ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা

দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২২৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম জানান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আযীযুর রহমান কায়েদ প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় এবার পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার দারুন্নাজাত আলিয়া মাদরাসায় পাসের হার ছিল ৯৬ শতাংশ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় ৯৭ শতাংশ। গড় ফলাফলে এনএস কামিল মাদরাসা সবার শীর্ষে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও জেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।

  • ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২২ জন অংশগ্রহণ করে ২১২ জন উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১৫ জনের মধ্যে ২১২ জন পাস করে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
  • ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩২ জন পাস করে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পায়।
  • কুতুবনগর আলিম মাদরাসা থেকে ৩৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৮১ জন, তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার বলেন, “জেলার সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আজকেও একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি।”

উল্লেখযোগ্য ফলাফল ও উদ্যোগে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষা অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।




বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসকের টেস্ট বাণিজ্য ও ভুল ওষুধের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গাণিতিক চিহ্ন ব্যবহার করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের টেস্ট বাণিজ্যে নিয়োজিত থাকার এবং রোগীর ব্যবস্থাপত্রে একই ওষুধ দুইবার লেখার মাধ্যমে ভুলভাল চিকিৎসা সেবা দেওয়ার।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা হাসপাতালের বাইরে থাকা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে এক শ্রেণীর চিকিৎসকরা গোপনে কমিশন বাণিজ্য করছেন। রোগীর টেস্টের ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর ফলে রোগীরা বাধ্য হয় ওই সেন্টারে টেস্ট করাতে, অন্যত্র গেলে হয়রানির শিকার হন।

ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শাহাদাত মৃধা নামে এক ব্যক্তি জানান, তার মামিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক টেস্টের জন্য ‘৭’ নাম্বারের গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠান। অন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গেলে রোগীর প্রতি গরম আচরণ করা হয় এবং ভুল ওষুধও দেওয়া হয়।

গত ২০২২ সালে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়াও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ডা. মনিরুজ্জামান রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপির সমর্থক দাবি করে ক্ষমতার প্রভাব বজায় রেখেছেন।

অভিযুক্ত ডা. মনিরুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভুলভাল ওষুধ লেখার কথা স্বীকার করেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে এবং প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




এসএসসি ফল: পাসের হারে শীর্ষে রাজশাহী, সবচেয়ে কম বরিশাল

২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলে পাসের হার সামগ্রিকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৪৫ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের ৮৩.০৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পাসের হার বিবেচনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, যেখানে ৭৭.৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার পাওয়া গেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে, যা মাত্র ৫৬.৩৮ শতাংশ।

পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ডের পাসের হার ছিল:

  • যশোর: ৭৩.৬৯%
  • চট্টগ্রাম: ৭২.০৭%
  • সিলেট: ৬৮.৫৭%
  • ঢাকা: ৬৭.৫১%
  • দিনাজপুর: ৬৭.০৩%
  • কুমিল্লা: ৬৩.৬০%
  • ময়মনসিংহ: ৫৮.২২%

এসএসসি ও সমমানের এই পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত চলে।

পর্যালোচকরা বলছেন, ফলাফলের এই পতন বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, কোভিড পরবর্তী শিক্ষার প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি অন্যতম। তবে শিক্ষাবোর্ডগুলো ফল উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করছে।

এসএসসি ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।

এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুলাই এ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ৭ জুলাই আদেশ ঘোষণার জন্য ১০ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়। আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু নাগরিক হতাহত হন। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিকল্পিত ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




এসএসসিতে ১৩৪ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বড় অশনিসঙ্কেত। গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪টিতে, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৮৩টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে এই তালিকায়।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড একযোগে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠান। যেখানে গত বছর শতভাগ পাসের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ২ হাজার ৯৬৮টি প্রতিষ্ঠান। এই হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, শতভাগ সফলতার হারেও বড় ধস নেমেছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “বাস্তব মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য ফলাফলে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।”

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ফলাফলে এমন নেতিবাচক চিত্র শিক্ষার মান, প্রস্তুতি, শিক্ষক স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। তাই এসব শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের দাপট, ছেলেদের ছাড়িয়ে এগিয়ে জয়জয়কার

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আবারও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে মেয়েরা। পাসের হার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের দিক—সবক্ষেত্রেই ছাত্রীদের আধিপত্য স্পষ্ট। শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ ও অগ্রগতির আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছে এই সাফল্য।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছাত্রীদের অগ্রগতি প্রায় ৬ শতাংশ।

জিপিএ–৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী, যেখানে ছেলেদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ, ছাত্রীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন এবং ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র।

গত কয়েক বছর ধরেই বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ মনোযোগ—এইসব কিছুর সম্মিলিত ফলেই মেয়েরা এ সফলতা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শিক্ষায় মেয়েদের এই অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




দাখিলে পাসের হার ৬৮.০৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯,০৬৬ শিক্ষার্থী

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় (এসএসসি সমমান) পাশ করেছেন ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এই ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এবারও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬৫.৮৮ শতাংশ। টানা ১০ বছর ধরে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি হারে পাস করছে।

জিপিএ-৫ এর চিত্র:

  • মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে: ১,৩৯,০৩২ জন
  • দাখিল বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে: ৯,০৬৬ জন
  • গত বছর (২০২৪) মোট জিপিএ-৫ ছিল: ১,৮২,১২৯ জন

এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। ফলে ফলাফলের এই নিম্নগামী প্রবণতা শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল আরও উন্নত করতে পাঠদানের মান উন্নয়ন, পর্যালোচনা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে।

এস এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




কলাপাড়ায় আহত কাল নাগিনী সাপের এক্সরে, উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আহত একটি কাল নাগিনী সাপকে চিকিৎসা সেবা দিতে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ‘এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’। ভেটেনারি সার্জনের পরামর্শে প্রথমবারের মতো সাপটির এক্সরে করানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ আহসান।

গতকাল রাত ১০টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সাপটিকে এনে এক্সরে করা হয়। এক্সরে রিপোর্টে দেখা যায়, সাপটির শরীরের মাঝামাঝি হাড়ে ফাটল ধরেছে।
এর আগে সকালেই পটুয়াখালীর পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার পূজাখোলা এলাকার দফাদার বাড়ি সংলগ্ন একটি স্থানে সাপটিকে লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে এনিমেল লাভারস এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে রক্ষা করে।

তাদের সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত কাল নাগিনী সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট এবং এর গায়ে সবুজ, লাল ও কালো রঙের ডোরাকাটা স্পষ্ট ছিল। এটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং মৃদু বিষধর প্রজাতির সাপ।

টিম লিডার বায়জিদ আহসান জানান, “আমরা কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদিক স্যারের সহায়তায় সাপটির এক্সরে করাতে পেরেছি। এক্সরে রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সাপটিকে ঢাকায় ভেটেনারি সার্জনের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”

এমন উদ্যোগ দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন, তবে পরিবেশ সচেতন মহল এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করতে হলে সামাজিক সচেতনতা এবং এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকল্প নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে তারা ভয় ও আতঙ্কের কারণে সাপ দেখলেই মেরে ফেলতেন। কিন্তু এখন অনেকে বুঝতে পারছেন পরিবেশে সাপের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব। এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’র মতো সংগঠনের কার্যক্রমে গ্রামাঞ্চলেও বন্যপ্রাণী রক্ষায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশবিদরা বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি প্রাণী রক্ষা নয়, বরং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার একটি বড় দৃষ্টান্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৫৪ বছরেও পাকা হয়নি কুয়াকাটার মুসুল্লীয়াবাদ সড়ক

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভা সংলগ্ন মুসুল্লীয়াবাদ থেকে সাধুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তাটি আজও পাকা হয়নি। প্রতি বর্ষায় এই সড়কে সৃষ্টি হয় অসংখ্য গর্ত, জমে হাঁটু সমান কাদাপানি, আর তাতেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় অন্তত ১০টি গ্রামের সাধারণ মানুষকে।

সরেজমিন দেখা যায়, লতাচাপলী ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে রয়েছে মুসুল্লীয়াবাদ সিনিয়র মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীশ্রী অনুকূল ঠাকুরের সৎ সংঘ মন্দির। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষের চলাচল এই সড়কে। বর্ষা এলেই রাস্তার খানাখন্দ ও কাদার কারণে চলাচল হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানায়, “বর্ষার সময় গর্তে পড়ে ভিজে যাই। অনেক দিন ভেজা কাপড়েই ক্লাস করেছি।” অন্য শিক্ষার্থীরাও জানায়, ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে এখনো এ রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। একের পর এক সরকার এসেছে, জনপ্রতিনিধি বদল হয়েছে, কিন্তু এই রাস্তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মুসল্লি বলেন, “এলাকাবাসীর দাবিতে বারবার আবেদন করেছি চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আমরা বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি।”

এ ব্যাপারে এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান জানান, “এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বরাদ্দের অভাবে এখনো পাকা করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বরাদ্দ এলেই দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে রাস্তার এমন দুরাবস্থায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কৃষক ও দিনমজুরসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাস্তা পাকা করে জনদুর্ভোগ লাঘবে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অবিরাম বৃষ্টিতে পটুয়াখালীতে জলাবদ্ধতা, বিপর্যস্ত জনজীবন

সপ্তাহব্যাপী টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পটুয়াখালী জেলায় দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিম্নাঞ্চলসহ বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। ডুবে গেছে সড়ক, বসতবাড়ি, কৃষি জমি, এবং মাছের ঘের ও পুকুর। এর ফলে ব্যাপক পরিমাণ মাছ ভেসে গেছে, কৃষিকাজে এসেছে স্থবিরতা।

পটুয়াখালী পৌরসভার বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, “অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। টানা বৃষ্টিতে আমাদের ঘরের মেঝেতে হাঁটু সমান পানি উঠে গেছে।” গলাচিপা পৌরসভার সোহাগ রহমান ও কলাপাড়ার মিসবাহউদ্দিনও একই রকম ভোগান্তির কথা জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত সাত দিনে জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু সেলনায় বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৮.৩ মিলিমিটার।

প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। নীলগঞ্জের কৃষক সাইফুল বলেন, “আউশ ধানের জন্য মাঠ প্রস্তুত করলেও বীজ রোপণ করা যাচ্ছে না।” একই এলাকার সবজি চাষি এলেম গাজী জানান, “ক্ষেতে পানি জমে গেছে, ফলে সবজির গাছের গোড়ায় পচন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।”

অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। এর জেরে গত ১০ দিন ধরে পটুয়াখালী উপকূলের প্রায় ১ হাজারের বেশি ট্রলার ও প্রায় ২ হাজার জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারেননি।

মহিপুর-আলীপুর এলাকার একাধিক আড়ৎদার জানান, মৌসুম চলমান থাকলেও মাছের সরবরাহ নেই বললেই চলে। মাছের বড় বাজার আলীপুর-মহিপুরে আমদানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

কক্সবাজারের ফিশারিজ মালিক মনির জানান, “জেলেরা ঘাটে বসে অলস সময় পার করছেন, তাদের আয় নেই অথচ খরচ থেমে নেই। এতে করে ঋণের বোঝা বাড়ছে।”

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। জেলেদেরকে উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, চাকরিজীবী এবং শিক্ষার্থীরা। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অনেকেই বাধ্য হয়ে হাঁটু পানি পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। ছোট নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে অনেক এলাকায়।

পটুয়াখালীর বিশাল জনগোষ্ঠী এখন আবহাওয়ার উন্নতির দিকে তাকিয়ে আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম