামলায় তার গ্রেপ্তার দেখান।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২১ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আরিফ সিকদার ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক।

মৃত আরিফের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ। মামলার অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন মো. ইয়াছিন, মো. আসিফ হোসেন, মো. অনিক, মো. মিরাজ, মো. আশিক, মো. ইফতি, জাফর ইমাম তরফদার মন্টু, রতন শেখ ও আলিফ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




মিরাজের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, সিরিজ হারেও তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল

পাল্লেকেলেতে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯৯ রানের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিরিজ হেরে গেলেও দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তরুণদের মধ্যে আশার আলো দেখছেন। সিরিজ হার সত্ত্বেও মিরাজ বিশ্বাস করেন, আগামী দিনে তরুণ খেলোয়াড়রা ভালো করবে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজ বলেন, “আমাদের দল এখনো তরুণ এবং নতুন খেলোয়াড় এসেছে। আমরা সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখি। সময় দিতে হবে। সুযোগ পেলে তারা একদিন ভালো ফলাফল দেখাবে।”

এই সিরিজে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ও তানভীর ইসলাম। পাশাপাশি দলে আছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা যেমন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং লিটন দাস। প্রায় এক দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকা মিরাজও জানালেন, ধারাবাহিকতা এখনও অর্জিত হয়নি।

শেষ ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ২০ ওভারে ১০২ রানে ৩ উইকেট হারানো সত্ত্বেও পরবর্তীতে ঝড়ে গিয়েছিল দলের ব্যাটিং লাইন। মিরাজ বললেন, “মাঝের ওভারগুলোতে কোনো জুটি গড়ে উঠেনি, সেটাই মূল সমস্যা ছিল। শুরু থেকেই জুটি গড়তে পারিনি।”

নিজে ২৮ রান করে খেলেছেন মিরাজ, তিনি জানান, “জয় অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। আমি ও হৃদয় ইতিবাচক খেলতে চেষ্টা করছিলাম এবং শেষ ১০ ওভার জয়ের দিকে যাবার চেষ্টা করেছি।”

সিরিজ শেষে হতাশার ছাপ থাকা সত্ত্বেও মিরাজের এই আশাবাদ তরুণদের প্রতি বিশ্বাস ও দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতার বার্তা দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




মায়ামিতেই থাকছেন মেসি, চুক্তি নবায়নের পথে কিংবদন্তি

৩৮ বছর বয়সেও ফুটবল দুনিয়ায় নিজের ম্যাজিকাল পারফরম্যান্স দিয়ে চমকে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। তার পায়ের জাদু এখনো অমলিন। আর এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত খবর—ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও আর্জেন্টিনার শীর্ষ ক্রীড়া গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মায়ামি ক্লাবের সঙ্গে নতুন এক বছরের চুক্তির ব্যাপারে দুই পক্ষই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ পর্যন্ত মায়ামিতেই খেলবেন মেসি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে ক্লাব ফুটবলে তিনি ইন্টার মায়ামির জার্সিতে খেলছেন—এমন খবরেই মুগ্ধ তার অগণিত ভক্তরা।

চলতি মৌসুমে মায়ামির হয়ে অসাধারণ ফর্মে আছেন মেসি। মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে জোড়া গোল সহ নানা ম্যাচে দারুণ অবদান রেখে চলেছেন। বয়স তাকে থামাতে পারেনি—এটাই বারবার প্রমাণ করছেন তিনি। সৌদি ক্লাব আল-আহলি থেকে বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব পেলেও তা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাটাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

শুধু মেসিই নয়, তার জাতীয় দলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলকেও দলে ভেড়াতে চায় ইন্টার মায়ামি। ডি পল বর্তমানে খেলছেন স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে। মেসির সঙ্গে ডি পলের বন্ধুত্ব ও মাঠের বোঝাপড়াকে কাজে লাগিয়ে মায়ামি এক নতুন যুগের সূচনা করতে চায়।

তবে ডি পলের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তিনি রাজি হলে অ্যাতলেটিকোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে মায়ামি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার মূল চাবিকাঠি হলো মেসির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন।

এমএলএস মৌসুমের মাঝপথে থাকা মায়ামি বর্তমানে ইস্টার্ন কনফারেন্সের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এখন লক্ষ্য এমএলএস ও আসন্ন লিগস কাপ। এই দুটি প্রতিযোগিতায় মেসির উপস্থিতি দলকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মেসি তার প্রিয় ক্লাবেই থাকছেন। সামনে নতুন বিশ্বকাপ, পাশে প্রিয় সতীর্থেরা—সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে আবারও আলো ছড়াতে প্রস্তুত লিওনেল মেসি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




“আর পালানোর পথ নেই শেখ হাসিনার”: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

গণবিক্ষোভ দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিচার এখন সময়ের দাবি—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুধবার (৯ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব বলেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সরাসরি আন্দোলনকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর কথাও উঠে এসেছে। এমন প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক মহলে তার বিচারের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।”

শফিকুল আলম লেখেন, “১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যেভাবে সহিংসতা ও দমননীতি চালানো হয়েছে, তার দায় শেখ হাসিনা কোনোভাবেই এড়াতে পারবেন না। তার নির্দেশে যারা এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারাও শাস্তির বাইরে থাকবে না। শেখ হাসিনার পালানোর আর কোনো পথ নেই।”

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই গণভবন থেকে করা একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়—“যেখানেই ওদের পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে।” এই কথোপকথন যাচাই করেছে বিবিসির ‘আই ইনভেস্টিগেশন’ ইউনিট। সরকারি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। অডিও ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে।

শফিকুল আলম বলেন, “এই প্রমাণগুলোর ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হওয়া উচিত। এটা কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক বিচারও বটে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত: ফখরুল

 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “গণহত্যা, ফ্যাসিবাদ এবং দমননীতির পক্ষে কাজ করার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে। তার সঙ্গে যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এমনকি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত।”

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নটি ছিল—বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করে, তারা শাস্তির উপযুক্ত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, বিরোধী দলগুলোর ওপর হত্যা, গুম, দমন চালিয়েছে। আমিই ১১২টি মামলার আসামি এবং ১৩ বার কারাবরণ করেছি।”

এর আগে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কদ্দুস এবং অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে দেখতে যান। পরে তিনি আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনকে দেখতে যান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, “ফরিদা পারভিন উপমহাদেশের একজন গুণী শিল্পী, বিশেষ করে লালনসংগীতে তিনি অদ্বিতীয়। তার চিকিৎসায় সরকারকে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে ফখরুল বলেন, “নির্বাচন প্রয়োজন জনগণের জন্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। আমরা আগে থেকেই সংস্কারের দাবি করে আসছি। নির্বাচন ও সংস্কার পাশাপাশি চলতে পারে।”

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে দেশকে সঠিক পথে নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




১৫ কিমি দূরে ভেসে উঠল আসিফের মরদেহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফের মরদেহ ১৫ কিমি দূরে উদ্ধার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদের মরদেহ অবশেষে পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকালে সৈকত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ার সৈকত সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

খবর পেয়ে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আসিফ আহমেদের বড় ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী হিমছড়ি পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে সমুদ্রে গোসলে নামলে স্রোতের টানে তারা নিখোঁজ হন। কিছু সময় পর কে এম সাদমান রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসিফ আহমেদের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অপর শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান।

তিন শিক্ষার্থীই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন আবাসিক হলের ছাত্র ছিলেন। সাদমান রহমান ঢাকার মিরপুরের, আর আসিফ ও অরিত্র বগুড়ার বাসিন্দা।

সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে নামার সময় পর্যাপ্ত নির্দেশনা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরগুনায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

বরগুনার তালতলী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে নৌবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন তালতলী নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ঈমন। অভিযানে বরগুনা সদর উপজেলার লতাকাটা এলাকার আব্দুল লতিফ মুসাল্লীর ছেলে মো. পারভেজ (৪০) ও মো. বারেকের ছেলে মো. রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নৌবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, তারা ট্রলারে করে লতাকাটা থেকে তালতলী বাজার এলাকায় গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে এসেছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি গাঁজা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তালতলী নৌবাহিনীর ডিটাচমেন্টে নেওয়া হয় এবং পরে তাদেরকে তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম