নিহত পাইলট তৌকিরের পরিবারের পাশে বিএনপি; জানালেন সমবেদনা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় তৌকিরের পারিবারিক বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন ফখরুল।

সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন তৌকিরের স্ত্রী আকশা আহম্মেদ নিঝুম, শ্বশুর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বিষয়ক টিমের প্রধান সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই সকালে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ ৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।




মাইলস্টোন ট্রাজেডি: বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর মিছিল থামছে না

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৫ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (যিনি এখনও অজ্ঞাতনামা), এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। কেউ কেউ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সবশেষ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরের কোনাপাড়া এলাকার মাকিন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে।

দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৫০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন চিকিৎসাধীন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে, আটজন সিএমএইচে এবং একজন করে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই সকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।




চার ইসলামী দলের সমন্বিত বৈঠক, ঐক্য প্রক্রিয়া জোরদারের সিদ্ধান্ত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের চার ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইসলামপন্থিদের মধ্যে চলমান ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও গতিশীল করার বিষয়ে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান এবং মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা ও গণতন্ত্রহীন পরিবেশ মোকাবিলায় ইসলামপন্থি শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য সময়ের দাবি।”

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন—

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক,
  • মহাসচিব ড. আহমাদ আবদুল কাদের,
  • নেজামে ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার,
  • খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আঁকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

সভায় নেতারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের জনগণ ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাজনৈতিক কাঠামো চায়, আর এ লক্ষ্যে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য।




বিমান দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাৎ

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান বিএনপির প্রতিনিধি দল।

তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সফরের আয়োজন করা হয়। সাক্ষাৎকালে নিহত শিশুদের বাবা আশরাফুল আলম আবেগঘন পরিবেশে বলেন, “আমার সন্তানদের কবরে যেন দুই বছর পর আর কারও দাফন না হয়—এই আকুতি আমি আপনাদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে চাই।”

রিজভী আহমেদ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “সন্তান হারানোর শোক সবচেয়ে বেদনাদায়ক। এই বিষয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুবই উদ্বিগ্ন এবং আপনাদের খবর রাখছেন। আপনার দাবির বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, যেন আপনার সন্তানদের কবরের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।”

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. শরীফুল ইসলাম, জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল আলম হিটো, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. আউয়াল এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ডা. মুনতাসিরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।




পটুয়াখালীতে ভুয়া ‘জুলাই শহিদ’ শনাক্ত, গেজেট বাতিলের সুপারিশ

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তালিকাভুক্ত ‘জুলাই শহিদ’ বশির সরদার (৩৭) আদতে কোনো শহিদ নন। বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও অবশেষে পরিবারের ভুল স্বীকারোক্তির পর বুধবার তাকে ‘ভুয়া শহিদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসন। তার নামে থাকা সরকারী গেজেট বাতিলের সুপারিশ করে বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বশির সরদারের নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত স্মরণীয় বৃক্ষের পাশ থেকে তার শহিদ প্ল্যাকার্ড ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বশির সরদারের পরিবারও ভুল স্বীকার করেছেন। শহিদ পরিবার হিসেবে তাদের নামে দেওয়া ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বশির সরদার সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা। জীবদ্দশায় তিনি পটুয়াখালী শহরের নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারে একজন চা বিক্রেতা ছিলেন। তার পরিবার দাবি করেছিল যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি চৌরাস্তায় আহত হন এবং পরে মারা যান। সেই দাবির ভিত্তিতেই তার নাম ‘জুলাই শহিদ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পটুয়াখালী শহরে ওই সময় এ ধরণের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করেন এবং ভুল স্বীকার করেন।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের যাচাই-বাছাই কমিটির’ বৈঠকে তাকে ভুয়া শহিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে বৈষম্য বিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বশির সরদারের স্ত্রী রেবা আক্তার জানান, তার স্বামী ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় তার দেবর নাসির সরদার সরকারি সহায়তার আশায় তাকে শহিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেন।

নাসির সরদার নিজেও ভুল স্বীকার করে জানান, দারিদ্র্য এবং “শয়তানের প্ররোচনায়” তিনি এমনটি করেছেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে জেলা প্রশাসকের কাছে নিজেই নাম বাতিলের অনুরোধ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ত্রাণ ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের কঠোর বার্তা: গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি

গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়কে “অবর্ণনীয় ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, “গাজার জনগণের দুর্ভোগের যে মাত্রা, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।” বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

স্টারমার বলেন, “এই সংকট বহুদিন ধরেই চলছিল, তবে বর্তমানে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমরা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছি।”

তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন তিনি। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে—নিহতের সংখ্যা কমানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজায় প্রতিদিনই বহু ফিলিস্তিনি ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় গঠিত বিতর্কিত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে ত্রাণ সরবরাহে সবধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েলের ত্রাণ নীতিমালা “বিপজ্জনক” এবং তা গাজাবাসীদের মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করছে।

ব্রিটিশ লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন এমপি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য তখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের অধিকার মৌলিক ও অপরিবর্তনযোগ্য। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নই হবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রথম ধাপ।”

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে স্টারমার ইসরায়েলকে “পথ পরিবর্তনের” আহ্বান জানান এবং হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মির শর্তহীন মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে, একই দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। অন্যদিকে, কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিনিধি দল সরিয়ে নিয়েছে, ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন মানবিক বিপর্যয়ের দিকেই এগোচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।




ফিলিস্তিনকে সেপ্টেম্বরে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফরাসি সময় রাত সাড়ে ৯টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক (এক্স) পেজে পোস্ট করা বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা।” শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে ম্যাক্রোঁ জানান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির মুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে, যা নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করবে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তায় অবদান রাখবে।”

এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ফরাসি জনগণ শান্তি চায়। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

ম্যাক্রোঁ আরও জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তি অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দরকার বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার—এই চেতনায় আমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”




গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু ছাড়াল ৫৯ হাজার, একদিনেই নিহত ৮৯

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫৮৬ জনে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫৩ জন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বাস্তুচ্যুতদের উপর পরিচালিত এ আক্রমণকে ‘গণহত্যামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছে, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বা রাস্তায় পড়েছেন, যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ সময়ের মধ্যে আরও ২৭৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত শুধু ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ২৭৫ জনেরও বেশি।

চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করলে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে নতুন করে নিহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৪৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৩১ হাজার ৪৫৭ জন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়াও, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কাতারে শান্তি আলোচনার জন্য নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের ফিরিয়ে এনেছে তেল আবিব, এবং পশ্চিম তীর দখলের প্রতীকী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট। একইসঙ্গে, আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও সেখানে যুদ্ধ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।




ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ; তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি—এ ধরনের কথা কখনও আমি বা সরকারের কেউ বলেনি।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের চিকিৎসায় ভারত থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক চাই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—গুড ওয়ার্কিং রিলেশন।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতসহ যেসব দেশ চিকিৎসা সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বার্ন ইউনিটের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা ভারতের টিমকে তথ্য দিয়েছি। তারা দুইজন চিকিৎসক ও একজন নার্স পাঠিয়েছে। তাদের সেবার প্রতি আমরা সম্মান দেখাচ্ছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “মানুষে-মানুষে সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কখনও এমন কিছু করেনি যাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। একইসঙ্গে আমরা কারও ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলও হইনি। সবসময়ই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”

পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তবে সেটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুদৃঢ় সহযোগিতার ভিত্তিতে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের আগে মো. তৌহিদ হোসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, “ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে ফোন করেছিলেন। এটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ।”




আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শাসনামলে সকল নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্তও করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানিয়েছে, এ সময় আবরার ফাহাদের পরিবার ২০০৯ সালের পর থেকে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতদের তালিকা তৈরি ও প্রত্যেকটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। তার মা এখনো ছেলের শোকে কাঁদেন। আমরা চাই না আর কোনো মা সন্তানের মৃত্যু দেখতে পাক।”

তিনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ চেয়েছেন, যাতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।

শিক্ষা খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ল্যাব, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অতীতের নির্যাতনের ঘটনাগুলোরও তদন্ত দাবি করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এর সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়েও তদন্ত কাজ চলছে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।