লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ মাস বেতন বন্ধ, ভোগান্তিতে ডাক্তার-নার্সরা

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই মাস ধরে ডাক্তার, নার্সসহ ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) পদ শূন্য থাকায় এবং ডিডিওশিপ (আর্থিক ক্ষমতা) না দেওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান বদলি হন। এরপরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান হয়নি। এ কারণে দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় প্রথম শ্রেণির ১২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩২ জন ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম বিপাকে পড়েছেন।

লালমোহন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহসীন খান জানান, তিনি আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ডিডিওশিপ না দেওয়ায় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বেতন প্রদান সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও এখনও কোনো সমাধান হয়নি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাকিয়া সুলতানা বলেন, “দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাইনি। তবুও প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিচ্ছি। বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানো ও পরিবারের চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

নার্স মুক্তা বেগম ও নন্দিতা হালদারও জানান, “দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসারে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও আমরা প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বদলির পর নতুন কর্মকর্তা যোগদান না হওয়ায় বেতন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রুত সমাধান করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটায় অপকর্মের অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অপকর্মের অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. আ. হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মো. শহীদুল ইসলাম।

বহিষ্কৃত নেতা মো. আ. হালিম উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “কুয়াকাটায় পতিতাবৃত্তি বেড়ে চলেছে। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। সংগঠনের এক নেতার বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠলে আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত ও সতর্কতা অবলম্বন করি। হালিম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ঘৃণিত কাজ থেকে ফেরেননি, তাই সাংগঠনিক মিটিংয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের আমির মো. শহীদুল ইসলাম, পৌরসভার সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান, লতাচাপলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. রাসেল মুসল্লী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “সংগঠনের নীতিমালা ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান জানান, “অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”

এ বিষয়ে মো. আ. হালিম বলেছেন, “আমার বাসায় ভাড়া নেওয়া একটি ফ্ল্যাটের বিষয়ে আমাকে না জানিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। আমি এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাকিস্তানি নেতা ভারতের প্রতি হুঁশিয়ারি: ‘বাংলাদেশে আঘাত করলে মিসাইল ছুঁড়বে পাকিস্তান’

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল–এন)–এর যুব নেতা কামরান সাঈদ উসমানি। ভারতের সংবাদমাধ্যম India Today–এর বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভিডিওতে উসমানি বলেন, “ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে বা বাংলাদেশের দিকে কুনজর দেয়, তাহলে পাকিস্তানের জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পাকিস্তান তা মেনে নেবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে এবং দেশটিকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

উসমানি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় দেশে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা উচিত।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উসমানির এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ের, এবং পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সরকারিভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ভারতও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিবেশকে সংবেদনশীল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জাইমা রহমানের আবেগঘন বার্তা: ‘আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই, আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–কে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর মেয়ে জাইমা রহমান। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ছোটবেলার একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি খালেদা জিয়াকে ‘দাদু’ সম্বোধন করেছেন এবং লিখেছেন, তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান এবং এই সময়ে বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান।

জাইমা তার পোস্টে স্মরণ করেন, পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি উল্লেখ করেন, ছোটবেলায় স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে পদক জয়ের গল্প দাদুকে শোনানোর সময় খালেদা জিয়া অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং এতে গভীরভাবে গর্ববোধ করেছেন।

জাইমার কাছে খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, বরং পরিবারের ‘দাদু’, যিনি সবসময় তাদের পাশে থেকেছেন।

বিদেশে কাটানো দীর্ঘ সময়ের কথাও উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, প্রবাসজীবন তাঁকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে, তবে হৃদয়-মন সবসময় বাংলাদেশেই ছিল। আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে মানুষের কষ্ট ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।

দেশে ফেরার প্রসঙ্গে জাইমা বলেন, অনেক বছর পর দেশে ফেরা তাঁর জন্য একটি আবেগের বিষয়। দেশে ফিরে তিনি দাদুর পাশে থেকে বাবার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে চান এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করতে চান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




পিরোজপুর থেকে ৩০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবে, ৬ লঞ্চ ও শতাধিক বাস প্রস্তুত

আগামী ২৫ ডিসেম্বর প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনের প্রস্তুতি হিসেবে পিরোজপুর জেলা বিএনপি ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলার প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় যাওয়ার জন্য ৬টি লঞ্চ এবং শতাধিক বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাঈদুল ইসলাম কিসমত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জেলার শীর্ষ নেতারা কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। জেলা কমিটির এক জরুরি সভায় কর্মী-সমর্থকদের ঢাকায় যাত্রা বিষয়ক বিস্তারিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এই প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে

প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, “পিরোজপুর জেলা থেকে ৩০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থককে নির্ধারিত দিনে অন্তত ৬টি লঞ্চ ও শতাধিক বাসে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানকে বরণ করতে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত।”

সাঈদুল ইসলাম কিসমত আরও জানান, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হুলারহাট নদীবন্দর থেকে ৬টি বিশাল লঞ্চে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর সকালে জেলা ও শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক বাস নেতাকর্মীদের ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য রওনা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




বাংলাদেশ–পাকিস্তান ইস্যুতে নীরব থাকবেন না মোদি: বিজেপি নেতা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ থাকবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক শীর্ষ নেতা। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোদির প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিরাও তাঁকে ভয় পায়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার এলাকায় একটি হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্ম সেবার প্রেসিডেন্ট মোহন্ত রাম সারন দাস আচার্য্যের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হলে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি কোনোভাবেই নীরব থাকবেন না। তাঁর মতে, মোদি বিশ্বব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য, এক আশার প্রতীক।

সুনীল শর্মা আরও দাবি করেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সুপারপাওয়ারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই অগ্রযাত্রা থামাতে কিছু দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতকে যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজেপি নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো শক্তিশালী দেশগুলোও নরেন্দ্র মোদির প্রভাবকে ভয় পায়। তিনি বাংলাদেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিদেশি উসকানির ফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করতেই এসব পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ইকোনোমিক টাইমসের সূত্র উল্লেখ করে সুনীল শর্মা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মোদিজি অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রামগতিতে ধরা পড়ল ২৪০ কেজির বিরল শাপলা পাতা মাছ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ২৪০ কেজি ওজনের বিরল ও বিশাল আকৃতির শাপলা পাতা মাছ, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাউস মাছ’ নামে পরিচিত। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বড়খেরী মাছঘাট বাজারে নিলামে মাছটি ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কীর্তন মাঝি ও তাঁর সহযোদ্ধা জেলেরা প্রতিদিনের মতো রামগতির দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনার কাছে মাছ ধরছিলেন। ভোরের দিকে জাল তুলতে গিয়ে তাঁরা অস্বাভাবিক ভার অনুভব করেন। পরে নিজেদের ট্রলারের ১২ জন জেলে এবং পাশের আরেকটি ট্রলারের জেলেদের সহায়তায় দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে বিশাল আকৃতির মাছটি ট্রলারে তুলতে সক্ষম হন।

বাঁশ ও দড়ির সাহায্যে প্রায় ছয়জন জেলে মাছটি ডাঙায় তোলেন। মাছটির বৃত্তাকার প্রস্থ প্রায় সাড়ে ১১ ফুট এবং লেজসহ দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ফুট বলে জানা গেছে। পরে মাছটি রামগতির বড়খেরী মাছঘাটে নিয়ে আসা হয়।

বিকেলে মোতালেব বেপারীর আড়তে মাছটি নিলামে তোলা হলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ বেপারি ৭৫ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।

মাছ বিক্রেতা কীর্তন মাঝি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরতে গিয়ে লোকসান হচ্ছিল। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। এত বড় মাছ পেয়ে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। তবে ভালো ক্রেতা না থাকায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।”

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মুসা আহমেদ হিমু ও শাকিল জানান, বর্তমানে এ ধরনের শাপলা পাতা মাছ খুবই বিরল। এমন বড় মাছ ধরা পড়লে জেলে ও ব্যবসায়ী—সবার মধ্যেই আনন্দের অনুভূতি কাজ করে।

এদিকে বিশাল আকৃতির এই মাছটি দেখতে বড়খেরী মাছঘাটে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। অনেকেই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

“মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত গণমাধ্যম, আক্রান্ত বাংলাদেশ”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদীতে সাংবাদিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের পাশে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোদ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্যানেল আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আমিন মোল্লা, সদস্য বদরুজ্জামান খান সবুজ, কাজী আল-আমিন, মোল্লা ফারুক হাসান ও সাংবাদিক সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেলসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক পলাশ তালুকদার। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্যসহ কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে মব ভায়োলেন্স সৃষ্টি করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নূরুল কবীরকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত সকল দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




গণমাধ্যম সহ্য করতে না পারলে জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না: জহির উদ্দিন স্বপন

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক সভ্য সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে গণমাধ্যম। যিনি গণমাধ্যমকে সহ্য করতে পারেন না বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করেন, তিনি কখনোই জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে পারেন না।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বরিশাল উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “যে ক্ষমতাবান ব্যক্তি গণমাধ্যমকে সুযোগ দেয় না কিংবা সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তাকে বুঝতে হবে—সে নির্বাচিত হোক বা অনির্বাচিত হোক—জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।”

তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই একটি সভ্য রাষ্ট্র ও সমাজের মূল ভিত্তি। গণমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে। তাই গণমাধ্যম ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ কল্পনা করা যায় না।

গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্যানেল আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন মিয়া, খোন্দকার মনিরুজ্জামান, মো. হানিফ সরদারসহ অন্যান্য বক্তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের লিগ্যাল টিমের প্রধান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রেজাউল ফিরোজ রিন্টু, প্রচার বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম কাজল, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবালসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




১১৯ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট

জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (একাংশ)-এর চেয়ারম্যান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ এবং জোটের প্রধান সমন্বয়ক গোলাম সারোয়ার মিলন।

শীর্ষ ও হেভিওয়েট প্রার্থীরা

ঘোষিত তালিকায় উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৫), আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (পিরোজপুর-২), এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার (পটুয়াখালী-১), অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ (ঢাকা-১০), মুজিবুল হক চুন্নু (কিশোরগঞ্জ-৩), শেখ শহিদুল ইসলাম (মাদারীপুর-৩), গোলাম সারোয়ার মিলন (মানিকগঞ্জ-২), শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর (ফরিদপুর-২) এবং নাসরিন জাহান রতনা (বরিশাল-৬)।

এছাড়াও বিভিন্ন আসনে সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও পেশাজীবীদের প্রার্থী করা হয়েছে।

একাধিক প্রার্থী দেওয়া আসন

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১টি আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১০, বরিশাল-৬, ঢাকা-১৭, চট্টগ্রাম-৯, শেরপুর-১, শরীয়তপুর-১, ঢাকা-১৮, বরগুনা-১, বরিশাল-৪, ঝালকাঠি-২ ও টাঙ্গাইল-৮।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