আন্তর্জাতিক মানের নয় মিরপুরের পিচ, স্বীকার করলেন বিসিবি পরিচালক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে ১৪ মাস পর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও, পুরনো সমস্যা থেকেই গেছে উইকেট নিয়ে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখা গেছে ব্যাটারদের দুর্দশা এবং লো স্কোরিং পরিস্থিতি, যা নিয়ে এবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট অসন্তোষ।

চট্টগ্রামে শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম বলেন, “বোর্ড থেকে লো ও স্লো ট্র্যাক তৈরির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং আমরা চাই ভালো, স্পোর্টিং এবং বাউন্সি উইকেট হোক। যারা উইকেট প্রস্তুত করে, দায়টা তাদের। এবার চেষ্টা সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে উভয় দলের ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেয়েছে। পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসন পিচের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের নয়। এবার একই সুরে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালকও।

ফাহিম আরও বলেন, “মিরপুরের উইকেট মোটেই সন্তোষজনক নয়। হয়তো ভবিষ্যতে পুরো মাটিই পরিবর্তন করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলে হয়তো ভালো উইকেট তৈরি সম্ভব হবে।”

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির উইকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের উইকেটে ঘাস কম থাকলে বলের গায়ে কালচে দাগ পড়ে, বল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আমাদের বোর্ড সভাপতি সঠিকভাবে বলেছেন—এই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পায় না, ব্যাটও ভেঙে যায়।”

এর আগেও বিসিবি সভাপতি মিরপুরের উইকেটকে ‘আদর্শ নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য ভালো উইকেট অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে মিরপুরের উইকেট সে মানে পৌঁছাতে পারেনি, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।

ফাহিমের এ বক্তব্যে স্পষ্ট—হোম অব ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে বিসিবি। সামনে বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিতও মিলছে।




জুলাই বিপ্লব তরুণদের নতুন রাজনীতির সূচনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ দেশের তরুণ সমাজের চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছে এবং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের সত্য ঘটনা প্রকাশ করাও যেন অপরাধ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বইমেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসে অনেক গৌরবময় ও মহিমান্বিত ঘটনা রয়েছে, যেগুলো যথাসময়ে প্রকাশিত হয় না। আজ সত্য কথা বলা, ইতিহাসভিত্তিক বই লেখা ও তা পাঠ করাও যেন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের বাস্তবতায় যারা সত্যের ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের সার্থক মানুষ।”

জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার পটভূমিতেই এ দেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের সূচনা করেছে। দেশের মানুষ চায় না একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হোক; তারা চায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশ চলুক।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণরা কোনো মিথ্যা বয়ানে বিশ্বাস করেনি। তারা পারিবারিক গণ্ডি, শিক্ষাঙ্গণ অতিক্রম করে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে। এক জন গুলিবিদ্ধ হলে অন্যজন পানি নিয়ে এগিয়ে গেছে। অথচ সেই সময়েও গুলি থামেনি।”

সরকারি প্রচারণা যন্ত্রের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “দিনরাত প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের মন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু তরুণরা সত্য বুঝে নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস বিদ্রোহ আর প্রতিরোধে সমৃদ্ধ—পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭), সিপাহি বিদ্রোহ (১৮৫৭), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের লড়াই, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ—এই জাতিকে মিথ্যার বয়ানে চিরতরে দমন করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সঞ্জয় দে রিপন, মনিরুজ্জামান মনির, জিকরুল হাসান প্রমুখ।




সুন্দরবন স্কয়ারে ভয়াবহ আগুন, ১১টি ইউনিট কাজ করছে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের পঞ্চম তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে, তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ১১টি ইউনিট পৌঁছেছে। আগুন পঞ্চম তলায় লাগলেও, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় বহু দোকানদার ও কর্মচারী আটকে রয়েছেন। তাদের দ্রুত নিচে নামতে বারবার মাইকিং করা হলেও তারা নির্দেশ উপেক্ষা করছেন, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

দোলন বলেন, “আমরা বারবার মাইকিং করছি, তাদের নিচে নামার অনুরোধ করছি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও একইভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না। ধারণা করছি, এসব কর্মচারীরা ভবনের ভেতরে থাকা দোকানগুলোর স্টাফ, যারা হয়তো সেখানেই থাকেন বা কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, “সকাল ১০টায় আমাদের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর একে একে ১১টি ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এখনো আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ভবনের ওপরের তলাগুলোতে উপস্থিত মানুষের অব্যাহত অবাধ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার আপডেট জানার জন্য সর্বসাধারণকে সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




