জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন সাবেক আইজিপি, ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী

জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া বক্তব্যে মামুন বলেন, “জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলনের সময় আমাদের বিরুদ্ধে যে হত্যা-গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। আমি নিজেকে দোষী হিসেবে মেনে নিচ্ছি এবং রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতের সামনে সব তথ্য তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহযোগিতা করব।”

এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন করেন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।

এর আগে একই দিনে, ২০২৫ সালের আলোচিত জুলাই গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এই মামলার মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।




‘দেশের মালিক জনগণ; জনগণ যাদের চাইবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে’ — ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে জনগণ। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক দেশের জনগণ। তারা যাকে গ্রহণ করবে, তারাই দায়িত্ব পাবে এবং দেশ পরিচালিত হবে।”

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় ডা. জাহিদ হোসেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, “সাংবাদিকদের রক্তচক্ষু দেখানোর মতো ভাষা আপনি প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু আপনি একবারও ভাবেননি—এই ভাষা স্বৈরশাসকদের। এটাই সেই শাসকদের ভাষা, যারা কথায় কথায় গুম করত।”

তিনি আরও বলেন, “মাহমুদুর রহমান, শফিক রহমানের মতো সিনিয়র সাংবাদিকেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৬২ জন সাংবাদিক গুম হয়েছেন। আজ আবার সেই ভাষা ও আচরণ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এটি কি সঠিক? যদি আগামীর বাংলাদেশের কথা বলেন, তাহলে পুরনো মানসিকতা নিয়ে তা সম্ভব নয়।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।




“ফ্যাসিস্ট আক্রমণে জড়িতদের দলগতভাবে বিচার হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে, এবং একইসঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনা দ্য রেসপনসিবল ফর দ্য কিলিং অব থাউজ্যান্ডস অব পিপল—তিনি এককভাবে গণহত্যার জন্য দায়ী। তার বিচার শুরু হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যারা এই গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট আক্রমণের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করেছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের হয়ে যারা যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিজে ১১২টি মামলার আসামি ছিলাম এবং ১৩ বার জেলে গিয়েছি।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “যত দ্রুত দেশকে নির্বাচনের ট্র্যাকে তোলা যাবে, তত দেশের মঙ্গল। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি বিএনপি। এই দলই একদলীয় শাসন থেকে দেশকে এনে দিয়েছে বহুদলীয় এবং সংসদীয় গণতন্ত্র।”

সংস্কার ও নির্বাচনের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কার এবং নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। সংস্কারের দাবি আমরাই তুলেছি এবং এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছি। যারা ভাবছে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই, তারা আবার চিন্তা করুন। দেশের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন, যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে।”

মির্জা ফখরুল এ সময় দেশকে রক্ষা করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা

দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২২৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম জানান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আযীযুর রহমান কায়েদ প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় এবার পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার দারুন্নাজাত আলিয়া মাদরাসায় পাসের হার ছিল ৯৬ শতাংশ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় ৯৭ শতাংশ। গড় ফলাফলে এনএস কামিল মাদরাসা সবার শীর্ষে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও জেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।

  • ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২২ জন অংশগ্রহণ করে ২১২ জন উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১৫ জনের মধ্যে ২১২ জন পাস করে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
  • ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩২ জন পাস করে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পায়।
  • কুতুবনগর আলিম মাদরাসা থেকে ৩৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৮১ জন, তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার বলেন, “জেলার সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আজকেও একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি।”

উল্লেখযোগ্য ফলাফল ও উদ্যোগে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষা অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।




বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসকের টেস্ট বাণিজ্য ও ভুল ওষুধের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গাণিতিক চিহ্ন ব্যবহার করে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের টেস্ট বাণিজ্যে নিয়োজিত থাকার এবং রোগীর ব্যবস্থাপত্রে একই ওষুধ দুইবার লেখার মাধ্যমে ভুলভাল চিকিৎসা সেবা দেওয়ার।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা হাসপাতালের বাইরে থাকা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে এক শ্রেণীর চিকিৎসকরা গোপনে কমিশন বাণিজ্য করছেন। রোগীর টেস্টের ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর ফলে রোগীরা বাধ্য হয় ওই সেন্টারে টেস্ট করাতে, অন্যত্র গেলে হয়রানির শিকার হন।

ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শাহাদাত মৃধা নামে এক ব্যক্তি জানান, তার মামিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক টেস্টের জন্য ‘৭’ নাম্বারের গাণিতিক চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠান। অন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গেলে রোগীর প্রতি গরম আচরণ করা হয় এবং ভুল ওষুধও দেওয়া হয়।

গত ২০২২ সালে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়াও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ডা. মনিরুজ্জামান রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপির সমর্থক দাবি করে ক্ষমতার প্রভাব বজায় রেখেছেন।

অভিযুক্ত ডা. মনিরুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভুলভাল ওষুধ লেখার কথা স্বীকার করেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে এবং প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




এসএসসি ফল: পাসের হারে শীর্ষে রাজশাহী, সবচেয়ে কম বরিশাল

২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলে পাসের হার সামগ্রিকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৪৫ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের ৮৩.০৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পাসের হার বিবেচনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, যেখানে ৭৭.৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার পাওয়া গেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে, যা মাত্র ৫৬.৩৮ শতাংশ।

পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ডের পাসের হার ছিল:

  • যশোর: ৭৩.৬৯%
  • চট্টগ্রাম: ৭২.০৭%
  • সিলেট: ৬৮.৫৭%
  • ঢাকা: ৬৭.৫১%
  • দিনাজপুর: ৬৭.০৩%
  • কুমিল্লা: ৬৩.৬০%
  • ময়মনসিংহ: ৫৮.২২%

এসএসসি ও সমমানের এই পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত চলে।

পর্যালোচকরা বলছেন, ফলাফলের এই পতন বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, কোভিড পরবর্তী শিক্ষার প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি অন্যতম। তবে শিক্ষাবোর্ডগুলো ফল উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করছে।

এসএসসি ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।

এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুলাই এ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ৭ জুলাই আদেশ ঘোষণার জন্য ১০ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়। আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু নাগরিক হতাহত হন। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিকল্পিত ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




এসএসসিতে ১৩৪ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বড় অশনিসঙ্কেত। গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪টিতে, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৮৩টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে এই তালিকায়।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড একযোগে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠান। যেখানে গত বছর শতভাগ পাসের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ২ হাজার ৯৬৮টি প্রতিষ্ঠান। এই হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, শতভাগ সফলতার হারেও বড় ধস নেমেছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “বাস্তব মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য ফলাফলে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।”

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ফলাফলে এমন নেতিবাচক চিত্র শিক্ষার মান, প্রস্তুতি, শিক্ষক স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। তাই এসব শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের দাপট, ছেলেদের ছাড়িয়ে এগিয়ে জয়জয়কার

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আবারও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে মেয়েরা। পাসের হার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের দিক—সবক্ষেত্রেই ছাত্রীদের আধিপত্য স্পষ্ট। শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ ও অগ্রগতির আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছে এই সাফল্য।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছাত্রীদের অগ্রগতি প্রায় ৬ শতাংশ।

জিপিএ–৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী, যেখানে ছেলেদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ, ছাত্রীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন এবং ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র।

গত কয়েক বছর ধরেই বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ মনোযোগ—এইসব কিছুর সম্মিলিত ফলেই মেয়েরা এ সফলতা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শিক্ষায় মেয়েদের এই অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




দাখিলে পাসের হার ৬৮.০৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯,০৬৬ শিক্ষার্থী

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় (এসএসসি সমমান) পাশ করেছেন ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এই ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এবারও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬৫.৮৮ শতাংশ। টানা ১০ বছর ধরে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি হারে পাস করছে।

জিপিএ-৫ এর চিত্র:

  • মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে: ১,৩৯,০৩২ জন
  • দাখিল বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে: ৯,০৬৬ জন
  • গত বছর (২০২৪) মোট জিপিএ-৫ ছিল: ১,৮২,১২৯ জন

এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। ফলে ফলাফলের এই নিম্নগামী প্রবণতা শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল আরও উন্নত করতে পাঠদানের মান উন্নয়ন, পর্যালোচনা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে।

এস এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