পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, কালাইয়ায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মো. রাফসান (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফসান ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন ও ফারজানা বেগম দম্পতির ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে নানাবাড়িতেই থাকত।
পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু রাফসান বাড়ির উঠানে খেলছিল। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় রাফসানকে দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কালাইয়া বাজারের শাহেদা গফুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ধারণা, খেলতে খেলতে পুকুর পাড়ে গিয়েছিল রাফসান। কোনোভাবে পা পিছলে সে পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে ডুবে যায়। এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শিশুটির মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা ভেঙে পড়েছেন এবং পরিবারটি শোকসন্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার। তিনি বলেন, “এই শিশুর করুণ মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, “কালাইয়া ইউনিয়নে শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা বাংলাদেশে বারবার ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও গ্রামীণ এলাকায় পুকুর, ডোবা কিংবা খাল-বিলের পাশে শিশুদের যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাবে এমন ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা খেলাধুলা করার সময় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা জরুরি।
একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা যেমন পরিবারকে চিরতরে শোকাহত করে তুলেছে, তেমনি এটি সমাজের জন্যও সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজপতিদের এগিয়ে আসা দরকার।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








