গাজায় সৌদি আরবের সহায়তা পৌঁছাল রাফা ক্রসিং হয়ে

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ক্ষুধার্ত ও বিপর্যস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে সৌদি আরব। বুধবার (৩০ জুলাই) সাতটি ত্রাণবাহী ট্রাক মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিং দিয়ে উপত্যকায় প্রবেশ করে।

বার্তাসংস্থা সৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, সৌদি বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা ও রিলিফ সেন্টারের (KSRelief) উদ্যোগে এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ট্রাকগুলোতে প্রধানত খাদ্যসামগ্রী ছিল।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৫৮টি বিমান ও ৮টি জাহাজে করে ত্রাণ পাঠিয়েছে। এসব ত্রাণে প্রায় ৭ হাজার ১৮৮ টন খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আশ্রয় সামগ্রী রয়েছে। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ২০টি অ্যাম্বুলেন্সও সরবরাহ করেছে সৌদি আরব।

ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার ফলে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার চাপের মুখে ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিতভাবে ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরব জর্ডানের সহায়তায় বিমান থেকেও গাজায় খাদ্যসামগ্রী ফেলে দিয়েছে। তবে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ব্রিটেন: সেপ্টেম্বরে আসতে পারে ঘোষণা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট নিরসনে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, “ইসরায়েল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য।” তার ঘোষণায় স্পষ্ট, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কৌশলগত ও মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলের ভূমিকায়ও পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে ব্রিটেন।

চারটি মূল শর্ত

যুক্তরাজ্য যে চারটি শর্ত সামনে রেখেছে সেগুলো হলো:

  • গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি
  • গাজায় ত্রাণ সরবরাহে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
  • পশ্চিম তীর দখল ও সংযুক্তির পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েলের সরে আসার প্রতিশ্রুতি
  • দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি, যার মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও নীতিগত সমতা নেই। হামাসকে অবশ্যই জিম্মিদের মুক্তি দিতে, অস্ত্র ত্যাগ করতে ও গাজা শাসনে অংশ না নিতে হবে।”

রাজনৈতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ

ব্রিটেনের পূর্ববর্তী সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলেছে, ‘সঠিক সময়’ ও ‘উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে’ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। স্টারমারের সরকারের অবস্থানও ছিল একই। তবে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও দিন দিন বাড়তে থাকা চাপ—বিশেষ করে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ—স্টারমারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফল

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, “ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও কূটনৈতিক ও নৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক।” ব্রিটেনে বর্তমানে ফিলিস্তিনের একটি প্রতিনিধি মিশন রয়েছে। স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে পরিণত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে ব্রিটেন পশ্চিম তীরে একটি নিজস্ব দূতাবাস স্থাপনও করতে পারে।

তবে এই স্বীকৃতির ফলে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেরুজালেমে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক কনসাল জেনারেল ভিনসেন্ট ফিন। তিনি বলেন, “ব্রিটেন চাইলে ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের বসতিগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যা প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল, যা ২০২৩ সালের হামলায় নিহতদের প্রতি অবিচার।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা, যা ঠিক নয়।”

স্পষ্ট বার্তা: ফিলিস্তিনিরা হামাস নয়

ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এটি হামাসকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয় নয়। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি, বিশেষ করে গাজার শিশুদের জন্য নেওয়া একটি মানবিক সিদ্ধান্ত।”

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বাড়বে এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।




নাগরিকদের কথা না শুনলে সরকার চলতে পারে না: সাভারে ভার্চুয়াল সভায় তারেক রহমান

“সরকার পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই নাগরিকদের কথা শুনতে হবে,” — বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ কোনো ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চায় না, তারা চায় রাষ্ট্র ও সরকারে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

তারেক রহমান বলেন, “গত দেড় দশকের আন্দোলন শুধু কিছু লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হয়নি। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। সরকারে যারা থাকবেন, তাদের অবশ্যই জনগণের মুখাপেক্ষী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা তাদের মত প্রকাশ করেন। এজন্যই বিএনপি সবসময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানায়। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণ যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণকে দুর্বল রেখে সংস্কার, সরকার বা রাজনীতি কিছুই শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।”

গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সাভার-আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা কারবালার নির্মমতাকেও হার মানায়। বিশেষ করে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পুনর্বাসনের জন্য ওৎ পেতে আছে। সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সরকারি চাকরির প্রত্যাশা না থাকলেও শ্রমজীবীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিলেন—যদি ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় থাকে, তবে কারো অধিকারই ফিরবে না।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় প্রমুখ।




ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে; সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এই দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা আমাদের দলের কেউ নন, কিন্তু তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছেন। অথচ এখন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, বিচার সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে গণসমাবেশ করবে এনসিপি। সেখান থেকেই ‘নতুন বাংলাদেশের’ ইস্তেহার ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বাধার মধ্যেও আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমাদের দাবি এখনো অটুট রয়েছে। আমরা সংগঠিত হচ্ছি এবং জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বো।”

তিনি বলেন, “নরসিংদীতে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষ ৩ আগস্ট শহীদ মিনার ভরে দেবে।”

নরসিংদীর উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, “এখানে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রয়েছে। আমরা তাদের বিতাড়িত করবো।”

পথসভার আগে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী জেলখানা মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পদযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা মোড়ে এসে শেষ হয়।

এর আগে দুপুরে নরসিংদী ক্লাবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পথসভা ও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়োরা তুষার ও ইয়াসমিন মিতু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




কলাপাড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন নুর উদ্দিন (৩২) নামের এক যুবক। বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় কলাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেন নুর উদ্দিন। তিনি ওই এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে। পারিবারিক কলহের কারণে কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান এবং তালাকের দাবি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুর উদ্দিন এবং অবশেষে অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা রুজু করা হয়েছে।”

আল-আমিন

 




পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, জেলায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালী জেলা শহরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শহরের সবুজবাগ এলাকার একটি মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।

মারা যাওয়া ছাত্রীটির নাম আরশী দেবনাথ জয়ত্রী, বয়স ১৪ বছর। সে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং শহরের সবুজবাগ ১ম লেন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিপ্লব দেবনাথের কন্যা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর জয়ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই বরিশালের চৌরাস্তা এলাকায় সে মৃত্যুবরণ করে। এই মৃত্যুর ঘটনায় জয়ত্রীর পরিবার, বিদ্যালয় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জয়ত্রীর বাবা বিপ্লব দেবনাথ জানান, তিন দিন আগে তার মেয়ের জ্বর দেখা দেয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার রাতে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিকের পরামর্শে জয়ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পরই দেখা যায় তার রক্তে প্লাটিলেট মাত্র ২০ হাজারে নেমে এসেছে এবং রক্তচাপ ছিল খুবই নিচে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তা আরও কমে ৭ হাজারে চলে আসে, সঙ্গে দেখা দেয় ফুসফুসে পানি জমা ও শ্বাসকষ্ট। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৩টায় জয়ত্রীকে ঢাকায় রেফার করা হয়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জয়ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। রক্তচাপ ও প্লাটিলেট দুটোই ছিল মারাত্মকভাবে কম এবং শ্বাসকষ্টের কারণে তা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও রোগীর প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে পারেননি।

পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকাকে বর্তমানে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের অধিকাংশ রোগীই এই অঞ্চল থেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৮ জন। এবং মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ জনে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সতর্কতা ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাবে একমত অধিকাংশ দল, মতবিরোধ শুধু প্রধান উপদেষ্টায়

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২১তম দিনের সংলাপ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিন-চতুর্থাংশ দলের মধ্যে একমত হওয়া গেলেও প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে।”

কমিশনের সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনয়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি।

তবে যদি এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান বিচারপতির মনোনীত দুই বিচারপতিকে যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি র‍্যাংকড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে। দলটির দাবি, অচলাবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাঠানো উচিত। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্তি ও র‍্যাংকড ভোটিং প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ সমাধান হিসেবে দেখছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছে গেছি। আগামীকাল লিখিত প্রস্তাব সব দলের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি অধিকাংশ দল তা গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে জাতীয় সনদের খসড়ার সংশোধিত কপি দিয়েও আলোচনার নিষ্পত্তি ঘটানো হবে।

আলী রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী। সব দলই কোনো না কোনোভাবে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”




জাতীয় ঐকমত্যে ফাটল: এনসিপি ও জামায়াতের পাল্টা প্রস্তাব

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত ‘জুলাই সনদের’ খসড়ার ভূমিকা ও উপসংহার অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে হস্তান্তর করা হয়েছে। খসড়ার এই অংশে অধিকাংশ দল বড় ধরনের আপত্তি না তুললেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। তারা এসব আপত্তি লিখিতভাবে কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সংলাপের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, এবং ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এনসিপি: ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়’

এনসিপির জাভেদ রাসিন জানান, যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী সংসদ নির্বাচন হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে এনসিপি ‘র‍্যাংক চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাবেও তারা একমত। তবে দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াত: ‘খসড়া অসম্পূর্ণ ও কিছু অংশ বিপজ্জনক’

জামায়াত নেতা তাহের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানান, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোয় একমত না হলে র‍্যাংক চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি যুক্ত রয়েছে, যা অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের খসড়া অসম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ বিপজ্জনক।

জামায়াত আইনি কাঠামোর জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে—অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাঠামো অনুমোদন ও গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা অর্জন।

গণসংহতি আন্দোলন: আরও আলোচনার প্রয়োজন

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি বলেন, সনদের বিভিন্ন অংশে এখনো আলোচনার অবকাশ রয়েছে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল জানান, খসড়ার ভাষা ও কিছু শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে, যা লিখিতভাবে জানানো হবে।

এবি পার্টি: ‘প্রস্তাব যুগান্তকারী হতে পারে’

এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিতর্কমুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। তিনি কমিশনের প্রস্তাবকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর একধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন এবং র‍্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতিকে ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ বলেন।

বিএলডিপি: বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশোধন চান

বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান বাছাইয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে প্রার্থীর নাম নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক নিবন্ধিত দল কার্যকর নয়। এছাড়া তিনি বাছাই কমিটিতে ৩ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

জুলাই সনদ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, কমিশন ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সনদটিকে কার্যকর রূপ দেবে। দলগুলোর লিখিত মতামত আগামীকাল (৩০ জুলাই) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।




জুলাই গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে: ড. আসিফ নজরুল

জুলাই গণহত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই কাঙ্ক্ষিত মামলাগুলোর রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক এক আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশ না হয়ে আশাবাদী হতে হবে। বিচার কার্যক্রম যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, ইনশাল্লাহ বর্তমান সরকারের আমলেই কাঙ্ক্ষিত রায় আমরা পেতে পারব।”

একজন আলোচকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তীকালে বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা এই বিচার থেকে সরে আসবে না। কারণ তারাও আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে নির্যাতিত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছে।”

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা এমন অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ রেখে যাব, যাতে কোনো সরকার চাইলেও এই বিচারের ধারা থামাতে না পারে।”

সমাপনী বক্তব্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমি উপদেষ্টা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করিনি। অন্যায় করিনি। জীবনে কোনো সময় এত পরিশ্রম করিনি। বিচার নিয়ে আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখার অবকাশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি শহীদের পিতা হতাম, তাহলে আমিও প্রশ্ন তুলতাম। সন্তান হারানো মানুষদের ইমোশনাল হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক। তাদের সমালোচনাকে আমাদের সহ্য করতে হবে, বুঝতে হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিরাপরাধ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীরা যে অপরাধ করেছে, তা এমন নৃশংস যা পাকিস্তানি বাহিনীর কাছেও দেখা যায়নি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও আমি এমন ফুটেজ দেখিনি, যেখানে একজন আহত ব্যক্তিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আবার গুলি করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অনেক ধরনের বর্বরতা হয়েছে, তবে এই মাত্রার নৃশংসতা বিরল। অথচ এত বড় গণহত্যার পরেও আওয়ামী লীগের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “একটি দল ১৫ বছর ধরে শুধু মিথ্যা, দমন-পীড়ন ও অত্যাচারের মাধ্যমে দেশ চালিয়েছে। এখনো তাদের নির্যাতনের প্রবণতা থামেনি। শেখ হাসিনার অডিও শুনলে বোঝা যায়, এখনো সেই মনোভাব বজায় রয়েছে।”

বিচারকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার অনেক দায়িত্ব। কিন্তু এই বিচার যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে চেষ্টায় কোনো ঘাটতি রাখিনি এবং রাখব না।”




বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ থেকে ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

ভারত তাদের স্বল্পমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রলয়’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গতকাল (২৮ জুলাই) ও আজ (২৯ জুলাই) ওড়িশা উপকূলের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির দুটি পৃথক উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রলয় একটি আধুনিক, আধা-ব্যালিস্টিক, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ডিআরডিও জানায়, প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে কঠিন জ্বালানির মোটর, উন্নত ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি এবং মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা—যা একে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং সব কার্যকরী লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩৫০ থেকে ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের কনভেনশনাল ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এটি মূলত শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, লজিস্টিক হাব, এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেন এটি প্রতিহত করতে না পারে, সেজন্যই প্রলয়কে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। সামরিক কৌশলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।