পটুয়াখালীর দুমকিতে জেলা বিএনপি নেতাদের গণসংবর্ধনা, দুর্যোগ উপেক্ষা করে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

পটুয়াখালীর দুমকিতে নবনির্বাচিত জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এই অনুষ্ঠানে উপজেলার হাজারো বিএনপি নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো এলাকায় রাজনৈতিক উদ্দীপনার নতুন ঢেউ তোলে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় দুমকি উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম মৃধা। কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার শুভ সূচনা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এড. মজিবুর রহমান টোটন, পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনু এবং যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান নান্নু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বশির আহমেদ মৃধা, যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মাহবুব, পৌর বিএনপি সভাপতি মো. কামাল হোসেন, অধ্যাপক বাহার উদ্দিন বাহার, যুবদলের আহ্বায়ক জসিমউদ্দিন হাওলাদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক, শ্রমিক, মহিলা, কৃষক, মৎস্যজীবী, তাঁতী ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে নবগঠিত জেলা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ও আস্থা প্রকাশ করেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১০ জুলাই

এদিন সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, চানখাঁরপুল, বঙ্গবাজার, শিক্ষা চত্বর, মৎস্য ভবন, জিপিও, গুলিস্তান, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, হাতিরঝিল মোড়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মগবাজার-সাতরাস্তা ফ্লাইওভারসহ ১৭টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘ব্লকেট’ তৈরি করে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মহাখালী ও কারওয়ান বাজার রেলক্রসিংয়ে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রেল চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে ঢাকা থেকে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে শক্তিশালী আন্দোলন চলে মহাখালী এলাকায়, যেখানে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা আমতলীতে অবস্থান নিয়ে ফ্লাইওভার ও রেলক্রসিং অবরোধ করে রাখেন।

বাংলা ব্লকেডের প্রভাবে রাজধানী ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশালসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন।

‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে সারাদেশে প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। রাজধানী ঢাকা কার্যত দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, কারণ শহরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ।

ডুয়েট (গাজীপুর): ঢাকা-জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক ও ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ অবরোধ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ।

খুলনার বিএল কলেজ: খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েট: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজেই সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ।

বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এদিন সকালে কোটা বাতিলের পরিপত্র বাতিল চেয়ে সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ ৭ আগস্ট পর্যন্ত সব বিষয়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এতে কার্যত আগের হাইকোর্ট রায় বহাল থাকে—যেটি কোটা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।

এরপরই দুপুরে শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫% কোটা রেখে সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে হবে। যৌক্তিক সংস্কার ছাড়া আন্দোলন চলবে।”

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে থাকা সারজিস আলম বলেন, “নির্বাহী বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কেউ যদি আজকেই ঘোষণা দেন বা ত্রুটিহীন পরিপত্র জারি করেন, তাহলে আমরা রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরব। রাজপথ আমাদের স্থায়ী জায়গা নয়।”

তবে শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণার পরই নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান জানাতে বলেন।

তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড়, এবং বলেছে—যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদে আইন পাস করে যৌক্তিক সংস্কার না হবে, ততক্ষণ তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবে না।




ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে শফিকুল আলম বলেন, “আজ প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।”

তিনি জানান, “ভোটের আগে যেকোনো ধরনের সহিংসতা রুখতে এবং ভোটের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ডিসি, এসপি, ইউএনও ও থানার ওসি পর্যায়ে রদবদলের নির্দেশনাও এসেছে, যা হবে একটি র‍্যান্ডম পদ্ধতিতে।”

নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “তাদের সবাইকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “নির্বাচনকালীন বাহিনী কোথায় কীভাবে মোতায়েন হবে, বর্ডার এরিয়া, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আনসার, পুলিশ, বিজিবি বা সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

প্রেস সচিব বলেন, “১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী তরুণদের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা তৈরি এবং নির্বাচনী কেন্দ্রে পৃথক ভোটিং বুথ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এটি একটি বড় লজিস্টিক্যাল ইস্যু হলেও এর বাস্তবায়ন যাচাই করে দেখতে বলা হয়েছে।”

এছাড়া, আনুমানিক ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজার কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “এই কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকেও জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনাও রয়েছে।”

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশনাও এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত নির্বাচনের সময় চার দিন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকে। এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে সাত দিন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখা যায়।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও বৈঠকে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ০৯ জুলাই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান মঙ্গলবার (৯ জুলাই) হঠাৎ করেই কোটা সংস্কার ও হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। তাঁদের এই আবেদনের পর দ্রুততার সঙ্গে পরদিন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়, এই দুই শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে জড়িত নন।

এই পরিস্থিতিতে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, আগামীকাল (১০ জুলাই, বুধবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী সড়কে অবরোধ করবেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “অনেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বলছেন। আমরাও চাই না সাধারণ মানুষ কষ্ট পাক। কিন্তু এখনো আমাদের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের কোনো আলোচনা হয়নি বা আশ্বাস পাইনি। সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা বৈষম্য নিরসন করতে হবে। এখন আমাদের কোনো দাবি আদালতের কাছে নয়, দাবি একমাত্র নির্বাহী বিভাগের কাছে।”

এদিন বড় ধরনের কোনো কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচি না থাকলেও সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট, ক্লাস বর্জন এবং অনলাইন-অফলাইনে ব্যাপক গণসংযোগ চালান শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন।

অবরোধ কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একই দিনে বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। একইসঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এদিন মশাল মিছিলও করেন।

এছাড়া দুপুর ১২টায় কলেজ গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। হবিগঞ্জের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অংশ নেন। এক দফা দাবিতে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।




বান্দরবানে টানা বৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় ধসের শঙ্কা চরমে

বান্দরবানে টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। লাঙ্গিপাড়া, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা ও সাইঙ্গা–এসব পাহাড়-ঘেঁষা জনবসতিতে স্থানীয়রা রয়েছেন চরম আতঙ্কে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং তা আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এর মধ্যেই রুমা উপজেলার আশ্রমপাড়ায় গভীর রাতে ধসে পড়ে একটি পাহাড়। যদিও কোনো হতাহতের খবর নেই, তবে পাহাড় ধসের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে এখন লামা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িসহ পাহাড় অধ্যুষিত প্রতিটি উপজেলাই হুমকির মুখে।

বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি মাটি রাস্তার ওপর এসে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, সাতটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত সংস্কারে কাজ চলছে।

সাধারণ মানুষকে পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

এস এম/ঢাকা পোস্ট
বান্দরবানে টানা বৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় ধসের শঙ্কা চরমে




বাংলাদেশ সফর স্থগিত, আগস্টে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারে ভারত

আগামী আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। কিন্তু হঠাৎ করেই সফরটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। যদিও বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে গেছে, তবুও আগস্ট মাসে খেলার বাইরে থাকতে চায় না রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিরা। এ জন্য বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কা সফরের আলোচনা চলছে বিসিসিআই ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর মধ্যে।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ‘নিউজওয়্যার’ জানিয়েছে, ভারতীয় দল তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলতে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারে। এই সময়েই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) হওয়ার কথা থাকলেও সেটি স্থগিত হওয়ায় ভারত ও শ্রীলঙ্কা—উভয় দলেরই সূচি এখন ফাঁকা রয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই স্বল্প পরিসরের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের আলোচনা চলছে।

এর আগে গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিজটি আয়োজন করতে সম্মত হয়েছে দুই বোর্ড। তবে সফর স্থগিতের কোনো নির্দিষ্ট কারণ তখন জানানো হয়নি।

তবে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরে যেতে দলের প্রতি সায় দেয়নি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান শীতল অবস্থা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ। দিল্লির ধারণা, এই সময়ে বাংলাদেশ সফর কোনো ইতিবাচক বার্তা দেবে না।

