শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরের দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন টাইগাররা।

শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। বাংলাদেশ দলের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেন শেখ মেহেদি, তিনি ১১ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও শামীম হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গোল্ডেন ডাক নিয়ে বিদায় নেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তবে এরপরই ব্যাট হাতে হাল ধরেন অধিনায়ক লিটন দাস ও ওপেনার তানজিদ তামিম। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা সংগ্রহ করেন ৭৪ রান। লিটন করেন ২৬ বলে ৩২ রান।

ম্যাচের নায়ক ছিলেন তানজিদ তামিম। দারুণ ব্যাটিং করে ২৭ বলে তুলে নেন ফিফটি এবং শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে তাওহিদ হৃদয় ২৫ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ১৬.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এর আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। এরপর শেখ মেহেদির স্পিন জাদুতে একে একে ফিরেন কুশল পেরেরা, চান্দিমাল, আসালঙ্কা ও নিশাঙ্কা। লঙ্কানদের মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডারও তেমন কিছু করতে পারেনি। শেষদিকে দাসুন শানাকার ২৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রানে দলীয় সংগ্রহ কিছুটা সম্মানজনক হয়।

বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচসেরা বোলিং করেন শেখ মেহেদি—৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে। সিরিজ জয়ের ফলে লিটন দাসের দল গড়ে নতুন ইতিহাস।

এই জয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত হলো আরেকটি গর্বের অধ্যায়।




গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও মহানগরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। গাড়িবহরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও আক্রমণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এনসিপির বহু নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহিংসতায় যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শহরের বিভিন্ন স্থাপনা, তা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের নজির।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, দেশের জনগণকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের সব জেলা ও মহানগরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে, এবং সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এতে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের হামলায় রণক্ষেত্র, কারফিউ জারি

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এই সহিংসতার ফলে চারজন নিহত হয়েছেন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জ্বীবিতেশ বিশ্বাস জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশের সদস্য ও একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে, যখন গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও হামলার ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শহরের পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চে ভাঙচুর চালান এবং এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। পরে পুলিশি সহায়তায় এনসিপির কর্মীরা নিরাপদে সরে যান। হামলার আধা ঘণ্টা পর পুলিশের নিরাপত্তায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ সম্পন্ন করেন। এতে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেন বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষ করে এনসিপির নেতারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে আবারও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ পিছু হটে, আর এনসিপির নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা মঞ্চসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, ফলে শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারেও হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জ জেলায় বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

উল্লেখ্য, এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ শিরোনামে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১৬ জুলাই

ছাত্রলীগ-যুবলীগ আর পুলিশের হিংস্রতায় প্রথম শহীদ আবু সাঈদসহ ছয় জনের নিহতের মধ্য দিয়ে এদিনই মূলত. আওয়ামী ফ্যাসিজমের কবর খোঁড়া শুরু হয়ে যায়। হামলায় এদিন নিহত হয় ৬ জন। । নিহতদের ছয় জনের মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকায় দুজন ও রংপুরের একজন। আহত হয় আরও চার শতাধিক।

রংপুরে শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ভিডিও মুহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়ানো আবু সাঈদকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেস থেকে পুলিশ গুলি করে, একটা নয় পরপর অনেকগুলো। এক পর্যায়ে লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।

এদিন বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের মুরাদপুরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের মধ্যে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল থেকে একজনকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তাঁর নাম মোহাম্মদ ওয়াসিম। ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন।

নিহত অন্য দুজন হলেন চট্টগ্রাম নগরের ওমর গণি এমইএস কলেজের ছাত্র ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং পথচারী মো. ফারুক।

বিকেলে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন পলক সানজিদ শুভ, অয়ন, সাফিন ও রাতুল। আগে থেকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আবদাল আজিজের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চানখাঁরপুল মোড়ে অবস্থান নেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

আবু সাঈদসহ ছয়জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৪০০ মত আহতের ঘটনার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা ১৬ জুলাই রাতে সম্মিলিতভাবে হল থেকে ছাত্রলীগের সদস্যদের বের করে দেন। লেজুড় বৃত্তির রাজনীতি ছেড়ে হলে বিশুদ্ধ রাজনীতি করবেন – শিক্ষকদের কাছ থেকে এরকম মুচলেকা নেন ছাত্রীরা। তাদের দেখানো পথে পরদিন ভোরে ছেলেদের হল থেকেও ছাত্রলীগের সদস্যদের বের করে দেওয়া হয়।

