ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে আরও দেশ, চাপ বাড়ছে ইউরোপে

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফ্রান্স। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কয়েক দিন আগেই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একই ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। তবে এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকারে কোনো হুমকি সৃষ্টি হবে না বলেও তারা স্পষ্ট বার্তা দেয়।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৪৪টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন এবং ভারত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দেশ, যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু সাবেক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র—ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা থেকে উন্নীত করে ‘অ-সদস্য রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কারা হতে পারে পরবর্তী স্বীকৃতি দানকারী?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমারের ঘোষণার ফলে এখন জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং জাপানের মতো বড় ও প্রভাবশালী দেশগুলোর ওপর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে।

তবে জার্মানি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অপরদিকে ইতালির অবস্থান কিছুটা আলাদা—তারা চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে একযোগে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।

বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, এটি ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানে একটি কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।




জুলাই সনদের বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান হবে জাতীয় সংসদ: সালাহউদ্দিন আহমদ

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের একমাত্র উপযুক্ত স্থান হবে জাতীয় সংসদ—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৩০ জুলাই)  রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এই সনদ জাতি, জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটি সামাজিক চুক্তি। আমি মনে করি, এটি বাস্তবায়নের একমাত্র জায়গা হচ্ছে জাতীয় সংসদ।”

তিনি জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ একটি প্রস্তাবনা, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে কমিশন গঠনের পটভূমি, সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, ফ্যাসিবাদী আচরণের রূপ, এবং জনগণের প্রত্যাশা। এই খসড়ার ভিত্তিতে তৈরি করা ‘অঙ্গীকারনামা’ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আইন, সংবিধান ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেও প্রস্তুত বিএনপি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, এবং আমরা এতে একমত।”

তিনি আরও বলেন, “এতগুলো রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, সবকিছু সম্প্রচার হয়েছে, জাতি দেখেছে কে কী বলেছে। যখন এই সনদ প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরসহ প্রকাশিত হবে, তখন কেউ কি তা অস্বীকার করতে পারবে? যে দল তা করবে, তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকবে?”

জুলাই-আগস্টের ছাত্র অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শহীদদের অঙ্গীকার ও জাতির প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো দল ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না।”

সংসদ ছাড়াও অনেক সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অধ্যাদেশ আকারে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। “শুধু সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাদ দিলে, অধিকাংশ সুপারিশ সংসদ ছাড়াই বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরই সব কিছু করা হতো, তাহলে অনেক আগেই বাস্তবায়ন শুরু হতো। জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার কোনো মানসিকতা আমাদের নেই।”

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছয়টি প্রধান কমিশনের মোট সুপারিশ ছিল ৮২৬টি, যার মধ্যে মাত্র ৫১টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এরপরও কেউ কেউ বলে বিএনপি সংস্কার মানছে না—এমন অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।




বাংলাদেশকে ড্রোন প্রযুক্তি দিতে আগ্রহী চীন: কৃষিতে যৌথ সহযোগিতার প্রস্তাব

বাংলাদেশের কৃষি খাতে অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ আগ্রহের কথা জানান।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি পণ্য রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে উপদেষ্টা বলেন, “চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস অর্ধশতাব্দির। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”

চলতি মৌসুমে আম আমদানির জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে কাঁঠাল ও সুগন্ধি চালসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়নে যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ সহযোগিতার বিষয়ে চীনকে আহ্বান জানান উপদেষ্টা।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “কৃষিখাতে বাংলাদেশকে সহায়তায় চীন প্রস্তুত। সার কারখানা স্থাপন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী চীন।”

সাক্ষাতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়।




গাজায় সৌদি আরবের সহায়তা পৌঁছাল রাফা ক্রসিং হয়ে

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ক্ষুধার্ত ও বিপর্যস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে সৌদি আরব। বুধবার (৩০ জুলাই) সাতটি ত্রাণবাহী ট্রাক মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিং দিয়ে উপত্যকায় প্রবেশ করে।

বার্তাসংস্থা সৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, সৌদি বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা ও রিলিফ সেন্টারের (KSRelief) উদ্যোগে এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ট্রাকগুলোতে প্রধানত খাদ্যসামগ্রী ছিল।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৫৮টি বিমান ও ৮টি জাহাজে করে ত্রাণ পাঠিয়েছে। এসব ত্রাণে প্রায় ৭ হাজার ১৮৮ টন খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আশ্রয় সামগ্রী রয়েছে। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ২০টি অ্যাম্বুলেন্সও সরবরাহ করেছে সৌদি আরব।

ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার ফলে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার চাপের মুখে ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিতভাবে ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরব জর্ডানের সহায়তায় বিমান থেকেও গাজায় খাদ্যসামগ্রী ফেলে দিয়েছে। তবে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ব্রিটেন: সেপ্টেম্বরে আসতে পারে ঘোষণা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট নিরসনে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, “ইসরায়েল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য।” তার ঘোষণায় স্পষ্ট, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কৌশলগত ও মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলের ভূমিকায়ও পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে ব্রিটেন।

চারটি মূল শর্ত

যুক্তরাজ্য যে চারটি শর্ত সামনে রেখেছে সেগুলো হলো:

  • গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি
  • গাজায় ত্রাণ সরবরাহে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
  • পশ্চিম তীর দখল ও সংযুক্তির পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েলের সরে আসার প্রতিশ্রুতি
  • দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি, যার মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও নীতিগত সমতা নেই। হামাসকে অবশ্যই জিম্মিদের মুক্তি দিতে, অস্ত্র ত্যাগ করতে ও গাজা শাসনে অংশ না নিতে হবে।”

রাজনৈতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ

ব্রিটেনের পূর্ববর্তী সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলেছে, ‘সঠিক সময়’ ও ‘উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে’ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। স্টারমারের সরকারের অবস্থানও ছিল একই। তবে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও দিন দিন বাড়তে থাকা চাপ—বিশেষ করে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ—স্টারমারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফল

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, “ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও কূটনৈতিক ও নৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক।” ব্রিটেনে বর্তমানে ফিলিস্তিনের একটি প্রতিনিধি মিশন রয়েছে। স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে পরিণত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে ব্রিটেন পশ্চিম তীরে একটি নিজস্ব দূতাবাস স্থাপনও করতে পারে।

তবে এই স্বীকৃতির ফলে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেরুজালেমে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক কনসাল জেনারেল ভিনসেন্ট ফিন। তিনি বলেন, “ব্রিটেন চাইলে ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের বসতিগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যা প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল, যা ২০২৩ সালের হামলায় নিহতদের প্রতি অবিচার।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা, যা ঠিক নয়।”

স্পষ্ট বার্তা: ফিলিস্তিনিরা হামাস নয়

ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এটি হামাসকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয় নয়। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি, বিশেষ করে গাজার শিশুদের জন্য নেওয়া একটি মানবিক সিদ্ধান্ত।”

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বাড়বে এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।




নাগরিকদের কথা না শুনলে সরকার চলতে পারে না: সাভারে ভার্চুয়াল সভায় তারেক রহমান

“সরকার পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই নাগরিকদের কথা শুনতে হবে,” — বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ কোনো ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চায় না, তারা চায় রাষ্ট্র ও সরকারে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

তারেক রহমান বলেন, “গত দেড় দশকের আন্দোলন শুধু কিছু লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হয়নি। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। সরকারে যারা থাকবেন, তাদের অবশ্যই জনগণের মুখাপেক্ষী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা তাদের মত প্রকাশ করেন। এজন্যই বিএনপি সবসময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানায়। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণ যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণকে দুর্বল রেখে সংস্কার, সরকার বা রাজনীতি কিছুই শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।”

গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সাভার-আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা কারবালার নির্মমতাকেও হার মানায়। বিশেষ করে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পুনর্বাসনের জন্য ওৎ পেতে আছে। সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সরকারি চাকরির প্রত্যাশা না থাকলেও শ্রমজীবীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিলেন—যদি ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় থাকে, তবে কারো অধিকারই ফিরবে না।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় প্রমুখ।




ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে; সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এই দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা আমাদের দলের কেউ নন, কিন্তু তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছেন। অথচ এখন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, বিচার সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে গণসমাবেশ করবে এনসিপি। সেখান থেকেই ‘নতুন বাংলাদেশের’ ইস্তেহার ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বাধার মধ্যেও আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমাদের দাবি এখনো অটুট রয়েছে। আমরা সংগঠিত হচ্ছি এবং জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বো।”

তিনি বলেন, “নরসিংদীতে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষ ৩ আগস্ট শহীদ মিনার ভরে দেবে।”

নরসিংদীর উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, “এখানে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রয়েছে। আমরা তাদের বিতাড়িত করবো।”

পথসভার আগে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী জেলখানা মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পদযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা মোড়ে এসে শেষ হয়।

এর আগে দুপুরে নরসিংদী ক্লাবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পথসভা ও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়োরা তুষার ও ইয়াসমিন মিতু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




কলাপাড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন নুর উদ্দিন (৩২) নামের এক যুবক। বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় কলাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেন নুর উদ্দিন। তিনি ওই এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে। পারিবারিক কলহের কারণে কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান এবং তালাকের দাবি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুর উদ্দিন এবং অবশেষে অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা রুজু করা হয়েছে।”

আল-আমিন

 




পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, জেলায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালী জেলা শহরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শহরের সবুজবাগ এলাকার একটি মর্মান্তিক ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।

মারা যাওয়া ছাত্রীটির নাম আরশী দেবনাথ জয়ত্রী, বয়স ১৪ বছর। সে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং শহরের সবুজবাগ ১ম লেন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিপ্লব দেবনাথের কন্যা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর জয়ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই বরিশালের চৌরাস্তা এলাকায় সে মৃত্যুবরণ করে। এই মৃত্যুর ঘটনায় জয়ত্রীর পরিবার, বিদ্যালয় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জয়ত্রীর বাবা বিপ্লব দেবনাথ জানান, তিন দিন আগে তার মেয়ের জ্বর দেখা দেয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার রাতে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিকের পরামর্শে জয়ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পরই দেখা যায় তার রক্তে প্লাটিলেট মাত্র ২০ হাজারে নেমে এসেছে এবং রক্তচাপ ছিল খুবই নিচে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তা আরও কমে ৭ হাজারে চলে আসে, সঙ্গে দেখা দেয় ফুসফুসে পানি জমা ও শ্বাসকষ্ট। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৩টায় জয়ত্রীকে ঢাকায় রেফার করা হয়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জয়ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। রক্তচাপ ও প্লাটিলেট দুটোই ছিল মারাত্মকভাবে কম এবং শ্বাসকষ্টের কারণে তা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও রোগীর প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে পারেননি।

পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকাকে বর্তমানে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের অধিকাংশ রোগীই এই অঞ্চল থেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৮ জন। এবং মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ জনে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সতর্কতা ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাবে একমত অধিকাংশ দল, মতবিরোধ শুধু প্রধান উপদেষ্টায়

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২১তম দিনের সংলাপ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিন-চতুর্থাংশ দলের মধ্যে একমত হওয়া গেলেও প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে।”

কমিশনের সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনয়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি।

তবে যদি এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান বিচারপতির মনোনীত দুই বিচারপতিকে যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি র‍্যাংকড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে। দলটির দাবি, অচলাবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাঠানো উচিত। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্তি ও র‍্যাংকড ভোটিং প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ সমাধান হিসেবে দেখছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছে গেছি। আগামীকাল লিখিত প্রস্তাব সব দলের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি অধিকাংশ দল তা গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে জাতীয় সনদের খসড়ার সংশোধিত কপি দিয়েও আলোচনার নিষ্পত্তি ঘটানো হবে।

আলী রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী। সব দলই কোনো না কোনোভাবে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”