উল্লেখ্য, আগস্টেই ভারতের বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল। কিন্তু সেই সূচি পরিবর্তিত হওয়ায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নতুন সিরিজ আয়োজন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে বেআইনি থ্রি-হুইলারের দাপট, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সিটি করপোরেশন

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এলাকায় দিন দিন ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে অবৈধ সিএনজি, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের চলাচল। এতে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও বিশৃঙ্খলা, তেমনি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

বিআরটিএ ও সিটি করপোরেশনের যৌথ নিবন্ধন অনুযায়ী বৈধ যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার ৬২০টি হলেও বাস্তবে নগরজুড়ে ২৫ হাজারের বেশি থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এর মানে, কমপক্ষে অর্ধেকেরও বেশি যানবাহন অচিহ্নিত ও বেআইনি।

সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, জনবল সংকট ও ম্যাজিস্ট্রেট পদ শূন্য থাকায় গত চার বছর ধরে কোনো অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি নবায়ন কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় শুধু ব্যাটারিচালিত রিকশা খাত থেকেই প্রায় ১৮ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নবায়নের মোট ফি ৫ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও, লাইসেন্সধারী চালকদের অভিযোগ, নবায়ন করেও কোনো সুবিধা মিলছে না। পুলিশের হয়রানি, রুটে রুটে চাঁদাবাজি এবং সিটি করপোরেশনের নজরদারির অভাবে লাইসেন্স নবায়নে আগ্রহ হারাচ্ছেন চালকরা।

চালক ফারুক হোসেন বলেন, “নবায়ন করলেও পুলিশে গাড়ি আটক করে, না করলেও করে। তাই পুলিশের ম্যানেজেই চলছে গাড়ি।”

আরেক চালক জাকির হোসেন জানান, “টাকা ধার করে লাইসেন্স করেছিলাম, ভেবেছিলাম হয়রানি কমবে। কিন্তু প্রতিদিনই নতুন রুটে চাঁদা, পুলিশি জব্দ—সবই আছে। তাই আর নবায়নের আগ্রহ নেই।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, “অসংখ্য অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। জনবল সংকটে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।”

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত একমাসে ১ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে কিছু চালক উচ্চ জরিমানায় বাধা সৃষ্টি করছেন।”

সরকারি নীতিমালার অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং মাঠপর্যায়ের দুর্বল তৎপরতায় বরিশালের সড়কে এখন অবৈধ যানবাহনের রাজত্ব চলছে। এতে নাগরিক ভোগান্তির পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অথচ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো স্থায়ী সমাধান আজও অধরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




নিষিদ্ধ পাহাড়ি ট্রেইলে প্রাণ গেল দুই তরুণের, আহত ৩

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পাহাড়ি ট্রেইল ‘মেলখুম’ এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন দুই তরুণ পর্যটক। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ ওই অঞ্চলে ঘুরতে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে জোরারগঞ্জ থানাধীন সোনাপাহাড় এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

নিহতরা হলেন—গালিব (২২) ও হৃদয় (২২)। আহত তিনজন হলেন মোহাম্মদ মিয়া, রায়হান ও ফাহিম। তারা বর্তমানে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কারো অবস্থা গুরুতর হলেও এখন সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ফেনী থেকে আসা তিন তরুণ এবং স্থানীয় আরও দুইজন মিলে ভ্রমণে বের হন মেলখুম ট্রেইলে। এটি বহু আগে থেকেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি জনশূন্য ও বিপজ্জনক পাহাড়ি পথ। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তারা ফেরেননি দেখে বুধবার সকালে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। দুপুর আড়াইটার দিকে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গালিব ও হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন তিতাস বলেন, “এলাকাটি একাধিক মৃত্যুর ঘটনার পর দুই বছর আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও কিছু তরুণ এসব সতর্কতা উপেক্ষা করেই বিপদের মুখে পড়ছেন।”

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজু সিংহ জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, “প্রশাসনের তরফ থেকে সোনাপাহাড় মেলখুম ট্রেইলে না যাওয়ার জন্য বহুবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমরা সবাইকে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি—নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেন কেউ এসব এলাকায় প্রবেশ না করেন। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, অতীতে এই ট্রেইলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার নজির থাকলেও পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




‘বিগ বস ১৯’-এ রেকর্ড পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সালমান খান!

