দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, ভোট নিয়ে শঙ্কা এখনো রয়েছে : রিজভী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৭ জুলাই) নির্বাচন কমিশনে ২০২৪ সালের দলের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, “নির্বাচনের আগে মানুষ চায় একটা নিরপেক্ষ পরিবেশ, যেখানে তারা ভয়ের বোধ ছাড়াই ভোট দিতে পারবে। কিন্তু এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট, সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিল। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। “তৎকালীন ইসি ছিল মেরুদণ্ডহীন, চাকরি লোভী ও দলান্ধ লোকদের নিয়ে গঠিত,” অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।”

দেশে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন বানচালের শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অতীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে, তারা এখনো সক্রিয়। নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা। এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা আছে। সেই আস্থা যেন ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়, এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা। “সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ভোটার যেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভয় বা আশঙ্কা অনুভব না করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, সেটি নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।”

রিজভীর বক্তব্যে স্পষ্ট—আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।




এশিয়া কাপের আগে পাওয়ার হিটিং কোচ নিচ্ছে বিসিবি, আসছেন জুলিয়ান উড

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আধিপত্য গড়তে হলে ব্যাটারদের ‘পাওয়ার হিটিং’ দক্ষতা থাকা জরুরি। তবে এদিক দিয়ে বাংলাদেশ এখনো অনেকটা পিছিয়ে। কিছু তরুণ ব্যাটার সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতি করলেও দলগতভাবে ধারাবাহিকতা আসেনি। তাই আসন্ন এশিয়া কাপ সামনে রেখে পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি ঘটাতে বিশেষজ্ঞ কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিশ্ব ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে অন্যতম জনপ্রিয় নাম জুলিয়ান উড। তাকে তিন সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে আনছে বিসিবি। আগস্টে জাতীয় দলের পূর্ব নির্ধারিত কোনো সিরিজ না থাকায় ওই সময়েই স্কিল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বোর্ড। সেই ক্যাম্পেই যুক্ত হবেন জুলিয়ান উড।

সম্প্রতি জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উড বলেন,
‘হ্যাঁ, আমি সিমোর (ফিল সিমন্স) সঙ্গে কথা বলেছি। আগস্টে মূলত তিন সপ্তাহের জন্য আসছি—এমনটাই শুনেছি। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়, বেশি সময়ের জন্যও হতে পারে। বিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

উল্লেখ্য, আইপিএলের পাঞ্জাব কিংসসহ বিগ ব্যাশ, পিএসএল এবং আরও কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন জুলিয়ান উড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ‘পাওয়ার হিটিং’ শব্দটির প্রবর্তক হিসেবেও বিবেচিত হন তিনি। বাংলাদেশেও এর আগে বিপিএলে সিলেট সানরাইজার্সের ব্যাটিং কোচ এবং চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে ঢাকায় স্কিল ক্যাম্পে জাতীয় দলের বেশিরভাগ টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়ই অংশ নেবেন। মূল লক্ষ্য—এশিয়া কাপের আগে ব্যাটারদের বড় শট খেলার সক্ষমতা বাড়ানো।

পাওয়ার হিটিংয়ের ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াবে, তেমনি এশিয়া কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছে বোর্ড।




২০২৪ সালে বিএনপির আয়-ব্যয় প্রকাশ, ফান্ডে আছে ১০ কোটিরও বেশি

২০২৪ পঞ্জিকা বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই বছরে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। ফলে দলের বর্তমান তহবিলে জমা রয়েছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।

রোববার (২৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়।

রিজভী জানান, দলের আয়ের উৎস ছিল—সদস্যদের মাসিক চাঁদা, বই ও পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদের আয় এবং এককালীন অনুদান। ব্যয়ের খাতে ছিল—ব্যক্তিগত ও দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লিফলেট ও পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যয়।

ইসিকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, “এক সময় নির্বাচন কমিশন তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা হারিয়েছিল, নির্বাহী বিভাগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। তখন কমিশন একটি প্রহসনের নির্বাচন করে বৈধতা দিয়েছিল, দিনের ভোট রাতে করেছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মেরুদণ্ডহীন, চাকরিপ্রত্যাশী লোক দিয়ে গঠিত ছিল সে কমিশন। সেটি শেখ হাসিনার পদলেহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি, কমিশন এবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—বিএনপি সেই প্রত্যাশাই করে।”




নিখোঁজের দুই দিন পর তেঁতুলিয়ায় জেলের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদী থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ইমরান শরীফ (২২) নামে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই) ভোররাতে বাউফলের কচুয়া মুন্সী বাড়ির সংলগ্ন নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমরান শরীফ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব গ্রামের বাসিন্দা মনির শরীফের ছেলে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইমরানের চাচা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম শরীফ। তিনি জানান, “নিখোঁজের দুই দিন পর ভোরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় ইমরানের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আমাদের খবর দেয়। মরদেহে কিছু বিকৃতির চিহ্ন ছিল।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ইমরান মাছ ধরার উদ্দেশ্যে চন্দ্রদ্বীপ থেকে বের হন। পরে তিনি নিমদীঘাটের আড়তে মাছ দিয়ে বরফ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কালাইয়া লঞ্চঘাটের দিকে রওনা দেন।

তবে সেদিন বৈরি আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল ছিল। ইমরানের চাচা মাসুম বিল্লাহ জানান, “কচুয়া মুন্সী বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ট্রলারটি দুলতে থাকে। তুফানের ঝাপটার সময় সে ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে যায়। ট্রলারের ইঞ্জিনও বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সেটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে যায়। আমরা খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাইনি। আজ সকালে তার নিথর দেহ নদীতে পাওয়া গেল।”

এ ঘটনায় বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, “ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বিএনপির ১৬ বছরের ত্যাগ ও সংগ্রাম’ : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মূলনায়ক ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সবচেয়ে বড় ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ চট্টগ্রাম শাখা আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’–এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, তার পেছনে দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম রয়েছে। এ সময়ে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অনেকে ভুলে যেতে বসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের পরিবার ভেঙে গেছে, অনেকে বছরের পর বছর বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি। এমনকি কারও স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। অথচ এই ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাগুলো আজকের আলোচনায় আসছে না।”

তিনি বলেন, “শহীদ ওয়াসিমের মতো আন্দোলনের প্রথম শহীদদের নাম পর্যন্ত আজ আর উচ্চারিত হচ্ছে না। অথচ তারাই এই গণঅভ্যুত্থানের পথ রচনা করেছেন।”

বিএনপি এককভাবে আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “আমরা চাই না এই আন্দোলন বিভক্ত হোক। এটা ছিল ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। তাই একে জাতীয় অর্জন হিসেবেই তুলে ধরা উচিত।”

তবে ইতিহাসের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির ভূমিকা স্মরণীয় করে রাখতে হবে বলে জানান তিনি। “মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করেছেন, তাদের নাম মুছে দিয়ে শেখ হাসিনা তার একক কৃতিত্ব দাবি করেছেন। যেন ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মূল্য নেই। আমরা চাই না জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তেমনটা হোক,”— বলেন আমীর খসরু।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক স্লোগান নয়। কোন খাতে কতজনকে দেশে ও বিদেশে চাকরি দেওয়া হবে, আমরা হিসাব করে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এখন দেশ গড়ার সময়। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না—রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—

  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
  • বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন এক মাসেই শেষ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসকে খণ্ডিত করে দেখা যায় না। যেমন ১৯৪৭ না হলে ১৯৫২ হতো না, ১৯৭১ না হলে ১৯৭৫-এর বিপ্লব হতো না। সেই ধারাবাহিকতায় এই অভ্যুত্থানও বহু বছরের প্রস্তুতির ফসল।”




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে হেফাজতের আলোচনা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে এই বৈঠক হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ, সেই ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ওই সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হেফাজতের নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রত্যাহারের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন—

  • মাওলানা খুলিল আহমেদ কুরাইশী
  • মাওলানা সাজেদুর রহমান
  • মুফতি জসিম উদ্দিন
  • মাওলানা মাহফুজুল হক
  • মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী
  • মাওলানা মামুনুল হক
  • মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী
  • মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
  • মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী
  • মুফতি বশির উল্লাহ
  • মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী

সরকারি পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বৈঠকে সব পক্ষই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জটিল বিষয়গুলোর সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।




২ হাজারের বেশি ওষুধ ও অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম পাঠালো চীন

বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েছে চীন। এসব সহায়তার মধ্যে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম।

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

চীনা দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, ইউনান প্রদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং উহান তৃতীয় হাসপাতালের সহায়তায় এসব ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সহায়তার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ।

চীনা দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।




প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস: শীঘ্রই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে

আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় ১৪ দল ও ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজনৈতিক নেতারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান হায়দার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে আমাদের জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই তিনি নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করবেন। বর্তমান সংকট নিরসনে নির্বাচনই একমাত্র পথ—এমনটি তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন।”

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ জানান, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন কবে এবং কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে খুব শিগগিরই একটি অফিসিয়াল ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জাতিকে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এজন্য আমরা সবাই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।”

বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে সম্প্রতি যে অপপ্রচার চলছে, তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান তিনি। এসব অপপ্রচার কীভাবে বন্ধ করা যায়—সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং ৫ আগস্টের আগের ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, যেন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং পরাজিত শক্তিকে মাথাচাড়া দিতে না দিই।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—

  • জাতীয় গণফ্রন্টের আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস
  • নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইউসুফ আশরাফ
  • এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ
  • জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা
  • বাংলাদেশ জাসদের ড. মুশতাক হোসেন
  • এনডিএম-এর ববি হাজ্জাজ
  • জাকের পার্টির শামীম হায়দার
  • ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি
  • ভাসানী জনশক্তি পার্টির রফিকুল ইসলাম বাবলু
  • বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
  • বাসদ (মার্কসবাদী)-এর মাসুদ রানা
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

এর আগে গত বুধবার যমুনায় ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। তারও আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি।




বেড়িবাঁধ না থাকায় ইন্দুরকানীতে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম, ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের পানি প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, স্থানীয় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু পরিবারের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে হাজারো পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বলেশ্বর ও কচা নদীর তীরবর্তী ইন্দুরকানী, পাড়েরহাট, বালিপাড়া, টগড়া, চাড়াখালী, কালাইয়া, ঢেপসাবুনিয়া, সাঈদখালী, চরবলেশ্বর, কলারন, চন্ডিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে রান্নাবান্না বন্ধ, অনেকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “মোগো কোলার সব ফসল তলিয়ে গেছে। ঘরে পানি ঢুকেছে, রান্না করা যাচ্ছে না। পরিবারের সবাই মিলে বিপাকে পড়েছি।”

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, “জোয়ারের পানিতে আশি শতাংশ আমনের বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। পানি নামা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয়।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে এই দুর্যোগ বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সাময়িক বালির বস্তা ও কাঁচা মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরি হলেও তা কার্যকর সমাধান নয়।

পাড়েরহাট ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“স্লুইসগেট না থাকায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টগড়ায় করা বেড়িবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত। এখানকার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ প্রয়োজন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি এরিয়াতে এখনো বড় কোনো প্রকল্প নেয়নি। বরাদ্দের অভাবে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বালিপাড়া ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “টেকসই বেড়িবাঁধ না হলে ঘন ঘন দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের আলোকে দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ প্রকল্প সময়ের দাবি।”

ইন্দুরকানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার জানান, “প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”

এস এল টি /




মেঘনায় ৭ বাল্কহেড ডুবে গেলো, ১৩ জনকে উদ্ধার

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় মেঘনা নদীতে বালুবোঝাই ৭টি বাল্কহেড নদীর প্রবল স্রোত ও ঝড়ের তোড়ে ডুবে যায়। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জেলে ও নৌ পুলিশের সহায়তায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ১৩ জনকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সোহেল, আবাদুস সালাম, মো. অলি উদ্দিন, মো. বাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন, মো. শহীদুল্লাহ, নজির হোসেন, মো. বাহাদুর, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ মিয়া, মো. শহীদুল এবং মো. নাহিদ ইসলাম।

রনজিতপুর ১ বাল্কহেডের মাস্টার বাহাদুর জানান, সিলেট থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে তারা বালুবোঝাই করে যাত্রা করছিলেন। মেঘনা নদীতে প্রবল ঝড় ও স্রোত পড়ায় জাহাজটি ডুবে যেতে থাকে। একপর্যায়ে একটি চর নোঙর করতে সক্ষম হলেও তাদের চোখের সামনে ৭টি বাল্কহেড ডুবে যায়।

নাহিদ হাওলাদার বলেন, “আমাদের রনজিত ১ বাল্কহেড মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে একটি চরতে নোঙর করতে সক্ষম হলেও ৭টি বাল্কহেড ভেসে যায়। আমাদের স্টাফরা নদীতে ভাসতে দেখেছে।”

মেহেন্দিগঞ্জের কালীগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. এনামুল হক জানান, “৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৩ জনকে উদ্ধার করেছি। কেউ নিখোঁজ আছে কিনা জানি না। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডগুলোর সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে মালিক পক্ষ বাল্কহেডগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং নৌ-পুলিশ ইউনিটের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো বাল্কহেডগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