বরিশাল-৫: মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠ কাঁপাচ্ছেন হেভিওয়েট নেতারা

বরিশাল-৫ (সদর) আসন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে এটি এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক শক্তির কাছে এই আসনটি একটি মর্যাদার লড়াইয়ের প্রতীক। ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মনোনয়ন যুদ্ধ। বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা রয়েছেন এই প্রতিযোগিতায়, যার মধ্যে বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর শক্ত অবস্থান স্পষ্ট।

স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত এ আসনে ১০টি নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ৮টিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। এ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় সাংসদ ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার। এবারও তিনি মনোনয়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তার সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন বিএনপির আরও এক উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ ও মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।

বিএনপির এ নেতারা অতীতে আন্দোলন, মামলা ও কারাবরণে বহুবার সরব ছিলেন। ফলে দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

তবে এ আসনে ইসলামী দলগুলোও শক্ত অবস্থানে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনের সময় হামলার শিকার হওয়া এই নেতা বরিশাল অঞ্চলে যথেষ্ট পরিচিত এবং জনপ্রিয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। পরিচ্ছন্ন ইমেজের এই নেতা দলীয়ভাবে ত্যাগী হিসেবে বিবেচিত।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও ইকবাল হোসেন তাপস প্রার্থী হতে পারেন, যদিও তফসিল ঘোষণার আগে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

এই আসনে তরুণ ভোটার আরিফুর রহমান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে বরিশাল-৫ এর ফলাফলে বড় চমক আসতে পারে।”

এদিকে বরিশাল বিভাগীয় নির্বাচন বিশ্লেষক আনিসুর রহমান স্বপনের মতে, বরিশাল-৫ আসন শুধু সদরই নয়, বরং গোটা বিভাগের রাজনৈতিক দিকনির্দেশক। এই আসনের ফলাফল প্রভাব ফেলবে আশপাশের এলাকাগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্যে।

আসনের দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, নাসিম বিশ্বাস ও মজিবুর রহমান সারোয়ার একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে সর্বশেষ দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদ ফারুক শামীম। তার আগেও এই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত বিজয়ী হয়েছে।

অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে কার হাতে উঠবে নির্বাচনের বিজয়মাল্য—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তফসিল ঘোষণার পর পর্যন্ত। তবে এরইমধ্যে এই আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে, তা যেন জাতীয় রাজনীতিকেও নাড়া দিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে টানা ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত দু’দিন টানা ভারি বৃষ্টির ফলে পটুয়াখালী পৌর শহরসহ উপকূলীয় এলাকা ব্যাপক জলাবদ্ধতায় ভুগছে। শহরের অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায় এবং বসতঘরে পানি প্রবেশ করে জনজীবন প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা বেশি কষ্টের মুখে পড়েছেন।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টি আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও ভারি বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে।

শহরের জুবিলী স্কুল রোড, মহিলা কলেজ রোড, সবুজবাগ ৬ নম্বর লেন, মুন্সেফপাড়া, পুরাতন হাসপাতাল রোড এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা সহ নিচু স্থানের অনেক জায়গায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে গেছে। এতে রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর কামাল হোসেন বলেন, “সকালে কাজে বের হতে না হতেই দেখি ঝুম বৃষ্টি, আর রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে আছে, তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না, আবার ফিরে যাচ্ছি।”

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতমিন জানান, “আজকে স্কুলে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা হয়নি।”

অন্যদিকে, কলাপাড়া রাডার স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে, পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।

এ অবস্থায় শহরের দোকানপাট বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তেঁতুলিয়া নদীতে নৌকাডুবি, ২০ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ চন্দ্রদ্বীপের জেলে ইমরান

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. ইমরান শরীফের (২০) সন্ধান এখনও মেলেনি। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পরও তার খোঁজ না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর কচুয়া এলাকার কাছে নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১২টা পর্যন্ত ইমরানকে উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

নিখোঁজ ইমরান শরীফ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চররায় সাহেব গ্রামের মনির শরীফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ইমরান ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে বরফ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কালাইয়া বন্দর ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কচুয়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে তার নৌকাটি উল্টে যায়।

সঙ্গী মো. হাবীব শরীফ বলেন:

“আমরা একসঙ্গে দুইটি নৌকা নিয়ে বের হই। বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলেদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ইমরানের নৌকা নদীতে উল্টে ভাসছে। কিন্তু ইমরানকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান:

“ফায়ার সার্ভিস ও আমাদের দল যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি, তবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয় জেলে ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত নিখোঁজ ইমরানের সন্ধান কামনা করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪

 




“কুয়াকাটা বাঁচাও, পর্যটন বাঁচাও” — সৈকত রক্ষায় একত্রিত জনতা

বঙ্গোপসাগরের অবারিত ঢেউয়ের ধাক্কায় হুমকির মুখে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। এরই প্রতিবাদ ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

“কুয়াকাটা বাঁচাও, পর্যটন বাঁচাও” এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে উপকূল। মানববন্ধনে বিএনপি, জামায়াত, টোয়াক (TOAC), ভয়েস ক্লাবসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা বলেন,

“বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা কয়েকদিনের উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডবে কুয়াকাটা সৈকতের বড় অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই অন্যতম স্থানটি এখন বিলীনের পথে।”

টোয়াক সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন,

“আমাদের সৈকত যদি না থাকে, তবে পর্যটনশিল্পও থাকবে না। এখনই সময়—একটি টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি সমুদ্রসৈকত রক্ষা প্রকল্প গ্রহণের।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন:

  • কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার
  • পৌর জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মঈনুল ইসলাম মন্নান
  • টোয়াক সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম
  • কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি হোসাইন আমির, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল
  • ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজ
  • ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু
  • ভয়েস ক্লাবের সভাপতি তরিকুল ইসলাম রনি

এছাড়া শিক্ষার্থী, জেলে, কৃষক, পর্যটক, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সরকারের প্রতি দ্রুত স্থায়ী সমুদ্রপ্রাচীর নির্মাণ ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪

 




নিম্নচাপে রাঙ্গাবালীর দুই ইউনিয়নে প্লাবন, ঘরবাড়ি জোয়ারে তলিয়ে গেছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি বেড়ে গেছে। এর ফলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপচে পড়া নদীর পানি এবং ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রবল স্রোতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে, এতে ভেঙে পড়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয়রা জানান, আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পানি উপচে পড়ায় চালিতাবুনিয়ার মধ্য-চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, গরুভাঙ্গা এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে, ঘরের মালামাল ভেসে গেছে। বহু মানুষ এখন আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের ওপরে, কেউবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।

চালিতাবুনিয়ার বাসিন্দা বায়েজীদ গাজী ও আতিক গাজী জানান, মধ্য-চালিতাবুনিয়ার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে পানি ঢুকে পুরো ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ডুবিয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, “জোয়ার এলেই ঘরে পানি ওঠে, রান্না-বান্না বন্ধ। ভাটার সময় পানি একটু নামলেও বসবাসের মতো পরিবেশ থাকে না।”

চরমোন্তাজের চরআন্ডা গ্রামের ওহাব মিয়া ও রাকিব ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় থাকা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে গ্রাম তলিয়ে দেয়। নতুন করে আরও একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পুকুর-ঘেরে থাকা মাছ পানিতে ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার মৎস্যচাষিরা।

উপজেলার সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন বলেন, “জোয়ারের পানি বৃদ্ধি এবং বাঁধ ভেঙে পড়ায় বহু মৎস্য ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ পরে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।”

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা ওয়্যারলেস অপারেটর নজরুল ইসলাম জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে। তার মতে, অমাবস্যা ও নিম্নচাপ মিলিয়ে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল ১-৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ দ্রুত বাঁধ সংস্কার, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণ করে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে বলে জানা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উপকূলে তিন নম্বর সংকেত, জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে দ্বীপ ও চর

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম অবনতি ঘটেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৫ জুলাই মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ওপর অবস্থান করছিল। নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বাতাসে চাপের তারতম্য বেড়ে গেছে, ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ু-চালিত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবে। এরই মধ্যে মৎস্যজীবীদের অনেকে ঘাটে নৌকা বেঁধে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। তবে কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনেকে মাছ ধরছেন, যা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল ও আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলো বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে উপকূলের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ যারা আগে থেকেই জোয়ারের পানিতে ভোগান্তিতে রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। অনেক কৃষকের ধানক্ষেত ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে এলেও এর প্রভাব কিছুদিন পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। তাই সতর্ক সংকেত অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজনকে সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিআর পদ্ধতিতে একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি জামায়াতের

কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন নয়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। শুক্রবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কর্মী সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, “জামায়াত নির্বাচনের বিপক্ষে নয়, বরং এমন নির্বাচন চায় না যেখানে ইতিহাসের মতো ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালটবাক্স ছিনতাই হয়। বিগত ৫৪ বছরে যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রহসনের মাধ্যমে শাসন করেছে।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার হোক, এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতিতে। এতে ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব হবে।”

“বড় দল নয়, আদর্শই পরিচয়”

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “কোনো দল বড় দল কি না, তা মুখে বলা কোনো বিষয় নয়। রাজনীতির আসল পরিচয় আসে আদর্শ, নীতি ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। যারা নিজেদের বড় দাবি করে, তারা বরং জামায়াতের মতো আদর্শিক রাজনীতিকে অনুসরণ করুক—তাহলেই দেশ-জাতির উপকার হবে।”

জামায়াতের সংস্কারের দাবি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছে, তাদের উদ্দেশে ডা. তাহের বলেন, “সংস্কার ছাড়াই হাসিনা মার্কা নির্বাচন চাওয়ার মানে জাতির সঙ্গে প্রতারণা। যারা ভোট ডাকাতির চিন্তা করে না, তারা সংস্কারে আপত্তি করতে পারে না।”

নির্বাচন প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

সম্মেলনের বিশেষ অতিথি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ছায়া নির্বাচন করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। এবার জনগণ প্রস্তুত, কোনো পক্ষ যদি আবারও ভোট ডাকাতির নির্বাচন করতে চায়, তাহলে তা জনগণ প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “হাসিনার পতনের পর এখন একটি নতুন দল মনে করছে, তারা বাংলাদেশের মালিক। কিন্তু বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের। কেউ যদি আবারও দেশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে, তাদের পরিণতিও হাসিনার মতোই হবে।”

ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, আদর্শে বিশ্বাসী: হামিদুর রহমান আজাদ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “জামায়াত আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের রাজনীতি ক্ষমতা নয়, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। যারা ক্ষমতায় থেকেও লুটপাট করে, আর বিরোধী দলে থেকেও লুটপাটে লিপ্ত—তাদের সঙ্গে জামায়াতের পার্থক্য এখানেই।”

তিনি বলেন, “৫৪ বছরের বাংলাদেশ আজ দুর্নীতি, দুঃশাসন, গুম, খুন, বাকস্বাধীনতা হরণ আর গণতন্ত্র হত্যার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই বাংলাদেশকে রূপান্তর করতে জামায়াত গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।”

দমন-পীড়নের মাঝেও থেমে নেই জামায়াত: বুলবুল

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “গত ১৭ বছরে আমাদের দল ও নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়নের সব কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের অফিসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, লাখো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় নিপীড়িত হয়েছে, ১১ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারিক হত্যার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “তবুও জামায়াত একদিনের জন্যও থেমে যায়নি। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, হামলা, মামলা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা এখনও সমাজকর্মীর ভূমিকায় নিয়োজিত। আমরা আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, যাবই।”




নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন জোনায়েদ সাকি

জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্টের আল্টিমেটাম দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার মতে, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে এগিয়ে না নিলে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সুগম হবে না।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বিপ্লব উদ্যানে গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই বক্তব্য দেন তিনি।

সাকি বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নেই—এই অজুহাত তুলে যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছেন, তারা আসলে গণতন্ত্রকে স্থগিত করতে চাচ্ছেন। আমরা সেটা হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ যদি ভোট দিয়ে আগের কাউকেই আনতে চায়, সেটাও তাদের অধিকার। জনগণের ওপর আস্থা না রেখে কেউ যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, সেটাই হচ্ছে প্রকৃত দখলদারিত্ব।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি আবারও ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রুমি এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম নির্বাহী সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকুর রহমান এবং সংগঠনের জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. হারুন।




বাংলাদেশ সুযোগ করে দিয়েছে বলেই জিতেছে পাকিস্তান: কামরান আকমল

নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলেও শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে লিটন দাসের দল। তবে পাকিস্তানের এই একমাত্র জয় ‘বাংলাদেশের দয়া’ বলেই দাবি করেছেন দেশটির সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আকমল বলেন, “তৃতীয় টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান জিতেছে, কিন্তু সেটা বাংলাদেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই। প্রথম দুই ম্যাচে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে মনে হচ্ছিল হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত। কিন্তু শেষ ম্যাচে ওরা (বাংলাদেশ) একাদশ ঘুরিয়ে নতুনদের সুযোগ দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি শাহিবজাদা ফারহানকে খেলাতে বাধ্য করত, তাহলে পাকিস্তান এতটা সুবিধা পেত না। ওরা লেফট-রাইট কম্বিনেশনের কথা ভেবেই স্পিনারদের আক্রমণ করেছে। অথচ পাকিস্তান দল নির্বাচনে কোনো কৌশলের ছাপই ছিল না।”

বাংলাদেশের রোটেশন নীতিকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও মনে করেন এই সাবেক তারকা। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ যেভাবে পুরো সিরিজে দল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছে, সেটা লজ্জাজনক। তারা কিন্তু আয়ারল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষেই এমনটা করেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া একটা দলের সঙ্গে এমন আচরণ! এটুকুই বলব, আর কিছু বলার দরকার নেই।”

এছাড়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তাসকিন আহমেদকে বিশ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কামরান। তার মতে, “তাদের সেরা বোলারকে বসিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বোঝাতে চেয়েছে, পাকিস্তান তাদের জন্য কোনো হুমকি নয়।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ১১০ ও ১৩৩ রান করে যথাক্রমে পাকিস্তানকে ১০৮ ও ১২৫ রানে গুটিয়ে দেয়। তবে শেষ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ হেরে যায় বড় ব্যবধানে। সিরিজের ফলাফল শেষে বাংলাদেশের জয় এবং পাকিস্তানের খেলায় ঘাটতি নিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।




ঢাকায় এসিসি সভা সফলভাবে সম্পন্ন, বিসিবিকে ধন্যবাদ জানালেন সভাপতি নাকভি

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাকে সফল ও সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় অংশগ্রহণ ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাকভি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মিটিং খুব ভালো হয়েছে। এসিসির ২৮টি সদস্য দেশই সভায় অংশ নিয়েছে। যারা স্বশরীরে এসেছেন এবং যারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে বিসিবি ও আমিনুল ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ। সবকিছু খুব সুন্দরভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। এসিসির পক্ষ থেকে আমি বলব, দিনটি ছিল অত্যন্ত স্মরণীয়।”

সভায় ক্রিকেটের অরাজনৈতিক ধারাকে গুরুত্ব দিয়ে নাকভি বলেন, “আমরা সবাই ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। খেলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চাই। ঢাকায় একটি দারুণ পরিবেশে দারুণ একটি মিটিং হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন সভার আয়োজন করতে পারব।”

উল্লেখ্য, সভার আগে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিসিসিআই জানায়, তারা প্রতিনিধি পাঠাবে না। শ্রীলঙ্কাও একই অবস্থানে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে দুই দেশ ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেয়। এ প্রসঙ্গে নাকভি বলেন, “সব দেশ ঢাকায় আসতে পারেনি—এটা স্বাভাবিক। আমি নিজেও এক সভায় সিঙ্গাপুর যেতে পারিনি। তবে সবচেয়ে বড় কথা, ২৫টি দেশ সরাসরি উপস্থিত ছিল। এটি এসিসির জন্য বড় সাফল্য।”