বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সিরিজ উৎসর্গ করলেন লিটন দাস

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর তা বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ রানের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। ২০ ওভারে অলআউট হয়ে মাত্র ১৩৩ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। ইনিংসে জাকের আলির ৫৫ ও শেখ মেহেদির ৩৩ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। যদিও পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও খুশদিল শাহ দলকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান।

সিরিজ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিটন দাস বলেন,
“পাওয়ার প্লেতে আমাদের আরও ভালো করা দরকার ছিল, সেটা আমরা পারিনি। তবে জাকের আর মেহেদি দারুণ ব্যাটিং করেছে। মাঝের ওভারে কিছু ভুল হলেও আমরা ভালো বোলিং করেছি। অবশ্যই কিছু জায়গায় ভুল ছিল, বিশেষ করে ক্যাচ মিস করেছি। এই জয় আমরা সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি উৎসর্গ করছি।”

উল্লেখ্য, এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের আনন্দে শোককে স্মরণ করায় আবেগে ভেসেছে পুরো দল ও সমর্থকরা।




বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগাররা

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর ৮ রানের জয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে আশার আলো জাগান আহমেদ দানিয়েল। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়। ইনিংসে বড় অবদান রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলি। ৪৮ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। এছাড়া শেখ মেহেদি হাসান করেন ২৫ বলে ৩৩ রান।

জবাবে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তান তাদের প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ১৫ রানে। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে শেখ মেহেদির স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীরা।

পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও আব্বাস আফ্রিদির (১৩ বলে ১৯) লড়াকু ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মুস্তাফিজের শেষ ওভারে সব শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের।

এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয় ওপেনার নাঈম শেখের আউটের মাধ্যমে। মাত্র ৩ রান করে ফেরেন তিনি। অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমনও হতাশ করেন। তবে জাকের-মেহেদি জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে আসে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি ও মুস্তাফিজুর রহমান সবাই কার্যকর ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান ব্যাটিংকে চাপে রাখেন লিটনের ব্যবস্থাপনায়।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের সিরিজে জয় পেল। ম্যাচ শেষে আনন্দে মাতেন খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শকরা। সিরিজের এই ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




জাকেরের লড়াকু ফিফটিতে ১৩৩ রানে থামলো বাংলাদেশ

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েও জাকের আলির দৃঢ়তায় লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। তার ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করেছে স্বাগতিকরা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনফর্ম তানজিদ তামিমকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন নাঈম শেখ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন। ৭ বল খেলে করেন মাত্র ৩ রান।

অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিন নম্বরে নেমে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় সালমান মির্জাকে উড়াতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন। তাওহিদ হৃদয় রান না করেই রানআউট হন পারভেজ ইমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ফলে। এরপর ইমনও ব্যর্থ হন চাপ সামাল দিতে, ১৪ বলে করেন ১৩ রান।

মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন শেখ মেহেদি ও জাকের আলি। পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৫৩ রানের মূল্যবান জুটি। ২৫ বলে ৩৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মেহেদি, যিনি সম্প্রতি ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনার মুখে ছিলেন।

মেহেদির বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান শামীম হোসেন, তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন জাকের আলি। ৪৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন।

শেষদিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে না পারলেও জাকেরের লড়াকু ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই রান ডিফেন্ড করতে বোলাররা কেমন পারফর্ম করেন।




মাইলস্টোন কলেজে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ প্রেস উইংয়ের আরও দুই কর্মকর্তা প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে যান তারা। তবে পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তারা বারবার দাবি জানালেও উপদেষ্টারা তাৎক্ষণিক প্রতিকার দিতে ব্যর্থ হন, ফলে কলেজ ত্যাগ করতে পারেননি কেউ।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা মাইলস্টোন কলেজের পাঁচ নম্বর একাডেমিক ভবনে অবস্থান করছিলেন। এসময় বাইরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক দল—একটি দল মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে, অন্যটি কলেজের গোলচত্বরে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। তারা দাবি জানান, যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের ঘটনাস্থলে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইলস্টোন কলেজ চত্বর, মেট্রোরেল ডিপো এবং আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা কোথায় আছেন, তা অফিসিয়ালি আমার জানা নেই। তিনি মাইলস্টোন কলেজে গিয়েছিলেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো সচিবালয়ে ফেরেননি।”

এর আগে জানা যায়, মঙ্গলবারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।




মাইলস্টোনে উদ্ধারচলাকারে অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে যা জানালো সেনাবাহিনী

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সময় সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কিছু উৎসুক জনতার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় শিশু ও সাধারণ নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই কাছাকাছি থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয়।

তবে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের ভিড় সৃষ্টি হয়, যা বারবার উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। সেনাসদস্য এবং মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ঘটনাস্থল ত্যাগে অনাগ্রহ দেখান অনেকেই। ফলে আহতদের সরিয়ে নিতে সময়ক্ষেপণ হয় এবং প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ে।

উদ্ধারে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যরা পেশাদারিত্ব ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিকেলের দিকে একপর্যায়ে উৎসুক জনতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা অনভিপ্রেত ঘটনা পর্যন্ত গড়ায়। এতে সেনা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।

আইএসপিআরের দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ১৪ সদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা সবসময় দেশের জনগণের পাশে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। দুর্ঘটনার মতো স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ সহজ করতে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে শিক্ষা সচিব প্রত্যাহার

তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে প্রত্যাহার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি সচিব প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান।

দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানীর সচিবালয় এলাকা। মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তারা। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের মূল ফটকে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ করতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সচিবালয় চত্বরে থাকা একাধিক সরকারি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন তারা। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একপর্যায়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সদস্য।

একজন শিক্ষার্থী জানান, “গতকাল বিমান দুর্ঘটনায় আমাদের সহপাঠীরা মারা গেছে। এতো বড় একটি দুর্ঘটনার পরও পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয় গভীর রাতে। সকালে পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারি বাতিল হয়েছে। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।”

ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তারা জানান—যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শুধু শোক নয়, বিভ্রান্তির মধ্যেও পড়তে হয়েছে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারা ছাত্রবান্ধব নন, বরং উদাসীন ও অযোগ্য। এই বিক্ষোভ ছিল সেই দায়মুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

ঘটনার পর থেকে সচিবালয়ের ভেতর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান করছেন। সরকার এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার কথা বললেও বিক্ষোভকারীরা বলেছেন—যতক্ষণ না দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ ও শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনার দায় স্বীকার করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

অবশেষে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি আংশিক মেনে নিয়ে সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ‘প্রাথমিক বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০২৪ সালের ২৩ জুলাই : কোটা নিয়ে উত্তাল দেশ, ইন্টারনেট ও কারফিউ শিথিল

২০২৪ সালের ২৩ জুলাই মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি আংশিক বহাল রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নবম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য নিয়োগে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কোটা সংস্কার দাবির প্রেক্ষিতে সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে।

এদিনই ছিল দেশে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থা। যদিও রাতের দিকে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কিছু এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সীমিত পরিসরে চালু করা হয়। তবে সবাই সেই সেবা পাননি। প্রাধান্য দেওয়া হয় জরুরি সেবা, গণমাধ্যম, ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।

দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের কারণে এই দিনেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠায় বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। একইসাথে কারফিউও শিথিল করা হয়। সীমিত সময়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোও পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

দেশজুড়ে সহিংস আন্দোলন ও সংঘর্ষের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘চিরুনি অভিযান’ এই দিনেও অব্যাহত ছিল। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৫১৭ জন। এক সপ্তাহে সারাদেশে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওইদিন রাজধানীতে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় আরও ৩৮টি মামলা হয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন এবং ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সারাদেশে ইন্টারনেট চালু করতে হবে, কারফিউ প্রত্যাহার করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাহার ও হল খুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, এবং আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এই দাবিগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন সংগঠনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ১৮ জুলাই থেকে তাদের তিনজন নেতা—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদ নিখোঁজ রয়েছেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন ১৬ জুলাই সারাদেশে ৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলি, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা পাঁচদিন রেল চলাচল বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই প্রথমবার তেলবাহী ট্রেন চালু হয়।

এই পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের নামে কোনো মামলা হলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে হল খোলা সম্ভব নয়। র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ ঘোষণা দেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সহায়তায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতদের প্রত্যেকের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং অজ্ঞাত মরদেহগুলোর শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, হতাহতের তথ্য গোপন করা হচ্ছে। এই দাবি সঠিক নয়। এমন গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য গোপনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

দুর্ঘটনার পর পরই স্কুল ক্যাম্পাসে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রি ও উপস্থিতি খাতা ঘেঁটে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সাধারণ জনগণকে উদ্বিগ্ন না হয়ে তথ্য যাচাই করে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে পরিচিত কেউ নিখোঁজ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিমান দুর্ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি পুরোপুরি যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় এই দাবিগুলো সামনে আসে এবং তা ঘিরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আলোচনায় উপদেষ্টারা শিক্ষার্থীদের দাবির সার্বিক দিক বিবেচনা করে তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নিহত, আহত এবং নিখোঁজদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট দেওয়া হবে।”

এসময় সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং বিষয়টি সেনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “জনবহুল এলাকায় যেন এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিমান চলাচল না করে, সেজন্য বিমান বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, “আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ নিয়মিত পরীক্ষার শেষে পুনঃনির্ধারণ করে জানানো হবে।”

সরকারের এই সরাসরি আলোচনায় শিক্ষার্থীরা কিছুটা আশ্বস্ত হলেও তারা সব দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উত্তরা ট্র্যাজেডিতে তারেক রহমানের শোক, নেতাকর্মীদের সহায়তায় আহ্বান

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান লেখেন, “মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা শোকাহত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেখানে একটি শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ তার শিক্ষা, বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠে—সেই পরিবেশে এমন ভয়াবহতা কখনো কাম্য নয়। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমাদের জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বিএনপি নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিধ্বস্ত ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থী অবস্থান করায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীও অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং আরও ১৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ।