নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন জোনায়েদ সাকি

জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্টের আল্টিমেটাম দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার মতে, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে এগিয়ে না নিলে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সুগম হবে না।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বিপ্লব উদ্যানে গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই বক্তব্য দেন তিনি।

সাকি বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নেই—এই অজুহাত তুলে যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছেন, তারা আসলে গণতন্ত্রকে স্থগিত করতে চাচ্ছেন। আমরা সেটা হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ যদি ভোট দিয়ে আগের কাউকেই আনতে চায়, সেটাও তাদের অধিকার। জনগণের ওপর আস্থা না রেখে কেউ যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, সেটাই হচ্ছে প্রকৃত দখলদারিত্ব।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি আবারও ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রুমি এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম নির্বাহী সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকুর রহমান এবং সংগঠনের জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. হারুন।




বাংলাদেশ সুযোগ করে দিয়েছে বলেই জিতেছে পাকিস্তান: কামরান আকমল

নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলেও শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে লিটন দাসের দল। তবে পাকিস্তানের এই একমাত্র জয় ‘বাংলাদেশের দয়া’ বলেই দাবি করেছেন দেশটির সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আকমল বলেন, “তৃতীয় টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান জিতেছে, কিন্তু সেটা বাংলাদেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই। প্রথম দুই ম্যাচে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে মনে হচ্ছিল হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত। কিন্তু শেষ ম্যাচে ওরা (বাংলাদেশ) একাদশ ঘুরিয়ে নতুনদের সুযোগ দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি শাহিবজাদা ফারহানকে খেলাতে বাধ্য করত, তাহলে পাকিস্তান এতটা সুবিধা পেত না। ওরা লেফট-রাইট কম্বিনেশনের কথা ভেবেই স্পিনারদের আক্রমণ করেছে। অথচ পাকিস্তান দল নির্বাচনে কোনো কৌশলের ছাপই ছিল না।”

বাংলাদেশের রোটেশন নীতিকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও মনে করেন এই সাবেক তারকা। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ যেভাবে পুরো সিরিজে দল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছে, সেটা লজ্জাজনক। তারা কিন্তু আয়ারল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষেই এমনটা করেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া একটা দলের সঙ্গে এমন আচরণ! এটুকুই বলব, আর কিছু বলার দরকার নেই।”

এছাড়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তাসকিন আহমেদকে বিশ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কামরান। তার মতে, “তাদের সেরা বোলারকে বসিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বোঝাতে চেয়েছে, পাকিস্তান তাদের জন্য কোনো হুমকি নয়।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ১১০ ও ১৩৩ রান করে যথাক্রমে পাকিস্তানকে ১০৮ ও ১২৫ রানে গুটিয়ে দেয়। তবে শেষ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ হেরে যায় বড় ব্যবধানে। সিরিজের ফলাফল শেষে বাংলাদেশের জয় এবং পাকিস্তানের খেলায় ঘাটতি নিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।




ঢাকায় এসিসি সভা সফলভাবে সম্পন্ন, বিসিবিকে ধন্যবাদ জানালেন সভাপতি নাকভি

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাকে সফল ও সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় অংশগ্রহণ ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাকভি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মিটিং খুব ভালো হয়েছে। এসিসির ২৮টি সদস্য দেশই সভায় অংশ নিয়েছে। যারা স্বশরীরে এসেছেন এবং যারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে বিসিবি ও আমিনুল ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ। সবকিছু খুব সুন্দরভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। এসিসির পক্ষ থেকে আমি বলব, দিনটি ছিল অত্যন্ত স্মরণীয়।”

সভায় ক্রিকেটের অরাজনৈতিক ধারাকে গুরুত্ব দিয়ে নাকভি বলেন, “আমরা সবাই ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। খেলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চাই। ঢাকায় একটি দারুণ পরিবেশে দারুণ একটি মিটিং হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন সভার আয়োজন করতে পারব।”

উল্লেখ্য, সভার আগে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিসিসিআই জানায়, তারা প্রতিনিধি পাঠাবে না। শ্রীলঙ্কাও একই অবস্থানে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে দুই দেশ ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেয়। এ প্রসঙ্গে নাকভি বলেন, “সব দেশ ঢাকায় আসতে পারেনি—এটা স্বাভাবিক। আমি নিজেও এক সভায় সিঙ্গাপুর যেতে পারিনি। তবে সবচেয়ে বড় কথা, ২৫টি দেশ সরাসরি উপস্থিত ছিল। এটি এসিসির জন্য বড় সাফল্য।”




নিহত পাইলট তৌকিরের পরিবারের পাশে বিএনপি; জানালেন সমবেদনা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় তৌকিরের পারিবারিক বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন ফখরুল।

সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন তৌকিরের স্ত্রী আকশা আহম্মেদ নিঝুম, শ্বশুর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বিষয়ক টিমের প্রধান সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই সকালে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ ৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।




মাইলস্টোন ট্রাজেডি: বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর মিছিল থামছে না

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৫ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (যিনি এখনও অজ্ঞাতনামা), এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। কেউ কেউ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সবশেষ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরের কোনাপাড়া এলাকার মাকিন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে।

দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৫০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন চিকিৎসাধীন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে, আটজন সিএমএইচে এবং একজন করে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই সকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।




চার ইসলামী দলের সমন্বিত বৈঠক, ঐক্য প্রক্রিয়া জোরদারের সিদ্ধান্ত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের চার ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইসলামপন্থিদের মধ্যে চলমান ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও গতিশীল করার বিষয়ে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান এবং মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা ও গণতন্ত্রহীন পরিবেশ মোকাবিলায় ইসলামপন্থি শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য সময়ের দাবি।”

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন—

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক,
  • মহাসচিব ড. আহমাদ আবদুল কাদের,
  • নেজামে ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার,
  • খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আঁকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

সভায় নেতারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের জনগণ ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাজনৈতিক কাঠামো চায়, আর এ লক্ষ্যে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য।




বিমান দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাৎ

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান বিএনপির প্রতিনিধি দল।

তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সফরের আয়োজন করা হয়। সাক্ষাৎকালে নিহত শিশুদের বাবা আশরাফুল আলম আবেগঘন পরিবেশে বলেন, “আমার সন্তানদের কবরে যেন দুই বছর পর আর কারও দাফন না হয়—এই আকুতি আমি আপনাদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে চাই।”

রিজভী আহমেদ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “সন্তান হারানোর শোক সবচেয়ে বেদনাদায়ক। এই বিষয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুবই উদ্বিগ্ন এবং আপনাদের খবর রাখছেন। আপনার দাবির বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, যেন আপনার সন্তানদের কবরের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।”

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. শরীফুল ইসলাম, জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল আলম হিটো, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. আউয়াল এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ডা. মুনতাসিরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।




পটুয়াখালীতে ভুয়া ‘জুলাই শহিদ’ শনাক্ত, গেজেট বাতিলের সুপারিশ

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তালিকাভুক্ত ‘জুলাই শহিদ’ বশির সরদার (৩৭) আদতে কোনো শহিদ নন। বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও অবশেষে পরিবারের ভুল স্বীকারোক্তির পর বুধবার তাকে ‘ভুয়া শহিদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসন। তার নামে থাকা সরকারী গেজেট বাতিলের সুপারিশ করে বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বশির সরদারের নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত স্মরণীয় বৃক্ষের পাশ থেকে তার শহিদ প্ল্যাকার্ড ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বশির সরদারের পরিবারও ভুল স্বীকার করেছেন। শহিদ পরিবার হিসেবে তাদের নামে দেওয়া ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বশির সরদার সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা। জীবদ্দশায় তিনি পটুয়াখালী শহরের নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারে একজন চা বিক্রেতা ছিলেন। তার পরিবার দাবি করেছিল যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি চৌরাস্তায় আহত হন এবং পরে মারা যান। সেই দাবির ভিত্তিতেই তার নাম ‘জুলাই শহিদ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পটুয়াখালী শহরে ওই সময় এ ধরণের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করেন এবং ভুল স্বীকার করেন।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের যাচাই-বাছাই কমিটির’ বৈঠকে তাকে ভুয়া শহিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে বৈষম্য বিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বশির সরদারের স্ত্রী রেবা আক্তার জানান, তার স্বামী ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় তার দেবর নাসির সরদার সরকারি সহায়তার আশায় তাকে শহিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেন।

নাসির সরদার নিজেও ভুল স্বীকার করে জানান, দারিদ্র্য এবং “শয়তানের প্ররোচনায়” তিনি এমনটি করেছেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে জেলা প্রশাসকের কাছে নিজেই নাম বাতিলের অনুরোধ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ত্রাণ ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের কঠোর বার্তা: গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি

গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়কে “অবর্ণনীয় ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, “গাজার জনগণের দুর্ভোগের যে মাত্রা, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।” বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

স্টারমার বলেন, “এই সংকট বহুদিন ধরেই চলছিল, তবে বর্তমানে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমরা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছি।”

তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন তিনি। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে—নিহতের সংখ্যা কমানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজায় প্রতিদিনই বহু ফিলিস্তিনি ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় গঠিত বিতর্কিত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে ত্রাণ সরবরাহে সবধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েলের ত্রাণ নীতিমালা “বিপজ্জনক” এবং তা গাজাবাসীদের মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করছে।

ব্রিটিশ লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন এমপি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য তখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের অধিকার মৌলিক ও অপরিবর্তনযোগ্য। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নই হবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রথম ধাপ।”

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে স্টারমার ইসরায়েলকে “পথ পরিবর্তনের” আহ্বান জানান এবং হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মির শর্তহীন মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে, একই দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। অন্যদিকে, কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিনিধি দল সরিয়ে নিয়েছে, ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন মানবিক বিপর্যয়ের দিকেই এগোচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।




ফিলিস্তিনকে সেপ্টেম্বরে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফরাসি সময় রাত সাড়ে ৯টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক (এক্স) পেজে পোস্ট করা বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা।” শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে ম্যাক্রোঁ জানান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির মুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে, যা নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করবে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তায় অবদান রাখবে।”

এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ফরাসি জনগণ শান্তি চায়। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

ম্যাক্রোঁ আরও জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তি অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দরকার বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার—এই চেতনায় আমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”