পটুয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে এবি পার্টির চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা। শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ড. আতহার উদ্দীন মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এস এম ইকবাল হোসাইন। আলোচনায় অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর আব্দুল ওহাব মিনার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের ছবি ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে সচেতন করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে একটি ন্যায়ের রাষ্ট্র গঠনে এই চেতনা পথ দেখাবে।

আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলে জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ইতিহাসের নানা মুহূর্তে ফিরে যান ছবির মাধ্যমে। ছবি ও প্রামাণ্য দলিল সমৃদ্ধ এই প্রদর্শনী আগতদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “জুলাই ২৪ যেন ৭১-এর মতো চেতনা ব্যবসায় পরিণত না হয়। এই দিনের শিক্ষা থেকে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে। তবে যারা নিজেদের পরিবর্তন করে নতুন বাংলাদেশে কাজ করবেন, তারা জনসমর্থন পাবেন।”

এ ধরনের আয়োজন আগামীর নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন দলটির নেতৃবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মাঝিবাড়ি পয়েন্টে  শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে বোটলনোজ প্রজাতির একটি মৃত ডলফিন। স্থানীয় জেলেরা জানান, সমুদ্র ছিল কিছুটা উত্তাল, আর সেই জোয়ারেই ডলফিনটি ভেসে এসে আটকে পড়ে সৈকতে।

প্রায় ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, কিছু অংশ পচে গেছে, আর লেজ ও পিঠে দেখা গেছে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন। স্থানীয়দের ধারণা, ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে তিন থেকে চার দিন আগে।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তায় মৃত ডলফিনটি সৈকত থেকে সরিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ‘ইকোফিশ-২’ প্রকল্পের স্থানীয় গবেষক মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “আমরা ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। আমাদের ধারণা, গভীর সমুদ্রে ট্রলিং নৌকার অসাবধানতা, জাল আটকে যাওয়া কিংবা সমুদ্রের দূষণ—বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি—এর পেছনে দায়ী।”

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির দলনেতা রুমান ইমতিয়াজ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডলফিন রক্ষায় সচেতনতামূলক কাজ করছি। কিছুদিন ডলফিন মৃত্যুর হার কমলেও সম্প্রতি নিয়মিতভাবে মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে আসছে। আমরা চাই, সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই মৃত্যুর কারণ গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিক।”

প্রতিনিয়ত দূষণের শিকার হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের প্রাণবৈচিত্র্য। সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এমন দুঃসংবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মুলাদীতে কীটনাশক পান করে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় কীটনাশক পান করে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মরিয়ম (১৪)। সে সাহেবেরচর গ্রামের আরিফ ব্যাপারীর মেয়ে এবং চরআলিমাবাদ এস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। বৃহস্পতিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তার মুখে কীটনাশকের গন্ধ পাওয়ায় আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছাত্রীর বাবা আরিফ ব্যাপারী বলেন, “জ্বরের কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি সে এমন কিছু করে বসবে। চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”

খবর পেয়ে মুলাদী থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রীটির লাশ উদ্ধার করে আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫






ঠিকাদারদের বিল নিয়ে তদবির করতে গিয়ে আটক দুই শিক্ষার্থী, ছাড়া পেলেন মুচলেকায়

ঝালকাঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তোলার তদবির করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। পরে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তারা।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী (২৫)।

জানা গেছে, তারা সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটর শাওন খানের পক্ষে প্রায় তিন কোটি টাকার সড়ক ও ব্রিজ প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তুলতে গেলে তাদের সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এসময় বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদার ও কর্মীদের সঙ্গে হট্টগোল বাঁধে, যা গড়ায় হাতাহাতিতে। পরে পুলিশ এসে দু’জনকেই সদর থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা থানায় উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “এলজিইডির পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”

এলজিইডি সূত্র জানায়, কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল প্রদানে আপত্তি জানায় প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু বিল আদায়ের জন্য অভিযুক্তরা একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করে এবং ঘুষের প্রস্তাবও দেয় বলে দাবি করেন নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর

অন্যদিকে সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, প্রকৌশলীর দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরতেই তারা এসেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সিরাজুল ইসলাম ঝালকাঠির দোগলচিড়া গ্রামের ফল ব্যবসায়ী নুরুল বাশারের পুত্র এবং মেহেদী বরিশাল শহরের মুদি দোকানি কালামের ছেলে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার চর্চা করে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনছে অনেকে: এবি পার্টির অভিযোগ

ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিজেদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শুক্রবার (১ আগস্ট) এবি পার্টির যুব সংগঠন এবি যুব পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন।

মঞ্জু বলেন, “রক্তের স্রোতের মধ্যে দিয়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, সেই বাংলাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি আর ফিরে আসবে না – এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিছু রাজনৈতিক দল খুব দ্রুতই সেই ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আসে তারাই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। আর এতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত হ্রাস পায়। এটি গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনি সংকেত।”

আলোচনায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা আগে ভয় ও নির্যাতনের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু এখন এক নতুন বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিবর্তনের জন্য ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, অথচ কোনো রাজনৈতিক নেতার সন্তান জীবন দেয়নি। আবু সাঈদের মৃত্যু জাতিকে নাড়া দিয়েছিল—এটি ছিল বিবেকের বিপ্লব।”

মঞ্জুর দাবি, “ইতিহাস বলে গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদীরা আর ফিরে আসতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনেকেই আওয়ামী চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে, মজলুম থেকে পরিণত হচ্ছে জালিমে।”

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজ ধর্মভিত্তিক দলগুলো যেভাবে অহংকারে ভুগছে, তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। ক্ষমতার চক্র একটি ‘চাঁদাবাজি পদ্ধতি’ গড়ে তুলেছে। এই ব্যবস্থাকে ভাঙতেই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি।”

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে যারা জনপ্রিয়তার চূড়ায় ছিলেন তারাও ইতিহাসে হারিয়ে গেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান তার বড় উদাহরণ।”




ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ ছিল জীবিত থেকেও মৃতপ্রায় : জোনায়েদ সাকি

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের অবস্থা ছিল ‘বেঁচে থেকেও মৃতপ্রায়’—এ মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ খেয়ে পরে বাঁচলেও মর্যাদাহীন জীবনযাপন করছিল। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন আবু সাঈদ, জীবন দিয়ে জানান দিয়েছেন তার অবস্থান। জনগণের ঐক্য প্রমাণ করেছে, ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদ যেমন পালিয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেও কবর দেওয়া সম্ভব।”

সমাবেশের উদ্বোধন করেন ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বেগম।

সাকি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের শহীদদের ঋণ আমরা এখনো শোধ করতে পারিনি। ৭১ থেকে ২৪ সালের শহীদদের আদর্শ ধারণ করতে না পারলে আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন হবে না। নতুন রাষ্ট্র চাইলে পুরনো লুটপাটের ব্যবস্থাকে ভাঙতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এখনো শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। তাদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো পুরনো ক্ষমতা-কেন্দ্রিক ও লুটপাটভিত্তিক ধাঁচে চলে। এটি বন্ধ না হলে জনগণের মুক্তি আসবে না।”

সাকি বলেন, “মানুষকে বিভক্ত করা হচ্ছে নারী, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করলেই শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানানো হবে।” তিনি জানান, গণসংহতি আন্দোলন রাজপথ ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, “২০১৭ সালেই আমরা বলেছিলাম—নতুন রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া রাষ্ট্রে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করি, যা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে পরিচালিত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অধিকার আদায়ে আর জীবন দিতে হবে না। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে না চাইলে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য।”

সমাবেশে আরও দাবি জানানো হয়—আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং জনগণের ম্যান্ডেটে একটি নতুন রাজনৈতিক চুক্তি গঠন করতে হবে, যেটিকে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে অভিহিত করেন নেতারা।


সংক্ষিপ্ত মূল বক্তব্য:

  • ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের মর্যাদাহীন জীবন ছিল: সাকি
  • ৭১ ও ২৪ সালের শহীদদের রক্তের দায় শোধে ঐক্য জরুরি
  • লুটপাটের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভাঙতে নতুন চুক্তির ডাক
  • হিন্দু-মুসলিম বিভাজন নয়, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি
  • ‘জুলাই সনদ’ নামে নতুন সংবিধানিক চুক্তির প্রস্তাব



ইসরায়েলি অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত গাজাবাসীর পাশে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানুষ যেন আর অভুক্ত না থাকে—এই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। শুক্রবার (১ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা গাজার মানুষকে সহায়তা করতে চাই। তারা যেন স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারে, খেতে পারে—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।”

তিনি জানান, গাজাবাসীর মানবিক সংকটের জন্য দায়ী ইসরায়েলের অবরোধ। সেইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ত্রাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্কিন এক সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

এদিন ট্রাম্প আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনার জন্য তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ রাফা এলাকায় একটি বিতর্কিত ত্রাণকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছেন। যদিও উইটকোফ এখনো কোনো প্রতিবেদন দেননি বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

এদিকে, গাজায় পূর্ণ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়েও সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা খুব শিগগিরই ফলাফল দেখতে পাবেন।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আংশিক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করছেন।


সংক্ষিপ্ত সার

  • গাজার মানুষকে খাওয়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ ট্রাম্পের
  • ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজায় মানবিক সংকট স্বীকার
  • হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির অভিযোগ, তবে প্রমাণ নেই
  • প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত গাজায় পরিদর্শনে
  • পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্য