নিয়োগে দলীয়করণ নয়, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপির

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রভাব কাটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২০তম দিনে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজস্ব আনুগত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে আক্রান্ত হয়েছে এবং জনবান্ধবতা হারিয়েছে।”

পিএসসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা এমন একটি নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির প্রস্তাব দিয়েছি যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সুশাসনের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, “বর্তমানে সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ দেন। আমরা চাই, সংবিধানেই নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি কোনো বড় পরিবর্তন নয়, বরং কার্যকর জবাবদিহিতার সূচনা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় পিএসসির দুর্বলতা যেমন প্রশ্নফাঁস সামনে এসেছে, তেমনি প্রতিটি আমলেই ভাইভা বোর্ডে দলীয় বিবেচনা কাজ করেছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে নিয়োগ হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।”

দুদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান নিয়োগ দেন সরকারপ্রধান। এতে অনেক সময় এটি ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি আড়াল করে এবং বিরোধীদের টার্গেট করে। আমরা চাই, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হোক, যেখানে প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ হবে নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে।”

আখতার হোসেন বলেন, “আইন পরিবর্তন সহজ, কিন্তু সংবিধান নয়। তাই এসব নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে যুক্ত করলে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক, সিস্টেম সহজে বদলাতে পারবে না।”

তিনি জানান, বিএনপি পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। এনসিপি তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা আর দলীয়করণে আক্রান্ত প্রশাসন দেখতে চায় না। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করুক, কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হোক।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত হবে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”




গাজায় খাদ্যকেন্দ্র খোলার ঘোষণা ট্রাম্পের, ৬ কোটি ডলার সহায়তা বরাদ্দ

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় একটি “মুক্ত খাদ্যকেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই গাজায় একটি খাদ্যকেন্দ্র খুলতে যাচ্ছি। কেন্দ্রটির নির্মাণ, তত্ত্বাবধান এবং খাদ্য বিতরণের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হবে একটি মুক্ত কেন্দ্র— গাজার বাসিন্দারা যখন খুশি, তখনই সেখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন, কোনো বাধা থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্তে গাজার মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। কারণ সেখানে প্রচুর মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”

ট্রাম্প প্রথমবারের মতো সরাসরি গাজার তীব্র খাদ্যসংকট স্বীকার করে বলেন, “কিছুদিন আগে টেলিভিশনে গাজার কিছু শিশুকে দেখলাম— তারা খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। গাজায় সত্যিকারের খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে এবং আপনি একে অস্বীকার করতে পারবেন না।”

সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইসরায়েল হামাসকে দমন করতে চাইলে আরও কঠোর লড়াই চালাতে পারে। তবে এখন গাজা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে এবং সেখানে খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

স্টারমারের সমর্থন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গাজায় যা চলছে তা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট সংকট এবং এটি এখন আর শুধু সংকট নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”

তিনি বলেন, “গাজার প্রকৃত অবস্থা যদি ব্রিটেনের জনগণ নিজের চোখে দেখতে পেত, তাহলে তারা গভীরভাবে নাড়া খেত। এটি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

স্টারমার আরও বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে এতে দুটি কাজ একসঙ্গে হবে— একদিকে খাদ্য সংকট কমবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে যুদ্ধ থামানোর জন্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান তার পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলোর তুলনায় এক নতুন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। তবে এই খাদ্যকেন্দ্র কতটা কার্যকর হবে এবং তা কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে— তা সময়ই বলে দেবে।




জুলাই সনদ ২০২৫: রাজনৈতিক ঐকমত্যে ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ৩৫টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়াটি প্রণয়ন করে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, খসড়া সনদটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এর ভাষা ও প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং চূড়ান্ত মতামত দেবে। তিনি বলেন, ‘‘যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা সংলাপ শেষে চূড়ান্ত সনদে সংযোজন করা হবে।’’

খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদে একটি বাধ্যতামূলক রোডম্যাপ নির্ধারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, দুর্নীতিদমন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন।

খসড়া সনদের ভূমিকায় বলা হয়েছে, সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং এটিকে সম্মিলিত নৈতিক দায় হিসেবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে। এই বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

সনদের লক্ষ্য ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থার আইনি ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োগ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই আন্দোলনে ১৪০০-র বেশি মানুষ নিহত হয় এবং বহু মানুষ আহত হন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

এই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয় ছয়টি আলাদা সংস্কার কমিশন—
১. সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন
২. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন
৩. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
৪. প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন
৫. পুলিশ সংস্কার কমিশন
৬. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন

কমিশনগুলো ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারকে জমা দেয়। এরপর দুই ধাপে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া চলে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
  • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব
  • নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ
  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান
  • সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো
  • প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি
  • সংবিধান সংশোধন
  • প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা
  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল
  • নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ
  • পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

তবে এখনো দ্বিমত রয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, সংসদে নারী আসন সংখ্যা ও নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রের মূলনীতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ বিষয়ে।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়া সনদ সরবরাহ করা হয়েছে। দলগুলো জানিয়েছে, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী মতামত দেবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

শেষাংশে সনদে আহ্বান জানানো হয়েছে:
২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সকল পক্ষ যেন একসঙ্গে কাজ করে।




অমাবস্যার জোয়ারে পটুয়াখালীর নদীভাঙন-দুর্ভোগ চরমে

অমাবস্যা ঘিরে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারের কারণে পটুয়াখালীর নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা চারদিন ধরে প্রতিদিন দুই দফা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর পানি বেড়ে উপচে পড়ছে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে পানির নিচে।

এতে করে ইতোমধ্যে সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর, কাঁকড়াবুনিয়া এবং দমুকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া, উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি ও চরগরদি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আগেই রাঙ্গাবালী উপজেলার ১০টি এবং বাউফল উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

জোয়ারের পানি অনেকের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পাকা ও আধা-পাকা সড়কগুলোতেও প্রবেশ করেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায়। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ে কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবাগানসংলগ্ন জাতীয় উদ্যান, বেড়িবাঁধ ও সৈকত সড়ক ভাঙনের মুখে পড়েছে।

হোসেনপাড়া এলাকার জাতীয় উদ্যান ঘেঁষে নির্মিত সড়কের প্রায় ৩০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় সেখানকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকেছে। ডিসি পার্ক সংলগ্ন সৈকত সড়কে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য গাছপালা। পুরো সৈকতের প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় বালু সরে গিয়ে মাটির স্তর বেরিয়ে পড়েছে, যা ভয়াবহ বিপদের পূর্বাভাস।

স্থানীয়দের মতে, মসজিদ, মন্দির ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সসহ অনেক স্থাপনাই এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের এক কৃষক জানান, তেঁতুলিয়া নদীর পানি প্রবেশ করে তার আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

সদর উপজেলার ইদ্রাকপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন দুই দফা করে পানি ঢুকছে। বেড়িবাঁধ উপচে এখন তো ভেঙেও গেছে। ঘরের ভেতরেও পানি উঠে গেছে। এভাবে আর কতদিন?”

ভাঙনরোধে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুর রহমান জানান, “দুই দিন আগে কুয়াকাটা সৈকত সড়ক এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালে পাঠানো হয়েছে।”

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, “তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার এবং পায়রা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জরুরি মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

তবে স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর এমন দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। তবে কার্যকর পদক্ষেপ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের থেকে মুক্তি মিলবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওয়াকআউটের পর আলোচনায় ফিরে নির্বাহী ক্ষমতা রক্ষার পক্ষে বিএনপি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ থেকে কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করার পর পুনরায় আলোচনায় যোগ দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশে যেন আর কখনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ না জন্মায়, সে লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। তবে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব খর্ব করা হলে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।”

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার সংলাপের ২০তম দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেই প্রধানমন্ত্রী মেয়াদের সর্বোচ্চ সীমা ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা কমিশন গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, একটি স্বাধীন সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় এসেছে, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা বলেছি, পরবর্তী সংসদ যদি এই বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনে, তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটে যেতে হবে। এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় আমরা মনে করি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এটি বড় পদক্ষেপ।”

তবে এসব অগ্রগতির মাঝেও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “জবাবদিহিতা যেমন সংসদের কাছে, তেমনি জনগণের কাছেও রয়েছে। কিন্তু যদি নির্বাহী কর্তৃত্ব না থাকে, কেবল দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা দেওয়া হয়, তাহলে কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব হলে ভবিষ্যতে এটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শক্তিশালী নির্বাহী বিভাগ অপরিহার্য।”

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংলাপে তাদের অংশগ্রহণ গঠনমূলক উদ্দেশ্যে হলেও মৌলিক মতভেদ থাকলে সেটি প্রকাশ করাও গণতান্ত্রিক আচরণের অংশ। সালাহউদ্দিন বলেন, “সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা কাউকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্যে বাধ্য করতে চাই না। বরং ঐকমত্য মানেই হচ্ছে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।”

সংলাপ শেষে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, পরবর্তী পর্যায়েও বিএনপি অংশ নেবে এবং ইতিবাচক আলোচনায় প্রস্তুত থাকবে।




‘জুলাইয়ের নায়ক’ আহতদের সেবা দেওয়া সাহসী চিকিৎসকরা: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই বিপ্লব চলাকালে আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসকদের ‘জুলাইয়ের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, যুদ্ধের সময়ও আহতদের চিকিৎসা বন্ধ হয় না। অথচ জুলাই বিপ্লবের সময় বাংলাদেশে সেই মানবিক নীতির ব্যতিক্রম ঘটেছে। সেই কঠিন সময়েও যারা ঝুঁকি নিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারাই এই জুলাইয়ের প্রকৃত নায়ক।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আহত আন্দোলনকারীদের সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ’ অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, “আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু কিছু চিকিৎসক সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছেন। তারা সাহস, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি কখনও ভুলবে না।”

প্রধান উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে সরকার শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং চেষ্টা করেছে যেন কোনো হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসা না দেয়। ছাত্রদের রাস্তায় পিটিয়ে আহত করার পর এমনকি হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের হুমকি-ধামকির মুখে পড়তে হয়েছে এবং তাদের কাজেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শত শত আন্দোলনকারী সঠিক চিকিৎসার অভাবে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকারি নির্দেশ ছিল, আহতদের কাউকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। অথচ সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বহু চিকিৎসক সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “চিকিৎসকরা শুধু সেবা দেননি, বরং রক্ত সংকটের সময় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রক্ত সংগ্রহ করেছেন, ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন, এমনকি রোগীর পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবস্থাপত্রে অন্য নাম লিখেছেন। অনেক প্রাইভেট চিকিৎসকও সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সেবা দিয়েছেন। তারা নতুন এক মানবিক অধ্যায় রচনা করেছেন।”

প্রধান উপদেষ্টা এসব চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “আপনারা শুধু এই জুলাইয়ের নায়ক নন, আপনারা জাতির গর্ব। আপনারা ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।”




প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর: একমত বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো

এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন—এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও দলগুলো একমত হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দল অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তা হলো—এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জাতীয় সনদে এ শর্তটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা পূর্বেই বলেছি, কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তবে এ বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় নিতে হবে। না হলে আমাদের পূর্বের শর্ত বহাল থাকবে।”

স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবে সম্মতি

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও সম্মতি প্রকাশ করে। কমিশনের লক্ষ্য হবে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।

কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এ কমিশন নেতৃত্ব দেবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি (যার বয়স ৭২ বছরের নিচে), সদস্য সচিব হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি (যার বয়স ৬২ বছরের নিচে)।

কমিশনে থাকবেন:

  • সরকার ও বিরোধীদলের প্রতিনিধি (সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার)
  • একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী (১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)
  • একজন মানবাধিকার কর্মী (১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন)
  • একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি

কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হবেন। সদস্য মনোনয়নের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পূর্ণকালীন দায়িত্বে থাকবেন, বাকিরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যরা সম্মানী বা ভাতা নিতে পারবেন।

সবশেষে জানানো হয়, কমিশনের সদস্যদের দায়িত্ব, ক্ষমতা, অপসারণ ও জবাবদিহিতা একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নীতিগত ও নির্বাহী সিদ্ধান্তগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে।




বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিদেশি সহায়তা: প্রধান উপদেষ্টার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

সাম্প্রতিক মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিদেশি মেডিকেল টিমের অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের মোট ২১ জন চিকিৎসক ও নার্সের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে মানবিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই দল শুধু দক্ষতা নয়, হৃদয় নিয়েও এসেছে। তাদের উপস্থিতি আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদেশি চিকিৎসকদের দ্রুত আগমন ও কার্যক্রম শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি চিকিৎসকদের সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

আহতদের তাৎক্ষণিক ট্রমা কেয়ারে এই চিকিৎসক দল স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে শিশুদের সেবা প্রদানে তারা বিশেষ দক্ষতা ও সহানুভূতির পরিচয় দিয়েছেন।

চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভার্চুয়াল সংযুক্ততা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এর মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষায় আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, যিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে আপনাদের সহানুভূতি ও সাহায্য জাতি কখনো ভুলবে না।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, “বিদেশি চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “আবারো প্রমাণিত হলো, চিকিৎসকদের কোনো সীমানা নেই।”

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিঙ্গাপুরের ১০ জন, চীনের ৮ জন এবং ভারতের ৩ জন চিকিৎসক ও নার্স। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও ঢাকায় সিঙ্গাপুর মিশনের প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।




দুমকিতে ওয়াপদা বেরিবাঁধ ভেঙে প্লাবিত বিস্তীর্ণ জনপদ

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও লোহালিয়া নদীর উজানে সৃষ্টি হওয়া প্রবল জোয়ারের স্রোতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ওয়াপদা বেরিবাঁধের একাধিক স্থান ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে ঝুঁকির মুখে পড়েছে এলাকার রোপা আমনের চাষাবাদসহ নানা স্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম।

স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং টানা ভারী বৃষ্টির ফলে লোহালিয়া নদীর পানির উচ্চতা ও প্রবাহ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। ফলে মুরাদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, চরগরবদি ও দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের অন্তত পাঁচটি স্থানে বেরিবাঁধ ভেঙে বা উপচে পড়ায় এসব এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি, কাঁচা সড়ক ও রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান ফোরকান জানান, উত্তর মুরাদিয়ায় বশিরিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন পাকা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। একইভাবে পাংসিঘাট, সন্তোষদি সুইজগেট, হাওলাদারবাড়ি সংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত পাঁচটি স্থানে নদীর পানি প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে। এতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দিনে দুই বার জোয়ারের সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি আমন মৌসুমের জন্য প্রস্তুতকৃত রোপা আমনের বীজতলাগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর পানি না কমলে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাজ শুরু করা না হলে আসন্ন আমন মৌসুম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. এজাজুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত সরজমিন পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিরব হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য ঊর্ধ্বতন দফতরে পাঠানো হবে। অপরদিকে, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেরিবাঁধের সংস্কারের জন্য ঢাকায় বরাদ্দ অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং অনুমোদন পেলেই জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি—প্রতিবার দুর্যোগে বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ার ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে অনুযায়ী টেকসই ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক বছর পরেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো অনেক শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসাতে পারেনি : সারজিস আলম

জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করতে পারেনি। এটিকে সরকারের “সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম

শনিবার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস বলেন, “অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর হতে চলল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধি শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে একবারের জন্যও বসেননি। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।”

তিনি আরও জানান, চলতি জুলাই-আগস্ট মাসে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের একটি পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে ৫ আগস্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যা সারজিসের মতে, “দায়সারা কর্মসূচি মাত্র।”

এই প্রেক্ষাপটে সারজিস আলম শহীদ পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের ওই সরকারি কর্মসূচি বয়কট করুন। কারণ, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এক বছরে অন্তত একবারও এক হাজার শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসতে না পারে, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ।”

শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে সরকার বারবার সম্মান প্রদর্শনের কথা বললেও বাস্তবে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে ন্যূনতম সংলাপ বা সম্পর্ক গড়ে না তোলায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারজিসের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।