“নিজ দলের দুর্নীতিবাজরাও রেহাই পাবে না” — যশোরে হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার যশোরে এক পথসভায় বলেন, “যারা দুর্নীতি করবে, এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। এমনকি দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যশোর জজকোর্ট মোড়ে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় তিনি বলেন, এনসিপি কারও ‘কোটি কোটি লোক’ থাকার ভয় পায় না। “এনসিপি এমন নেতৃত্ব চায় যারা জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করবে,” বলেন তিনি।
জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রার ১১তম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের আলাপ যদি টেবিলে না থাকে, তবে রাজপথেই আন্দোলন হবে। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের আধিপত্য মেনে নেবে না।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা বিচার, সংস্কার ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। বিচার ও সংস্কার ছাড়া জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। যারা এই বিষয়গুলো ছাড়া নির্বাচন চায়, তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়।”
তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “৫৪ বছরেও দেশে স্বাধীন, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। আমরা চাই পুলিশ, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র কোনো দলের অনুসারী না হয়ে জনস্বার্থে কাজ করুক। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করুন, গুমের রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন।”
যশোরের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিট এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি, আইসিইউও চালু হয়নি। এখানকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় যেতে হয়। আমরা চাই যশোরের মানুষ যশোরেই চিকিৎসা এবং শিক্ষা পাক।”
তিনি ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা, বেনাপোলের দুর্নীতি ও মাদক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে ছাত্র ও তরুণ সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভাটি পরিচালনা করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, সকাল ১২টায় শহরের রেলরোড এলাকায় চার খাম্বার মোড়ের একটি হোটেলে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা। জুমার নামাজ আদায়ের পর তারা পদযাত্রায় অংশ নেন, যা মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়। পরে তারা খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
পদযাত্রায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং পুরো সময়জুড়ে কর্মসূচিতে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়।








