জাতীয় ঐক্যের সনদ আইনের চেয়েও বড় জনগণের অভিপ্রায়: সালাহউদ্দিন

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অনির্বাচিত বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার চিন্তাকে গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবলমাত্র জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতেই থাকা উচিত।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীতে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নিয়ে চা-বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি শুধুমাত্র একটি আইন নয়—বরং এটি হবে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়। এ ধরনের সম্মিলিত প্রত্যাশা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করার জন্য বিএনপি অঙ্গীকার করেছে।

তিনি জানান, এই সনদ গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে এসেছে এবং এটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা পাবে। উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ আইন পর্যালোচনা ও সুপারিশ করতে পারবে, তবে সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার পাবে না।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চকক্ষে অনির্বাচিতদের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা প্রস্তাব করেছি, আইন প্রণয়নে উচ্চ ও নিম্নকক্ষের একটি যৌথ প্রক্রিয়া (shared legislative process) গড়ে উঠুক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে নিম্নকক্ষের হাতে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদে কিছু ব্যতিক্রম রেখে সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব আগেই দিয়েছিল বিএনপি। সেটি গৃহীত হয়েছে। ফলে এখন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলীয় চাপে না থেকে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাইরেও কিছু দায়িত্ব যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সালাহউদ্দিন বলেন, “সংসদে একটি মধ্যবর্তী বিধান অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে।”

মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের আলোকে ইন্টারনেটের অধিকারসহ কিছু আধুনিক অধিকার সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তবে যেহেতু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত অধিকারের বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তাই নতুন কোনো অধিকার যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

এছাড়া তিনি জানান, বিএনপি পঞ্চম সংশোধনীতে গৃহীত রাষ্ট্রের মূলনীতির সঙ্গে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির মতো বাক্য যুক্ত করার প্রস্তাবে একমত। তবে কিছু দলের আপত্তি থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মতবিরোধ করব, আলোচনা করব, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সার্বভৌম এখতিয়ারের ভিত্তিতেই আমরা এই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি।”




“পরিবর্তনশীল বিশ্বে কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য” — সেনাপ্রধান

কৌশলগত নেতৃত্ব গঠনে সংস্কারমুখি, গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “জাতি গঠনের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য। এজন্য দেশের সব প্রতিষ্ঠানে এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে যা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৫/২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

জেনারেল ওয়াকার বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশে ক্যাপস্টোন কোর্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উদীয়মান জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতিগত অগ্রগতির জন্য সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা এবং সুপরিকল্পিত নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কোর্সে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত ও জাতীয় জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, এবারের কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত: গঠিত হবে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংলাপের ২৩তম দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কমিশন জানায়, উচ্চকক্ষের সদস্যরা মনোনীত হবেন নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ অনুযায়ী। অর্থাৎ, সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তবে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা হবে সীমিত। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এ কক্ষের নিজস্ব আইন প্রণয়নের এখতিয়ার থাকবে না। অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য সব বিলই উচ্চকক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো বিল এক মাসের বেশি আটকে রাখা হলে, সেটিকে অনুমোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

উচ্চকক্ষের মূল দায়িত্ব হবে নিম্নকক্ষে উত্থাপিত বিলসমূহ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা। কোনো বিল অনুমোদন পেলে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। আর যদি বিল প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে। নিম্নকক্ষ এই সুপারিশ আংশিক, পূর্ণ অথবা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত মত দেখা দিয়েছে। বিএনপি ও তাদের মিত্র দলসমূহ—জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম ও এলডিপি—উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দের ভিত্তি হিসেবে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসন সংখ্যাকে বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তারা উচ্চকক্ষের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি তুলেছে।

এদিকে সিপিবি-বাসদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করে জানায়, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এর কোনো প্রয়োজন নেই।

দীর্ঘ আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় বিষয়টি কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। কমিশন সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।




বরগুনায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে বিএনপি আইনজীবীদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান

নতুন বাংলাদেশের জয়যাত্রায় শহীদ স্মরণে’ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো বরগুনাতেও পালন করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান মজিবর।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এজেডএম সালেহ ফারুক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, জাতীয় আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাড. রেজবুল কবির, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আহসান হাবিব স্বপন এবং জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাড. সেলিম হোসেন।

বক্তারা বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের ভূমিকা অপরিসীম। জুলাই মাসের গণআন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। সেই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। দেশে আজও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অবিলম্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ফোরামের বরগুনা জেলা শাখার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াসী মতিন।
অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী ফোরামের অন্যান্য সদস্যবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে সমন্বয়ক ছিলেন না: দাবি নাহিদ ইসলামের




মাদরাসার মাঠে ধানের বীজতলা, অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের হরিণখোলা সিএনএ দাখিল মাদরাসার মাঠ দখল করে ধানের বীজতলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হরিণখোলা সিএনএ (চরপাড়া নুর আহম্মেদিয়া) দাখিল মাদরাসার মাঠটি এতদিন শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু চলতি বছরের জুন মাসে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই পুরো মাঠে খুঁটি পুঁতে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করেন ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন মোল্লা। এতে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে।

“রক্ষকই এখন ভক্ষক” — অভিভাবকদের ক্ষোভ

শিক্ষার্থী জুবায়ের ও তামিম বলেন, “আমরা এখন খেলাধুলা করতে পারছি না। পুরো মাঠ দখল করে ফেলেছেন। শুনেছি, সভাপতি জসিম মোল্লা নিজেই এই কাজ করেছেন।”
অভিভাবক হানিফ মোল্লাহাবিব খলিফা বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ইউপি সদস্য নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে যা করেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। যিনি রক্ষক, তিনিই এখন ভক্ষকে পরিণত হয়েছেন।”

মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভাপতির প্রভাবের কারণে তারা প্রতিবাদ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তারা জানান, নিয়মিত অনলাইন ক্লাসসহ শরীরচর্চা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মো. মুজ্জাম্মেল হুসাইন জানান, “সভাপতি জসিম উদ্দিন মোল্লা আমাকে কিছু না জানিয়েই মাঠে ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। আমি প্রতিবাদ করতে সাহস পাইনি, কারণ তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি।”

অভিযোগের বিষয়ে জসিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমার এলাকার চাষি আল-আমিন বিপদে ছিল, তাই তাকে বীজতলা করার অনুমতি দিয়েছি।”

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মিয়ানমারে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, সেনাপ্রধানই থাকছেন নিয়ন্ত্রণে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন মূলত প্রতীকী; কারণ দেশটির প্রকৃত ক্ষমতা এখনো সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের হাতেই রয়ে গেছে, যিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক গঠনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা আসে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে—২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করে নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জান্তা সরকারের এই পদক্ষেপ প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে কৌশলগত পুনর্গঠন মাত্র। কারণ মিন অং হ্লেইং এখনো সেনাপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট—দুই ভূমিকায় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

সরকারের মুখপাত্র জ্য মিন তুন জানিয়েছেন, অভ্যুত্থানের পর কয়েক দফা বাড়ানো জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে সেনা সরকার তা প্রত্যাহার করেছে। মিন অং হ্লেইং দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, আগামী ছয় মাস হবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির সময়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি-র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে সেনাবাহিনী ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যাতে বহু হতাহতের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জান্তা সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা ও নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলো এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসনমূলক’ নির্বাচন বলে অভিহিত করেছে। সমালোচকদের মতে, নির্বাচনে কেবল সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট প্রার্থীরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত হবে।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, “এটি প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং পুরোনো শাসকদের নতুন রূপে উপস্থাপন মাত্র। সেনাবাহিনী মূল নিয়ন্ত্রণে থেকেই আগের মতো দমননীতি অব্যাহত রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি এমন একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি, যার প্রকৃতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আমরা এখনো অন্ধকারে।”




লালমোহনে নিষিদ্ধ বিষাক্ত কীটনাশক জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

ভোলার লালমোহনে কৃষিতে ব্যবহারের জন্য সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বিপজ্জনক কীটনাশক কার্বোফিউরান জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই ২০২৫) দুপুরে লালমোহন পৌর শহরের হাফিজ উদ্দিন এভিনিউ এলাকার মেসার্স রেদোয়ান ট্রেডার্স নামের একটি সারের দোকানে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১৪০ কেজি কার্বোফিউরান উদ্ধার করা হয়, যা বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই কীটনাশক রাখার দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোকান মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহ আজিজ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বরাতে জানা গেছে, বুধবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপজ্জনক কীটনাশকের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার এ অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ আহসানউল্যাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ রকিবুল হাসান লিটন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসনাইন তালুকদার এবং লালমোহন থানা পুলিশের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, কার্বোফিউরান একটি অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশক, যা মাটি, পানি ও পরিবেশ দূষণ ছাড়াও মানুষ ও প্রাণীর জন্য ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি আমদানি, বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, জাপানসহ ১৪ দেশে সুনামি সতর্কতা জারি

রাশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিশ্বের অন্তত ১৪টি দেশ ও অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে ৮.৮ মাত্রার ছিল বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চল। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সুনামির ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) এই সতর্কতা জারি করে।

বিশেষ করে ওশেনিয়া অঞ্চলের তিনটি দেশ—পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভানুয়াতুতে সরাসরি সুনামি সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পাপুয়া নিউ গিনিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের সতর্কবার্তায় জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা যদি অস্বাভাবিক সমুদ্রস্রোত, শক্তিশালী বা দীর্ঘ সময় ধরে ভূকম্পন অনুভব করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, “পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা, সমুদ্রসৈকত ও নদীর পাশে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকুন। জরুরি প্রয়োজনে খাবার, পানি, ওষুধ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন।”

ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কায় বর্তমানে যেসব দেশ ও অঞ্চলে সতর্কতা জারি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, চীন, হাওয়াই, গুয়াম, ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা, ওরেগন, ওয়াশিংটন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, মেক্সিকো, পেরু, ইকুয়েডর ও নিউজিল্যান্ড।

জাপানের চিবা প্রিফেকচারের সোসা সিটির কুজুকুরি উপকূলে ইতিমধ্যে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ! ৪৭ কিমি সড়কে ঝুঁকি চরমে!

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে ৪৭ কিলোমিটারজুড়ে ভয়াবহ গর্তের কারণে তৈরি হয়েছে প্রাণঘাতী ঝুঁকি। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাদারীপুরের ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়কজুড়ে কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে একাধিক বড় গর্ত। এসব গর্তে পড়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা—এতে যাত্রী, চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।

প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সম্প্রতি বরইতলা এলাকায় একটি বাস খাদে পড়ে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে বালু, ইট ও সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ও দুর্বল তদারকির কারণেই প্রতিনিয়ত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

এক বাসযাত্রী জানান, “গর্তে গর্তে গাড়ির ঝাঁকুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। যাত্রা আর আরামদায়ক নয়, এখন যেন আতঙ্কের নাম মহাসড়ক।”
এক পরিবহন চালক বলেন, “প্রতিদিন গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সময় ও অর্থ দুইই নষ্ট হচ্ছে।”

মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আপাতত নিজেদের অর্থায়নে কিছু অংশে জরুরি সংস্কার চলছে। পাশাপাশি বড় বাজেটের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললে শুরু হবে টেকসই উন্নয়ন। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল অনেকগুণ বেড়েছে, অথচ সড়কের উন্নয়ন হয়নি। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রতিদিনের যাত্রা আর না হয় জীবনের ঝুঁকি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