অমাবস্যার জোয়ারে পটুয়াখালীর নদীভাঙন-দুর্ভোগ চরমে

অমাবস্যা ঘিরে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারের কারণে পটুয়াখালীর নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা চারদিন ধরে প্রতিদিন দুই দফা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর পানি বেড়ে উপচে পড়ছে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে পানির নিচে।
এতে করে ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর, কাঁকড়াবুনিয়া এবং দমুকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া, উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি ও চরগরদি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আগেই রাঙ্গাবালী উপজেলার ১০টি এবং বাউফল উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
জোয়ারের পানি অনেকের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পাকা ও আধা-পাকা সড়কগুলোতেও প্রবেশ করেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায়। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ে কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবাগানসংলগ্ন জাতীয় উদ্যান, বেড়িবাঁধ ও সৈকত সড়ক ভাঙনের মুখে পড়েছে।
হোসেনপাড়া এলাকার জাতীয় উদ্যান ঘেঁষে নির্মিত সড়কের প্রায় ৩০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় সেখানকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকেছে। ডিসি পার্ক সংলগ্ন সৈকত সড়কে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য গাছপালা। পুরো সৈকতের প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় বালু সরে গিয়ে মাটির স্তর বেরিয়ে পড়েছে, যা ভয়াবহ বিপদের পূর্বাভাস।
স্থানীয়দের মতে, মসজিদ, মন্দির ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সসহ অনেক স্থাপনাই এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের এক কৃষক জানান, তেঁতুলিয়া নদীর পানি প্রবেশ করে তার আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন দুই দফা করে পানি ঢুকছে। বেড়িবাঁধ উপচে এখন তো ভেঙেও গেছে। ঘরের ভেতরেও পানি উঠে গেছে। এভাবে আর কতদিন?”
ভাঙনরোধে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুর রহমান জানান, “দুই দিন আগে কুয়াকাটা সৈকত সড়ক এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালে পাঠানো হয়েছে।”
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, “তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার এবং পায়রা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জরুরি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর এমন দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। তবে কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের থেকে মুক্তি মিলবে না।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








