“ড. ইউনূসকে রোম সফরের আমন্ত্রণ আর্চবিশপের”

ক্যাথলিক চার্চের দূত ও অ্যাপোস্টলিক নুনসিও আর্চবিশপ কেভিন এস. র‌্যান্ডাল আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আর্চবিশপ র‌্যান্ডাল। এ সময় তিনি আগামী ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অধ্যাপক ইউনূসকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আর্চবিশপ র‌্যান্ডাল এই অনুষ্ঠানে একদিকে একাডেমিক আলোচনা এবং অন্যদিকে বাস্তব সংলাপের মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে “সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।”

সাক্ষাৎকালে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রোমে অনুষ্ঠিতব্য ফ্রাতেল্লি তুত্তি ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণও জানান।

আমন্ত্রণের জন্য অধ্যাপক ইউনূস আর্চবিশপ র‌্যান্ডালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি একটি বড় উদ্যোগ। আমি আপনাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।”




শাহবাগ মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংগঠনটির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এসময় ধানমন্ডি, টিএসসি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান।

মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকা ও জনগণের নিরাপত্তার অভাব তুলে ধরে তারা বলেন, দেশের মানুষ খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও গায়েবি মামলার শিকার হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্বেচ্ছাসেবক দল। সেখান থেকে বিকেল ৫টায় সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা কাকরাইল, শাহবাগ হয়ে টিএসসি অভিমুখে অগ্রসর হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিলকারীরা শেষ পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন।




“সংলাপে সম্মত হলেও মৌলিক সংস্কারে বেঁকে বসছে বিএনপি: আখতার হোসেন”

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, চলমান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে মৌলিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেই বিএনপি ও কয়েকটি দল সেখানে বাধা সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার ১৪তম দিনের বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি একদিকে সংলাপে অংশ নিচ্ছে, অন্যদিকে মৌলিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করছে।

আখতার হোসেন জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং নতুনভাবে সংযোজনযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা (৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ)) সংশোধনের জন্য গণভোটের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। সেইসঙ্গে উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এতে এক শতাংশ ভোট পেলেই কোনো দল উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।

তবে বিএনপি এসব মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে বলে দাবি করেন আখতার। তিনি বলেন, “সংখ্যাতাত্ত্বিক আলোচনায় বিএনপি সব প্রস্তাব মানতে চায় না। তারা যেন বলছে, ব্যান্ডেজ মেনে নিই, কিন্তু হাড় জোড়া লাগানোর প্রয়োজন নেই।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, এনসিপি মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তবে রাস্তায় নেমেও আন্দোলন করা হবে।

মৌলিক সংস্কার বলতে এনসিপি কী বোঝায়— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া, উচ্চকক্ষের গঠন, এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করাই তাদের সংস্কার এজেন্ডার মূল বিষয়।

তিনি আরও জানান, এনসিপি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছে এবং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংশোধিত কাগজও দাখিল করা হবে।




শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট; বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নামে কোনো রাজনীতি থাকবে না : সালাহউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নামে কোনো রাজনীতি থাকবে না। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্যকে ভুলে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান চার বছরের মাথায় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে ‘ডাবল ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তন দেখতে চায় না জনগণ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, যারা আন্দোলনকারীদের রক্তদানকে কলঙ্কিত করতে চায় এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে, তারা ফ্যাসিবাদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, তা ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফসল। তবে মাত্র ৩৬ দিনে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নিয়ে কাজ চলছে তবে অগ্রগতি ধীর। বিএনপি ইতিমধ্যেই খসড়া সনদ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে এবং সরকারের অনুরোধে রিফাইন্ড সংস্করণও প্রদান করেছে। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দিতে হবে।

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের অপকর্মের বিচার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। মিটফোর্ডে বিএনপির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কুৎসিত স্লোগান দেওয়া এবং মব তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র মজলিস, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।




বরগুনায় এনসিপির পথসভায় দুই জামাই এক মঞ্চে, উচ্ছ্বসিত জনতা

বরগুনায় ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় ভিন্নরকম উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয় ছাত্র-জনতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মঞ্চে উঠলে উপস্থিত ছাত্র-জনতা তাকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেন—“দুলাভাই দুলাভাই”। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার আরেক জামাই, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিও।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বরগুনা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে আয়োজিত পথসভায় এই ঘটনা ঘটে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বার্তা

জুলাই আন্দোলনের পর সারজিস আলম বিয়ে করেন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল লুৎফর রহমানের মেয়ে রাইতা রহমানকে। অন্যদিকে, খান তালাত মাহমুদ রাফি বিয়ে করেন সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক মো. জাকির হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী মিতুকে। এ কারণে তাদেরকে একসঙ্গে দেখে বরগুনার ছাত্র-জনতা ব্যতিক্রমীভাবে ‘দুলাভাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

বরিশাল-বরগুনা সড়ক নিয়ে সমালোচনা

বক্তব্যের শুরুতেই সারজিস আলম বলেন, “বরিশাল থেকে বরগুনা আসার সড়কে মনে হয়েছে শতাধিক মরণফাঁদ আছে। বরগুনার মানুষকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “আগামী বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করবে, তাদের এই মরণফাঁদ সরিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করতে হবে।”

উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তীব্র সমালোচনা

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কথিত উন্নয়ন নিয়েও সমালোচনা করে সারজিস বলেন, “হাসিনা বলেছিলেন দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। অথচ বরগুনার রাস্তাঘাট গর্ত আর পানিতে ডুবে আছে, হাসপাতালগুলো লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ডাক্তার নেই, কর্মচারীরা নবাব হয়ে উঠেছে। শুধু ডেঙ্গুতে এ বছর বরগুনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে।”

বরগুনার পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি

জুলাই অভ্যুত্থানকালীন সময়ের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, “বরগুনার পুলিশ ওসি তখন আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছেন। এসপি থেকে শুরু করে সবাইকে বলছি—আপনারা বরগুনার জনগণের পুলিশ হোন, কোনো দলের নয়। নইলে আগামী বাংলাদেশে আপনাদের জায়গা হবে না।”

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যারা বরগুনার অবকাঠামো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।




ঢাবিতে জুলাই বিপ্লব দিবস পালিত: শেখ হাসিনার বিচারের দাবি, প্রতীকীভাবে ছবিতে আগুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ উপলক্ষে শেখ হাসিনার বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সোমবার (১৪ জুলাই) রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তার ফাঁসির দাবি জানায়। সমাবেশ শেষে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তার একটি ছবিতে আগুন লাগিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

“শেখ হাসিনার বিচার ও ফাঁসি চাই”—বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ

বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে অবমাননা করেন, যার মধ্য দিয়ে তাদের দমন-পীড়নের পথ তৈরি হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদেই ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ সূচিত হয়েছিল বলে দাবি করেন নেতারা।

আবদুল ওয়াহেদ বলেন, “১৯৪৭ সালের উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতোই ২০২৪ সালের বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই নাগরিক আন্দোলন দেশের ইতিহাসে গুরুত্ব বহন করে।”

শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে বিচার কার্যকর করার আহ্বান

বক্তারা অভিযোগ করেন, গণহত্যার এক বছর পরেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফজলুর রহমান বলেন, “মুজিববাদী সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারে সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই। বরং কিছু রাজনৈতিক দল আজ আবার শেখ হাসিনার মতোই শিক্ষার্থীদের গালি দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতা আর কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেবে না।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ফাহাদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের ১১ মাস ৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও ফ্যাসিস্টদের বিচার হয়নি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লাহ, সদস্য মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা।

বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ছাত্র সমাজ কোনো আপস করবে না। দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১৫ জুলাই

১৫ জুলাই শেখ হাসিনা একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলেন, “নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জা লাগে না?” তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দলীয় স্বত্বাধিকারের সেই পুরনো রাজনীতি ফের সামনে আসে। শ্লোগানের নির্যাস ছেঁটে এনে আওয়ামী লীগ ও তার অনুসারীরা এর বিরুদ্ধেই নেমে পড়েন।

ছাত্রলীগের সহিংসতা আরও প্রবল হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “‘রাজাকার’ স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগই দেবে।” মূলত এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি ছাত্রলীগকে মাঠে নামার অঘোষিত অনুমতি দেন।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ঘোষণা দেন—“আমি রাজাকার” স্লোগান দেওয়া শিক্ষার্থীদের শেষ দেখে ছাড়বেন।

এরপরই ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক ভয়াবহতম ঘটনা—নিজের সহপাঠীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় ছাত্রলীগ এবং তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বুয়েট ও ইডেন কলেজ ক্যাম্পাস পর্যন্ত। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই হামলায় আহত হন ২০০ জনের বেশি।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা রড, হকিস্টিক, স্টাম্প দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। মধুর ক্যানটিন থেকে একদল ছাত্রলীগ সদস্য লাঠিসোটা নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং ভিসি চত্বরে অবস্থানরত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দিক থেকে আক্রমণ করে। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ফুলার রোড, শহীদ মিনার, কার্জন হল ও পলাশীর দিক দিয়ে পালিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দোতলা বাসে আত্মরক্ষার্থে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৫০-৬০ জন ছাত্রীকেও নামিয়ে এনে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগ। ছাত্রীদের অনেকে জুতা, ব্যাগ, ছাতা ফেলে পালিয়ে যান। চারজন ছাত্রী ও দুইজন ছাত্রের মাথা ফেটে যায়, অনেকে গুরুতর আহত হন।

ফুলার রোডেও আন্দোলনরত ছাত্রীদের উপর হামলা চালানো হয়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্ত, ছড়ানো জুতা, ইট ও লাঠি পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকে রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকেন। ছাত্রলীগের পাশাপাশি হামলায় যোগ দেয় অস্ত্রধারী বহিরাগতরাও।

এই হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রবিউল হাসান রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন রশিদ ও বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তকে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত অস্ত্রধারীদের নিয়ে মলচত্বরের দিকে যান।

মুল মিছিলটি সেখানে গেলে মধুর ক্যানটিনে আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্রসহ প্রস্তুত থাকা দক্ষিণ মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পির নেতৃত্বে হেলমেট পরা নেতাকর্মীরা আক্রমণ করে। সূর্যসেন হল, প্রশাসনিক ভবন, ভিসি চত্বর থেকেও বহিরাগতরা এসে হামলা চালায়।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ও রাজিবুল ইসলাম বাপ্পির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসজুড়ে মহড়া দিতে থাকে ছাত্রলীগ ও তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা। তানভীর হাসান সৈকতও তার দলবল নিয়ে একইভাবে মাঠে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাঁরা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেন।

এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদেরও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একাধিকবার মারধর করে।

চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। খুলনা, বরিশাল, সিলেটেও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

এই হামলার প্রতিবাদে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম রাতে পরের দিন (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ঢাবি এলাকায় ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭-১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নাহিদ ইসলাম বলেন—“সরকার পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত এনে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই।”

ছাত্রলীগও একই সময়ে, অর্থাৎ দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসজুড়ে পাল্টা বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়।

এদিকে, হামলার ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের উস্কে দেওয়া হয়েছে। আমরা দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছি। পাঁচ মিনিটে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি।”

দিনভর সংঘর্ষের মধ্যে বিকেল ৫টায় জরুরি বৈঠকে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বলা হয়—নাশকতামূলক কাজে কেউ জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের হলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকরা সার্বক্ষণিক হলে উপস্থিত থাকবেন, এবং হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবেন না।

তবে হামলাকারীরা চিহ্নিত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

১৫ জুলাই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও, আন্দোলনে আসে নতুন মাত্রা। তারা রাজধানীর বাড্ডা, বসুন্ধরা, নতুনবাজার, পূর্বাচল ও ভাটারা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে।

এইদিন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিক্ষোভ দেখা যায়। সন্ধ্যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএল কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বের করেন এবং নগরীর জিরো পয়েন্ট মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

এভাবেই শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের নির্মম অবস্থান শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়।

 




জুলাই আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিতে রিকশাচালকদের প্রতি শত নারীর সম্মান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত রিকশা র‍্যালিতে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন রিকশাচালকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে স্যালুট করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই নারী উপদেষ্টা এবং শতাধিক নারী। রিকশাচালকদের এই অভ্যুত্থানে অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে এই অভিনব সম্মান প্রদর্শন করেন তারা।

সোমবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ প্লাজার দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া এভিনিউতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই রিকশা র‍্যালির সমাপনী অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া শতাধিক নারীও তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দাঁড়িয়ে রিকশাচালকদের স্যালুট জানান।

“জুলাই মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো”: শারমীন এস মুরশিদ

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “জুলাই মানে অত্যাচারের অবসান, জুলাই মানে মেয়েদের সম্মান আর মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস সবসময় নারীদের আড়াল করে রাখে। কিন্তু এবার নারীরাই হবে ইতিহাসের রচয়িতা।”

তিনি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। তোমরা ইতিহাস হয়ে থাকবে। রাষ্ট্র যদি তার দায়িত্ব পালন করত, তাহলে বারবার অভ্যুত্থান হতো না।”

“রিকশাচালকদের অবদান আমরা ভুলব না”: ফরিদা আখতার

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “রিকশাচালকদের অবদান আমরা কোনোদিন ভুলব না। তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্থান পাবে। আমরা তাদের সম্মানে স্যালুট জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা যায়, তবে তা আমাদের ব্যর্থতা। যারা নারীদের ঘরে ফেরাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আবারও জুলাই ফিরে আসবে।”

নারী শহীদদের স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে আহ্বান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১১ জন নারী শহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “সারা দেশের নারীদের আন্দোলনের অংশীদার করতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। নারীদের হ্যারাজমেন্টের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।”

শহীদ পরিবারগুলোর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহীদ নাঈমা সুলতানার মা। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে টার্গেট করে স্নাইপার দিয়ে হত্যা করা হয়। আমি চাই না, আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক।”

শহীদ নাফিসার বাবা বলেন, “জুলাই-আগস্ট আমাদের জন্য কষ্টের মাস। নাফিসা ৫ আগস্ট শহীদ হয়েছিল। আমরা শহীদদের জন্য দোয়া চাই। এই দেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়—এটাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রার্থনা।”

অনুষ্ঠানটি ছিল রিকশাচালক, নারী আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক অনন্য সম্মেলন, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে।




নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন: মেঝেতে উপদেষ্টা, চেয়ারে শহীদ পরিবার—শ্রদ্ধার ব্যতিক্রমী নজির

নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর উদ্বোধন। তবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল—মঞ্চে শহীদদের মা-বাবা ও স্বজনেরা বসেছিলেন চেয়ারে, আর মেঝেতে বসেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই অনন্য উদ্যোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে দাগ কেটে যায়।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে নানা আয়োজনের পাশাপাশি ছিল বক্তব্যপর্ব। বক্তব্যে বিভিন্ন উপদেষ্টা ও বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিচার হবে এই সরকারের আমলেই: আসিফ নজরুল

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পূর্ণ গতিতে চলছে। এই সরকারের শাসনামলেই সেই বিচার সম্পন্ন হবে—এ বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের চোখের সামনে আপনাদের ভাইদের চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে, অঙ্গহানি করা হয়েছে। এই নির্মম, জঘন্য গণহত্যার বিচার হবেই।”

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর করার উদ্যোগ: আদিলুর রহমান খান

শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণভবনকে একটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগেই এটির উদ্বোধন করা হবে। এটা স্বৈরাচারের ঠিকানা ছিল—এখন আমরা সেটিকে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে রূপান্তর করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, শহীদদের কবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “সংগ্রামের ধারা আমরা শেষ করতে পারব না, সেটা আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি,”—বলেন তিনি।

“৫৬ জন শহীদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের”: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ছাত্র-জনতা এ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। ৫৬ জন শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই অর্জন পেয়েছি, যার ২১ জনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সন্তান।”

তিনি বলেন, “এই আত্মত্যাগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। জুলাই যেন কখনো ভুলে না যাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।




তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল বক্তব্যে ফখরুলের তীব্র প্রতিবাদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। যারা তারেক রহমানের সমালোচনা করছে, তারা দেশের এবং দেশের জনগণের শত্রু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা আজকে তারেক রহমান সাহেবের বিরুদ্ধে বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু। যারা দেশের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই দেশের মানুষের বিরুদ্ধাচরণ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে র‌্যালি করছি এবং জানিয়ে দিতে চাই—গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপোষ নেই। আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি সেইসব তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের যারা তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেছে।”

তবে প্রতিপক্ষের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের মতো হবো না। আমাদের নেতাকে গালমন্দ করলে তার সম্মান নষ্ট হয় না, বরং ছোট হয় তারাই যারা এমন ভাষা ব্যবহার করে।”

মির্জা ফখরুল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “১৫ বছর ধরে আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি। কিন্তু আমাদের ঐক্য ভাঙেনি। সেই ঐক্য নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাবো। সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা সবাই একত্রিত হই।”

এ সময় মিটফোর্ড এলাকায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে যুবক লালচাঁদ সোহাগকে হত্যার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

বিক্ষোভ মিছিলটি ফকিরেরপুল থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল মোড়, বিজয়নগর হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। এতে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।