পটুয়াখালীতে একদিনে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার: ট্রলারডুবি, হত্যা, আত্মহত্যা ও ডুবেই প্রাণহানি

পটুয়াখালী জেলায় মাত্র একদিনেই (১ আগস্ট, শুক্রবার) ঘটেছে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা, যার মধ্যে রয়েছে ট্রলার ডুবি, রহস্যজনক মৃত্যু, স্ত্রী হত্যা এবং শিশু ডুবে যাওয়া। জেলার কুয়াকাটা, দুমকি ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।


কুয়াকাটায় ট্রলারডুবিতে ২ মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মৎস্য ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নজরুল ইসলাম (৬০)-এর মরদেহ সকাল সাড়ে ৯টায় মিরা পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই সময়ে গঙ্গামতি পয়েন্টে ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহও পাওয়া যায়।

👉 নৌ-পুলিশ ইনচার্জ বিকাশ মণ্ডল বলেন,

“স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটির পরিচয় মিলেছে, অপরটি এখনও অজ্ঞাত। উভয় মরদেহ মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”


⚠️ দুমকিতে রহস্যজনকভাবে গৃহবধূর মৃত্যু

দুমকি উপজেলার চরবয়েড়া গ্রামে মুক্তা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

🔸 ভাইয়ের অভিযোগ:

“যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।”

🔸 শ্বশুরবাড়ির দাবি:

“স্ট্রোক করে মারা গেছেন মুক্তা।”

👉 ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন,

“মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্টের পর জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।”


🔪 বাউফলে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

বাউফলের নুরাইনপুরে সরোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তি পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী সালমা আক্তার (৩২)-কে গলা কেটে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

🔸 নিহত সালমা ছিলেন নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।
🔸 সরোয়ার সকালে চার বছরের সন্তানকে নিয়ে থানায় গিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেন।

👉 ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান,

“হত্যার দায় স্বীকার করেছেন স্বামী। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।”


🧒 বাউফলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কালাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাফসান (৭) নামের এক শিশু পুকুরে ডুবে মারা যায়। শিশুটি ঢাকায় কর্মরত বাবা-মায়ের সন্তান এবং নানা বাড়িতে থাকত।

🔸 খেলতে খেলতে অগোচরে নিখোঁজ হয় রাফসান
🔸 পরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

👉 ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার বলেন,

“রাফসান খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল, তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”


সংক্ষেপে একদিনে পটুয়াখালীতে ৫ মৃত্যু ঘটনাবলি:

  • 🌊 ট্রলার ডুবিতে ২ জেলের মরদেহ
  • ⚰️ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
  • 🔪 পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী খুন
  • 💧 পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

🔍 পুলিশের তরফ থেকে সব ঘটনাতেই তদন্ত চলছে, কয়েকটি ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অপেক্ষমাণ।


আল-আমিন

 




ভোলা সদরে জামায়াতের কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির প্রতিনিধি সমাবেশ ২০২৫ সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রের গঠিত ১০১ ও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোলা-১ আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমির মাস্টার মো. জাকির হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসাইন ও ভোলা পৌর আমির মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভোলা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার মো. নুরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে তৃণমূল প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা, অন্যায় ও জুলুম প্রতিরোধ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনের কেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কোনও রক্তচক্ষু বা ভয়ভীতির কাছে নত না হয়ে ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা, কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী মেডিক্যাল ক্যাম্প। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরীর ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করে রোটারি ক্লাব অব বরিশাল মিডটাউন।

ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন নিউরোলজিস্ট ডা. রাহাতুন নাঈম ম্যাগলিন। তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, রোটারিয়ানদের পক্ষ থেকে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সহায়তার জন্য চেয়ার ও টেবিল উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।

এই মানবিক আয়োজন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান ও মেডিক্যাল ক্যাম্পের প্রকল্প পরিচালক জুয়েল শাহ কবির শাহিন, রোটারিয়ান পিপি মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ক্লাব সেক্রেটারি রোটারিয়ান মেহেদী হাসান হুমায়ূন এবং স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ।

উপস্থিতরা এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি দায়িত্ববান মানুষের কর্তব্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫e




জাতীয় সমাবেশ শেষে অসুস্থ, এনজিওগ্রামে ধরা পড়ে ৪টি ব্লক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক ধরা পড়ায় আগামী শনিবার (২ আগস্ট) সকালে তার বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হবে। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সকাল ৭টায় এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করবেন দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, আমিরে জামায়াতের দ্রুত সুস্থতার জন্য নফল নামাজ, রোজা ও দান-সাদাকার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের প্রিয় রাহবারকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে দ্বীনের ময়দানে ফিরে আসার তাওফিক দেন—আমরা সেই দোয়াই করছি।”

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিরে জামায়াত। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে বড় কোনো জটিলতা ধরা না পড়লেও, পরে ৩০ জুলাই ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে জানা যায়, তার হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।

এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন দোয়ার মাধ্যমে এই সংকটে আমিরে জামায়াতের পাশে থাকেন।




এই মূহুর্তে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই; যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ডিএমপি

রাজধানীতে আগস্ট মাস ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একইসঙ্গে বসুন্ধরায় ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বৈঠকের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কে বি কনভেনশন হলে একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। হলটি ভাড়া নেন শামীমা নাসরিন শম্পা নামে এক নারী, যিনি বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেন। সেখানে ‘ষড়যন্ত্রমূলক উদ্দেশ্যে’ লোকজন জড়ো হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তালেবুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন। এই বৈঠকে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হকের উপস্থিতির অভিযোগ উঠলে তাকে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। এর পেছনে আরও কোনো চক্রান্ত আছে কি না এবং প্রকৃত দায়ী কারা—তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮ আগস্টকে কেন্দ্র করে নানা হুমকির আলোচনার বিষয়ে ডিএমপি’র এই কর্মকর্তা বলেন, “গত এক বছরে আমরা লক্ষ্য করেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার পরিকল্পনা কেউ কেউ করেছে। তবে আগস্ট কেন্দ্রিক আমরা কোনো নিরাপত্তা হুমকি দেখছি না। পুলিশ পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, “কেউ পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে হয়রানিমূলকভাবে বা ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। ডিএমপি কোনো গণগ্রেপ্তার করছে না।”

গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তালেবুর রহমান।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় ৪৮৯টি টহল টিম এবং ৬৬টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ২৫৪ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি মোবাইল ফোন, ৬টি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার ও বিভিন্ন ধরনের মাদক।




দুমকিতে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি যৌতুকের জন্য নির্যাতন

পটুয়াখালীর দুমকিতে মুক্তা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শুক্রবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চরবয়েড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্বশুরবাড়ির দাবি, মুক্তা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মুক্তার পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। নিহতের ভাই মাসুম হোসেনের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই মুক্তার ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালানো হতো। তার দাবি, এসব নির্যাতনের ফলেই মুক্তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। যদিও নিহতের ভাই থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও, পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

নিহত মুক্তা আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি এখন পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 




পরকীয়ার সন্দেহ, প্রভাষক স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

পটুয়াখালীর বাউফলে নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী সরোয়ার হোসেন (৪০)। নিজের চার বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাউফল থানায় হাজির হন এবং পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় খুনের দায় স্বীকার করেন।

নিহত সালমা আক্তার (৩২) পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত রুস্তুম আলীর মেয়ে। তিনি বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী সরোয়ার হোসেন একই উপজেলার নদমুলা গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে।

সূত্র জানায়, চাকরির সুবাদে সালমা আক্তার বাউফলের চন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন স্বামী ও সন্তানসহ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সংসারে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই দাম্পত্য দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছায়। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেই দ্বন্দ্বেরই করুণ পরিণতি ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে সরোয়ার হোসেন ধারালো দা দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কুপ দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান সালমা আক্তার।

হত্যার পর দ্রুত বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান সরোয়ার। দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি নিজেই থানায় এসে উপস্থিত হন। সঙ্গে থাকা সন্তান সারফারাজকে পুলিশের জিম্মায় দেন এবং নিজেই খুনের ঘটনা খুলে বলেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা লাশ উদ্ধার করি এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা জব্দ করি। শিশুটিকেও আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন—এই সন্দেহেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনা স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি ঘিরে সাধারণ মানুষ, সহকর্মী ও স্থানীয়রা গভীর শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পরকীয়ার সন্দেহ কিংবা দাম্পত্য কলহ কি এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে?

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, কালাইয়ায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মো. রাফসান (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফসান ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন ও ফারজানা বেগম দম্পতির ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে নানাবাড়িতেই থাকত।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু রাফসান বাড়ির উঠানে খেলছিল। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় রাফসানকে দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কালাইয়া বাজারের শাহেদা গফুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ধারণা, খেলতে খেলতে পুকুর পাড়ে গিয়েছিল রাফসান। কোনোভাবে পা পিছলে সে পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে ডুবে যায়। এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শিশুটির মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা ভেঙে পড়েছেন এবং পরিবারটি শোকসন্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার। তিনি বলেন, “এই শিশুর করুণ মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, “কালাইয়া ইউনিয়নে শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা বাংলাদেশে বারবার ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও গ্রামীণ এলাকায় পুকুর, ডোবা কিংবা খাল-বিলের পাশে শিশুদের যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাবে এমন ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা খেলাধুলা করার সময় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা জরুরি।

একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা যেমন পরিবারকে চিরতরে শোকাহত করে তুলেছে, তেমনি এটি সমাজের জন্যও সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজপতিদের এগিয়ে আসা দরকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবারও বরিশালের আকাশে উড়বে বিমান, শুরু ৮ আগস্ট

যাত্রীদের দাবির মুখে অবশেষে বরিশালে আবারো উড়তে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। প্রায় ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী ৮ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহে দুইদিন ফ্লাইট চালাবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা।

গত ২৫ জুলাই উড়োজাহাজ সংকটের কারণে বরিশাল সেক্টরের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগের দিন ২৪ জুলাই বিকেলে শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এরপরই সাময়িকভাবে বরিশালের সঙ্গে ঢাকা আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে যাত্রী সাধারণের ব্যাপক দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে ফিরছে বিমান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮ আগস্ট থেকে প্রতি শুক্রবার ও রবিবার, বরিশাল-ঢাকা রুটে ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ মডেলের উড়োজাহাজ চলাচল করবে। যদিও আগের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলেও ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা এবং বরিশালের ট্রাভেল এজেন্টরা।

বিমান বাংলাদেশ-এর বরিশাল সেক্টরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলের ফ্লাইটটি যাত্রীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই সেটি পুনরায় চালুর দাবি যৌক্তিক।”

বিমান বাংলাদেশ-এর বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক গণমাধ্যমে বলেন, “উড়োজাহাজ সংকটের কারণে শুধু বরিশাল নয়, আরও দুটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বরিশাল সেক্টরে আমরা দ্রুতই ফ্লাইট পুনরায় চালু করছি।”

অন্যদিকে বিমান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বরিশালে ফ্লাইট বন্ধের কোনো স্থায়ী পরিকল্পনা নেই। অন্তত দুটি উড়োজাহাজ পরিচালনযোগ্য হলেই আমরা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় ফিরব। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় সবকিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা ৫টি ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ মডেলের উড়োজাহাজের মধ্যে বর্তমানে দুটি চলাচল অযোগ্য এবং বাকি তিনটির মধ্যে দুটি মেরামতের জন্য অপেক্ষমান। ফলে উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণেই বরিশাল রুটে ফ্লাইট সীমিত করা হয়েছে।

তবে আশা করা হচ্ছে, ক্রমান্বয়ে ফ্লাইট সংখ্যা ও সময়সূচি আবারও পূর্বের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুতে দুই নারীর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৩৯

বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক ইউপি সদস্য পারভীন বেগম (৫০) ও গৃহবধূ লাকী বেগম (৪০)। দুজনের অবস্থাই গত দুইদিন আগে গুরুতর হওয়ায় দ্রুত বরগুনা থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এই দুই মৃত্যুর মাধ্যমে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২ জন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সচেতনতা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