ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ: অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিশেষ দল নয় — রেজাউল করিম

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের নেতারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে মগবাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই; আমরা অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা নিজেদের কর্মীদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, তাদের দেশের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। বরং আসন্ন নির্বাচনে তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।”

ড. রেজাউল দাবি করেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘ ১৫ বছর জনগণের ওপর জুলুম চালিয়ে ক্ষমতায় ছিল। তবে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তাদের লজ্জাজনক বিদায় হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, তারা যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয়, তাহলে তারাও টিকতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, “২৮ অক্টোবর রাজপথে দিবালোকে মানুষ হত্যা করে যেভাবে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তেমনই বর্বরতা আজও চলছে। তখন ছিল হেলমেট বাহিনী, এখন এসেছে পাথর বাহিনী। মিটফোর্ডে একজন ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে হত্যা করায় এই বর্বরতার প্রমাণ মিলেছে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ইয়াছিন আরাফাত, হেদায়েত উল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি প্রমুখ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ভয় পেলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরা চাই একটি নতুন গণবান্ধব প্রশাসন, যারা খুনি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।”

শেষে তিনি দলমত নির্বিশেষে সব মানুষকে “বিপ্লবীদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ” গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আরও এক নেতার সেচ্ছায় পদত্যাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আহ্বায়ক সদস্য রাকিবুল হাসান রানা তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এর আগে একই কমিটির আরেক আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ রানা প্রান্ত পদত্যাগ করেছিলেন।

নিজের পোস্টে রাকিবুল হাসান রানা লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা চোখে পড়েনি। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি চরমভাবে আশাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’

রানা জানান, ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাকালে তিনি ভাইদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে দায়িত্ব পালনে নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে ছাত্রদলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের মতো স্বর্ণযুগ ফিরে আসুক, এটাই আমার প্রত্যাশা।’

সবশেষে তিনি বিদায় জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ হাফেজ।’




“ছাত্ররা ঘরে ফিরে যায়নি, জুলাই শেষ হয়নি”— হাসনাত আবদুল্লাহর হুশিয়ারি

ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ছাত্ররা ঘরে ফিরে যায়নি। জুলাই শেষ হয়নি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি চলমান ছাত্র আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনের ব্যস্ত সড়কে ভাঙরি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)-কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

ঘটনার পর যুবদল সংশ্লিষ্ট দুই নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।




ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত দুই নেতাকে যুবদল থেকে আজীবন বহিষ্কার

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ভাঙরি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যার ঘটনায় দুই নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন—যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি। তারা এই হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার আসামি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুবদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। একইসঙ্গে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ঘটনায় কোনো শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে যুবদল।




“বিএনপিও কি লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়?” — প্রশ্ন শিবির নেতার

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাদিক কায়েম লিখেছেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে এবং লাশের ওপর নৃত্য করে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপিও কি এখন সেই একই পথে—‘লাশতন্ত্র’-এর ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে?”

তিনি বলেন, “গোটা জাতি আরেকটি ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করল। শুধুমাত্র চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে—এটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এর মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী চরম আতঙ্কে নিমজ্জিত।”

সাদিক কায়েম আরও বলেন, “রাজনীতির এই পথচলায় আমাদের জন্য পথ খুলে দিয়েছেন জুলাইয়ের সহস্রাধিক শহীদ। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আবু সাঈদ, ওয়াসীম, মুগ্ধ, শান্ত, আলী রায়হানদের আত্মা কি কেঁপে উঠবে না?”

মিটফোর্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। এরই মধ্যে বিএনপির ভূমিকা ও যুবদল নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিবিরের শীর্ষ এই নেতা।




মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জ্ঞাপন করলেন মির্জা ফখরুল

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পাথর মেরে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই নৃশংস ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই পৈশাচিক ঘটনা কেবল একটি জীবনহানিই নয়— এটি নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন। আমাদের দলের নীতি, আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সন্ত্রাস এবং বর্বরতার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরাধী যেই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পরেও দেশে এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তার লাভ করবে, যা সমাজকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।”

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়।”

মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে সোহাগ হত্যার ভিডিও। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে।




গ্লোবাল সুপার লিগে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ সাকিবদের

গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) দ্বিতীয় আসরের দ্বিতীয় ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারের মুখ দেখেছে সাকিব আল হাসানের দল দুবাই ক্যাপিটালস। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বৃষ্টি বিঘ্নিত এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি হোবার্ট হ্যারিকেন্স ৭ উইকেট ও ১৮ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয়।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রান তোলে দুবাই ক্যাপিটালস। ব্যাট হাতে এদিন হতাশ করেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০ বলে মাত্র ৭ রান করে মোহাম্মদ নবির বলে জ্যাক দোরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। সাকিবের উইকেট পতন ঘটে দলের ৫৫ রানে।

দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব, তিনি ২৭ বল মোকাবিলা করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান আসে আফগান ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট থেকে।

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল হোবার্ট হ্যারিকেন্স। ম্যাকঅ্যালিস্টার রাইট করেন ৪৭ বলে ৫০ রান। অধিনায়ক বেন ম্যাকডারমট খেলেন ২৪ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস। শেষদিকে জ্যাক দোরান অপরাজিত ২৩ বলে ২৩ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

বল হাতেও এদিন সাফল্য পাননি সাকিব। বাঁহাতি এই স্পিনার ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচ করলেও কোনো উইকেট তুলতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, জিএসএলের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সাকিবের নেতৃত্বে জয়ে শুভ সূচনা করেছিল দুবাই ক্যাপিটালস। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে তাদের পারফরম্যান্সে ছন্দপতন ঘটে।




পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা: দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

রাজধানীর পুরান ঢাকায় মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ রিমান্ড আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে—একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি অস্ত্র আইনে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান মহিনকে পাঁচদিনের এবং অস্ত্র মামলায় তারেক রহমান রবিনকে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে উলঙ্গ করে, পাথর মেরে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিন ও রবিনকে গ্রেফতার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে বহু মানুষ প্রকাশ্যে হত্যার এই দৃশ্যকে “বর্বরতা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

নিহত মো. সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করতেন।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে যুবদল থেকে দুই নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




তারেক রহমানকে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি: ‘এই প্রজন্ম ছাড় দেবে না’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “আগের দিন আর নেই, জনাব। এই প্রজন্ম ছাড় দিতে পারে, তবে ছাড় দেবে না।”

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “সবাই খারাপ কিন্তু আপনি ভালো—বাংলাদেশে এই নাটক আর চলবে না। আপনার দলের কিছু নেতা-কর্মী এখন নরপিশাচে পরিণত হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন, জনাব তারেক রহমান। যেমন আওয়ামী লীগের সময়ে কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়, ঠিক তেমনি বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের হাতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের দায় থেকেও আপনি মুক্ত নন।”

তিনি বলেন, “মিটফোর্ড হাসপাতালের পাশে চাঁদা না দেওয়ায় একজন ব্যবসায়ীকে উলঙ্গ করে পাথর মেরে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ ঘিরে যুবদলের কর্মীদের উল্লাস—এই দৃশ্য মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। এ জন্যই কি বাংলাদেশের মানুষ ‘জুলাই বিপ্লব’ করেছিল?”

সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “আগের দিন আর নাই, জনাব। এই প্রজন্ম হয়তো কখনো ছাড় দিতে পারে, তবে অন্যায়ের প্রশ্নে কাউকে ছেড়ে দেবে না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্ট ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।




চীনের উদ্দেশ্যে জামায়াত প্রতিনিধিদলের ঢাকা ত্যাগ, নেতৃত্বে আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে চীন সরকারের আমন্ত্রণে দলটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়াও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

জানা গেছে, ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলমান এ সফরে জামায়াত প্রতিনিধিদল চীন সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সফরটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।