শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত: ফখরুল

 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “গণহত্যা, ফ্যাসিবাদ এবং দমননীতির পক্ষে কাজ করার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে। তার সঙ্গে যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এমনকি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত।”

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নটি ছিল—বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করে, তারা শাস্তির উপযুক্ত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, বিরোধী দলগুলোর ওপর হত্যা, গুম, দমন চালিয়েছে। আমিই ১১২টি মামলার আসামি এবং ১৩ বার কারাবরণ করেছি।”

এর আগে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কদ্দুস এবং অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে দেখতে যান। পরে তিনি আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনকে দেখতে যান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, “ফরিদা পারভিন উপমহাদেশের একজন গুণী শিল্পী, বিশেষ করে লালনসংগীতে তিনি অদ্বিতীয়। তার চিকিৎসায় সরকারকে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে ফখরুল বলেন, “নির্বাচন প্রয়োজন জনগণের জন্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। আমরা আগে থেকেই সংস্কারের দাবি করে আসছি। নির্বাচন ও সংস্কার পাশাপাশি চলতে পারে।”

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে দেশকে সঠিক পথে নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




১৫ কিমি দূরে ভেসে উঠল আসিফের মরদেহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফের মরদেহ ১৫ কিমি দূরে উদ্ধার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদের মরদেহ অবশেষে পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকালে সৈকত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ার সৈকত সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

খবর পেয়ে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আসিফ আহমেদের বড় ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী হিমছড়ি পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে সমুদ্রে গোসলে নামলে স্রোতের টানে তারা নিখোঁজ হন। কিছু সময় পর কে এম সাদমান রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসিফ আহমেদের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অপর শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান।

তিন শিক্ষার্থীই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন আবাসিক হলের ছাত্র ছিলেন। সাদমান রহমান ঢাকার মিরপুরের, আর আসিফ ও অরিত্র বগুড়ার বাসিন্দা।

সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে নামার সময় পর্যাপ্ত নির্দেশনা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরগুনায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

বরগুনার তালতলী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে নৌবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন তালতলী নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ঈমন। অভিযানে বরগুনা সদর উপজেলার লতাকাটা এলাকার আব্দুল লতিফ মুসাল্লীর ছেলে মো. পারভেজ (৪০) ও মো. বারেকের ছেলে মো. রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নৌবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, তারা ট্রলারে করে লতাকাটা থেকে তালতলী বাজার এলাকায় গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে এসেছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি গাঁজা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তালতলী নৌবাহিনীর ডিটাচমেন্টে নেওয়া হয় এবং পরে তাদেরকে তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে আইনজীবীর সহকারী ইয়াবাসহ আটক

বরিশালের গৌরনদী এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ইয়াবাসহ এক আইনজীবীর সহকারী আটক হয়েছেন। অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তি শাহিদুল ইসলাম বেপারী (পিতা: হাসেম বেপারী), যিনি নিজেকে বরিশাল জজ কোর্টের এক আইনজীবীর সহকারী বলে পরিচয় দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফিসারী রোড এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গৌরনদী সার্কেলের সহকারী পরিদর্শক মো. ফাইজুল ইসলাম হৃদয়।

জানা যায়, বরিশালের দিকে যাওয়ার পথে শাহিদুলের গতিরোধ করে দেহ তল্লাশি চালানো হয়। এসময় তার দেহে লুকানো অবস্থায় নীল রঙের প্যাকেটে রাখা ১৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরাও।

গ্রেপ্তারের পর শাহিদুল ইসলামকে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার তাকে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হবে। একইসাথে ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কর্মরত শাহিদুল গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ডেঙ্গু আতঙ্কে বাড়তি চাহিদা, দাম বেড়েছে ডাবের – পিরোজপুরে সরবরাহেও সংকট

সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার প্রেক্ষিতে প্রাকৃতিক প্রতিরোধমূলক উপায় হিসেবে ডাবের পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। পিরোজপুর জেলার প্রতিটি বাজারেই এর প্রভাব স্পষ্ট। ফলে স্থানীয় বাজারে দেখা দিয়েছে ডাবের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক মাস আগেও যেখানে মাঝারি ডাব পাওয়া যেত ৫০-৭০ টাকায়, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। বড় সাইজের ডাব ১১০-১২০ টাকায়ও মিলছে না সব বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আষাঢ় মাসে স্বাভাবিকভাবেই ডাবের ফলন কম থাকে। তার উপর ডেঙ্গুর প্রকোপে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদার কারণে চাপে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা।

সদর উপজেলার ডাব বিক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, “আগে প্রতিদিন ৩০-৪০টা ডাব বিক্রি করতাম। এখন ৮০টা গেলেও ক্রেতার চাহিদা মিটছে না।”

চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পড়ায় চাষিরাও স্বাভাবিক সরবরাহ দিতে পারছেন না। নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার চাষিরা জানান, বর্ষাকালে ডাব বড় হলেও কাটার উপযুক্ত হয় কম সংখ্যক, যার কারণে বাজারে ডাবের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. সুরঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে যাওয়া ও পানিশূন্যতা মোকাবেলায় ডাবের পানি খুবই কার্যকর। এ কারণে আমরা রোগীর পরিবারকে এটি খাওয়ানোর পরামর্শ দেই।”

তবে বাজারে নজরদারির অভাব এবং পাইকারি আগাম গাছচুক্তির কারণে স্থানীয় চাষিরা পর্যাপ্ত ডাব সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করি, তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় আমাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই।”

অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তির সহকারী পরিচালক দেবাশিস রায় বলেন, “আমরা এর আগেও অভিযান চালিয়েছি। আবারও পরিচালনা করবো। বাজারে অতিরিক্ত দামে ডাব বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পিরোজপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসানুল কবির জানান, ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যেন নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ বিক্রি না করে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, অতিরিক্ত দামে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের ডাব চাষে উৎসাহিত করার চিন্তাও চলছে, যাতে ভবিষ্যতে সংকট এড়ানো যায়।

এস এম হাসিব / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




হৃদয়ের লড়াইয়ের মাঝেও বিপর্যস্ত টাইগাররা, জয়ের জন্য বাকি ১২৯ রান

লঙ্কানদের দেওয়া ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এদিনও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেছেন মিডল অর্ডারের ভরসা তাওহিদ হৃদয়। ইনিংসের চাপের মাঝে ঠান্ডা মাথায় ৭৫ বলে তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি। কিন্তু ফিফটির পর আর বেশি সময় টিকতে পারেননি তিনি। দুর্দান্ত এক ইনসুইংয়ে তাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন দুশমন্থা চামিরা। হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ৭৮ বলে ৫১ রান, যা দলের স্কোরবোর্ডে কিছুটা স্বস্তি যোগালেও ম্যাচে জয়ের আশা এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জ।

৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৫৭ রান। হাতে আছে মাত্র ৪ উইকেট, বাকি ১২৯ রান তুলতে হবে শেষ ১৭ ওভারে।

এই রান তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় টাইগাররা। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে ১৫ রান উঠলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আসিথা ফার্নান্দোর ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ১৩ বলে করেন ১৭ রান।

তামিমের বিদায়ের পর তিনে নামেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ওপর ছিল বাড়তি দায়িত্ব, কিন্তু হতাশ করেন তিনিও। চামিরার গুড লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরেন কোনো রান না করেই। দলের বিপদ বাড়ে তখনই।

২০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টায় নামেন এনামুল হক বিজয় (ইমন) ও হৃদয়। দুজন মিলে জুটি গড়ার ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেননি। ভেল্লালেগের এক ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ধরা পড়েন ইমন। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ২৮ রান।

পরবর্তীতে হৃদয়ের সঙ্গে উইকেটে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার ইনিংসও থেমে যায় হঠাৎ এক ভুল শটে। ২৫ বলে ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই অধিনায়ক।

এরপর ছয় নম্বরে নেমে সুযোগ পান শামীম হোসেন। তার উইকেটে থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। হাসারাঙ্গার বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি।

একদিকে হৃদয় চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আরেকপ্রান্তে ব্যর্থতার মিছিলেই ডুবেছে বাংলাদেশ। এখন জয় পেতে হলে প্রয়োজন বড় কোনো অলৌকিক জুটি কিংবা ব্যাটিং ইউনিটের প্রত্যাবর্তন। হাতে রয়েছে কেবল ৪ উইকেট, লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য প্রয়োজন আরও ১২৯ রান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ‘আরোহন’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বরিশালে নবগঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরোহন’-এর আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির সদস্য সচিব লাবণ্য রহমান জানান, “জেলা প্রশাসককে আমাদের সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করতেই এই সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মহোদয় আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন এবং যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, ‘সৃজনশীলতায় সৃষ্টিশীল অঙ্গন’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’-এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অরাজনৈতিক ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরোহন’ গত ৪ জুলাই আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি ২৮ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

সংগঠনের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “আমরা সত্যকে সত্য বলার সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যেভাবে কলুষতা ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আরোহন চায় ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরি করতে।”

জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন এ সময় বলেন, “বরিশালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বরাবরই গর্বের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিছু বিরোধ রয়েছে। আমি আশা করি ‘আরোহন’ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রাখবে এবং বরিশালের সাংস্কৃতিক জগতে নতুনত্ব নিয়ে আসবে।”

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন হোসেন, সদস্য সচিব লাবণ্য রহমানসহ আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে বরিশালে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি

নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে এলেও সরকার তাদের দাবি পূরণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে তারা চরম অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন—
১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করা,
২. নিয়োগে ১৪তম গ্রেড প্রদান,
৩. ইনসার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
৪. টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান,
৫. ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা,
৬. পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক এ কে এম মইনুদ্দিন খোকন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি জিয়াউল হাসান কাবুলসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

তাদের দাবি, স্বাস্থ্যখাতে মাঠপর্যায়ে এই বিপুল সংখ্যক জনবল দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। অথচ তাদের পেশাগত মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কাঠামো আজও অবহেলিত। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলে জানান তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বৈরী আবহাওয়ায় ভোলা থেকে ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

দক্ষিণাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা জেলার অভ্যন্তরীণ ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এর মধ্যে ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটটি চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ভোলা নদী বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানান, আবহাওয়ার অবনতির কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সংকেত দেখানো হলেও, ভোলার বেশ কয়েকটি রুটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

বন্ধ থাকা রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেওলতখান-আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, বেতুয়া-ঢাকা, হাতিয়া-মনপুরা, চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন, হাতিয়া, মনপুরা এবং তজুমদ্দিন থেকে ঢাকাগামী রুটগুলো। তবে ভোলা-ঢাকা সরাসরি রুটে নৌযান চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

অসহায় যাত্রীরা জানান, চার দিন ধরে এই অবরোধে তারা আটকে পড়েছেন। ভেলুমিয়া এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, “ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুট বন্ধ থাকায় মেয়ের বাড়ি যেতে পারছি না। জরুরি কাজ থাকলেও আবহাওয়া ঠিক না হলে যাওয়া সম্ভব না।” ঢালচরের মুসলিম মিজি জানান, “আমাদের রুটের ট্রলার বন্ধ। প্রয়োজনেও কোথাও যেতে পারছি না, খুব অসহায় লাগছে।”

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় টানা বর্ষণ হচ্ছে। এই বৃষ্টি আগামী দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, বরিশাল-ঢাকা বা বরিশাল-ভোলা রুটে এখনো লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়নি। নদী বন্দরে শুধুমাত্র ১ নম্বর সংকেত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকা রুটগুলোয় নৌযান চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




প্রতিরক্ষা সচিবের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, আইএসপিআরের সতর্কবার্তা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের ছবি ও দাপ্তরিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল সচিবের নাম ভাঙিয়ে মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

আইএসপিআর জানায়, প্রতারকরা ০১৩৩৭-৪০৯৩১৮ এবং ০১৩৩৯-০৫৪০০৮ নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ যদি এমন ঘটনার শিকার হন, তবে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম