সরকারি আদেশ অমান্যে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তির বিধান: নতুন অধ্যাদেশ জারি

সরকারি আদেশ, পরিপত্র বা নির্দেশনা অমান্য করলে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—এমন বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বৈধ আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করেন, বাস্তবায়নে বাধা দেন বা অন্যদের প্ররোচিত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ। এছাড়া ছুটি বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, সমবেতভাবে কর্মবিরতি পালন বা অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও একই অপরাধের আওতায় পড়বে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তি দেওয়া যাবে।

অভিযোগ ওঠার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্তকে নোটিশ দেবে এবং সে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কি না তা জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর বা না পেলেও তিন দিনের মধ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযুক্ত কর্মচারীর চেয়ে জ্যেষ্ঠদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নারী হলে অবশ্যই একজন নারী সদস্য রাখতে হবে।

তদন্ত কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একবারের জন্য আরও ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে সেটি কমিটির অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে শাস্তির বিষয় জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর দণ্ড আরোপ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না। এক্ষেত্রে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।

নতুন অধ্যাদেশটি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




রাশিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ৪৯ আরোহীর সকলেই নিহত

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ৪৯ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পোড়া ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত একটি আট সেকেন্ডের ভিডিওতে গভীর জঙ্গলের মধ্যে ঘন ধোঁয়ায় মোড়ানো বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

বিধ্বস্ত বিমানটি সাইবেরিয়াভিত্তিক ‘আঙ্গারা’ এয়ারলাইন্স পরিচালিত আনটোনভ-২৪ মডেলের একটি যাত্রীবাহী বিমান। এটি ব্লাগোভেশচেনস্ক শহর থেকে উড্ডয়ন করে চীনের সীমান্তবর্তী টাইন্দা শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝপথে বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ জানান, বিমানে ৫ শিশুসহ ৪৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু ছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

নিখোঁজ বিমানের খোঁজে তল্লাশির সময় আমুর অঞ্চলের একটি দুর্গম বনাঞ্চলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। দেখা যায়, ফিউসেলাজে আগুন জ্বলছিল।

পরে জরুরি বিভাগের হেলিকপ্টার ও রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ একাধিক উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তবে এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসায় চীন থেকে আসছে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম

উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে দগ্ধ আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের একটি মেডিকেল টিম আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুরোধে পাঁচ সদস্যের একটি জরুরি মেডিকেল টিম ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ এই দলটিতে রয়েছেন চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা।

টিমটি ঢাকায় পৌঁছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে দগ্ধদের চিকিৎসা, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

এর আগে, ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় ভারতের তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। একই দিন সিঙ্গাপুর থেকেও আরও একটি মেডিকেল টিম এসে পৌঁছায়।

এরও আগে, ২২ জুলাই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. চোং সি জ্যাক ঢাকায় এসে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত হন।

এছাড়া, জাপান সরকারও দগ্ধদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একটি যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ এলাকায় বিধ্বস্ত হলে এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ দগ্ধ ও আহত হন।




দুমকিতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর গাফিলতি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভুল প্যাথলজি রিপোর্টের কারণে শিশুসহ একাধিক রোগী গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাফিলতিতে রোগ নির্ণয়ে সঠিকতা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, জীবননাশের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

দুমকি উপজেলার নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারে ৬ বছর বয়সী নাজিফা নামের এক শিশুর আইএসও টেস্ট রিপোর্টে স্বাভাবিক মাত্রা ২০০’র পরিবর্তে ৬০০ দেখানো হয়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য বরিশালের জাহানারা ক্লিনিকে রিপোর্ট করালে সেখানে আইএসও মাত্রা পাওয়া যায় ২০০। তবুও নিউ লাইফের রিপোর্টের ভিত্তিতে শিশুটিকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশকিছু ওষুধ খাওয়ানো হলে তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হয়। পরে জাহানারা ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, এমন ওষুধ শিশুটিকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে।

এছাড়া, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন ভেবে নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস এর রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা নেন। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিএম এনামুল হক টাইফয়েডের চিকিৎসা দেন। এতে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং বরিশালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরীক্ষা করে টাইফয়েডের অস্তিত্ব না পাওয়ায় আগের রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত হয়। ওই শিক্ষার্থী আইসিইউতে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে, ডা. জিএম এনামুল হক নিজেই নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস-এর মালিকদের একজন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি চাকরি থাকা অবস্থায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবসা করছেন এবং নিজের হাসপাতালের রোগীদের সেই প্রাইভেট সেন্টারে পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে একটি অডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

নাজিফার দাদি সখিনা বেগম ২২ জুলাই নিউ লাইফ ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন পটুয়াখালী সিভিল সার্জনের কাছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, রিপোর্ট ভুল ছিল না। ব্যক্তিগত কোনো ভুল হলেও প্রতিষ্ঠান দায় নেবে না।

উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অদক্ষ টেকনিশিয়ান থাকার কারণে রিপোর্টে ভুল হয়। উপজেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মজিবুর রহমান টিটু বলেন, যদি কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার রিপোর্টে ভুল করে, সেই দায় ওই সেন্টারের, অ্যাসোসিয়েশন নয়।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং রিপোর্টে ভুল হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত সব ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটলে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দুমকি উপজেলা শহর ও লেবুখালী এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজি রয়েছে। এসব সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার রোগ নির্ণয় পরীক্ষা হয়। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ সেবায় যদি গাফিলতি থাকে, তাহলে তা হতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ।


মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অসুস্থ খালেদা জিয়া, রাতেই এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে তাকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বসুন্ধরার এ হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে।

চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।

তবে হাসপাতালমুখী হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হয়েছে। তাই সতর্কতামূলকভাবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে রাতেই বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। সময়-সময়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চলতি বছরেই লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন তিনি।




মানবিকতার প্রতীক মাহেরীনের প্রতি বিমান বাহিনীর সম্মান

উত্তরার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বুধবার (২৩ জুলাই) নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ী গ্রামে তার কবরস্থানে এ ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় তারা মাহেরীনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে মাহেরীনের আত্মত্যাগকে “মানবিকতা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতির স্মৃতিতে চিরকাল গর্বের সঙ্গে রয়ে যাবে।

গত সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালে পাশের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় ভবনে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও মাহেরীন চৌধুরী তখনও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই আগুনে আটকে পড়েন এবং দগ্ধ হন শরীরের অধিকাংশ অংশে। গুরুতর অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়




সংলাপ থেকে সিপিবি-বাসদ-জাসদের প্রতীকী ওয়াকআউট, অভিযোগ পুলিশের হামলা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ থেকে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশের তিনটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল—সিপিবি, বাসদ ও বাংলাদেশ জাসদ। বুধবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার কিছু পর অনুষ্ঠিত সংলাপে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘হামলার’ প্রতিবাদে দল তিনটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়াকআউটকারী দলগুলোর অভিযোগ, মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ১০ মিনিটের প্রতীকী ওয়াকআউট করে সংলাপ থেকে বেরিয়ে যান।

সংলাপে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “অতীতে স্বৈরাচারী শাসকরা যেভাবে বিরোধী মত দমন করত, এখনো তেমন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। স্বৈরাচারীদের ষড়যন্ত্র আমরা জানি। অতীতে শেখ হাসিনাও এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দিতেন—আজও একই চিত্র। এ অবস্থায় আলোচনায় থাকা সম্ভব নয়।”

তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ওয়াকআউট করেন জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

ওয়াকআউটের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “তিনটি দলের প্রতীকী প্রতিবাদকে আমরা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বাগত জানাই। তাদের বক্তব্য জাতির সামনে এসেছে। সরকার নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।”

উল্লেখ্য, বুধবারের সংলাপ সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, সূচনা বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।




পটুয়াখালী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে থমকে সংযোগ সড়ক

পটুয়াখালীর বাউফল ও দশমিনা উপজেলার সংযোগস্থল বাঁশবাড়িয়া বগী বাজার খালের উপর নির্মিত সেতুটি স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে দুই উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ও অসুস্থ, বৃদ্ধ মানুষজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরনো লোহার সেতুটি ভেঙে নতুন একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ২৪ মিটার ও প্রস্থ সাড়ে ৭ মিটার। ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তবে এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় হলেও সেতু থেকে রাস্তার সংযোগ তৈরির কোনও কার্যকর উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।

খালের গভীরতা ও ট্রলার চলাচলের কারণে সেতুটি উচ্চতায় বেশি হওয়ায় সংযোগ সড়ক ছাড়া চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়ে কিছু সিসি স্ল্যাব বসিয়ে লোকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে চলাচল আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, “আমরা প্রতিদিন স্কুলে যেতে ভয় পাই। সেতুতে উঠা-নামায় সমস্যা হয়, বৃষ্টি হলে মাটিতে পিছলে পড়ে যাই।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা নিজেরা হাতে ধরে শিক্ষার্থীদের পার করি। অথচ এত টাকা খরচ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক।”

বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, “এখনও সংযোগ সড়ক না থাকায়, মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে। বিষয়টি নিয়ে বহুবার জানানো হলেও সুরাহা হয়নি।”

এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর জানান, “ভূমি সংক্রান্ত মামলার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলা নেই, তবে স্থানীয় দোকানপাটের ক্ষতি এড়াতে নতুন ডিজাইন তৈরি করা হচ্ছে। ডিজাইন শেষ হলে টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে। দীর্ঘসূত্রতায় যে জীবন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাইলস্টোন দুর্ঘটনার নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে পটুয়াখালীতে।

বুধবার সন্ধ্যায় সদর রোডস্থ পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বলেন, “এই দুর্ঘটনা জাতির জন্য এক গভীর শোকের বার্তা। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আমরা এই প্রার্থনার আয়োজন করেছি। এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব।”

দোয়া পরিচালনা করেন পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ।
তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের আরোগ্য লাভের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

আয়োজকরা জানান, “জাতীয়ভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, সেই প্রত্যাশা থেকেই এই আয়োজন।”
দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


মো:আল-আমিন



হাসপাতালে নার্সের বিরুদ্ধে রোগীর মাকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়শা আক্তারের বিরুদ্ধে রোগীর এক মায়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং চুরির অপবাদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে, যা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিবেশ ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা গেছে, মোসা. ছোকানুর বেগম তার ১০ বছর বয়সী কন্যা মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স আয়শা আক্তার তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও দুর্ব্যবহার শুরু করেন। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে ওই নার্স আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ছোকানুর বেগম অভিযোগ করেন, “আমি আমার মেয়েকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু নার্স আয়শা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। হঠাৎ করে তিনি আমাকে চোর বলে অপবাদ দেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই টেনে-হিঁচড়ে রুম থেকে বের করে এনে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারেন।” তিনি আরও জানান, “রুমে মোবাইল চুরি হয়েছে বলে আমাকে সন্দেহ করেন, অথচ তার কোনো ভিত্তি ছিল না।”

এই অপমানজনক পরিস্থিতির সময় আশেপাশে থাকা অন্যান্য রোগীর স্বজনরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্ত নার্স দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ছোকানুর বেগম জানান, এই অন্যায় আচরণের বিচার দাবি করে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন। তার দাবি, একজন নার্সের কাছ থেকে এমন নির্দয় ও অপেশাদার আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। একইসঙ্গে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ ধরনের আচরণ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, হাসপাতালের মতো মানবসেবার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন আচরণ জনগণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম