সমাবেশ শুরুর পূর্বেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের লাখো মানুষের ঢল

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাত দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে ভোর থেকেই লাখো নেতাকর্মীর ঢল নামে। সমাবেশ শুরু হওয়ার ছয় ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় উদ্যান। সমাবেশস্থলের বাইরে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অবস্থানও লক্ষ্য করা গেছে।

সারা দেশ থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে আসা জামায়াত কর্মীরা মিছিল সহকারে উদ্যানে প্রবেশ করেন। অনেকেই দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা খচিত টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি পরে আসেন। ফজরের নামাজের পর থেকেই মাঠে জমায়েত শুরু হয়।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে আগত কর্মী সোহেল হাসান জানান, তাদের উপজেলা থেকে প্রায় ৪০টি বাসে করে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ঢাকায় এসেছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা এরশাদ আলী জানান, তারা ট্রেন ও বাসে করে ৩০-৪০ হাজার নেতাকর্মী এনেছেন। অনেকেই শুক্রবার রাত থেকেই মাঠে অবস্থান করছেন।

সমাবেশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান মৎস্য ভবন স্পটের স্বেচ্ছাসেবক প্রধান মাসুদুর রহমান। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকাতেই দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। ভোর থেকে হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন, শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।

জাতীয় সমাবেশের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

  1. অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
  2. সব গণহত্যার বিচার
  3. প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার
  4. ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
  5. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন
  6. সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
  7. এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে এ ধরনের জাতীয় সমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামী।




প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়: স্পেসএক্স

বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন।

লরেন ড্রেয়ার বলেন, “আমরা ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করছি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত দ্রুত ও দক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমরা কোথাও দেখিনি। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, “বর্ষাকাল আমাদের জন্য সুন্দর একটি সময়, কিন্তু বন্যা ও জলাবদ্ধতা আমাদের বাস্তবতা। এসব সমস্যার মধ্যে নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, দেশের পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলে ভালো শিক্ষক ও চিকিৎসকের অভাব থাকায় সরকার ১০০টি স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু হলে দূরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। বিশেষ করে নারীরা গর্ভাবস্থায় ঘরে বসেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন, যা তাদের জন্য অনেক সহজ হবে।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনুস। তিনি বলেন, “ভাষাগত কারণে প্রবাসীরা অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচবোধ করেন। তবে দেশে ডিজিটাল হেলথ সেবা চালু হলে তারা বিদেশ থেকেই দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন।”

লরেন ড্রেয়ার অধ্যাপক ইউনূসের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আপনার যেসব উদ্যোগ আমরা দেখছি, সেগুলো বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আপনি নিজের দেশে যা করছেন, তা অন্য নেতাদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।”

তিনি দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টারও প্রশংসা করে বলেন, “প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপনার যে উদ্যোগ, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অর্থবহ।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পেসএক্সের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট কনসালট্যান্ট রিচার্ড গ্রিফিথস, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।




বিশেষ ট্রেনে নিয়ম ভাঙা হয়নি, এটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত: রেলপথ মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশ উপলক্ষে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করা হয়নি এবং এটি একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বড় আকারের কর্মসূচি আয়োজন করলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ভাড়ায় বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করেছে। একই নিয়ম অনুসরণ করে জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ ট্রেন পরিচালনা না করলে সাধারণত যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে বিনা টিকিটে ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ে এবং এতে বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাড়ার ভিত্তিতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে একদিকে দলীয় কর্মীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, অন্যদিকে রেলওয়ে আয় করে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে ট্রেন ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এসব ট্রেন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় যাত্রীচাহিদা কম থাকে, তাই নির্ধারিত অফ-ডে ট্রেনরেক ব্যবহার করে পরিচালনা করা হবে। এর ফলে নিয়মিত ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না এবং সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হবেন না।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নয় বরং একটি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ, যা আগেও নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও নেওয়া হবে। বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে।




জামায়াতের বিশাল সমাবেশের আয়োজন; কর্মীদের জন্য ভাড়া করলো বিশেষ ট্রেন

রাজধানীতে শনিবার (১৯জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সমাবেশে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহ রুটে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, জামায়াতের রাজশাহী মহানগরীর পক্ষ থেকে পাঠানো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী মধুমতি এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৫৫/৭৫৬) এর রেক ব্যবহার করে একটি বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি ১৯ জুলাই রাত ১টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে ভোর ৬টায় এবং সমাবেশ শেষে রাত ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ১টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছাবে।

উভয় পথে ট্রেনটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিয়ান ও সরদহ রোড স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে। ট্রেনটি পরিচালনার জন্য জামায়াত অগ্রিম ভাড়া, সার্ভিস চার্জসহ নির্ধারিত সব পাওনা পরিশোধ করেছে বলে রেলপথের দাফতরিক চিঠিতে জানানো হয়।

সিরাজগঞ্জ-ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৭৭৫/৭৭৬ নং ট্রেনের মাধ্যমে আরেকটি বিশেষ ট্রেন পরিচালনারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি শনিবার সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় পৌঁছাবে এবং রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছাড়বে, সিরাজগঞ্জ পৌঁছাবে রাত ৩টা ৩০ মিনিটে।

এছাড়াও, ময়মনসিংহ-ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে একটি জোড়া ট্রেন পরিচালনার অনুমোদনও প্রদান করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উপ-পরিচালক মো. খায়রুল কবির স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশে অংশ নিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশে কয়েক লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ট্রেন ছাড়াও প্রায় ১০ হাজার বাসও রিজার্ভ করা হয়েছে কর্মীদের পরিবহনের জন্য।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, সবকিছুই নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষেই বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে।




ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

ঢাকায় তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের একটি মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ হাইকমিশনের মধ্যে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন তিন বছরের মিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক স্বাক্ষর করেন।

হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক মানবাধিকারের প্রতি উভয় পক্ষের অঙ্গীকারের একটি শক্ত বার্তা বহন করে। এটি আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশে মৌলিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সহযোগিতা করার সুযোগ এনে দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন মিশন সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারবে। এতে তথ্য, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে মানবাধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নয়, বরং প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সই করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ঢাকা থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে জেনেভায় পাঠান, যেখানে হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক স্বাক্ষর করেন।

প্রাথমিকভাবে মিশনটির কার্যকাল তিন বছর হলেও পরে চুক্তি নবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, নতুন এই মিশন সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে।




“জুলাই চেতনাকে আগামীর প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ক্রীড়া উপদেষ্টার”

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতীকী ম্যারাথনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, “যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন উচ্চারিত হবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও সংগ্রামীদের নাম।” তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ইতিহাস কোনো ষড়যন্ত্র বা অপচেষ্টায় মুছে ফেলা যাবে না।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন শহীদ পরিবার, আহত মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্মের প্রায় সাত শতাধিক প্রতিযোগী।

আয়োজন শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে আবেগঘন এক বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন একটি ম্যারাথনের মতোই। সময় লাগলেও আমরা এই স্বপ্ন পূরণ করব দেশপ্রেম ও সংগ্রামের শক্তিতে।” তিনি আরও বলেন, “আজকের প্রতীকী ম্যারাথনের মতোই, সে সময়কার আন্দোলনকারীরাও কোনো আলাদা প্রশিক্ষণ ছাড়াই লেথেল ওয়েপনের মুখে দাঁড়িয়েছিল সাহসিকতার সঙ্গে।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিক মর্যাদা ও সাম্যের জন্য যে লড়াই জুলাই মাসে হয়েছিল, তা কেবল এক সময়ের আন্দোলন ছিল না— বরং ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজও অসম্পূর্ণ, আর তা পূরণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ ও ‘জুলাই চেতনাকে’ আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।




গোপালগঞ্জে হামলা ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪৭৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি ৪০০ জন অজ্ঞাতনামা।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে গোপালগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ পরিদর্শক আহম্মদ আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস) ড. রুহুল আমিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট ৪৭৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার পৌর পার্ক এলাকায় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরও হামলার শিকার হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, তবে তাতে কাজ না হওয়ায় রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করে সরকার। পরবর্তীতে ওই কারফিউ আরও বাড়ানো হয়।

এনসিপি নেতারা কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন এবং খুলনার দিকে রওনা হন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গোপালগঞ্জে আবারও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা আবার গোপালগঞ্জে যাব।” তিনি জানিয়েছেন, জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম ও উপজেলায় কর্মসূচি পালন করবেন এবং সেখানকার ঘরে ঘরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা’ উড়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ লেখেন, “গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বাংলাদেশে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, গোপালগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বৈষম্য করেছে।

আক্রমণের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
নাহিদ দাবি করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়।” তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের আসতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন স্থানে বাস আটকে দেওয়া হয়। এরপরেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা শেষ করেছি।”

তিনি জানান, চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তারা সমর্থন করেন না।

বিচারের দাবি ও হুঁশিয়ারি
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেককে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে বা পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অবস্থান করছে।”

তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর দাবি জানান।

গোপালগঞ্জ পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়
নাহিদ বলেন, “শহীদ বাবু মোল্লা ও রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর রয়েছে। সেই মাটি মুজিববাদীদের হতে দেব না।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ফরিদপুরে পদযাত্রার ঘোষণা দেন।




এতো সংঘাতের পেছনে নির্বাচন পেছানোর গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে অভিযোগ রিজভীর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভেতরে-ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কৃষক দলের আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, “ভোটকেন্দ্র আবারও ভোটারের পদধ্বনিতে মুখর হোক—এটাই বিএনপির লক্ষ্য। অথচ নির্বাচন পেছানোর গুঞ্জন এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। তাহলে নিশ্চয়ই ভেতরে-ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জাতি এখন এই প্রশ্ন করছে।”

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, এর পরপরই সারা দেশে সংঘাত ও রক্তাক্ত পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। “আমার মনে হয়, কেউ কেউ সেই স্বস্তি চায় না।”

সমাবেশে রিজভী অভিযোগ করেন, “রাজধানীর মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। জড়িতদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ এই ঘটনা ঘিরেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধ করলে আমরা নিজেই পুলিশকে মামলা দিতে বলি। সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিই। অথচ শেখ হাসিনা সংসদে মাফিয়া গডফাদারদের পক্ষেই কথা বলেন।”

তারেক রহমানকে “নিপীড়িত-নির্যাতনের প্রতীক” উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, অথচ খুলনায় যুবককে গুলি করে পায়ের রগ কেটে ফেলা বা কক্সবাজারে বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিমকে জামায়াত কর্তৃক হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না।”

সমাবেশে কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান।




জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি : থাকবে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, ১৫টি মেডিকেল বুথ

আগামী ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সমাবেশ সফল করতে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, “জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে একটি প্রধান বাস্তবায়ন কমিটির অধীনে আটটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং ভ্রাম্যমাণ মাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগতদের যাতায়াত ও অবস্থানের সুবিধার্থে রাখা হয়েছে ১৫টি গাড়ি পার্কিং স্পট এবং ২০টি পয়েন্টে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাবেশস্থলে জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য থাকবে ১৫টি মেডিকেল বুথ, যেখানে প্রতিটিতে দুজন করে ডাক্তার, একাধিক বেড এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস থাকবে। সমাবেশের পুরো কার্যক্রম লাইভ সম্প্রচারের জন্য ড্রোন ক্যামেরা, এলইডি স্ক্রিন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা চেয়েছি। তারা ইতোমধ্যে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।