নিষিদ্ধ পাহাড়ি ট্রেইলে প্রাণ গেল দুই তরুণের, আহত ৩

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পাহাড়ি ট্রেইল ‘মেলখুম’ এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন দুই তরুণ পর্যটক। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ ওই অঞ্চলে ঘুরতে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে জোরারগঞ্জ থানাধীন সোনাপাহাড় এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

নিহতরা হলেন—গালিব (২২) ও হৃদয় (২২)। আহত তিনজন হলেন মোহাম্মদ মিয়া, রায়হান ও ফাহিম। তারা বর্তমানে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কারো অবস্থা গুরুতর হলেও এখন সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ফেনী থেকে আসা তিন তরুণ এবং স্থানীয় আরও দুইজন মিলে ভ্রমণে বের হন মেলখুম ট্রেইলে। এটি বহু আগে থেকেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি জনশূন্য ও বিপজ্জনক পাহাড়ি পথ। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তারা ফেরেননি দেখে বুধবার সকালে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। দুপুর আড়াইটার দিকে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গালিব ও হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন তিতাস বলেন, “এলাকাটি একাধিক মৃত্যুর ঘটনার পর দুই বছর আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও কিছু তরুণ এসব সতর্কতা উপেক্ষা করেই বিপদের মুখে পড়ছেন।”

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজু সিংহ জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, “প্রশাসনের তরফ থেকে সোনাপাহাড় মেলখুম ট্রেইলে না যাওয়ার জন্য বহুবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমরা সবাইকে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি—নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেন কেউ এসব এলাকায় প্রবেশ না করেন। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, অতীতে এই ট্রেইলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার নজির থাকলেও পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




‘বিগ বস ১৯’-এ রেকর্ড পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সালমান খান!

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ছাড়া যেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ ভাবাই যায় না। প্রতি সিজনে তার স্বভাবসুলভ উপস্থাপনা এবং দৃঢ় উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এনে দেয় আলাদা জনপ্রিয়তা। এবার ‘বিগ বস ১৯’–এর জন্য পারিশ্রমিকের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়ছেন ভাইজান।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে সম্প্রচার শুরু হবে ‘বিগ বস ১৯’। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চলবে এই রিয়েলিটি শো। এ সিজনের জন্য সালমান খান নিচ্ছেন ৩০০ কোটিরও বেশি পারিশ্রমিক! এর আগের সিজন অর্থাৎ ‘বিগ বস ১৮’-এর জন্য তিনি নিয়েছিলেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, আর ‘বিগ বস ১৭’-এ নিয়েছিলেন ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার পারিশ্রমিক বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি সালমান খান বা শো কর্তৃপক্ষ। তার পরও এই বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক ঘিরে ইতোমধ্যেই তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে ভক্ত ও মিডিয়া মহলে।

এদিকে সালমান খানকে সবশেষ দেখা গেছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘সিকান্দার’ সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেন রাশমিকা মান্দানা। তবে ছবিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি এবং বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

সিনেমায় একের পর এক চ্যালেঞ্জ থাকলেও ‘বিগ বস’-এর মতো রিয়েলিটি শোয়ে সালমান খানের উপস্থিতিই যেন বাড়িয়ে দেয় অনুষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও টিআরপি। আর তার এই আকাশচুম্বী পারিশ্রমিকও সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরগুনায় অস্ত্রোপচারে ভয়াবহ ভুল: রোগীর পেটে ৭ ইঞ্চি ফরসেপ রেখেই সেলাই!

বরগুনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটে ৭ ইঞ্চি লম্বা ফরসেপ (চিকিৎসা যন্ত্র) রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের এক আবাসিক সার্জনের বিরুদ্ধে। সাত মাস পর ফরসেপ অপসারণ করা হলেও, বর্তমানে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন ৭০ বছর বয়সী কহিনুর বেগম নামের এক নারী।

জানা যায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী গ্রামের কহিনুর বেগম মেয়ের বাড়ি বেড়াতে এসে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর তাকে বরগুনা পৌর শহরের ‘কুয়েত প্রবাসী হাসপাতাল’-এ ভর্তি করা হয়। সেখানেই জরায়ুর সমস্যার কথা জানিয়ে ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর অস্ত্রোপচার করেন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. ফারহানা মাহফুজ এবং হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসক ডা. সাফিয়া পারভীন।

অপারেশনের পর থেকেই কহিনুর বেগমের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে করার পর তার পেটে কাঁচি সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়। গত ১৮ জুন সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফরসেপটি অপসারণ করা হয়। তবে ততক্ষণে তার দেহে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং খাদ্যনালী কেটে ফেলে বিকল্প পথ তৈরি করতে হয়।

রোগীর জামাতা হুমায়ুন বলেন, “আমার শাশুড়ির শরীরের মধ্যে কাঁচি রেখে চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন তিনি মৃত্যুর মুখে। আমরা বিচার চাই।”

রোগীর মেয়ে ফাহিমা বেগম বলেন, “ভুল চিকিৎসার কারণে আমার মা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার খাবার খাওয়ার পথ কেটে ফেলতে হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেব।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক গাজী (মন্টু) দাবি করেন, অপারেশনের পর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি চেক করে কিছু হারানোর প্রমাণ মেলেনি। তবে রোগীর অবস্থা জানার পর তিনি বরিশালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সার্জন ডা. ফারহানা মাহফুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। বরগুনার সব অনিয়মতান্ত্রিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবী করছেন সচেতন মহল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে শরীরে দেখা দিতে পারে যেসব উপসর্গ

শরীরের সঠিক গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ভিটামিন ডি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার কাজে ভূমিকা রাখে। সাধারণত রোদে ঘোরাঘুরি করলে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে, তবে অনেকেই পর্যাপ্ত রোদে না যাওয়ায় কিংবা খাদ্যাভ্যাসে ঘাটতির কারণে ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভোগেন। এই অভাব শরীরে নানা উপসর্গের মাধ্যমে জানান দেয়, বিশেষ করে ত্বক ও পায়ের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

ভিটামিন ডি’র ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হলো ধীরে ক্ষত নিরাময়। এটি ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবন ও ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন না থাকলে সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা ঘা সহজেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

চুলকানি বা ত্বকের শুষ্কতা আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। ভিটামিন ডি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রুক্ষতা বা একজিমার মতো সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে, চুলকায় ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভিটামিন ডি’র অভাবে ত্বক হয়ে যেতে পারে নিষ্প্রভ ও ফ্যাকাশে। এই পুষ্টি উপাদান মেলানিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও রং ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শুধু ত্বক নয়, পায়ের ব্যথা কিংবা দুর্বলতাও ভিটামিন ডি’র অভাবের প্রভাব হতে পারে। বিশেষ করে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা নিচে নামতে সমস্যা হলে তা পেশি দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি হাড়ের গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেট রোগ দেখা দিতে পারে।

আরেকটি লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ঘাম। বিশেষ করে মাথা বা মুখে অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া ভিটামিন ডি ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এটি ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত করে, যা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

এইসব উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত রোদে যাওয়া, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি গ্রহণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে ‘বিআইটি’ মডেলের মতো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠা গঠনের একদফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নেন। প্রবল বর্ষণের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন, ফলে যান চলাচলে সৃষ্টি হয় তীব্র বাধা।

ঘটনার শুরুতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও দুপুর ২টার দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরানোর চেষ্টা করলে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যার মধ্যে ২৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যরাও হামলা চালিয়েছেন। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের কারণে তিনটি বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন ধৈর্য এবং সহনশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে। যদিও পুলিশের লাঠিচার্জের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং জানিয়ে দেন যে তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ২০ মে থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির আওতায় ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল বিভাগজুড়ে চলছে বালু লুট, নদী ভাঙন-পরিবেশে ভয়াবহ বিপর্যয়

বরিশাল বিভাগের নদনদীগুলো যেন এখন বালু খেকোদের দখলে। দিনের পাশাপাশি রাতেও চলে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অন্তত ৭০টি স্পটে প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে তুলে নেওয়া হচ্ছে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। আর এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, নদীপ্রবাহ ও তীরবর্তী জনজীবন।