এর আগের রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও আন্দোলন কাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমকে ধাওয়া করেন শিক্ষার্থীরা। তিনি ধানমন্ডির ল্যাবএইডে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে বের হলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ধাওয়া করলে হাসপাতালে ঢুকে পড়েন। এ সময় তাঁর গাড়িও আটকে দেওয়া হয়।

এদিন সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সবার্ত্মকভাবে পাশে রয়েছে বলে জানান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

অকুতোভয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ভয় পেয়ে যায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। ১৬ জুলাই রাতেই ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও রংপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

রাতেই বন্ধ ঘোষণা করা হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মধ্যরাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক। ব্যাপকভাবে যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

অপরদিকে, এদিন সরকারের পক্ষ থেকে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এটর্নি জেনারেল এর কার্যালয় থেকে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনে বলা হয় সরকারি চাকরিতে কোটার বিধান রাখা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আদালত এই নীতিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

১৬ জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড মামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বিবৃতি প্রদান করে যাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে চারটি দাবি জানানো হয়, ০১ আন্দোলনে যারা হামলা করেছে, গুলি করেছে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের সনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

দুই. ন্যায্য দাবি অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্কার করতে হবে সংবিধানের আলোকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে কোটা সংস্কারের রূপ নির্ণয় করতে হবে।

তিন. ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ ও ত্রাস সৃষ্টির ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে কোন বহিরাগত জন্য কম্পাসের ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ নিতে হবে।

চার. শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে ছাত্রাবাসে থাকতে পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দিনভর সংঘর্ষের পর ১৬ জুলাই রাতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কর্মসূচি বন্ধ রাখলেও পরদিন বেলা ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিহতদের গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিলের পাশাপাশি সারা দেশে এ কর্মসূচি সমন্বয় করার ঘোষণা দেয়া হয়।




চরমোনাইকে টার্গেট করে বিএনপির বক্তব্য দুঃখজনক: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) অভিযোগ করেছেন, বিএনপির মঞ্চ থেকে চরমোনাইকে উদ্দেশ্য করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অশোভন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা বিএনপির মতো একটি দলের জন্য মানানসই নয়।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “১৪ জুলাই আমাদের সিনিয়র নায়েবে আমির একটি সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু সেটিকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে আধ্যাত্মিক ধারার অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাজপথে অশালীন ও নোংরা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মঞ্চ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের বার্তা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গত ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছায়া এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনিরাপদ করে রেখেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা ও সহনশীলতা না থাকলে সেই ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”

চরমোনাই পীর আরও বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর সবাই রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিলেও বাস্তবে দলের চরিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হানাহানি বেড়েছে। সম্প্রতি মিটফোর্ড হাসপাতালে একজন মানুষকে যেভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু বর্বরতা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক বিবেকের চরম পরাজয়।”

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যেসব অপরাধী বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আপনারা যদি জনগণের কাছ থেকে সহনশীল আচরণ আশা করেন, তবে দলীয় ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের আগে চিহ্নিত করে বের করতে হবে। দলের ভেতর থেকেই কিছু অপরাধীর বহিষ্কার প্রমাণ করে—তারা দলেরই অংশ ছিল।”

পীর সাহেব চরমোনাই ১৪ জুলাইয়ের ঘটনাকে দেশের রাজনীতির জন্য ‘সবচেয়ে কলঙ্কময় দিন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর অভিযোগ, ওইদিন বিএনপির মঞ্চ থেকে ইসলামি ধারার অনুসারীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “গত ১০ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি থেকে থাকে, তাহলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”




১৬ জুলাই ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি পালন করবে এনসিপি: সারজিস

‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার (১৬ জুলাই) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে সারজিস লেখেন, “১৬ জুলাই, মার্চ টু গোপালগঞ্জ!” একই পোস্টের একটি কমেন্টে তিনি জানান, “আমরা আসছি! জুলাই পদযাত্রায়, গোপালগঞ্জ জেলা শহরে, সকাল ১১টায়।”

এই কর্মসূচি জুলাই মাসজুড়ে চলমান এনসিপির দেশব্যাপী রাজনৈতিক প্রচারণার ধারাবাহিক অংশ। এর আগে বরগুনা, যশোর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন সারজিসসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক সংস্কার, জনগণের অধিকার আদায় এবং দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গণজাগরণ সৃষ্টি করা।

এনসিপির নেতারা আশা করছেন, গোপালগঞ্জে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে এবং বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। দলটি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছে।




‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হবে

কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের স্মরণে আগামী বুধবার (১৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যু ঘটে। সেই দিনটিকে স্মরণ করে সরকার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বুধবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

এছাড়া শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

সরকারি এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আবেগময় প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শোক দিবসটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




“সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে রেকর্ড জনসমাগমের টার্গেট”

আগামী ১৯ জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা জাতীয় সমাবেশ। দলটির দাবি, এটি হতে যাচ্ছে তাদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জনসমাগমের সমাবেশ, যেখানে ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে ১০ হাজার বাস রিজার্ভ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী বৈঠকে জামায়াত নেতারা সমাবেশ সফল করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সাত দফা দাবির প্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই যে সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে, সেটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে আমরা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের পরামর্শও দিয়েছেন।”

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরে আগত গাড়ির চলাচল রুট, পার্কিং, মাঠে মাইক সেটআপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে জানিয়ে জুবায়ের বলেন, “আমরা ইতিহাসের সর্বোচ্চ জনসমাগম আশা করছি। সারাদেশ থেকে ১০ হাজার বাস আসবে, এর বাইরে ট্রেন ও লঞ্চেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন।”

সম্ভাব্য নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি নেই। তবে সতর্ক থাকছি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সব সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর ডিএমপিকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দলটি আশা করছে, ঢাকায় যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহ সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে এবং সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।




“জোর করে নয়, ছাত্রদলের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা আসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে: সভাপতি রাকিব”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করা হয় না। যারা অংশ নেন, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

রাকিব বলেন, “গত ১৫ বছরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, দমন-পীড়ন, গেস্টরুম কালচার ও হল দখলের রাজনীতির বিপরীতে ছাত্রদল একটি নতুন ধারার, পরিবর্তনশীল ছাত্র রাজনীতির সূচনা করেছে। দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাত্রদলের মাধ্যমে ঘটেনি, তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গেস্টরুম, শোডাউন ও দখলদার রাজনীতিকে ছাত্রদল বিদায় জানিয়েছে। বরং ছাত্রলীগের এই সংস্কৃতিগুলো বন্ধ করতে ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।”

সম্প্রতি মিটফোর্ড এলাকায় বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ঘিরে ‘মব’ তৈরি ও কুৎসিত স্লোগানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাকিব বলেন, “মব তৈরি করে যদি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে ছাত্রদল উপযুক্ত ভাষায় এর জবাব দেবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ব্যানারধারীদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র মজলিস, ছাত্রফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম অ্যাকশন সোসাইটি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।




“যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ ইস্যুতে জরুরি আলোচনার পরামর্শ বিএনপি নেতার”

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পণ্যে সম্পূরক শুল্ক কমাতে আলোচনাকে আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ ইস্যুতে গার্মেন্টস, ইন্ডাস্ট্রি, এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন বিষয় জড়িত রয়েছে। এসব নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমন্বিতভাবে আলোচনায় অগ্রসর হতে হবে।”

তিনি জানান, বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি। এই আলোচনার সফলতা দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি ও লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং আরও এক দফা আলোচনা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে বলে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, “আমাদের দেশের প্রায় আট বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে হয়, যার বড় অংশ গার্মেন্টস সেক্টর। এর সঙ্গে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। এটি শুধু ব্যবসার বিষয় নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এর ওপর।”

তিনি আরও বলেন, “এই সংকটের সমাধান এককভাবে সম্ভব নয়। সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত কৌশল নিতে হবে।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যেমন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, এমসিসিআই সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, বিজেএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, স্কয়ার ফার্মার এমডি তপন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাজভীরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন।