অতীতের শাসকেরা দিল্লি-লন্ডনে পালিয়েছে, বর্তমান প্রজন্ম জাগ্রত: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের শাসকেরা দেশ লুটে দিল্লি ও লন্ডনে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে, যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

রোববার (২০ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “কারো সেকেন্ড হোম ছিল দিল্লি, কারো লন্ডন। তারা দেশ শাসনের নামে লুটপাট করেছে। আজকের এই তরুণ প্রজন্ম সেই ইতিহাস জানে। তারা আর বিক্রি হবে না। হাসিনা টাকায় এই প্রজন্মকে কিনতে পারেনি। এই প্রজন্মই বাংলাদেশ গড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “১৬ জুলাই ঢাকায় প্রতিরোধ হয়েছিল, তার আগের দিন চট্টগ্রামেই প্রতিরোধ হয়েছে। চট্টগ্রাম লড়াইয়ের শহর, প্রতিরোধের শহর। আমরা স্বৈরাচার হটাতে পেরেছি, কিন্তু এখন সফল রাষ্ট্র গঠনের লড়াই শুরু করতে হবে।”

চট্টগ্রামকে নিজের ‘দ্বিতীয় প্রাণের শহর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় এনসিপিকে সংগঠিত করতে হবে। গ্রুপিং বাদ দিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।

এদিকে গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির কর্মসূচিতে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সমাবেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ ঘিরে পুলিশের স্পেশাল ইউনিট সোয়াটসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।”




গোপালগঞ্জে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, অভিযান চলমান থাকবে: জেলা প্রশাসন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার পর জারি করা কারফিউ ও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই দিন রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় আর ১৪৪ ধারা বা কারফিউ বলবৎ থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরই গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে একাধিক দফায় কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করে।

প্রথম দফায় ১৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জুলাই দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল।

তৃতীয় দফায় ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ বাড়ানো হয়। পরে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়। এরপর রাত ৮টা থেকে রোববার (২০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়।

সর্বশেষ, রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর ছিল, যা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




জাতীয় সনদে অগ্রগতি : ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার উদ্যোগ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চান তারা। তিনি বলেন, “এটা আপনারাও (রাজনৈতিক দলগুলো) নিঃসন্দেহে চান। ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। কিছু কিছু বিষয় আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।”

রোববার (২০ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের ১৫তম দিনের আলোচনার শুরুতে এসব কথা বলেন তিনি। এটি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান

আজকের সংলাপের আলোচ্যসূচিতে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান। এ বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদ প্রস্তুত করা। এটি রাজনৈতিক দল, কমিশন ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হবে।”

উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা নিয়ে আরও সময় নিচ্ছে কমিশন

সংলাপে উচ্চকক্ষ (সেনেট) গঠনের বিষয়ে দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করছে কমিশন। আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারব, তবে আরও সময় নিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারব।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এখন প্রধান উপদেষ্টার কাঠামো নিয়েও ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছে কমিশন। তিনি জানান, “বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। সেগুলোর আলোকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আজকের আলোচনায় উপস্থাপন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৪ বছর ধরে এই ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমরা লড়াই করে যাচ্ছি। এখন প্রধান উপদেষ্টার কাঠামো নিয়েও একমত হওয়া সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।”

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া।




শেখ হাসিনা মানবজাতির কলঙ্ক, তাকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনোদিন ক্ষমা করা যাবে না। তিনি বলেন, “হাসিনা মানবজাতির কলঙ্ক, মায়েদের কলঙ্ক। তার বিচার হবেই, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর প্রাঙ্গণে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সবুজ পল্লবে স্মৃতি অম্লান’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল সম্প্রতি এক শহীদ মায়ের আহাজারির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “একজন মা তার সন্তান হারিয়েছেন নির্মমভাবে। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ভ্যানে তুলে নিয়ে মরদেহসহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ-প্রশাসনের হাতে এ ধরনের পাশবিক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতি হিসেবে আমাদের গভীরভাবে লজ্জিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তারা স্বাধীন দেশে এমন বর্বরতা প্রত্যাশা করিনি। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর টাকাও আসে জনগণের কর থেকে। অথচ সেই টাকায় পোষা বাহিনীই এখন জনগণের সন্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, “এ ধরনের নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার জন্য হাসিনাকে কোনোদিন ক্ষমা করা যাবে না। আমাদের প্রথম কাজ হবে তাদের বিচার করা। দ্বিতীয় কাজ—শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য বিএনপি একটি ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। “আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। যেন বিএনপির পক্ষ থেকে একটি পুনর্বাসন তহবিল গঠন করা যায়,” বলেন ফখরুল।

এ সময় তিনি জানান, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ইতোমধ্যেই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।




“ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে নতুন বাংলাদেশ গড়ব”—নাহিদ ইসলামের প্রত্যয়

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতনের আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ। এর মাধ্যমে আমরা একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিলাম।”

শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে বান্দরবান প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বর্তমান রাষ্ট্রের আইন, নীতি ও সংবিধান জনগণের কল্যাণে রচিত হয়নি। এটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার বদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সেই ‘অক্ষত সিস্টেম’ এখনো টিকে আছে। আমরা সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মুজিববাদের আদর্শে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিভাজন তৈরি করেছে—কখনো বাঙালি বনাম পাহাড়ি, কখনো মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার, আবার কখনো ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করেছে। তারা চাইলে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু সেটা করেনি। তারা এই বিভাজনের ভিত্তিতে নানা অপকর্ম চালিয়েছে।”

নাহিদ আরও বলেন, “মুজিববাদি সংবিধান একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামো তৈরি করেছে, যা জনগণকে বিভক্ত করে রেখেছিল। তবে এখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা সেই বিভাজন দূর করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। সামনে বাংলাদেশ পন্থার ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ব।”

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. শহীদুর রহমান সোহেল। এতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রমুখ।




হাসপাতালে জামায়াতের আমিরকে দেখতে গেছেন মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

সেখানে তারা জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি নেতারা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, ওইদিন বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ চলাকালে ডা. শফিকুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মঞ্চে দুইবার পড়ে যান। পরে মঞ্চেই বসে থেকে তিনি বক্তব্য দেন। তার পাশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের চিকিৎসক দল।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “আল্লাহ যতদিন হায়াত দিয়েছেন, ততদিন লড়াই চলবে। মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমি যদি কখনো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে মালিক হব না, জনগণের সেবক হবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের কেউ যদি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়, তারা প্লট বা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবে না। তারা দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে। চাঁদা ও দুর্নীতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। যুবকদের বলছি—আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। আমি জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, ১৮ কোটি মানুষের একজন হয়ে কথা বলছি।”

ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।




ক্ষমতায় এলে দেশের মালিক নয়, জনগণের সেবক হওয়াই হবে আমাদের নীতিমালা _ ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জনগণের রক্ত ও ঘামে গড়া এই দেশের শাসকরা মালিক নয়, জনগণের সেবক হবে। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনায় এ নীতিই অনুসরণ করবে।”

শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ যারা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের ওপর জুলুম চালায়, টেন্ডার-চাঁদা ও দুর্নীতির ভাগ নেয়, প্লট ও ফ্ল্যাট ভাগ করে নেয়—তারা জনগণের নয়, নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত। আমরা যদি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিই, কারো প্লট বা বাড়ি নয়, বরং জনসমক্ষে স্বচ্ছভাবে কাজের হিসাব তুলে ধরব।”

তিনি আরও বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই শেষ হয়েছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে হবে। এই লড়াইয়ে জামায়াত ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

সমাবেশের শুরুতে তিনজন কর্মীর মৃত্যুর কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “এই সমাবেশের পথপরিক্রমায় আমরা তিনজন ভাইকে হারিয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তাদের জান্নাত দান করেন ও পরিবারের সবাইকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দেন।”

তিনি আরও বলেন, “যারা ২০০১, ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বুক দিয়ে প্রতিরোধ করেছেন, আন্দোলনে শহীদ, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা একাত্তরে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। আজ যারা অহংকারে রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের তুচ্ছ করে, তারা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এখন সময় ঐক্যের, বিভেদের নয়।”

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “এই লড়াই শুধু জামায়াতের নয়, এটি জনগণের লড়াই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”




হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন; তবুও মঞ্চে বসে বসেই বক্তব্য দিলেন জামায়াত আমির

জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি দুইবার মঞ্চে পড়ে যান। এরপরও মঞ্চেই বসে থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করেন তিনি।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত জামায়াতের চিকিৎসক দল দ্রুত তার পাশে ছুটে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অসুস্থ অবস্থাতেই বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, ততদিন লড়াই চলবে। মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমরা মালিক হতে চাই না, জনগণের সেবক হতে চাই। জামায়াত থেকে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে কোনো এমপি বা মন্ত্রী প্লট নেবে না, শুল্কমুক্ত গাড়িতে চড়বে না, দুর্নীতিতে জড়াবে না।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি সহ্য করবো না। যুব সমাজকে বলছি—আমরা তোমাদের পাশে আছি। আমি জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, ১৮ কোটি মানুষের একজন প্রতিনিধি হয়ে এসেছি।”

ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অসুস্থতা সত্ত্বেও মঞ্চে অবস্থান ও বক্তব্য প্রদান তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন দলের নেতারা।




সমাবেশ শুরুর আগেই লাখো মানুষের ঢল জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে

সাত দফা দাবিতে অনুষ্ঠিতব্য জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ ঘিরে সকালেই উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সমাবেশ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগেই উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় দলটির হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকে। ভোর থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জামায়াত কর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে আগত জামায়াতকর্মী সোহেল হাসান জানান, তাদের উপজেলা থেকেই প্রায় ৩০ হাজার লোক এসেছে ৪০টি বাস ও অন্যান্য বাহনে। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা কর্মী এরশাদ আলী বলেন, “আমরা বাস ও ট্রেনে করে ৩০-৪০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে এসেছি। অনেকে রাত থেকেই এখানে অবস্থান করছেন।”

দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ খচিত টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি পরে আসা নেতাকর্মীদের দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সমাবেশের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, যাদের মধ্যে ৬ হাজার রয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায়। ভোর থেকেই হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন, শাহবাগসহ বিভিন্ন স্পটে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় তাদের।

মৎস্য ভবন এলাকার স্বেচ্ছাসেবক টিমের প্রধান মাসুদুর রহমান বলেন, “সমাবেশে আগতদের সহযোগিতাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কোন অঞ্চল থেকে আসা কর্মীরা কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন তা আমরা দিকনির্দেশনা দিচ্ছি।”

জামায়াতের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

  • অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
  • সকল গণহত্যার বিচার
  • প্রয়োজনীয় মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার
  • ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
  • জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন
  • সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু
  • প্রবাসী এক কোটি ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো এককভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করছে জামায়াতে ইসলামী। বিশাল উপস্থিতি ও কঠোর প্রস্তুতি থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, সমাবেশটি দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও আগাম কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।




বিএনপিসহ সব দলকে আমন্ত্রণ, ভোট-জোটে আসতে পারে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম একক জাতীয় সমাবেশ। এই সমাবেশে দলটি তাদের সাত দফা দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে জানানো হয়েছে। বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, এই সমাবেশ হতে পারে দেশের রাজনীতির জন্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’। বিশেষ করে নির্বাচনপূর্ব সময়কে সামনে রেখে ভোট ও জোট ইস্যুতে দলটি একটি স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, এতে জাতীয় ঐক্য এবং নির্বাচনের স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরির পথে অগ্রগতি হবে।

সমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগ, টিএসসি, কাকরাইল, দোয়েল চত্বর, মৎস্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই অনেকে সমাবেশস্থলে এসে অবস্থান নেন। উদ্যানের ভেতরে ও বাইরে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেছেন নেতাকর্মীরা। অনেকের হাতে দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা দেখা গেছে, গায়ে ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, চাঁদাবাজের বিপক্ষে হোক’ লেখা গেঞ্জি পরা ছিল।

ঐতিহাসিক সমাবেশে সাত দফা দাবি:

১. সব গণহত্যার বিচার
২. প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার
৩. ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
৪. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন
৫. পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন
৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ
৭. নির্বাচনের আগে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রতিষ্ঠা

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “এটি আমাদের প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ। আগে আমরা পল্টন, বায়তুল মোকাররম এলাকায় কর্মসূচি করেছি। এবার এই জাতীয় সমাবেশ থেকে রাজনৈতিক বার্তা জাতির সামনে উপস্থাপন করব।”

বৃহৎ প্রস্তুতি ও স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম:
সমাবেশ সফল করতে জামায়াত একটি মূল কমিটি ও ৮টি উপকমিটি গঠন করেছে। সারা দেশে লিফলেট, পোস্টার, মাইকিং ও সাংস্কৃতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সমাবেশস্থলে ও আশপাশে থাকবে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। রাজধানীর বাইরে থেকে আগতদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১৫টি স্থানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশে থাকবে ১৫টি মেডিকেল বুথ, প্রত্যেকটিতে ২ জন এমবিবিএস ডাক্তার ও জরুরি ওষুধ। এলইডি স্ক্রিনে সমাবেশের দৃশ্য প্রচার এবং ফেসবুক-ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য আইটি টিম প্রস্তুত রয়েছে।

রাজনৈতিক বার্তার অপেক্ষায় দেশ:
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন এবং তার বক্তব্যে দলটির অবস্থান স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রচার বিভাগ। সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্য ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তাবও তুলে ধরা হবে।

দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখন জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। এই সমাবেশের মাধ্যমে ইসলামপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক শক্তির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসবে।”

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। “যানজট বা সাময়িক দুর্ভোগের জন্য নগরবাসীর কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি,” যোগ করেন তিনি।

দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “এই সমাবেশের খবর শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পৌঁছে যাবে। আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রমাণ করতে চাই, জনগণই আমাদের শক্তির উৎস।”