গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু ছাড়াল ৫৯ হাজার, একদিনেই নিহত ৮৯

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫৮৬ জনে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫৩ জন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বাস্তুচ্যুতদের উপর পরিচালিত এ আক্রমণকে ‘গণহত্যামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছে, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বা রাস্তায় পড়েছেন, যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ সময়ের মধ্যে আরও ২৭৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত শুধু ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ২৭৫ জনেরও বেশি।

চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করলে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে নতুন করে নিহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৪৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৩১ হাজার ৪৫৭ জন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়াও, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কাতারে শান্তি আলোচনার জন্য নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের ফিরিয়ে এনেছে তেল আবিব, এবং পশ্চিম তীর দখলের প্রতীকী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট। একইসঙ্গে, আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও সেখানে যুদ্ধ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।




ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ; তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি—এ ধরনের কথা কখনও আমি বা সরকারের কেউ বলেনি।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের চিকিৎসায় ভারত থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক চাই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—গুড ওয়ার্কিং রিলেশন।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতসহ যেসব দেশ চিকিৎসা সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বার্ন ইউনিটের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা ভারতের টিমকে তথ্য দিয়েছি। তারা দুইজন চিকিৎসক ও একজন নার্স পাঠিয়েছে। তাদের সেবার প্রতি আমরা সম্মান দেখাচ্ছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “মানুষে-মানুষে সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কখনও এমন কিছু করেনি যাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। একইসঙ্গে আমরা কারও ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলও হইনি। সবসময়ই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”

পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তবে সেটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুদৃঢ় সহযোগিতার ভিত্তিতে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের আগে মো. তৌহিদ হোসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, “ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে ফোন করেছিলেন। এটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ।”




আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শাসনামলে সকল নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্তও করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানিয়েছে, এ সময় আবরার ফাহাদের পরিবার ২০০৯ সালের পর থেকে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতদের তালিকা তৈরি ও প্রত্যেকটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। তার মা এখনো ছেলের শোকে কাঁদেন। আমরা চাই না আর কোনো মা সন্তানের মৃত্যু দেখতে পাক।”

তিনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ চেয়েছেন, যাতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।

শিক্ষা খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ল্যাব, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অতীতের নির্যাতনের ঘটনাগুলোরও তদন্ত দাবি করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এর সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়েও তদন্ত কাজ চলছে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন ঢাকায় চালুর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, মিশনের কার্যক্রম দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না এবং এটি একটি দীর্ঘ আলোচনার ফল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা নিজেরা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে না। দুই বছর পর অফিস স্থাপনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যাবে এবং চাইলে ছয় মাসের নোটিশে অপসারণও সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের প্রস্তাব পাওয়ার পরপরই কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়নি। বিষয়টি দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।”

এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই অববাহিকার অনেক নদী আমাদের উৎসভূমিতে নয়, সুতরাং চীনে অবকাঠামো স্থাপনে আমরা বাধা দিতে পারি না। তবে চেষ্টা থাকবে যেন আমাদের ক্ষতি না হয় বা ক্ষতি সীমিত থাকে।”

তিনি জানান, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্পটি এমন প্রযুক্তিতে নির্মিত যাতে পানি প্রত্যাহার হবে না।

শুল্ক প্রত্যাহার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, “আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। যারা আলোচনা করছেন, তারাই এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন। মাঝপথে আমার কিছু বলা সমীচীন নয়।”




চাঁদাবাজি-লুটপাট নয়, মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে চাই: মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দলগুলো কখনও এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বুঝতে চায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি নয়, বরং মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে চান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পথযাত্রা ও পথসভায় অংশ নিয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন, ‘একদল লুটপাট করে ৫ আগস্টের পর পালিয়ে গেছে, আরেক দল নিরীহ মানুষকে মামলার ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা হেভিওয়েট নেতার নাম ভাঙিয়ে দোকান-দোকানে চাঁদাবাজি করছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছি এবং পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজি হতে দেব না। ব্যবসায়ী ও ভাইদের আমরা পাহারা দেব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি চরমোনাই পীরের শিষ্য। আমরা রাজনীতি করি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে ইনশাআল্লাহ, হাতপাখা বিজয় অর্জন করবে এবং এই জনপদের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না।’

এ সময় স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী, ধর্মপ্রাণ যুবক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আহতদের চিকিৎসায় সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আহতদের চিকিৎসা, শহীদ পরিবারগুলোর সহায়তা এসব ক্ষেত্রেই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমরা দায়িত্বে গেলে এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।”

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে সিলেট মহানগর জামায়াত এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, “যে রাজনৈতিক দল নিজ কর্মীদের চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত রাখতে পারে না, তারা দেশের জন্য কখনোই নিরাপদ নয়। দেশের সর্বত্র আজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। চা শিল্প আজ রুগ্ন, কারণ সরকারের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ করেছে, সামনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ আসছে।”

তিনি জানান, রাজনৈতিক সংস্কার ও নিরপেক্ষ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করে আগামী বছরের শুরুতেই একটি অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে জামায়াত।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী এবং নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম বাবুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আরও বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আমির মখলিছুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, মাওলানা লুৎফর রহমান হুমায়দী, জামিল আহমদ রাজু, শামীম আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অবরোধ

স্বতন্ত্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দীর্ঘ দুই মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন কাঠামোর অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা। কারণ, বর্তমানে ঢাবির অধীনে থাকার কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষা কার্যক্রমে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এক শিক্ষার্থী জানান, ‘‘ঢাবিকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা গতবার শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছিলাম, কিন্তু তখন পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও আমাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে, যাতে ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়।’’ আজকের কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাওন বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই চাইছিলাম ঢাবি ও কারিগরি বোর্ড যৌথভাবে সমস্যার সমাধান করুক। কিন্তু তারা অপারগতা প্রকাশ করায় এখন বিআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গঠনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র কাঠামো দাবি করছি।’’

শিক্ষার্থী ইএইচ ইরান জানান, ‘‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতে সমস্যা না হয়, সে বিবেচনায় আমরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করিনি। কিন্তু আমাদের দাবির ব্যাপারে দ্রুত সুরাহা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ: হাসিনার ফোনালাপ ফাঁস

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন দাবি করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তাদের ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (আই-ইউনিট) শেখ হাসিনার একাধিক ফোনালাপ ফাঁস করে বলেছে, এসব নির্দেশ তিনি প্রকাশ্যেই দিয়েছিলেন এবং ফোনালাপে তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে যে কোনো স্থানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে, যেখানেই পাবে গুলি চালাবে।”

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই সময়কার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

যদিও সরকার পক্ষ এই অডিওর সত্যতা অস্বীকার করেছে, আল জাজিরার দাবি—ফোনালাপগুলো ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। ভয়েস-ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তও করা হয়েছে।

আল জাজিরা আরও জানায়, আন্দোলনের সময় চিকিৎসকরা বিক্ষোভকারীদের শরীরে অস্বাভাবিক গুলির ক্ষত দেখতে পান। রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, “হেলিকপ্টার থেকে হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।”

রংপুরে আন্দোলনকারী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের চাপের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, পুলিশের চাপে এক চিকিৎসককে পাঁচবার রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করা হয়।

আসন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার এসব ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা ও তার দুই ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী আগস্টে বিচার শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

আল জাজিরার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেও জানতেন তার ফোনালাপ রেকর্ড হচ্ছে। এক জায়গায় তাকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, আমি জানি, রেকর্ড হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই।”

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি (হাসিনা) অন্যদের জন্য গর্ত খুঁড়েছিলেন, এখন নিজেই তাতে পড়ে গেছেন।”

তবে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শেখ হাসিনা কখনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। ফোনালাপগুলো বিকৃত বা খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।”

২০২৪ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যান বলে দাবি করেছে আল জাজিরা।




খায়রুল হকের হঠকারী রায়ে অপকর্মের লাইসেন্স পেয়েছিল রাজনৈতিক চক্র: জামায়াত আমির

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, খায়রুল হকের দেওয়া হঠকারী রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক মাফিয়াদের গুম, খুন ও লুণ্ঠনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লিখেন, “খায়রুল হক ফ্যাসিস্ট আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দায়িত্বের মর্যাদা বোঝেননি, বরং দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন চেয়ারে বসে জাতির বিরাট ক্ষতি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার হঠকারী রায়ের মধ্য দিয়েই গুম, খুন, লুণ্ঠনসহ সকল অপকর্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক চক্রের হাতে।”

ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে, যা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, “এখন জাতি চায় তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তার কর্মের জন্য ইতিহাসসম্মত ন্যায্য শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা ন্যায়বিচার ছাড়া কিছু প্রত্যাশা করি না।”

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল-সংক্রান্ত আলোচিত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে দোষারোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি পদক্ষেপ নিয়েছে।




খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ: মির্জা ফখরুল

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দেরিতে হলেও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে—এ উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিচারপতি খায়রুল হক বাংলাদেশের একজন বড় শত্রু। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশের বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন। তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের যে সংক্ষিপ্ত রায় তিনি দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ রায়ের আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। আমরা মনে করি, এই রায় রাষ্ট্রবিরোধী ছিল।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যদিও দেরিতে, তবু সরকারের পক্ষ থেকে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, তার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।”

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত না জানানো হলেও বিএনপির বক্তব্যে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।