জাতীয় ঐকমত্যে ফাটল: এনসিপি ও জামায়াতের পাল্টা প্রস্তাব

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত ‘জুলাই সনদের’ খসড়ার ভূমিকা ও উপসংহার অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে হস্তান্তর করা হয়েছে। খসড়ার এই অংশে অধিকাংশ দল বড় ধরনের আপত্তি না তুললেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। তারা এসব আপত্তি লিখিতভাবে কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সংলাপের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, এবং ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এনসিপি: ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়’

এনসিপির জাভেদ রাসিন জানান, যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী সংসদ নির্বাচন হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে এনসিপি ‘র‍্যাংক চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাবেও তারা একমত। তবে দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াত: ‘খসড়া অসম্পূর্ণ ও কিছু অংশ বিপজ্জনক’

জামায়াত নেতা তাহের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানান, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোয় একমত না হলে র‍্যাংক চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি যুক্ত রয়েছে, যা অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের খসড়া অসম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ বিপজ্জনক।

জামায়াত আইনি কাঠামোর জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে—অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাঠামো অনুমোদন ও গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা অর্জন।

গণসংহতি আন্দোলন: আরও আলোচনার প্রয়োজন

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি বলেন, সনদের বিভিন্ন অংশে এখনো আলোচনার অবকাশ রয়েছে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল জানান, খসড়ার ভাষা ও কিছু শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে, যা লিখিতভাবে জানানো হবে।

এবি পার্টি: ‘প্রস্তাব যুগান্তকারী হতে পারে’

এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিতর্কমুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। তিনি কমিশনের প্রস্তাবকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর একধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন এবং র‍্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতিকে ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ বলেন।

বিএলডিপি: বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশোধন চান

বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান বাছাইয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে প্রার্থীর নাম নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক নিবন্ধিত দল কার্যকর নয়। এছাড়া তিনি বাছাই কমিটিতে ৩ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

জুলাই সনদ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, কমিশন ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সনদটিকে কার্যকর রূপ দেবে। দলগুলোর লিখিত মতামত আগামীকাল (৩০ জুলাই) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।




জুলাই গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে: ড. আসিফ নজরুল

জুলাই গণহত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই কাঙ্ক্ষিত মামলাগুলোর রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক এক আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশ না হয়ে আশাবাদী হতে হবে। বিচার কার্যক্রম যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, ইনশাল্লাহ বর্তমান সরকারের আমলেই কাঙ্ক্ষিত রায় আমরা পেতে পারব।”

একজন আলোচকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তীকালে বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা এই বিচার থেকে সরে আসবে না। কারণ তারাও আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে নির্যাতিত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছে।”

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা এমন অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ রেখে যাব, যাতে কোনো সরকার চাইলেও এই বিচারের ধারা থামাতে না পারে।”

সমাপনী বক্তব্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমি উপদেষ্টা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করিনি। অন্যায় করিনি। জীবনে কোনো সময় এত পরিশ্রম করিনি। বিচার নিয়ে আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখার অবকাশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি শহীদের পিতা হতাম, তাহলে আমিও প্রশ্ন তুলতাম। সন্তান হারানো মানুষদের ইমোশনাল হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক। তাদের সমালোচনাকে আমাদের সহ্য করতে হবে, বুঝতে হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিরাপরাধ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীরা যে অপরাধ করেছে, তা এমন নৃশংস যা পাকিস্তানি বাহিনীর কাছেও দেখা যায়নি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও আমি এমন ফুটেজ দেখিনি, যেখানে একজন আহত ব্যক্তিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আবার গুলি করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অনেক ধরনের বর্বরতা হয়েছে, তবে এই মাত্রার নৃশংসতা বিরল। অথচ এত বড় গণহত্যার পরেও আওয়ামী লীগের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “একটি দল ১৫ বছর ধরে শুধু মিথ্যা, দমন-পীড়ন ও অত্যাচারের মাধ্যমে দেশ চালিয়েছে। এখনো তাদের নির্যাতনের প্রবণতা থামেনি। শেখ হাসিনার অডিও শুনলে বোঝা যায়, এখনো সেই মনোভাব বজায় রয়েছে।”

বিচারকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার অনেক দায়িত্ব। কিন্তু এই বিচার যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে চেষ্টায় কোনো ঘাটতি রাখিনি এবং রাখব না।”




বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ থেকে ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

