ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ: অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিশেষ দল নয় — রেজাউল করিম

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের নেতারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে মগবাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই; আমরা অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা নিজেদের কর্মীদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, তাদের দেশের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। বরং আসন্ন নির্বাচনে তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।”
ড. রেজাউল দাবি করেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘ ১৫ বছর জনগণের ওপর জুলুম চালিয়ে ক্ষমতায় ছিল। তবে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তাদের লজ্জাজনক বিদায় হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, তারা যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয়, তাহলে তারাও টিকতে পারবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, “২৮ অক্টোবর রাজপথে দিবালোকে মানুষ হত্যা করে যেভাবে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তেমনই বর্বরতা আজও চলছে। তখন ছিল হেলমেট বাহিনী, এখন এসেছে পাথর বাহিনী। মিটফোর্ডে একজন ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে হত্যা করায় এই বর্বরতার প্রমাণ মিলেছে।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ইয়াছিন আরাফাত, হেদায়েত উল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি প্রমুখ।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ভয় পেলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরা চাই একটি নতুন গণবান্ধব প্রশাসন, যারা খুনি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।”
শেষে তিনি দলমত নির্বিশেষে সব মানুষকে “বিপ্লবীদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ” গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।








