বিএনপির ইফতার মাহফিলে হামলা, আ.লীগের ১০১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনার তালতলীতে ২০২৩ সালের ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ১০১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছগির হাওলাদার। অভিযুক্তদের মধ্যে ৭০-৮০ জন অজ্ঞাতনামা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলায় আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল তালতলীর মালিপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং ইফতার মাহফিলের মঞ্চে থাকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ও সাজসজ্জা ভাঙচুর করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মোটরসাইকেলসহ সড়কে অগ্নিসংযোগ করে এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতিও করে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, “আদালতের আদেশপত্র এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর মামলা দায়ের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




৩ দিন পর ভোলার নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু, ঘাটে ফিরছে স্বাভাবিকতা

টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর ভোলার অভ্যন্তরীণ নৌরুটে ফের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। সমুদ্র ও নদী বন্দরে সতর্কতা সংকেত তুলে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে লঞ্চ সার্ভিস। এতে আটকে পড়া যাত্রীরা গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছেন এবং ঘাটগুলোতে ফিরেছে চেনা কর্মচাঞ্চল্য।

ভোলা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সকাল থেকেই সব রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে নৌযান কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা বজায় রেখে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ ভোলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক এলাকায় বসতঘর, রাস্তা ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে এখনও বজায় রয়েছে বৈরী আবহাওয়া। বৃষ্টিপাত আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে লিটন সিকদারকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালে পারিবারিক বিরোধের জেরে পুলিশের উপস্থিতিতেই নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটন সিকদার লিটু (৪২)–কে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় একদল উত্তেজিত জনতা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুরের বিল্লবাড়ি এলাকায় এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নিহত লিটন সিকদার বরিশাল মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিল্লবাড়ি গ্রামের নজির সিকদারের ছেলে।

এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সুমন সিকদার (৩৫) ও বোন মুন্নি বেগম (৩৮) গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুন্নি বেগম জানান, তার স্বামী জাকির হোসেন গাজী গোপনে আরেকটি বিয়ে করায় পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও চলে। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে পুলিশ প্রহরায় তিনি ও তার ভাই লিটন সিকদার বাড়িতে আসলে স্থানীয় একটি পক্ষ অতর্কিতে হামলা চালায়।

পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। লিটনকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়, আহত হন তার ভাই ও বোনও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকাবাসী লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিল। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এমনকি কয়েকদিন আগে বোনজামাই জাকির হোসেনকে মারধর করে তার গোপনাঙ্গে বিদ্যুৎ শক দেয়ার অভিযোগ ওঠে লিটনের বিরুদ্ধে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিটন পুলিশ নিয়ে এলাকায় এলে বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পুলিশ কিছু সময় পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা লিটনকে গণপিটুনি দেয়।

পরে পুলিশ এসে আহত লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় উত্তেজিত জনতা আবারও হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুপিয়ে তার একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ক্ষত সৃষ্টি করা হয়।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে নববধু অপহরণ ও ধর্ষণ : ১৮ দিন পর উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় নববধুকে অপহরণ করে দীর্ঘ ১৮ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ওই নববধুকে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই বিকেলে চরকালেখান মাদ্রাসা বাজার এলাকা থেকে নববধুকে অপহরণ করে শরীফ হোসেন নামে স্থানীয় এক যুবক ও তার সহযোগীরা। অভিযুক্ত শরীফ ওই এলাকার করিম সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই নববধুর মা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় অপহরণ মামলা করেন।

নববধুর মায়ের ভাষ্যমতে, বিয়ের আগে থেকেই শরীফ হোসেন তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত। মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারের সম্মতিতে গত ১০ জুন তার বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পরেও শরীফ উত্যক্ত করা বন্ধ করেনি।

১৩ জুলাই নববধু চরকালেখান বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শরীফ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। ওই সময় নববধুর সঙ্গে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে শরীফ তাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং রাজি না হওয়ায় একাধিক স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে শরীফ ঘটনাটি আড়াল করতে নববধুকে দিয়ে জোরপূর্বক একটি বিয়ের নাটক সাজিয়ে ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও এক যুবকের কাছে পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি নববধুর পরিবারকে জানায়। এরপরেই পরিবার পুরো ঘটনা জানতে পারে এবং মামলা দায়ের করে।

মামলার ভিত্তিতে মুলাদী থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে নববধুকে উদ্ধার করেন। তবে অভিযুক্ত শরীফ, তার বাবা করিম সরদার, মা মেলেনী বেগম ও ভাই আরিফ সরদারসহ অন্যান্য সহযোগীরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী নববধুকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মাইলস্টোন ট্রাজেডি: মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে শোকবইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিল।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকবইতে স্বাক্ষর করেন এবং এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল।”

শোকবইটিতে এরই মধ্যে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর প্রতিনিধি এবং মালদ্বীপে অবস্থানরত জাপান, চীন, সৌদি আরব ও শ্রীলঙ্কার কূটনীতিকরাও স্বাক্ষর করেছেন।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সোহেল পারভেজ জানান, শোকবইটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মালদ্বীপে বসবাসরত যে কেউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে শোক ও সহানুভূতি জানাতে পারবেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ইতোমধ্যে শোকবইতে স্বাক্ষর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা দেশের ভেতর ও বাইরে ব্যাপকভাবে শোকের ছায়া ফেলেছে।




“ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে” — নাহিদের পোস্টে সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিক্রিয়া

‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক (কায়েম)।

তিনি দাবি করেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার ভূমিকাকে খাটো করার চেষ্টা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং তা ইতিহাস রচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

সাদিক কায়েম বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ এবং দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার ও সহযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “আমি যতগুলো বক্তব্য রেখেছি, ৫ আগস্টের পর সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, আমি সব জায়গায়ই বলেছি—জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত নায়ক ছিলেন আমাদের শহীদ ও গাজীরা। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি।”

তিনি এ আন্দোলনকে ‘আপামর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, “এখানে মতভেদ ভুলে সবাই একটি অভিন্ন লক্ষ্য—ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে একত্র হয়েছিল।”

নাহিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদিক কায়েম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি কোনোদিন সমন্বয়কের পরিচয়ে কোথাও দখল বা আত্মসাৎ করেছি—এমন একটি ডকুমেন্টও কেউ দেখাতে পারবে না।”

তিনি জানান, মূল সারির সমন্বয়করা যখন ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি নয় দফা ফরমেশন, কর্মসূচি প্রণয়ন, মিডিয়া হাউজে যোগাযোগ, দ্বিতীয় সারির নেতাদের সেফ হাউজে রাখার ব্যবস্থা এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন।

সাদিক সতর্ক করে বলেন, এসব ঘটনাগুলো জাতির সামনে না এলে ইতিহাস বিকৃতি ঘটবে। “৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, কেউ কেউ গুমের নাটক করেছে, কেউ আত্মগোপনে ছিল, আবার কেউ আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে ক্যাম্পাস খোলার পক্ষে ছিল—এরাই পরে বিপ্লবের মহানায়ক হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু একই সময়ে কিছু মানুষ নিজেদের দখলদার সমন্বয়ক হিসেবে তুলে ধরেছে।”

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ময়দানে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো সেনানিবাস বা দপ্তর থেকে নয়। আমরা সবাই মিলে এক দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। তখন সায়ের ভাই ও মাহফুজ আলমসহ সকলে ছিল।”

শেষে সাদিক কায়েম বলেন, “দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিভাজন তৈরি না করে ইতিহাসকে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি বা ব্যবসা করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে কোনোভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ ছিলেন না, বরং ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করতে শুরু করেন।




কুয়াকাটা সৈকত থেকে জেলের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোজ ৫ জেলের মধ্যে নজরুল ইসলাম (৬০) নামের এক জেলের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় সৈকতের মিরা পয়েন্ট থেকে ওই জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল। এখনো ৪ জেলের কোন সন্ধান মেলেনি।

নৌ পুলিশ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশের খবর পেয়ে সৈকত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে মীরাবাড়ি পয়েন্টে কালো রংয়ের রেইনকোট পরিহিত ব্যক্তির পরিচয় তার ছেলে সনাক্ত করেছে। এছাড়া গঙ্গামতি এলাকায় একটি লাশ ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠালেও সেখানে কোন লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত লাশটি মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়ার ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ১৫ জেলে সহ এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। সমুদ্রে ৪ দিন ভেসে থাকার পর ১০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাঁচ জেলে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে আজ সকালে নজরুল ইসলাম এর লাশ পাওয়া গেছে।

আল-আমিন



জাতীয় ঐক্যের সনদ আইনের চেয়েও বড় জনগণের অভিপ্রায়: সালাহউদ্দিন

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অনির্বাচিত বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার চিন্তাকে গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবলমাত্র জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতেই থাকা উচিত।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীতে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নিয়ে চা-বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি শুধুমাত্র একটি আইন নয়—বরং এটি হবে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়। এ ধরনের সম্মিলিত প্রত্যাশা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করার জন্য বিএনপি অঙ্গীকার করেছে।

তিনি জানান, এই সনদ গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে এসেছে এবং এটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা পাবে। উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ আইন পর্যালোচনা ও সুপারিশ করতে পারবে, তবে সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার পাবে না।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চকক্ষে অনির্বাচিতদের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা প্রস্তাব করেছি, আইন প্রণয়নে উচ্চ ও নিম্নকক্ষের একটি যৌথ প্রক্রিয়া (shared legislative process) গড়ে উঠুক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে নিম্নকক্ষের হাতে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদে কিছু ব্যতিক্রম রেখে সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব আগেই দিয়েছিল বিএনপি। সেটি গৃহীত হয়েছে। ফলে এখন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলীয় চাপে না থেকে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাইরেও কিছু দায়িত্ব যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সালাহউদ্দিন বলেন, “সংসদে একটি মধ্যবর্তী বিধান অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে।”

মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের আলোকে ইন্টারনেটের অধিকারসহ কিছু আধুনিক অধিকার সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তবে যেহেতু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত অধিকারের বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তাই নতুন কোনো অধিকার যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

এছাড়া তিনি জানান, বিএনপি পঞ্চম সংশোধনীতে গৃহীত রাষ্ট্রের মূলনীতির সঙ্গে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির মতো বাক্য যুক্ত করার প্রস্তাবে একমত। তবে কিছু দলের আপত্তি থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মতবিরোধ করব, আলোচনা করব, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সার্বভৌম এখতিয়ারের ভিত্তিতেই আমরা এই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি।”




“পরিবর্তনশীল বিশ্বে কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য” — সেনাপ্রধান

কৌশলগত নেতৃত্ব গঠনে সংস্কারমুখি, গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “জাতি গঠনের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য। এজন্য দেশের সব প্রতিষ্ঠানে এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে যা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৫/২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

জেনারেল ওয়াকার বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশে ক্যাপস্টোন কোর্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উদীয়মান জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতিগত অগ্রগতির জন্য সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা এবং সুপরিকল্পিত নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কোর্সে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত ও জাতীয় জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, এবারের কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত: গঠিত হবে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংলাপের ২৩তম দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কমিশন জানায়, উচ্চকক্ষের সদস্যরা মনোনীত হবেন নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ অনুযায়ী। অর্থাৎ, সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তবে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা হবে সীমিত। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এ কক্ষের নিজস্ব আইন প্রণয়নের এখতিয়ার থাকবে না। অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য সব বিলই উচ্চকক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো বিল এক মাসের বেশি আটকে রাখা হলে, সেটিকে অনুমোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

উচ্চকক্ষের মূল দায়িত্ব হবে নিম্নকক্ষে উত্থাপিত বিলসমূহ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা। কোনো বিল অনুমোদন পেলে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। আর যদি বিল প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে। নিম্নকক্ষ এই সুপারিশ আংশিক, পূর্ণ অথবা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত মত দেখা দিয়েছে। বিএনপি ও তাদের মিত্র দলসমূহ—জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম ও এলডিপি—উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দের ভিত্তি হিসেবে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসন সংখ্যাকে বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তারা উচ্চকক্ষের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি তুলেছে।

এদিকে সিপিবি-বাসদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করে জানায়, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এর কোনো প্রয়োজন নেই।

দীর্ঘ আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় বিষয়টি কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। কমিশন সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।