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ছাড়া যেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ ভাবাই যায় না। প্রতি সিজনে তার স্বভাবসুলভ উপস্থাপনা এবং দৃঢ় উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এনে দেয় আলাদা জনপ্রিয়তা। এবার ‘বিগ বস ১৯’–এর জন্য পারিশ্রমিকের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়ছেন ভাইজান।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে সম্প্রচার শুরু হবে ‘বিগ বস ১৯’। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চলবে এই রিয়েলিটি শো। এ সিজনের জন্য সালমান খান নিচ্ছেন ৩০০ কোটিরও বেশি পারিশ্রমিক! এর আগের সিজন অর্থাৎ ‘বিগ বস ১৮’-এর জন্য তিনি নিয়েছিলেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, আর ‘বিগ বস ১৭’-এ নিয়েছিলেন ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার পারিশ্রমিক বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি সালমান খান বা শো কর্তৃপক্ষ। তার পরও এই বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক ঘিরে ইতোমধ্যেই তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে ভক্ত ও মিডিয়া মহলে।

এদিকে সালমান খানকে সবশেষ দেখা গেছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘সিকান্দার’ সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেন রাশমিকা মান্দানা। তবে ছবিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি এবং বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

সিনেমায় একের পর এক চ্যালেঞ্জ থাকলেও ‘বিগ বস’-এর মতো রিয়েলিটি শোয়ে সালমান খানের উপস্থিতিই যেন বাড়িয়ে দেয় অনুষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও টিআরপি। আর তার এই আকাশচুম্বী পারিশ্রমিকও সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরগুনায় অস্ত্রোপচারে ভয়াবহ ভুল: রোগীর পেটে ৭ ইঞ্চি ফরসেপ রেখেই সেলাই!

বরগুনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটে ৭ ইঞ্চি লম্বা ফরসেপ (চিকিৎসা যন্ত্র) রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের এক আবাসিক সার্জনের বিরুদ্ধে। সাত মাস পর ফরসেপ অপসারণ করা হলেও, বর্তমানে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন ৭০ বছর বয়সী কহিনুর বেগম নামের এক নারী।

জানা যায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী গ্রামের কহিনুর বেগম মেয়ের বাড়ি বেড়াতে এসে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর তাকে বরগুনা পৌর শহরের ‘কুয়েত প্রবাসী হাসপাতাল’-এ ভর্তি করা হয়। সেখানেই জরায়ুর সমস্যার কথা জানিয়ে ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর অস্ত্রোপচার করেন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. ফারহানা মাহফুজ এবং হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসক ডা. সাফিয়া পারভীন।

অপারেশনের পর থেকেই কহিনুর বেগমের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে করার পর তার পেটে কাঁচি সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়। গত ১৮ জুন সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফরসেপটি অপসারণ করা হয়। তবে ততক্ষণে তার দেহে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং খাদ্যনালী কেটে ফেলে বিকল্প পথ তৈরি করতে হয়।

রোগীর জামাতা হুমায়ুন বলেন, “আমার শাশুড়ির শরীরের মধ্যে কাঁচি রেখে চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন তিনি মৃত্যুর মুখে। আমরা বিচার চাই।”

রোগীর মেয়ে ফাহিমা বেগম বলেন, “ভুল চিকিৎসার কারণে আমার মা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার খাবার খাওয়ার পথ কেটে ফেলতে হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেব।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক গাজী (মন্টু) দাবি করেন, অপারেশনের পর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি চেক করে কিছু হারানোর প্রমাণ মেলেনি। তবে রোগীর অবস্থা জানার পর তিনি বরিশালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সার্জন ডা. ফারহানা মাহফুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। বরগুনার সব অনিয়মতান্ত্রিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবী করছেন সচেতন মহল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম