“সাম্প্রতিক অপতৎপরতা উদ্বেগজনক” — প্রধান উপদেষ্টার কণ্ঠে শঙ্কা ও সতর্কতা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর না যেতেই পরাজিত শক্তির নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।”

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল অতীতকে স্মরণ করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলা, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান একতা প্রতিষ্ঠা করত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপতৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরাজিত শক্তিগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করা। তা না হলে ষড়যন্ত্রকারীরা এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখবে।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও গণঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টাকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের আগে নিয়মিত সর্বদলীয় সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তাদের মতে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয় প্রয়োজনীয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মজিবুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের মিজানুর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।




এশিয়া কাপের আকাশে কালো মেঘ, অনিশ্চয়তার মুখে টুর্নামেন্ট

এশিয়া কাপ ক্রিকেট আয়োজনে গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। আসন্ন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের অনড় মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় এই বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও ওমান বিসিসিআইয়ের অবস্থানকে সমর্থন করে ঢাকায় প্রতিনিধি না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এই তিনটি দেশের অনুপস্থিতিতে সভার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এসিসির বার্ষিক সভা ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভারতের অনুপস্থিতি পুরো বৈঠকের গুরুত্বই কমিয়ে দিয়েছে। এতে এসিসি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি মহসিন রাজা নকভি কিছুটা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন। তিনি নিজে ঢাকায় এসে সময় কাটাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছেন।

আরো অনেক সদস্য দেশ—নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া—ও বৈঠকে অংশ নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন এবং ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভারতের অনুপস্থিতিতে এই দেশগুলোর অনেকেই পিছু হটে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে এশিয়া কাপের আয়োজনে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে হওয়ার কথা ছিল এশিয়া কাপ, কিন্তু পাহেলগামের জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তা বাতিল হয়েছে। নিরপেক্ষ ভেন্যু ছাড়া ভারত ও পাকিস্তান একসঙ্গে খেলতে পারবে না বলেই ধারণা। এর আগে পিসিবি জানিয়েছে, তারা ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেবে না।

এসিসির একাংশ সদস্য সভাটি সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করার পক্ষে, যাতে ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু মহসিন নকভি ঢাকাতেই সভা আয়োজনের পক্ষে অনড় রয়েছেন। অন্যত্র স্থানান্তর হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্ষুব্ধ হতে পারে, কারণ তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ এখন বিসিসিআই ও এসিসির পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। বড় দলগুলো না থাকলে টুর্নামেন্টের গুরুত্ব, স্পন্সরশিপ ও দর্শকসংখ্যা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


 




সরকার এনসিপিকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে: নুরুল হক নুর

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রতি সরকার পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নুর বলেন, “সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ধরনের পক্ষপাত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

নুর আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “পতিত আওয়ামী লীগ যেকোনো ইস্যুতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে।”

এ সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “বিচার সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের। তাই দ্রুত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ স্বস্তি পায়।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাকি আরও বলেন, “সরকারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ জরুরি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “সরকারের কিছু আচরণে দেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে। নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যার ফলে বাড়ছে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।” এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারেরই দায়িত্ব বেশি বলে মনে করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে শিশু ধর্ষণে বিএনপি নেতার যাবজ্জীবন

বরিশাল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল শরীফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রকিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল শরীফ (৩৫) বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের বাসিন্দা ও আলী শরীফের ছেলে। তিনি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই শিশুটিকে তার নিজ বসতঘরের পাশের খোলা জায়গায় ধর্ষণ করেন রাসেল শরীফ। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর এবং আসামি রাসেলের বয়স ছিল ২৫।

ঘটনার পর সাহসিকতার সঙ্গে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলা গ্রহণের পর তদন্ত করে বরিশাল বন্দর থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সকল সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারক রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এই রায় সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বিচার বিভাগের ন্যায়বিচারের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা গোপন করা অসম্ভব : প্রেস সচিব

বাংলাদেশে কোনো জাতীয় বিপর্যয়ের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ (বুধবার) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, “২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ঘটে যাওয়া অসংখ্য বড় বড় দুর্যোগের ওপর রিপোর্ট করেছি। একজন সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা গোপন করা বাস্তবিক অর্থেই অসম্ভব।” তার মতে, যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের খোঁজে প্রশাসনের কাছে আসেন। পরে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে মৃত বা আহতদের শনাক্ত করা হয়।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, মাইলস্টোন কলেজ যদি প্রতিদিনের উপস্থিতির রেকর্ড বিশ্লেষণ করে, তাহলে সহজেই হিসাব বহির্ভূত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা সম্ভব। এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগই নির্ভুল পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে।

ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব আরও জানান, গতকাল স্কুল পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টারা সেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশ দেন। এই কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিতভাবে আহত ও নিহতদের পরিসংখ্যান হালনাগাদ করা হবে এবং তা রেজিস্ট্রারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই কন্ট্রোল রুম পরিচালনায় বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজ থেকেই এই কন্ট্রোল রুম পুরোপুরি কার্যকর হবে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের অবস্থা নিয়ে নিয়মিত আপডেট সরবরাহ করছে এবং সেনাবাহিনীও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। তাই সরকার হতাহতের সংখ্যা খাটো দেখিয়ে কোনো তথ্য গোপনের পথে হাঁটবে না, বরং স্বচ্ছতা ও মানবিকতার নীতিতেই অটল থাকবে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, “গতকাল আমরা টানা ৯ ঘণ্টা স্কুলে অবস্থান করেছি। চাইলে আরও আগেই চলে আসতে পারতাম, কিন্তু উপদেষ্টারা সংকট সমাধানে বলপ্রয়োগ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রয়োজনে তারা আরও দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন।”

তিনি বলেন, “আমরা যারা প্রাণ হারানো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য শোকাহত, তাদের স্মরণে বলছি—তারা সবাই শহীদ। এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।”

সরকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমান সংক্রান্ত দুর্যোগ প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন প্রেস সচিব।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকায় এসিসি সভা ঘিরে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, নিরপেক্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের টানাপড়েনের মাঝে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আসন্ন ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সভাটি আয়োজন করছে বিসিবি, তবে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে আয়োজক হিসেবে দায়িত্বপালনেই সীমাবদ্ধ থাকবে তারা বলে জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের জেরে আগস্টে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে ভারত। সেই সঙ্গে এসিসির ঢাকাস্থ এজিএম আয়োজন নিয়েও আপত্তি তুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিপরীতে এসিসির বর্তমান সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি সভা ঢাকাতেই আয়োজনের ব্যাপারে অনড় রয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন,
“এসিসি আমাদের প্রস্তাব করেছিল সভাটি আয়োজনের জন্য। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। এটি এসিসির প্রোগ্রাম, আমরা কেবল লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছি। ক্রিকেট সব কিছুর ঊর্ধ্বে—আমরা একটি সফল এজিএম আয়োজন করতে চাই।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এসিসির পাঁচটি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তিনটি সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তবে এজিএম অনুষ্ঠানে কোনও সমস্যা দেখছেন না বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন,
“আমার মনে হয় না এতে কোনো কূটনৈতিক সংকট হবে। আমরা আগে কখনো এজিএম আয়োজন করিনি, এবার একটা ভালো আয়োজনের চেষ্টা করছি।”

আজ (বুধবার) ঢাকায় বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে এসিসি সভাপতি মোহসিন নাকভির। এ প্রসঙ্গে বুলবুল জানান,
“তার সফরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বৃদ্ধি ও ক্রিকেটীয় উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে।”

বিতর্কের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সভা এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাংলাদেশ আপাতত রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে কেবল খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।




ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি ট্রাম্পের




বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সিরিজ উৎসর্গ করলেন লিটন দাস

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর তা বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ রানের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। ২০ ওভারে অলআউট হয়ে মাত্র ১৩৩ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। ইনিংসে জাকের আলির ৫৫ ও শেখ মেহেদির ৩৩ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। যদিও পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও খুশদিল শাহ দলকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান।

সিরিজ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিটন দাস বলেন,
“পাওয়ার প্লেতে আমাদের আরও ভালো করা দরকার ছিল, সেটা আমরা পারিনি। তবে জাকের আর মেহেদি দারুণ ব্যাটিং করেছে। মাঝের ওভারে কিছু ভুল হলেও আমরা ভালো বোলিং করেছি। অবশ্যই কিছু জায়গায় ভুল ছিল, বিশেষ করে ক্যাচ মিস করেছি। এই জয় আমরা সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি উৎসর্গ করছি।”

উল্লেখ্য, এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের আনন্দে শোককে স্মরণ করায় আবেগে ভেসেছে পুরো দল ও সমর্থকরা।




বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগাররা

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর ৮ রানের জয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে আশার আলো জাগান আহমেদ দানিয়েল। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়। ইনিংসে বড় অবদান রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলি। ৪৮ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। এছাড়া শেখ মেহেদি হাসান করেন ২৫ বলে ৩৩ রান।

জবাবে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তান তাদের প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ১৫ রানে। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে শেখ মেহেদির স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীরা।

পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও আব্বাস আফ্রিদির (১৩ বলে ১৯) লড়াকু ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মুস্তাফিজের শেষ ওভারে সব শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের।

এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয় ওপেনার নাঈম শেখের আউটের মাধ্যমে। মাত্র ৩ রান করে ফেরেন তিনি। অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমনও হতাশ করেন। তবে জাকের-মেহেদি জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে আসে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি ও মুস্তাফিজুর রহমান সবাই কার্যকর ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান ব্যাটিংকে চাপে রাখেন লিটনের ব্যবস্থাপনায়।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের সিরিজে জয় পেল। ম্যাচ শেষে আনন্দে মাতেন খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শকরা। সিরিজের এই ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




জাকেরের লড়াকু ফিফটিতে ১৩৩ রানে থামলো বাংলাদেশ

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েও জাকের আলির দৃঢ়তায় লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। তার ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করেছে স্বাগতিকরা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনফর্ম তানজিদ তামিমকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন নাঈম শেখ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন। ৭ বল খেলে করেন মাত্র ৩ রান।

অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিন নম্বরে নেমে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় সালমান মির্জাকে উড়াতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন। তাওহিদ হৃদয় রান না করেই রানআউট হন পারভেজ ইমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ফলে। এরপর ইমনও ব্যর্থ হন চাপ সামাল দিতে, ১৪ বলে করেন ১৩ রান।

মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন শেখ মেহেদি ও জাকের আলি। পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৫৩ রানের মূল্যবান জুটি। ২৫ বলে ৩৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মেহেদি, যিনি সম্প্রতি ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনার মুখে ছিলেন।

মেহেদির বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান শামীম হোসেন, তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন জাকের আলি। ৪৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন।

শেষদিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে না পারলেও জাকেরের লড়াকু ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই রান ডিফেন্ড করতে বোলাররা কেমন পারফর্ম করেন।