পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, কালাইয়ায় শোকের ছায়া

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মো. রাফসান (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফসান ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন ও ফারজানা বেগম দম্পতির ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে নানাবাড়িতেই থাকত।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু রাফসান বাড়ির উঠানে খেলছিল। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় রাফসানকে দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কালাইয়া বাজারের শাহেদা গফুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ধারণা, খেলতে খেলতে পুকুর পাড়ে গিয়েছিল রাফসান। কোনোভাবে পা পিছলে সে পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে ডুবে যায়। এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শিশুটির মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা ভেঙে পড়েছেন এবং পরিবারটি শোকসন্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার। তিনি বলেন, “এই শিশুর করুণ মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, “কালাইয়া ইউনিয়নে শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা বাংলাদেশে বারবার ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও গ্রামীণ এলাকায় পুকুর, ডোবা কিংবা খাল-বিলের পাশে শিশুদের যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাবে এমন ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা খেলাধুলা করার সময় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা জরুরি।

একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা যেমন পরিবারকে চিরতরে শোকাহত করে তুলেছে, তেমনি এটি সমাজের জন্যও সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজপতিদের এগিয়ে আসা দরকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবারও বরিশালের আকাশে উড়বে বিমান, শুরু ৮ আগস্ট

যাত্রীদের দাবির মুখে অবশেষে বরিশালে আবারো উড়তে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। প্রায় ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী ৮ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহে দুইদিন ফ্লাইট চালাবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা।

গত ২৫ জুলাই উড়োজাহাজ সংকটের কারণে বরিশাল সেক্টরের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগের দিন ২৪ জুলাই বিকেলে শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এরপরই সাময়িকভাবে বরিশালের সঙ্গে ঢাকা আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে যাত্রী সাধারণের ব্যাপক দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে ফিরছে বিমান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮ আগস্ট থেকে প্রতি শুক্রবার ও রবিবার, বরিশাল-ঢাকা রুটে ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ মডেলের উড়োজাহাজ চলাচল করবে। যদিও আগের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলেও ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা এবং বরিশালের ট্রাভেল এজেন্টরা।

বিমান বাংলাদেশ-এর বরিশাল সেক্টরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলের ফ্লাইটটি যাত্রীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই সেটি পুনরায় চালুর দাবি যৌক্তিক।”

বিমান বাংলাদেশ-এর বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক গণমাধ্যমে বলেন, “উড়োজাহাজ সংকটের কারণে শুধু বরিশাল নয়, আরও দুটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বরিশাল সেক্টরে আমরা দ্রুতই ফ্লাইট পুনরায় চালু করছি।”

অন্যদিকে বিমান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বরিশালে ফ্লাইট বন্ধের কোনো স্থায়ী পরিকল্পনা নেই। অন্তত দুটি উড়োজাহাজ পরিচালনযোগ্য হলেই আমরা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় ফিরব। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় সবকিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা ৫টি ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ মডেলের উড়োজাহাজের মধ্যে বর্তমানে দুটি চলাচল অযোগ্য এবং বাকি তিনটির মধ্যে দুটি মেরামতের জন্য অপেক্ষমান। ফলে উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণেই বরিশাল রুটে ফ্লাইট সীমিত করা হয়েছে।

তবে আশা করা হচ্ছে, ক্রমান্বয়ে ফ্লাইট সংখ্যা ও সময়সূচি আবারও পূর্বের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুতে দুই নারীর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৩৯

বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক ইউপি সদস্য পারভীন বেগম (৫০) ও গৃহবধূ লাকী বেগম (৪০)। দুজনের অবস্থাই গত দুইদিন আগে গুরুতর হওয়ায় দ্রুত বরগুনা থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এই দুই মৃত্যুর মাধ্যমে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২ জন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সচেতনতা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপির ইফতার মাহফিলে হামলা, আ.লীগের ১০১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনার তালতলীতে ২০২৩ সালের ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ১০১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছগির হাওলাদার। অভিযুক্তদের মধ্যে ৭০-৮০ জন অজ্ঞাতনামা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলায় আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল তালতলীর মালিপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং ইফতার মাহফিলের মঞ্চে থাকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ও সাজসজ্জা ভাঙচুর করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মোটরসাইকেলসহ সড়কে অগ্নিসংযোগ করে এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতিও করে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, “আদালতের আদেশপত্র এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর মামলা দায়ের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




৩ দিন পর ভোলার নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু, ঘাটে ফিরছে স্বাভাবিকতা

টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর ভোলার অভ্যন্তরীণ নৌরুটে ফের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। সমুদ্র ও নদী বন্দরে সতর্কতা সংকেত তুলে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে লঞ্চ সার্ভিস। এতে আটকে পড়া যাত্রীরা গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছেন এবং ঘাটগুলোতে ফিরেছে চেনা কর্মচাঞ্চল্য।

ভোলা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সকাল থেকেই সব রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে নৌযান কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা বজায় রেখে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ ভোলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক এলাকায় বসতঘর, রাস্তা ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে এখনও বজায় রয়েছে বৈরী আবহাওয়া। বৃষ্টিপাত আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে লিটন সিকদারকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালে পারিবারিক বিরোধের জেরে পুলিশের উপস্থিতিতেই নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটন সিকদার লিটু (৪২)–কে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় একদল উত্তেজিত জনতা।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুরের বিল্লবাড়ি এলাকায় এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নিহত লিটন সিকদার বরিশাল মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিল্লবাড়ি গ্রামের নজির সিকদারের ছেলে।

এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সুমন সিকদার (৩৫) ও বোন মুন্নি বেগম (৩৮) গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুন্নি বেগম জানান, তার স্বামী জাকির হোসেন গাজী গোপনে আরেকটি বিয়ে করায় পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও চলে। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে পুলিশ প্রহরায় তিনি ও তার ভাই লিটন সিকদার বাড়িতে আসলে স্থানীয় একটি পক্ষ অতর্কিতে হামলা চালায়।

পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। লিটনকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়, আহত হন তার ভাই ও বোনও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকাবাসী লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিল। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এমনকি কয়েকদিন আগে বোনজামাই জাকির হোসেনকে মারধর করে তার গোপনাঙ্গে বিদ্যুৎ শক দেয়ার অভিযোগ ওঠে লিটনের বিরুদ্ধে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিটন পুলিশ নিয়ে এলাকায় এলে বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পুলিশ কিছু সময় পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা লিটনকে গণপিটুনি দেয়।

পরে পুলিশ এসে আহত লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় উত্তেজিত জনতা আবারও হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুপিয়ে তার একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ক্ষত সৃষ্টি করা হয়।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে নববধু অপহরণ ও ধর্ষণ : ১৮ দিন পর উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় নববধুকে অপহরণ করে দীর্ঘ ১৮ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ওই নববধুকে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই বিকেলে চরকালেখান মাদ্রাসা বাজার এলাকা থেকে নববধুকে অপহরণ করে শরীফ হোসেন নামে স্থানীয় এক যুবক ও তার সহযোগীরা। অভিযুক্ত শরীফ ওই এলাকার করিম সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই নববধুর মা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় অপহরণ মামলা করেন।

নববধুর মায়ের ভাষ্যমতে, বিয়ের আগে থেকেই শরীফ হোসেন তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত। মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারের সম্মতিতে গত ১০ জুন তার বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পরেও শরীফ উত্যক্ত করা বন্ধ করেনি।

১৩ জুলাই নববধু চরকালেখান বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শরীফ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। ওই সময় নববধুর সঙ্গে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে শরীফ তাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং রাজি না হওয়ায় একাধিক স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে শরীফ ঘটনাটি আড়াল করতে নববধুকে দিয়ে জোরপূর্বক একটি বিয়ের নাটক সাজিয়ে ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও এক যুবকের কাছে পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি নববধুর পরিবারকে জানায়। এরপরেই পরিবার পুরো ঘটনা জানতে পারে এবং মামলা দায়ের করে।

মামলার ভিত্তিতে মুলাদী থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে নববধুকে উদ্ধার করেন। তবে অভিযুক্ত শরীফ, তার বাবা করিম সরদার, মা মেলেনী বেগম ও ভাই আরিফ সরদারসহ অন্যান্য সহযোগীরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী নববধুকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মাইলস্টোন ট্রাজেডি: মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে শোকবইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিল।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকবইতে স্বাক্ষর করেন এবং এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল।”

শোকবইটিতে এরই মধ্যে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর প্রতিনিধি এবং মালদ্বীপে অবস্থানরত জাপান, চীন, সৌদি আরব ও শ্রীলঙ্কার কূটনীতিকরাও স্বাক্ষর করেছেন।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সোহেল পারভেজ জানান, শোকবইটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মালদ্বীপে বসবাসরত যে কেউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে শোক ও সহানুভূতি জানাতে পারবেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ইতোমধ্যে শোকবইতে স্বাক্ষর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা দেশের ভেতর ও বাইরে ব্যাপকভাবে শোকের ছায়া ফেলেছে।




“ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে” — নাহিদের পোস্টে সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিক্রিয়া

‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক (কায়েম)।

তিনি দাবি করেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার ভূমিকাকে খাটো করার চেষ্টা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং তা ইতিহাস রচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

সাদিক কায়েম বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ এবং দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার ও সহযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “আমি যতগুলো বক্তব্য রেখেছি, ৫ আগস্টের পর সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, আমি সব জায়গায়ই বলেছি—জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত নায়ক ছিলেন আমাদের শহীদ ও গাজীরা। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি।”

তিনি এ আন্দোলনকে ‘আপামর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, “এখানে মতভেদ ভুলে সবাই একটি অভিন্ন লক্ষ্য—ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে একত্র হয়েছিল।”

নাহিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদিক কায়েম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি কোনোদিন সমন্বয়কের পরিচয়ে কোথাও দখল বা আত্মসাৎ করেছি—এমন একটি ডকুমেন্টও কেউ দেখাতে পারবে না।”

তিনি জানান, মূল সারির সমন্বয়করা যখন ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি নয় দফা ফরমেশন, কর্মসূচি প্রণয়ন, মিডিয়া হাউজে যোগাযোগ, দ্বিতীয় সারির নেতাদের সেফ হাউজে রাখার ব্যবস্থা এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন।

সাদিক সতর্ক করে বলেন, এসব ঘটনাগুলো জাতির সামনে না এলে ইতিহাস বিকৃতি ঘটবে। “৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, কেউ কেউ গুমের নাটক করেছে, কেউ আত্মগোপনে ছিল, আবার কেউ আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে ক্যাম্পাস খোলার পক্ষে ছিল—এরাই পরে বিপ্লবের মহানায়ক হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু একই সময়ে কিছু মানুষ নিজেদের দখলদার সমন্বয়ক হিসেবে তুলে ধরেছে।”

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ময়দানে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো সেনানিবাস বা দপ্তর থেকে নয়। আমরা সবাই মিলে এক দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। তখন সায়ের ভাই ও মাহফুজ আলমসহ সকলে ছিল।”

শেষে সাদিক কায়েম বলেন, “দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিভাজন তৈরি না করে ইতিহাসকে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি বা ব্যবসা করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে কোনোভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ ছিলেন না, বরং ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করতে শুরু করেন।




কুয়াকাটা সৈকত থেকে জেলের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোজ ৫ জেলের মধ্যে নজরুল ইসলাম (৬০) নামের এক জেলের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় সৈকতের মিরা পয়েন্ট থেকে ওই জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল। এখনো ৪ জেলের কোন সন্ধান মেলেনি।

নৌ পুলিশ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশের খবর পেয়ে সৈকত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে মীরাবাড়ি পয়েন্টে কালো রংয়ের রেইনকোট পরিহিত ব্যক্তির পরিচয় তার ছেলে সনাক্ত করেছে। এছাড়া গঙ্গামতি এলাকায় একটি লাশ ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠালেও সেখানে কোন লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত লাশটি মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়ার ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ১৫ জেলে সহ এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। সমুদ্রে ৪ দিন ভেসে থাকার পর ১০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাঁচ জেলে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে আজ সকালে নজরুল ইসলাম এর লাশ পাওয়া গেছে।

আল-আমিন