ভারত তাদের স্বল্পমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রলয়’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গতকাল (২৮ জুলাই) ও আজ (২৯ জুলাই) ওড়িশা উপকূলের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির দুটি পৃথক উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রলয় একটি আধুনিক, আধা-ব্যালিস্টিক, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ডিআরডিও জানায়, প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে কঠিন জ্বালানির মোটর, উন্নত ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি এবং মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা—যা একে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং সব কার্যকরী লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩৫০ থেকে ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের কনভেনশনাল ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এটি মূলত শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, লজিস্টিক হাব, এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেন এটি প্রতিহত করতে না পারে, সেজন্যই প্রলয়কে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। সামরিক কৌশলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




সংস্কার প্রস্তাবনা দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নে একমত বিএনপি: সালাহউদ্দিন

সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি একমত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ২১তম দিনের সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, জুলাই সনদ ২০২৫-এর খসড়াটি একটি প্রাথমিক রূপরেখা হিসেবে পাওয়া গেছে। যদিও খসড়ায় বিস্তারিত উপস্থাপন নেই, তবে পরবর্তীতে তা যুক্ত হবে। বিএনপি এর মূল কাঠামোর সঙ্গে একমত জানিয়ে কমিশনের অনুরোধে সংশোধনী ও পর্যবেক্ষণগুলো লিখিতভাবে জমা দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খসড়ায় উল্লিখিত দুই বছরের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি একমত—এ কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইন ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, তা এমনিতেই অনুমিত। এই উদ্দেশ্যেই তো এই প্রক্রিয়া।”

নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চাই নিয়োগগুলো আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হোক। এতে করে আইনি ত্রুটি দেখা দিলে তা সহজে সংশোধন সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সক্রিয় নির্বাহী বিভাগ প্রয়োজন। তবে সেটিকে অবশ্যই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনতে হবে। অতিরিক্ত কিছু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে তা পরিবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে, তাই আমরা চাই আইনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হোক।”

নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন জানান, বিএনপি ধাপে ধাপে নারী মনোনয়ন বাড়াতে চায়। প্রথম ধাপে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০টি আসনে উন্নীত করা হবে।

ন্যায়পাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু এখন পর্যন্ত ন্যায়পাল কোনোদিন বাস্তব কার্যক্রমে যুক্ত হয়নি, আমরা চাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হোক। এরপর তার আইন যুগোপযোগী করে তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “ন্যায়পাল শুধু তদন্তের ক্ষমতা নয়, বরং তার প্রতিবেদনের বাস্তব প্রয়োগের জন্যও আইন থাকতে হবে। না হলে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা থাকবে না।”

৭০০-এর বেশি সংস্কার সুপারিশের মধ্যে বিএনপি প্রায় ৬৫০টির সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “সব প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে যেগুলো মৌলিক— বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত—সেগুলো অগ্রাধিকার পাবে।”

এভাবে চলমান সংলাপে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের অংশ হিসেবে বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




বাউফলে সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বাল্কহেডের শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বালু বোঝাই একটি বাল্কহেডের শ্রমিক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। চলন্ত বাল্কহেডের উপর বসা অবস্থায় সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকঢাল গ্রামের খানবাড়ি সংলগ্ন খালে।

নিহত শ্রমিকের নাম শাকিব, যিনি কালাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় একটি কারখানা থেকে বালু বোঝাই করে বাল্কহেডটি দেওপাশা এলাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে খানবাড়ি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়, সেতুটির উচ্চতা কম হওয়ায় বাল্কহেডের উপর বসা শাকিবের মাথা সেতুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশের খালে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানালে, বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাটি এলাকায় চরম শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

আল-আমিন



রাঙ্গাবালীতে গাঁজাসহ নারী আটক, পলাতক স্বামী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে এক কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজাসহ তাসলিমা বেগম (৩৭) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমা ফুলখালী গ্রামের বাসিন্দা বেল্লাল দালালের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনই এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ব্যাগভর্তি গাঁজা নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাসলিমাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজা।

তবে এ সময় তাসলিমার স্বামী বেল্লাল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, “তাসলিমা ও তার স্বামী বেল্লালের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক নারীকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছিল। এবার পুলিশের হাতে একজন ধরা পড়ায় এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্বামী বেল্লালকে দ্রুত ধরার দাবি তুলেছেন তারা।

মাদকের ভয়াবহতা এবং এর সামাজিক বিপর্যয়ের দিকে নজর রেখে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের তৎপরতা আরও জোরদার করবে বলেও আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডাক্তার সংকটে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজে বন্ধ ২৪ ঘণ্টার অপারেশন

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থাকলেও শুধুমাত্র এনেস্থেশিয়া বিভাগের ডাক্তার সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সার্জারি ও অপারেশন কার্যক্রম চালু রাখা যাচ্ছে না। এতে করে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সময়মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

প্রতিদিন গর্ভবতী দরিদ্র প্রসূতি মায়েদেরও পড়তে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তিতে। সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে তাদের সিজারিয়ান করাতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচে, যা অনেকের পক্ষেই বহনযোগ্য নয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া (নবসৃষ্ট অস্থায়ী রাজস্ব) পদে এখনো কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি। এনেস্থেটিস্ট পদে থাকা ৩টি পদের সবই শূন্য। শুধুমাত্র ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া কর্মরত রয়েছেন, যিনি এককভাবে পুরো হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সেলিম মাতব্বর। তিনি বলেন, “সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, ইএনটি সহ প্রায় প্রতিটি বিভাগের কার্যক্রমে নিয়মিত এনেস্থেশিয়া সাপোর্ট প্রয়োজন। পুরো হাসপাতালে ৯ জন এনেস্থেলজিস্ট প্রয়োজন হলেও এখন কার্যকরভাবে আছেন মাত্র ২ জন, যার একজন মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. একে এম ফখরুল আলম কোনোভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন। ফলে সপ্তাহে মাত্র দুইদিন — রবিবার ও বুধবার — সাধারণ অপারেশন চালানো সম্ভব হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, গাইনী বিভাগে প্রতিদিনই ওটি থাকে, কিন্তু একজন মাত্র এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ থাকায় পুরোপুরি সাপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে অপারেশনের জন্য অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা জানান, “নবসৃষ্ট তিনটি এনেস্থেটিস্ট পদের বিপরীতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেশিয়া দিয়ে আমরা কোনোভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যদি অন্তত তিনজন এনেস্থেলজিস্ট কর্মরত থাকতেন, তাহলে ২৪ ঘণ্টা ওটি চালু রেখে জরুরি সিজারিয়ানসহ অন্যান্য সার্জিকাল সেবা প্রদান সম্ভব হতো।”

পটুয়াখালী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসক মহল দাবি করছেন, দ্রুত এনেস্থেশিয়া বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক। না হলে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও এলাকার হাজারো মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত থাকবে, বাড়বে মৃত্যু ঝুঁকি, বাড়বে চিকিৎসার খরচ।

এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য ও জনগণের আস্থার জায়গাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চার দিন ভেসে থাকা ৯ জেলে জীবিত উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ৯ জেলে। গভীর সমুদ্রে চার দিন ধরে ভেসে থাকার পর সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন জেলে, যাদের জীবনের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহিপুর ঘাট থেকে রওনা হওয়া ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের গভীরে পৌঁছালে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মুহূর্তেই ডুবে যায়। ওই ট্রলারে মাঝি আবদুর রশিদের নেতৃত্বে মোট ১৫ জন জেলে ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণে বাঁচতে তারা ভেসে থাকার জন্য বাঁশ, প্লাস্টিকের ফ্লোট ও কাঠের বোর্ড ব্যবহার করেন। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে প্রথমে একজন জেলে নিখোঁজ হন। এরপর ধাপে ধাপে আরও পাঁচজন সাগরে হারিয়ে যান।

চার দিন ধরে খোলা সাগরে অনাহারে-অর্ধাহারে ভেসে থাকার পর সোমবার রাতে বঙ্গোপসাগরের শেষ সীমান্ত বয়া এলাকায় থাকা দুটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার ভোরে তাদের কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিখোঁজ জেলেদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: আবদুর রশিদ, নজরুল ইসলাম, রফিক, ইদ্রিস, হারুন ও কালাম। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন শোকে, আর স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

উদ্ধার হওয়া জেলে হাসান বলেন, “ঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কিছু বোঝার আগেই ট্রলার ডুবে যায়। আমরা প্রাণে বাঁচার জন্য যেভাবে পারি ভেসে ছিলাম। আল্লাহর রহমতেই আজ জীবিত ফিরে এসেছি।”

এদিকে, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নামে। এখনো নিখোঁজ ছয় জেলেকে উদ্ধারে সমুদ্রপথে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, ঝড়ের সতর্কতা উপেক্ষা না করা এবং প্রতিটি ট্রলারে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, নৌ-সুরক্ষা যন্ত্রপাতি রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ট্র্যাজেডি আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে—বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কতটা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে বাংলাদেশের একক নৃত্য

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পী অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বখ্যাত ‘ব্যাটারি ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল’-এ। উৎসবটি ১৯৮২ সাল থেকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের নামকরা শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। চলতি বছর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ নৃত্যশিল্পী মোফাসসাল আলিফ।

আন্তর্জাতিক এই উৎসবে আলিফ তার একক পরিবেশনা ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ মঞ্চস্থ করবেন ১৬ আগস্ট। বিশ্বজুড়ে স্বনামধন্য শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে উঠে দেশের পতাকা তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পারাটা আমার জন্য গর্বের, কৃতজ্ঞতার এবং দায়িত্বের বিষয়।”

ভেস্টিভ্যালের পোস্টার ও ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ পরিবেশনায় আলিফ
ভেস্টিভ্যালের পোস্টার ও ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ পরিবেশনায় আলিফ

আলিফ জানান, তাঁর পরিবেশনাটি মূলত দুইটি লালন গানের আধ্যাত্মিক বাণীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি একটি সমসাময়িক নৃত্যকাহিনি যা মানুষের আত্মার খোঁজ, ভালোবাসা এবং আত্ম-অনুসন্ধানের প্রতীকী প্রকাশ। এই প্রশ্ন—‘আমি কাকে খুঁজি? সে কি বাইরের কেউ, না আমার অন্তরে?’—এর উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টাই তুলে ধরা হবে পারফর্মেন্সের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, নৃত্যটিতে কন্টেম্পোরারি ধারা এবং বাংলার লোকজ ভাবনার মিশ্রণ থাকবে, যা পুরোপুরি তার নিজস্ব কোরিওগ্রাফিতে নির্মিত।

আয়োজক সংস্থা এই অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, “আমরা আনন্দিত যে এবারে বাংলাদেশের একজন উদীয়মান শিল্পী আমাদের মঞ্চে পরিবেশনা করবেন। আলিফের কাজ দর্শন, নন্দন এবং আত্মপ্রকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে অসাধারণ।”

নিউইয়র্কের দর্শকরা যখন বিশ্বব্যাপী প্রখ্যাত শিল্পীদের সাথে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাবনা ও চেতনার একটি শিল্পরূপ প্রত্যক্ষ করবেন, তখন এটি নিঃসন্দেহে দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ: গঠনমূলক সংস্কারে ঐকমত্যের পথে বাংলাদেশ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সনদটির প্রাথমিক খসড়া দেশের ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন এক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সনদ রচিত হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য— রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর সংস্কার আনয়ন, বিশেষ করে সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থায়।


প্রেক্ষাপট

মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার— পূরণ না হওয়ায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ে ২০২৪ সালে ঘটে সফল গণ-অভ্যুত্থান। এতে এক হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জনচাপ ও সম্মিলিত প্রয়াসে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন


কমিশনের কার্যক্রম

  • ৬টি পৃথক সংস্কার কমিশন গঠিত হয়: সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন।
  • এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ শুরু করে।
  • ৩৫টি রাজনৈতিক দল মতামত দেয়, ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলে প্রথম দফা সংলাপ।
  • দ্বিতীয় দফায় চলছে বিস্তারিত আলোচনা, যার ভিত্তিতে গঠিত হচ্ছে “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া

১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য

কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যে ১২টি বিষয়ে ন্যূনতম একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো (কিছু ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ) সেগুলো হলো:

  1. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন
  2. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্বে ভারসাম্য
  3. নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ কাঠামো
  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান প্রক্রিয়ার সংস্কার
  5. বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ
    • (ক) সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ
    • (খ) উপজেলা পর্যায়ে আদালতের সম্প্রসারণ
  6. জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো সংস্কার
  7. প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিধানগত স্বচ্ছতা
  8. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি আধুনিকায়ন
  9. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধকরণ
  10. নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতি
  11. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সীমিতকরণ
  12. পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন

আলোচনায় থাকা অমীমাংসিত বিষয়

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির গঠন ও কাঠামো
  • নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও নির্বাচনী পদ্ধতির সংস্কার
  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রস্তাব
  • রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্বিন্যাস
  • নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ

চূড়ান্ত সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন:

“খসড়া দেয়া হয়েছে, মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার প্রাথমিক পর্যায়ের ঐকমত্যের খসড়া পৌঁছে দেয়া হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে একমত হবে, তার চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আলোচনার এই ধারা গঠনতান্ত্রিক রূপান্তরের এক অনন্য নজির।


উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

  • বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, গণসংহতি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি সহ ৩০টির বেশি দলের প্রতিনিধি
  • জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যবৃন্দ: বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ
  • প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মুহূর্তটি গণতন্ত্র পুনর্গঠনের এক বিরল সুযোগ। “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫” দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— যদি তা বাস্তবায়ন হয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।


 আল-আমিন