ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে আরও দেশ, চাপ বাড়ছে ইউরোপে

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফ্রান্স। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কয়েক দিন আগেই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একই ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। তবে এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকারে কোনো হুমকি সৃষ্টি হবে না বলেও তারা স্পষ্ট বার্তা দেয়।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৪৪টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন এবং ভারত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দেশ, যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু সাবেক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র—ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা থেকে উন্নীত করে ‘অ-সদস্য রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কারা হতে পারে পরবর্তী স্বীকৃতি দানকারী?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমারের ঘোষণার ফলে এখন জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং জাপানের মতো বড় ও প্রভাবশালী দেশগুলোর ওপর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে।
তবে জার্মানি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অপরদিকে ইতালির অবস্থান কিছুটা আলাদা—তারা চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে একযোগে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।
বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, এটি ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানে একটি কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।








