সংস্কার প্রস্তাবনা দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নে একমত বিএনপি: সালাহউদ্দিন

সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি একমত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ২১তম দিনের সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, জুলাই সনদ ২০২৫-এর খসড়াটি একটি প্রাথমিক রূপরেখা হিসেবে পাওয়া গেছে। যদিও খসড়ায় বিস্তারিত উপস্থাপন নেই, তবে পরবর্তীতে তা যুক্ত হবে। বিএনপি এর মূল কাঠামোর সঙ্গে একমত জানিয়ে কমিশনের অনুরোধে সংশোধনী ও পর্যবেক্ষণগুলো লিখিতভাবে জমা দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খসড়ায় উল্লিখিত দুই বছরের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি একমত—এ কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইন ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, তা এমনিতেই অনুমিত। এই উদ্দেশ্যেই তো এই প্রক্রিয়া।”

নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চাই নিয়োগগুলো আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হোক। এতে করে আইনি ত্রুটি দেখা দিলে তা সহজে সংশোধন সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সক্রিয় নির্বাহী বিভাগ প্রয়োজন। তবে সেটিকে অবশ্যই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনতে হবে। অতিরিক্ত কিছু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে তা পরিবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে, তাই আমরা চাই আইনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হোক।”

নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন জানান, বিএনপি ধাপে ধাপে নারী মনোনয়ন বাড়াতে চায়। প্রথম ধাপে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০টি আসনে উন্নীত করা হবে।

ন্যায়পাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু এখন পর্যন্ত ন্যায়পাল কোনোদিন বাস্তব কার্যক্রমে যুক্ত হয়নি, আমরা চাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হোক। এরপর তার আইন যুগোপযোগী করে তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “ন্যায়পাল শুধু তদন্তের ক্ষমতা নয়, বরং তার প্রতিবেদনের বাস্তব প্রয়োগের জন্যও আইন থাকতে হবে। না হলে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা থাকবে না।”

৭০০-এর বেশি সংস্কার সুপারিশের মধ্যে বিএনপি প্রায় ৬৫০টির সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “সব প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে যেগুলো মৌলিক— বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত—সেগুলো অগ্রাধিকার পাবে।”

এভাবে চলমান সংলাপে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের অংশ হিসেবে বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




বাউফলে সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বাল্কহেডের শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বালু বোঝাই একটি বাল্কহেডের শ্রমিক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। চলন্ত বাল্কহেডের উপর বসা অবস্থায় সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকঢাল গ্রামের খানবাড়ি সংলগ্ন খালে।

নিহত শ্রমিকের নাম শাকিব, যিনি কালাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় একটি কারখানা থেকে বালু বোঝাই করে বাল্কহেডটি দেওপাশা এলাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে খানবাড়ি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়, সেতুটির উচ্চতা কম হওয়ায় বাল্কহেডের উপর বসা শাকিবের মাথা সেতুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশের খালে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানালে, বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাটি এলাকায় চরম শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

আল-আমিন



রাঙ্গাবালীতে গাঁজাসহ নারী আটক, পলাতক স্বামী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে এক কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজাসহ তাসলিমা বেগম (৩৭) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমা ফুলখালী গ্রামের বাসিন্দা বেল্লাল দালালের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনই এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ব্যাগভর্তি গাঁজা নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাসলিমাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজা।

তবে এ সময় তাসলিমার স্বামী বেল্লাল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, “তাসলিমা ও তার স্বামী বেল্লালের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক নারীকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছিল। এবার পুলিশের হাতে একজন ধরা পড়ায় এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্বামী বেল্লালকে দ্রুত ধরার দাবি তুলেছেন তারা।

মাদকের ভয়াবহতা এবং এর সামাজিক বিপর্যয়ের দিকে নজর রেখে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের তৎপরতা আরও জোরদার করবে বলেও আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডাক্তার সংকটে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজে বন্ধ ২৪ ঘণ্টার অপারেশন

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থাকলেও শুধুমাত্র এনেস্থেশিয়া বিভাগের ডাক্তার সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সার্জারি ও অপারেশন কার্যক্রম চালু রাখা যাচ্ছে না। এতে করে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সময়মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

প্রতিদিন গর্ভবতী দরিদ্র প্রসূতি মায়েদেরও পড়তে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তিতে। সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে তাদের সিজারিয়ান করাতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচে, যা অনেকের পক্ষেই বহনযোগ্য নয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া (নবসৃষ্ট অস্থায়ী রাজস্ব) পদে এখনো কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি। এনেস্থেটিস্ট পদে থাকা ৩টি পদের সবই শূন্য। শুধুমাত্র ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া কর্মরত রয়েছেন, যিনি এককভাবে পুরো হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সেলিম মাতব্বর। তিনি বলেন, “সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, ইএনটি সহ প্রায় প্রতিটি বিভাগের কার্যক্রমে নিয়মিত এনেস্থেশিয়া সাপোর্ট প্রয়োজন। পুরো হাসপাতালে ৯ জন এনেস্থেলজিস্ট প্রয়োজন হলেও এখন কার্যকরভাবে আছেন মাত্র ২ জন, যার একজন মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. একে এম ফখরুল আলম কোনোভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন। ফলে সপ্তাহে মাত্র দুইদিন — রবিবার ও বুধবার — সাধারণ অপারেশন চালানো সম্ভব হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, গাইনী বিভাগে প্রতিদিনই ওটি থাকে, কিন্তু একজন মাত্র এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ থাকায় পুরোপুরি সাপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে অপারেশনের জন্য অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা জানান, “নবসৃষ্ট তিনটি এনেস্থেটিস্ট পদের বিপরীতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া দিয়ে আমরা কোনোভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যদি অন্তত তিনজন এনেস্থেলজিস্ট কর্মরত থাকতেন, তাহলে ২৪ ঘণ্টা ওটি চালু রেখে জরুরি সিজারিয়ানসহ অন্যান্য সার্জিকাল সেবা প্রদান সম্ভব হতো।”

পটুয়াখালী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসক মহল দাবি করছেন, দ্রুত এনেস্থেশিয়া বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক। না হলে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও এলাকার হাজারো মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত থাকবে, বাড়বে মৃত্যু ঝুঁকি, বাড়বে চিকিৎসার খরচ।

এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য ও জনগণের আস্থার জায়গাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চার দিন ভেসে থাকা ৯ জেলে জীবিত উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ৯ জেলে। গভীর সমুদ্রে চার দিন ধরে ভেসে থাকার পর সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন জেলে, যাদের জীবনের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহিপুর ঘাট থেকে রওনা হওয়া ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের গভীরে পৌঁছালে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মুহূর্তেই ডুবে যায়। ওই ট্রলারে মাঝি আবদুর রশিদের নেতৃত্বে মোট ১৫ জন জেলে ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণে বাঁচতে তারা ভেসে থাকার জন্য বাঁশ, প্লাস্টিকের ফ্লোট ও কাঠের বোর্ড ব্যবহার করেন। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে প্রথমে একজন জেলে নিখোঁজ হন। এরপর ধাপে ধাপে আরও পাঁচজন সাগরে হারিয়ে যান।

চার দিন ধরে খোলা সাগরে অনাহারে-অর্ধাহারে ভেসে থাকার পর সোমবার রাতে বঙ্গোপসাগরের শেষ সীমান্ত বয়া এলাকায় থাকা দুটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার ভোরে তাদের কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিখোঁজ জেলেদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: আবদুর রশিদ, নজরুল ইসলাম, রফিক, ইদ্রিস, হারুন ও কালাম। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন শোকে, আর স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

উদ্ধার হওয়া জেলে হাসান বলেন, “ঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কিছু বোঝার আগেই ট্রলার ডুবে যায়। আমরা প্রাণে বাঁচার জন্য যেভাবে পারি ভেসে ছিলাম। আল্লাহর রহমতেই আজ জীবিত ফিরে এসেছি।”

এদিকে, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নামে। এখনো নিখোঁজ ছয় জেলেকে উদ্ধারে সমুদ্রপথে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, ঝড়ের সতর্কতা উপেক্ষা না করা এবং প্রতিটি ট্রলারে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, নৌ-সুরক্ষা যন্ত্রপাতি রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ট্র্যাজেডি আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে—বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কতটা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে বাংলাদেশের একক নৃত্য

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পী অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বখ্যাত ‘ব্যাটারি ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল’-এ। উৎসবটি ১৯৮২ সাল থেকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের নামকরা শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। চলতি বছর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ নৃত্যশিল্পী মোফাসসাল আলিফ।

আন্তর্জাতিক এই উৎসবে আলিফ তার একক পরিবেশনা ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ মঞ্চস্থ করবেন ১৬ আগস্ট। বিশ্বজুড়ে স্বনামধন্য শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে উঠে দেশের পতাকা তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পারাটা আমার জন্য গর্বের, কৃতজ্ঞতার এবং দায়িত্বের বিষয়।”

ভেস্টিভ্যালের পোস্টার ও ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ পরিবেশনায় আলিফ
ভেস্টিভ্যালের পোস্টার ও ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ পরিবেশনায় আলিফ

আলিফ জানান, তাঁর পরিবেশনাটি মূলত দুইটি লালন গানের আধ্যাত্মিক বাণীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি একটি সমসাময়িক নৃত্যকাহিনি যা মানুষের আত্মার খোঁজ, ভালোবাসা এবং আত্ম-অনুসন্ধানের প্রতীকী প্রকাশ। এই প্রশ্ন—‘আমি কাকে খুঁজি? সে কি বাইরের কেউ, না আমার অন্তরে?’—এর উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টাই তুলে ধরা হবে পারফর্মেন্সের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, নৃত্যটিতে কন্টেম্পোরারি ধারা এবং বাংলার লোকজ ভাবনার মিশ্রণ থাকবে, যা পুরোপুরি তার নিজস্ব কোরিওগ্রাফিতে নির্মিত।

আয়োজক সংস্থা এই অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, “আমরা আনন্দিত যে এবারে বাংলাদেশের একজন উদীয়মান শিল্পী আমাদের মঞ্চে পরিবেশনা করবেন। আলিফের কাজ দর্শন, নন্দন এবং আত্মপ্রকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে অসাধারণ।”

নিউইয়র্কের দর্শকরা যখন বিশ্বব্যাপী প্রখ্যাত শিল্পীদের সাথে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাবনা ও চেতনার একটি শিল্পরূপ প্রত্যক্ষ করবেন, তখন এটি নিঃসন্দেহে দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ: গঠনমূলক সংস্কারে ঐকমত্যের পথে বাংলাদেশ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সনদটির প্রাথমিক খসড়া দেশের ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন এক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সনদ রচিত হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য— রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর সংস্কার আনয়ন, বিশেষ করে সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থায়।


প্রেক্ষাপট

মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার— পূরণ না হওয়ায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ে ২০২৪ সালে ঘটে সফল গণ-অভ্যুত্থান। এতে এক হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জনচাপ ও সম্মিলিত প্রয়াসে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন


কমিশনের কার্যক্রম

  • ৬টি পৃথক সংস্কার কমিশন গঠিত হয়: সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন।
  • এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ শুরু করে।
  • ৩৫টি রাজনৈতিক দল মতামত দেয়, ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলে প্রথম দফা সংলাপ।
  • দ্বিতীয় দফায় চলছে বিস্তারিত আলোচনা, যার ভিত্তিতে গঠিত হচ্ছে “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া

১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য

কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যে ১২টি বিষয়ে ন্যূনতম একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো (কিছু ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ) সেগুলো হলো:

  1. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন
  2. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্বে ভারসাম্য
  3. নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ কাঠামো
  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান প্রক্রিয়ার সংস্কার
  5. বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ
    • (ক) সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ
    • (খ) উপজেলা পর্যায়ে আদালতের সম্প্রসারণ
  6. জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো সংস্কার
  7. প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিধানগত স্বচ্ছতা
  8. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি আধুনিকায়ন
  9. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধকরণ
  10. নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতি
  11. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সীমিতকরণ
  12. পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন

আলোচনায় থাকা অমীমাংসিত বিষয়

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির গঠন ও কাঠামো
  • নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও নির্বাচনী পদ্ধতির সংস্কার
  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রস্তাব
  • রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্বিন্যাস
  • নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ

চূড়ান্ত সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন:

“খসড়া দেয়া হয়েছে, মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার প্রাথমিক পর্যায়ের ঐকমত্যের খসড়া পৌঁছে দেয়া হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে একমত হবে, তার চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আলোচনার এই ধারা গঠনতান্ত্রিক রূপান্তরের এক অনন্য নজির।


উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

  • বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, গণসংহতি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি সহ ৩০টির বেশি দলের প্রতিনিধি
  • জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যবৃন্দ: বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ
  • প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মুহূর্তটি গণতন্ত্র পুনর্গঠনের এক বিরল সুযোগ। “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫” দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— যদি তা বাস্তবায়ন হয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।


 আল-আমিন



নিয়োগে দলীয়করণ নয়, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপির

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রভাব কাটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২০তম দিনে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজস্ব আনুগত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে আক্রান্ত হয়েছে এবং জনবান্ধবতা হারিয়েছে।”

পিএসসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা এমন একটি নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির প্রস্তাব দিয়েছি যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সুশাসনের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, “বর্তমানে সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ দেন। আমরা চাই, সংবিধানেই নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি কোনো বড় পরিবর্তন নয়, বরং কার্যকর জবাবদিহিতার সূচনা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় পিএসসির দুর্বলতা যেমন প্রশ্নফাঁস সামনে এসেছে, তেমনি প্রতিটি আমলেই ভাইভা বোর্ডে দলীয় বিবেচনা কাজ করেছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে নিয়োগ হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।”

দুদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান নিয়োগ দেন সরকারপ্রধান। এতে অনেক সময় এটি ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি আড়াল করে এবং বিরোধীদের টার্গেট করে। আমরা চাই, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হোক, যেখানে প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ হবে নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে।”

আখতার হোসেন বলেন, “আইন পরিবর্তন সহজ, কিন্তু সংবিধান নয়। তাই এসব নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে যুক্ত করলে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক, সিস্টেম সহজে বদলাতে পারবে না।”

তিনি জানান, বিএনপি পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। এনসিপি তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা আর দলীয়করণে আক্রান্ত প্রশাসন দেখতে চায় না। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করুক, কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হোক।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত হবে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”




গাজায় খাদ্যকেন্দ্র খোলার ঘোষণা ট্রাম্পের, ৬ কোটি ডলার সহায়তা বরাদ্দ

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় একটি “মুক্ত খাদ্যকেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই গাজায় একটি খাদ্যকেন্দ্র খুলতে যাচ্ছি। কেন্দ্রটির নির্মাণ, তত্ত্বাবধান এবং খাদ্য বিতরণের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হবে একটি মুক্ত কেন্দ্র— গাজার বাসিন্দারা যখন খুশি, তখনই সেখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন, কোনো বাধা থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্তে গাজার মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। কারণ সেখানে প্রচুর মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”

ট্রাম্প প্রথমবারের মতো সরাসরি গাজার তীব্র খাদ্যসংকট স্বীকার করে বলেন, “কিছুদিন আগে টেলিভিশনে গাজার কিছু শিশুকে দেখলাম— তারা খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। গাজায় সত্যিকারের খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে এবং আপনি একে অস্বীকার করতে পারবেন না।”

সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইসরায়েল হামাসকে দমন করতে চাইলে আরও কঠোর লড়াই চালাতে পারে। তবে এখন গাজা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে এবং সেখানে খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

স্টারমারের সমর্থন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গাজায় যা চলছে তা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট সংকট এবং এটি এখন আর শুধু সংকট নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”

তিনি বলেন, “গাজার প্রকৃত অবস্থা যদি ব্রিটেনের জনগণ নিজের চোখে দেখতে পেত, তাহলে তারা গভীরভাবে নাড়া খেত। এটি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

স্টারমার আরও বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে এতে দুটি কাজ একসঙ্গে হবে— একদিকে খাদ্য সংকট কমবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে যুদ্ধ থামানোর জন্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান তার পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলোর তুলনায় এক নতুন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। তবে এই খাদ্যকেন্দ্র কতটা কার্যকর হবে এবং তা কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে— তা সময়ই বলে দেবে।




জুলাই সনদ ২০২৫: রাজনৈতিক ঐকমত্যে ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ৩৫টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়াটি প্রণয়ন করে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, খসড়া সনদটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এর ভাষা ও প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং চূড়ান্ত মতামত দেবে। তিনি বলেন, ‘‘যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা সংলাপ শেষে চূড়ান্ত সনদে সংযোজন করা হবে।’’

খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদে একটি বাধ্যতামূলক রোডম্যাপ নির্ধারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, দুর্নীতিদমন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন।

খসড়া সনদের ভূমিকায় বলা হয়েছে, সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং এটিকে সম্মিলিত নৈতিক দায় হিসেবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে। এই বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

সনদের লক্ষ্য ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থার আইনি ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োগ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই আন্দোলনে ১৪০০-র বেশি মানুষ নিহত হয় এবং বহু মানুষ আহত হন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

এই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয় ছয়টি আলাদা সংস্কার কমিশন—
১. সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন
২. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন
৩. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
৪. প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন
৫. পুলিশ সংস্কার কমিশন
৬. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন

কমিশনগুলো ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারকে জমা দেয়। এরপর দুই ধাপে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া চলে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
  • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব
  • নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ
  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান
  • সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো
  • প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি
  • সংবিধান সংশোধন
  • প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা
  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল
  • নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ
  • পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

তবে এখনো দ্বিমত রয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, সংসদে নারী আসন সংখ্যা ও নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রের মূলনীতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ বিষয়ে।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়া সনদ সরবরাহ করা হয়েছে। দলগুলো জানিয়েছে, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী মতামত দেবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

শেষাংশে সনদে আহ্বান জানানো হয়েছে:
২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সকল পক্ষ যেন একসঙ্গে কাজ করে।