কীর্তনখোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, বলেশ্বর, পায়রা—এসব নদীতে বালু উত্তোলনের চিত্র এখন প্রকাশ্য। বরিশাল শহরের পাশের চরমোনাই এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ড্রেজিং; রাতভর চলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। সকাল হতেই জাহাজ বোঝাই বালু চলে যাচ্ছে নানা গন্তব্যে। শ্রমিকরাও অকপটে বলছেন—তাদের কাজের কোনো অনুমোদন নেই।

বরিশালের হিজলার নয়াভাঙনী নদীর গুয়াবাড়িয়া, হরিনাথপুর কিংবা মেঘনা নদীর গঙ্গাপুর, বদরপুর, আবুপুর, কোদালপুরে চলছে একই তাণ্ডব। ভোলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনাতেও চলছে নিয়ন্ত্রণহীন বালু তোলার হিড়িক। পটুয়াখালীর আগুনমুখা, পিরোজপুরের বলেশ্বর ও চরখালী নদী থেকেও চলছে একই অবস্থা।নদীভাঙনের কারণে অনেক এলাকায় বসতভিটা, কৃষিজমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। হিজলার কৃষক আল আমিন বলেন, “নদী ভাঙনে আমার ঘর নেই, জমি নেই। প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে। প্রশাসন যদি কঠোর না হয়, আমরা সব হারিয়ে ফেলব।”

স্থানীয়রা বলছেন, শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত এই বালু সিন্ডিকেটে। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও সেগুলো তেমন কাজে আসছে না।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রাতের বালু উত্তোলনের তথ্য আমরা নিচ্ছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছারও জানিয়েছেন, “নদী সুরক্ষায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসন ছাড় দেবে না।”

সুজনের সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, “এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি।”

অবস্থা এমন যে, এখনই কঠোর আইন প্রয়োগ ও দায়ীদের গ্রেপ্তার ছাড়া বরিশাল বিভাগের নদী ও জনপদকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

এস এম/বার্তা২৪.কম




সুপ্রসিদ্ধ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সাত দিনের রিমান্ড বৃদ্ধি

যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সাত দিনের রিমান্ড বাড়িয়ে মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল ওয়াহাবের আদালতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে কারাগার থেকে সুব্রত বাইন হাজির ছিলেন।

গত ২৭ মে অস্ত্রসহ সুব্রত বাইন, তার সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ চারজনকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এরপর অস্ত্র আইনের মামলায় তার আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ২৩ জুন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যুবদল নেতা আরিফ হত্যা মামলায় তার গ্রেপ্তার দেখান।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২১ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আরিফ সিকদার ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক।

মৃত আরিফের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ। মামলার অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন মো. ইয়াছিন, মো. আসিফ হোসেন, মো. অনিক, মো. মিরাজ, মো. আশিক, মো. ইফতি, জাফর ইমাম তরফদার মন্টু, রতন শেখ ও আলিফ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




মিরাজের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, সিরিজ হারেও তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল

পাল্লেকেলেতে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯৯ রানের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিরিজ হেরে গেলেও দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তরুণদের মধ্যে আশার আলো দেখছেন। সিরিজ হার সত্ত্বেও মিরাজ বিশ্বাস করেন, আগামী দিনে তরুণ খেলোয়াড়রা ভালো করবে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজ বলেন, “আমাদের দল এখনো তরুণ এবং নতুন খেলোয়াড় এসেছে। আমরা সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখি। সময় দিতে হবে। সুযোগ পেলে তারা একদিন ভালো ফলাফল দেখাবে।”

এই সিরিজে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ও তানভীর ইসলাম। পাশাপাশি দলে আছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা যেমন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং লিটন দাস। প্রায় এক দশক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকা মিরাজও জানালেন, ধারাবাহিকতা এখনও অর্জিত হয়নি।

শেষ ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ২০ ওভারে ১০২ রানে ৩ উইকেট হারানো সত্ত্বেও পরবর্তীতে ঝড়ে গিয়েছিল দলের ব্যাটিং লাইন। মিরাজ বললেন, “মাঝের ওভারগুলোতে কোনো জুটি গড়ে উঠেনি, সেটাই মূল সমস্যা ছিল। শুরু থেকেই জুটি গড়তে পারিনি।”

নিজে ২৮ রান করে খেলেছেন মিরাজ, তিনি জানান, “জয় অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। আমি ও হৃদয় ইতিবাচক খেলতে চেষ্টা করছিলাম এবং শেষ ১০ ওভার জয়ের দিকে যাবার চেষ্টা করেছি।”

সিরিজ শেষে হতাশার ছাপ থাকা সত্ত্বেও মিরাজের এই আশাবাদ তরুণদের প্রতি বিশ্বাস ও দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতার বার্তা দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




মায়ামিতেই থাকছেন মেসি, চুক্তি নবায়নের পথে কিংবদন্তি

৩৮ বছর বয়সেও ফুটবল দুনিয়ায় নিজের ম্যাজিকাল পারফরম্যান্স দিয়ে চমকে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। তার পায়ের জাদু এখনো অমলিন। আর এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত খবর—ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও আর্জেন্টিনার শীর্ষ ক্রীড়া গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মায়ামি ক্লাবের সঙ্গে নতুন এক বছরের চুক্তির ব্যাপারে দুই পক্ষই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ পর্যন্ত মায়ামিতেই খেলবেন মেসি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে ক্লাব ফুটবলে তিনি ইন্টার মায়ামির জার্সিতে খেলছেন—এমন খবরেই মুগ্ধ তার অগণিত ভক্তরা।

চলতি মৌসুমে মায়ামির হয়ে অসাধারণ ফর্মে আছেন মেসি। মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে জোড়া গোল সহ নানা ম্যাচে দারুণ অবদান রেখে চলেছেন। বয়স তাকে থামাতে পারেনি—এটাই বারবার প্রমাণ করছেন তিনি। সৌদি ক্লাব আল-আহলি থেকে বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব পেলেও তা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাটাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

শুধু মেসিই নয়, তার জাতীয় দলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলকেও দলে ভেড়াতে চায় ইন্টার মায়ামি। ডি পল বর্তমানে খেলছেন স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে। মেসির সঙ্গে ডি পলের বন্ধুত্ব ও মাঠের বোঝাপড়াকে কাজে লাগিয়ে মায়ামি এক নতুন যুগের সূচনা করতে চায়।

তবে ডি পলের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তিনি রাজি হলে অ্যাতলেটিকোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে মায়ামি কর্তৃপক্ষ। তবে এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার মূল চাবিকাঠি হলো মেসির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন।

এমএলএস মৌসুমের মাঝপথে থাকা মায়ামি বর্তমানে ইস্টার্ন কনফারেন্সের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এখন লক্ষ্য এমএলএস ও আসন্ন লিগস কাপ। এই দুটি প্রতিযোগিতায় মেসির উপস্থিতি দলকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মেসি তার প্রিয় ক্লাবেই থাকছেন। সামনে নতুন বিশ্বকাপ, পাশে প্রিয় সতীর্থেরা—সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে আবারও আলো ছড়াতে প্রস্তুত লিওনেল মেসি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




“আর পালানোর পথ নেই শেখ হাসিনার”: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

গণবিক্ষোভ দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিচার এখন সময়ের দাবি—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুধবার (৯ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব বলেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সরাসরি আন্দোলনকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর কথাও উঠে এসেছে। এমন প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক মহলে তার বিচারের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।”

শফিকুল আলম লেখেন, “১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যেভাবে সহিংসতা ও দমননীতি চালানো হয়েছে, তার দায় শেখ হাসিনা কোনোভাবেই এড়াতে পারবেন না। তার নির্দেশে যারা এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারাও শাস্তির বাইরে থাকবে না। শেখ হাসিনার পালানোর আর কোনো পথ নেই।”

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই গণভবন থেকে করা একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়—“যেখানেই ওদের পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে।” এই কথোপকথন যাচাই করেছে বিবিসির ‘আই ইনভেস্টিগেশন’ ইউনিট। সরকারি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। অডিও ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে।

শফিকুল আলম বলেন, “এই প্রমাণগুলোর ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হওয়া উচিত। এটা কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক বিচারও বটে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম