বরিশাল-৫: মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠ কাঁপাচ্ছেন হেভিওয়েট নেতারা

বরিশাল-৫ (সদর) আসন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে এটি এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক শক্তির কাছে এই আসনটি একটি মর্যাদার লড়াইয়ের প্রতীক। ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মনোনয়ন যুদ্ধ। বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা রয়েছেন এই প্রতিযোগিতায়, যার মধ্যে বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর শক্ত অবস্থান স্পষ্ট।
স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত এ আসনে ১০টি নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ৮টিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। এ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় সাংসদ ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার। এবারও তিনি মনোনয়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তার সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন বিএনপির আরও এক উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ ও মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।
বিএনপির এ নেতারা অতীতে আন্দোলন, মামলা ও কারাবরণে বহুবার সরব ছিলেন। ফলে দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
তবে এ আসনে ইসলামী দলগুলোও শক্ত অবস্থানে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনের সময় হামলার শিকার হওয়া এই নেতা বরিশাল অঞ্চলে যথেষ্ট পরিচিত এবং জনপ্রিয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। পরিচ্ছন্ন ইমেজের এই নেতা দলীয়ভাবে ত্যাগী হিসেবে বিবেচিত।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও ইকবাল হোসেন তাপস প্রার্থী হতে পারেন, যদিও তফসিল ঘোষণার আগে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
এই আসনে তরুণ ভোটার আরিফুর রহমান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে বরিশাল-৫ এর ফলাফলে বড় চমক আসতে পারে।”
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় নির্বাচন বিশ্লেষক আনিসুর রহমান স্বপনের মতে, বরিশাল-৫ আসন শুধু সদরই নয়, বরং গোটা বিভাগের রাজনৈতিক দিকনির্দেশক। এই আসনের ফলাফল প্রভাব ফেলবে আশপাশের এলাকাগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্যে।
আসনের দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, নাসিম বিশ্বাস ও মজিবুর রহমান সারোয়ার একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে সর্বশেষ দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদ ফারুক শামীম। তার আগেও এই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত বিজয়ী হয়েছে।
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে কার হাতে উঠবে নির্বাচনের বিজয়মাল্য—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তফসিল ঘোষণার পর পর্যন্ত। তবে এরইমধ্যে এই আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে, তা যেন জাতীয় রাজনীতিকেও নাড়া দিচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








