মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক, তবে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে নির্ধারিত সময়ে

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সারাদেশে এই শোক পালন করা হবে।

তবে, রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দিনেও দেশের চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবারের সকল পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা হবে।”

জানা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • রসায়ন (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (বিজ্ঞান শাখা)
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র (মানবিক শাখা)
  • ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র / গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন দ্বিতীয় পত্র
  • উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্র (ব্যবসায় শিক্ষা শাখা)

উল্লেখ্য, এর আগে ১০ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। ১৭ জুলাই গোপালগঞ্জে কারফিউ জারির কারণে সেখানে ঢাকা, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ১৭১ জন।




উত্তরায় স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত : মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সরকার আগামীকাল (মঙ্গলবার) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশি মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিহত ও আহতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১টার কিছু পরে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ভবনটিতে তখন অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের অনেকে দগ্ধ ও আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিমান বাহিনী যুক্ত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের হেলিকপ্টারে করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৫০ জনের বেশি দগ্ধ রোগী ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে আরও বহু আহত শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে।

বিকেল ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




উত্তরায় এফ-৭ বিজিআই বিমান বিধ্বস্ত : প্রধান উপদেষ্টার কর্মসূচি স্থগিত

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দুর্ঘটনায় আরও বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক আহত হন, যাদের অনেকেই দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ৩৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের ভাষায়, “সবার শরীরই পোড়া। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এতে বিমানসেনা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীসহ যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। জাতির জন্য এটি একটি গভীর বেদনার ক্ষণ।”

ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার পূর্বনির্ধারিত সকল কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। তবে শোক পালনের কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।




উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তে নিহত ১৯, আহত ৫০-এর বেশি

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহতদের অনেকেই দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের সিনিয়র স্টাফ অফিসার মো. শাহজাহান শিকদার জানান, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার পর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের অনেকে হতাহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট এবং ৬টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধারকাজে নিয়োজিত হয়। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনা উত্তরার একাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয় এবং এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সন্তানের খোঁজে অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটছেন বলে জানা গেছে।




উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের কাছে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা

আজ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের কাছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে।

দুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণও এখনও জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনগণের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এবং নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।




চট্টগ্রামে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, মোতায়েন সোয়াট ও ডগ স্কোয়াড

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট এবং ডগ স্কোয়াড।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বিপ্লব উদ্যানে সমাবেশস্থলে সোয়াট সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। এর আগে, এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তায় ‘মোটেল সৈকত’-এ তল্লাশি চালায় ডগ স্কোয়াড।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টায় এনসিপি নেতাকর্মীরা বহদ্দারহাটে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে মিছিলসহ বিপ্লব উদ্যানে সমাবেশে যোগ দেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপ্লব উদ্যান এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘মোটেল সৈকত’-এ অবস্থানরত এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ঘিরেও নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। নগর পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তিনটি ফ্লোরে তল্লাশি চালায়। সংশ্লিষ্ট ফ্লোরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নেতাদের চলাচলের পথেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। এজন্য পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”




গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গণগ্রেপ্তার নয়, শুধুমাত্র দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা ও ঢাকাসহ তৎসংলগ্ন এলাকার বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি—নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের আওতায় আসেন। গোপালগঞ্জের ঘটনায় কোনো গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা মেট্রোপলিটনের সব ডিসি, র‌্যাব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সেনা সদস্যদের ডাকা হয়েছিল। তারা জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “আসলেই পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে কি না, সেটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আমি বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না।”

গোপালগঞ্জের ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে কি না—এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি ঘটনাটি অস্বীকার করছি না। রাজনীতিতে এসব অনেক সময় হয়। আমরাও একসময় করেছি। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল বিষয়ে তিনি বলেন, “দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য হরতালের তুলনায় এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম। এতে বোঝা যায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।”

গোপালগঞ্জের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নির্বাচন সামনে রেখে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আশ্বস্ত করেন উপদেষ্টা। বলেন, “বর্তমান বাহিনী দিয়েই নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব। তারা প্রস্তুত আছে, প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনে কোনো সমস্যা হবে না।”

গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের অধিকারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার প্রশ্নই প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র আছে। তবে মতপ্রকাশে যেন অশালীন বা আক্রমণাত্মক ভাষা না ব্যবহৃত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”




অতীতের শাসকেরা দিল্লি-লন্ডনে পালিয়েছে, বর্তমান প্রজন্ম জাগ্রত: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের শাসকেরা দেশ লুটে দিল্লি ও লন্ডনে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে, যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

রোববার (২০ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “কারো সেকেন্ড হোম ছিল দিল্লি, কারো লন্ডন। তারা দেশ শাসনের নামে লুটপাট করেছে। আজকের এই তরুণ প্রজন্ম সেই ইতিহাস জানে। তারা আর বিক্রি হবে না। হাসিনা টাকায় এই প্রজন্মকে কিনতে পারেনি। এই প্রজন্মই বাংলাদেশ গড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “১৬ জুলাই ঢাকায় প্রতিরোধ হয়েছিল, তার আগের দিন চট্টগ্রামেই প্রতিরোধ হয়েছে। চট্টগ্রাম লড়াইয়ের শহর, প্রতিরোধের শহর। আমরা স্বৈরাচার হটাতে পেরেছি, কিন্তু এখন সফল রাষ্ট্র গঠনের লড়াই শুরু করতে হবে।”

চট্টগ্রামকে নিজের ‘দ্বিতীয় প্রাণের শহর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় এনসিপিকে সংগঠিত করতে হবে। গ্রুপিং বাদ দিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।

এদিকে গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির কর্মসূচিতে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সমাবেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ ঘিরে পুলিশের স্পেশাল ইউনিট সোয়াটসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।”




গোপালগঞ্জে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, অভিযান চলমান থাকবে: জেলা প্রশাসন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার পর জারি করা কারফিউ ও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই দিন রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় আর ১৪৪ ধারা বা কারফিউ বলবৎ থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরই গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে একাধিক দফায় কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করে।

প্রথম দফায় ১৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জুলাই দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল।

তৃতীয় দফায় ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ বাড়ানো হয়। পরে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়। এরপর রাত ৮টা থেকে রোববার (২০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়।

সর্বশেষ, রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর ছিল, যা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




জাতীয় সনদে অগ্রগতি : ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার উদ্যোগ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চান তারা। তিনি বলেন, “এটা আপনারাও (রাজনৈতিক দলগুলো) নিঃসন্দেহে চান। ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। কিছু কিছু বিষয় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।”

রোববার (২০ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের ১৫তম দিনের আলোচনার শুরুতে এসব কথা বলেন তিনি। এটি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান

আজকের সংলাপের আলোচ্যসূচিতে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান। এ বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদ প্রস্তুত করা। এটি রাজনৈতিক দল, কমিশন ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হবে।”

উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা নিয়ে আরও সময় নিচ্ছে কমিশন

সংলাপে উচ্চকক্ষ (সেনেট) গঠনের বিষয়ে দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করছে কমিশন। আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারব, তবে আরও সময় নিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারব।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এখন প্রধান উপদেষ্টার কাঠামো নিয়েও ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছে কমিশন। তিনি জানান, “বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। সেগুলোর আলোকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আজকের আলোচনায় উপস্থাপন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৪ বছর ধরে এই ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমরা লড়াই করে যাচ্ছি। এখন প্রধান উপদেষ্টার কাঠামো নিয়েও একমত হওয়া সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।”

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া।